জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলেই কেবল বন্দর পরিচালনার চুক্তি : বিডা চেয়ারম্যান 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলেই কেবল চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আশিক চৌধুরী বলেন, জাতীয় স্বার্থের পক্ষে যেদিকে যে সিদ্ধান্তটা নেওয়া দরকার, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার তো চুক্তির পক্ষে ছিল, এই সরকারের অবস্থান কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে ছিল ব্যাপারটা না। যদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি করা সম্ভব হয়, শুধু সে ক্ষেত্রেই আমরা চুক্তিটি করবো। এরকম একটা কথা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বলা হয়েছিল। আমার মনে হয় বর্তমান সরকারও একই ধরনের একটা অবস্থান নেবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এটা প্রথম দিনের মিটিং, দ্রুত কোনো কনক্লুশনে যাওয়া উচিত হবে না।

বৈঠক প্রধানমন্ত্রী কী নির্দেশনা দিয়েছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আজ আমরা উনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ব্রিফ করেছি, উনি আমাদের ব্রিফ করেননি। উনি শুনেছেন এবং কিছু প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।




বিডা ও জাইকার উদ্যোগে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ বাংলাবিজ ২.০ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এদিন ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ বাংলা বিজ- ফেইজ ২ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় নতুন সংস্করণের মূল কার্যকারিতা ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। অনলাইন সিস্টেমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার মাধ্যমে বাংলাবিজ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের একটি ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে।

তিনি আরও বলেন, জাইকা বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। তাই বাংলাবিজ একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে বাংলাবিজকে বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগির এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময়ে তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবায় বৈশ্বিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যেখানে সম্ভব সেগুলো বাদ দেওয়াও জরুরি।

বিডা জানায়, বাংলাবিজ ২.০–তে যুক্ত হওয়া নতুন সুবিধাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করা হয়েছে। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান অনুমোদন, যেমন; নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন।

এছাড়াও পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা–সংক্রান্ত লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন।

বাংলাবিজের নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস’ ফিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী অনুমোদন ক্ষেত্রে কোন ধরনের ডকুমেন্টস সাবমিট করা বাধ্যতামূলক, তা আগেই শনাক্ত করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা নিতে পারবেন।

এই সংস্করণে আরও যুক্ত হয়েছে বাংলাবিজ আইডি, যা একটি ইউনিক ব্যবসায়িক পরিচিতি নম্বর হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক বিজনেস আইডি চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সিঙ্গেল সাইন-অন সুবিধার ফলে একটি মাত্র লগইন ব্যবহার করে বাংলাবিজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ওএসএস সিস্টেমে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।




বিনিয়োগ আকর্ষণে কোরিয়া সফরে আশিক চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য এ কৌশলগত সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিডার জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মণ্ডল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর কোরিয়া সফর করবে। বিডার পাশাপাশি দলে আছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সফরটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রশান্ত কুমার জানান, সফরের অংশ হিসেবে ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর একাধিক সরকারি-বেসরকারি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে অংশ নেবে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো। সেখানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, জাহাজ নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বস্ত্রশিল্প, রসায়ন ও ভারী নির্মাণ খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও সুযোগ তুলে ধরা হবে।

বিডা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিনিধিদলটি দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের (এমওটিআইএ) উপমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবে। এছাড়া একাধিক সরকারি-সরকারি (জিটুজি) পর্যায়ের আলোচনাতে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, প্রস্তাবিত কোরিয়া–বাংলাদেশ সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) ও সাম্প্রতিক বাণিজ্য নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

বিডা জানায়, সফরের অন্যতম প্রধান আয়োজন হলো ‘গেটওয়ে টু গ্রোথ: ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সেমিনার, যা ২১ অক্টোবর সিউলে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করছে বিডা ও সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস। সহযোগিতায় থাকবে ফেডারেশন অব কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (এফকেআই)। সেমিনারে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, সুযোগ ও প্রস্তুতি তুলে ধরা হবে। এছাড়া ইয়ংওয়ান করপোরেশনের মতো সফল কোরিয়ান বিনিয়োগকারীরা তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প শেয়ার করবে, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

এ সফর সম্পর্কে বিডার ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের অন্যতম মূল্যবান অর্থনৈতিক অংশীদার। আমরা এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের কাছে পরবর্তী কৌশলগত উৎপাদন ও রপ্তানিকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চাই। আমাদের লক্ষ্য একদিকে নতুন উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে এমওটিআইএ-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সংলাপের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশাধিকার ও অর্থনৈতিক সংযুক্তি বাড়ানো।’




জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিডা) সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে। বৃহস্প্রতিবার (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে পাওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে সভায় জানানো হয়।

এছাড়া স্থানীয় বিনিয়োগ মোট ৭০০ মিলিয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ, প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এসেছে চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে।

এছাড়া সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বলে সভায় জানান বিডার প্রতিনিধি।

সভায় বিডার প্রতিনিধি আরও জানান, ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব। এক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তরের হার প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে রূপান্তরের এই হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি বলে সভায় জানানো হয়।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বন্দরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার অনেক দিন থেকে পড়ে আছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে বন্দরে গতি ফেরাতে কনটেইনার জট কমানোর নেয়ার পর গত দুই মাসে ১০০০ কনটেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে সভায় জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত এ সময় নিলাম কার্যক্রম আরো গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

আগামী মাসে আরো ৫০০ কনটেইনার নিলামে তোলার কাজ চলছে এবং নিলামের পণ্য হস্তান্তরের কাজও চলমান আছে বলে এসময় কর্মকর্তারা বিশেষ দূতকে জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সভায় বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতি বিষয়েও আলোচনা হয়।

বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিকের পরিষেবাগুলোকে একত্রিত করতে এই সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সফট লঞ্চিং এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরোদমে প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমতি পেলো স্টারলিংক

বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংককে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

রবিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই ২৯ মার্চ স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিডা থেকে নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নিবন্ধনও স্টারলিংককে দেওয়া হয়েছে।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও জানান, পরিচালনার জন্য যে ননজিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) লাইসেন্সের প্রয়োজন, এর জন্য স্টারলিংক-এর আজ (রবিবার) আবেদন করার কথা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করলে অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা করার জন্য কোনও বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের ভেন্যু রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আগামী ৯ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক-এর ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করা হবে। সেখানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া স্টারলিংক-এর ইন্টারনেট ব্যবহার করে সম্মেলনের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশের জন্য স্টারলিংক-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, স্টারলিংক বাংলাদেশে এলে দুর্গম এলাকায় খুব সহজে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে। ফলে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য দূর হবে। গ্রামে বসেই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিংসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ করতে পারবেন তরুণরা। সূত্র: বাসস




‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ কানেক্ট ২০২৫’ উদ্বোধন

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে চার দিনব্যাপী (৭ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল) বিনিয়োগ সম্মেলনের প্রথম দিনে সোমবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ কানেক্ট ২০২৫’-এর উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান তানভীর আলী। শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাদিয়া হকের পরিচালনায় এ অধিবেশনে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্ল্যানারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মোজাম্মেল এবং আইসিটি সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শীশ হায়দার চৌধুরী।

প্রধান উপদেষ্টার সহকারী সচিব নাঈম আলী এসব তথ্য জানান।




বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু কাল

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে আগামীকাল সোমবার (৭ এপ্রিল) থেকে চার দিনব্যাপী বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২৫ শুরু হচ্ছে।

সম্মেলনের বিস্তারিত আয়োজন সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে আজ ৬ এপ্রিল (রোববার) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিং করবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শিল্প কারখানায় সংঘাতের পর বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

দেশে বৈশ্বিক বিনিয়োগের দুয়ার খুলতে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল চারদিনব্যাপী রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হবে।

সামিটের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংস্কার প্রদর্শন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংযোগ তৈরি করা। এছাড়াও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরাও এ সামিটের লক্ষ্য।




চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান বিডার

চীন-ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এক ‘খোলা চিঠি’তে বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, চীন-ভিত্তিক ব্যবসায়ী, যারা তাদের উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তর বা বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী তাদের জন্য বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় গন্তব্য হয়ে উঠতে প্রস্তুত।

সিঙ্গাপুরের বহুজাতিক দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (এইচএসবিসি) সাবেক সিনিয়র ব্যাংকার আশিক চৌধুরী আরও বলেন, ‘মার্কিন নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে চীন-ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য শুল্ক ও শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, আমরা চীনের বিনিয়োগকারী বন্ধুদের আহ্বান জানাই। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের সমর্থন জানাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

আমরা গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, সোলার ভ্যালু চেইন এবং অটোমোটিভের মতো শিল্পে সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনা কর্মসূচি এবং সুবিধাসহ বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানির অন্তত ২০০ জন প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দেখা করেছেন বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে চীন-ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাদের ঝুঁকি এবং উৎপাদন বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহের কথা জানতে পেরেছি।’

চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার এবং ২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠে। নতুন ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রবণতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন আশিক।

আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে গত এক দশক ধরে চীনা ব্যবসায়ীদের আঞ্চলিক সম্প্রসারণ আমি পর্যবেক্ষণ করে আসছি। এর আগে তাদেরকে সমর্থন জানানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। নতুন মার্কিন রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে চীনা ব্যবসায়ীদের আঞ্চলিক সম্প্রসারণের প্রবণতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।’

এই বিনিয়োগকারীদের উপযোগী প্রতিশ্রুতিসহ ‘স্বাগত’ জানাতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে এটাই আমার প্রতিশ্রুতি, বলেন তিনি।




‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিকল্প নেই’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য বিনিয়োগ সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সেবাসহ অন্য তথ্যাদি সুরক্ষার জন্য বিডা সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

বুধবার (মার্চ ৬) বিডার কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এদিন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সঙ্গে বিডার সমঝোতা স্মারক সই হয়।

 

এসময় বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিময় পৃথিবীতে তথ্যই শক্তি এবং তথ্য সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বিডা ও বিসিসির মধ্য এ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের ফলে আইআরএমএস (ইনফরমেশন অ্যান্ড রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি)-সহ সব ডাটা বিসিসির ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারে স্থানান্তর হবে। যার মাধ্যমে বিনিয়োগ সংক্তান্ত সেবাসমূহের তথ্য আরও বেশি সুরক্ষিত থাকবে।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিডা সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্ব এবং প্রেক্ষাপট বিষয়ে সংক্ষিপ্ত তথ্যাদি তুলে ধরে বলেন, উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের সব বিনিয়োগসেবা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রদানের লক্ষ্য ২০১৮ সালে ওএসএস আইন বা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮’ পাস হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে বিডা ওএসএসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরই মধ্যে আমরা ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক করেছি। তার মধ্যে বর্তমানে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের ১১৩টি বিনিয়োগসেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

তিরি আরও বলেন, এতদিন বিডা ওএসএসের তথ্যাদি বিজনেস অটোমেশনের সার্ভারে সংরক্ষিত ছিল। সমঝোতা স্মারক সই হওয়ায় হোস্টিংসহ বিডা ওএসএস ও আইআরএমএসের সব তথ্য ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারে সুরক্ষিত থাকবে।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার বলেন, এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বিডা ওএসএস ও আইআরএমএস ডাটা সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে এনডিসি ও বিসিসি।

 

সমঝোতা স্মারকটি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার।

 

অনুষ্ঠানে বিডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড ও ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




বিনিয়োগে প্রযুক্তির সুবিধা আমাদেরও নিতে হবে: বিডা চেয়ারম্যান

চীন, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করতে পেরেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, এখন আমাদেরও প্রযুক্তির সুবিধাটা নিতে হবে।

 

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিডার মাল্টিপারপাস হলে বিডা ও সুইসকন্টাক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ইমপ্রুভমেন্ট (বিআইসিআই) প্রোগ্রাম’ এর সাত পর্বের সিরিজের প্রথম কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

 

দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বিডা ও এসএস এর মাধ্যমে ৩৮ সংস্থার ১১৩ বিনিয়োগ সেবা প্রদান করা হচ্ছে এবং দ্রুতই ৪৮ সংস্থার ১৫০টি বিনিয়োগ সেবা প্রদান করা হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সব সেবা দ্রুত প্রদান করা গেলে আমরাও চীন ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরের মতো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা দিতে পারবো। আর এর জন্যই বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ইমপ্রুভমেন্ট (বিআইসিআই) এর অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থার সদস্যদের মধ্যে আন্তঃসরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

তিনি আরও বলেন আমাদের মনে রাখতে হবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ইমপ্রুভমেন্ট দেখেই বিনিয়োগ করতে আসেন। গত ১৫ বছরে যে বৈপ্লবিক উন্নয়ন হয়েছে সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের এখন বিনিয়োগে প্রযুক্তির বেনিফিট নিতে হবে।

 

দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মশালায় বিডার নির্বাহী সদস্য ড. খন্দকার আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মার্কাস এহমান, টিম লিডার, প্রবৃদ্ধি প্রকল্প (লোকাল ইকোনোমিক ডেভোলপমেন্ট) সুইসকন্টাক, বিডার নির্বাহী সদস্য মিজ মোহসিনা ইয়াসমিন, অভিজিৎ চৌধুরী ও মো. খাইরুল ইসলাম।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবৃদ্ধি প্রকল্পের টিম লিডার মার্কাস এহমান বলেন, বিডার সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় আমরা মিউনিসিপ্যালিটি কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্সকে (এমসিআই) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। এই এমসিআই, বিআইসিআই প্রোগামের আওতায় অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নীতকরণের মাধ্যমে টেকসই স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনে সর্বোপরি পৌরসভাগুলোর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।




ব্যবসার জন্য ভালো জায়গা বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য ভালো জায়গা। আপনারা আসুন বাংলাদেশে আপনাদের ব্যবসাকে প্রসারিত করুন। বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট করে কেউ ঠকবেন না। আশা করছি আমাদের সামনের দিনগুলোতে ব্যবসায়ীক প্রসারতা আরও ভালো হবে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) গুলশানের রেনেসাঁ ঢাকা হোটেলে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে আমাদের যা যা সমস্যা আছে, তার সমাধান করব। আমরা আরও এগিয়ে যাব। বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীদের যেন কোনোরকমের বাধা না থাকে, সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখব। ব্যবসায়ী, সরকারের সবাই মিলে একসঙ্গে আমরা কাজ করে, বাণিজ্যিক দিককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব ইনভেস্টররা এখানে আছেন, তারা তাদের ব্যবসা এখানে আরও প্রসারিত করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সমৃদ্ধ পরিবেশে যেন ভালোভাবে আপনারা ব্যবসা পরিচালিত করতে পারেন, তা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করব। এছাড়া যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমরা সবাই মিলে তা সমাধানের চেষ্টা করব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে, ব্যবসায়ীদের ব্যবসার পরিবেশ আরও প্রসারিত করতে এই সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় ব্যবসায়ীদের ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করতে যা যা করণীয় সব কিছুই করা হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বিদেশি ব্যবসায়ীরা যেন বাংলাদেশে খুব সুন্দরভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তাদের ব্যবসাকে আরও বাড়াতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। আর বর্তমান সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রই সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। সরকার, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক সবার পক্ষ থেকে আমাদের একটাই উদ্যোগ, যেন বাংলাদেশে সবাই ভালোভাবে বিনিয়োগ করে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে ব্যবসায়ী প্রসারতা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি তারা আরও অধিক বিনিয়োগ করতে পারে এবং সেরকম স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত থাকে। আমাদের জনশক্তি আছে, দক্ষ জনশক্তি আছে, এগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন প্রতিনিধিরাসহ আরও উপস্থিত ছিলেন এইচ অ্যান্ড এম’র রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, বাইসাইকেল পার্টস ম্যানুফেকচার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহম্মাদ মোস্তাক আহমেদ তানভির, বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিরান আলী, বেসিসের প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, অ্যাপেক্স ফুটওয়ার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর প্রমুখ।




বিনিয়োগকারীদের ভিসা-ওয়ার্কপারমিটে ভোগান্তি হবে না: বিডা

বাংলাদেশে আসা বিনিয়োগকারীদের অনেক সময় ভিসা জটিলতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে ওয়ার্কপারমিট পেতেও নানা সমস্যা তৈরি হয়। তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। পাশাপাশি কারখানা স্থাপন বা পণ্য উৎপাদনে গ্যাস, এলসি, এনবিআর বা অন্য কোনো সংস্থার সহযোগিতার প্রয়োজন পড়লেও তা নিরসনে কাজ করবে বিডা।

শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিসিসিআই) আয়োজনে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিডার নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব অভিজিৎ চৌধুরী।

এর আগে শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) তিন দিনব্যাপী দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ এক্সিবিশন-২০২৩ এর উদ্বোধন করা হয়। শনিবার এ প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন চলছে।

প্রদর্শনী চলাকালে বিসিসিসিআই ও চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি) যৌথভাবে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সেমিনার, দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির মেলা ও ব্যবসায়ী সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রদর্শনীতে ৬০টির বেশি স্টলে বিভিন্ন চীনা ও দেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, আমরা চাই না বিনিয়োগকারীরা কোনো ধরনের সমস্যায় পড়ুক। এটা যেকোনো দেশ বা দেশীয় উদ্যোক্তারা হতে পারেন। সবার জন্য আমাদের সহযোগিতা থাকবে। আজ আমরা জানতে পেরেছি, আকিজ গ্রুপের এক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘসময় ধরে কারখানায় গ্যাস পাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটিকে আগামীকালের মধ্যে বিডা অফিসে আবেদন করতে বলেছি। আমরা কাল থেকেই তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করব। যেকোনো বিনিয়োগকারীর সমস্যাই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।

 

চীনা এক বিনিয়োগকারী অভিযোগ করে বলেন, ভিসা ও ওয়ার্কপারমিট পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ বিষয়ে বিডার নির্বাহী সদস্য বলেন, এখন সব কিছু অনলাইনের মাধ্যমে আপনি করতে পারবেন। কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে আপনার ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের কাজ করাবেন না। এতে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনারা নিজেই অনলাইনে সব করতে পারবেন। এরপরও কোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য আমাদের বলা হলে সব সময় আপনাদের সঙ্গে আছি।

চায়না এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশের সভাপতি কে চ্যাং লিয়াং বলেন, গত কয়েক দশক ধরে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ দেশের স্বপ্ন পূরণে কাজ করছে। ৬৭০টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় ১৫টি চীনা কোম্পানির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক হেডকোয়াটার্স এখানে রয়েছে। এসব কোম্পানি সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। তারা বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রধান চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিসিসিআই) সভাপতি গাজী গোলাম মর্তুজা বলেন, আমাদের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। বিনিয়োগের দারুণ পরিবেশ রয়েছে। আপনারা এখানে (বাংলাদেশে) বিনিয়োগ করুন। আমাদের জমি আছে, জমির সমস্যা নেই, আপনার বিনিয়োগ করতে আসুন, সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন আপনারা।

বিসিসিসিআই সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা বলেন, করোনাকালে প্রায় তিন বছর চীনের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে, বিনিয়োগ ব্যাহত হয়। চলতি বছর থেকে আবারও চীনের বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের রিজার্ভ সংকটকালে চীনের বিনিয়োগ ভালো সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। দেশের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি স্পেশাল চীনা ইকোনমিক জোন হচ্ছে। চীনের বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের ফলে আমরা টেকনোলজির বিষয়েও অভিজ্ঞতা লাভ করছি। আগামীতে চীনে আমাদের বাণিজ্য নিয়ে সেমিনার করার ইচ্ছা আছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চীনা দূতাবাসের কাউন্সিলর সং ইয়ং, এনবিআরের প্রথম সচিব (শুল্ক মূল্যায়ন ও পুরস্কার) খন্দকার নাজমুল হক, এনবিআর প্রথম সচিব (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) মনিরুজ্জামান, বিডার ডিরেক্টর জেনারেল শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বেপজার নির্বাহী পরিচালক তানভির হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।




বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখি: প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীদের বিশেষ করে আইসিটি, অবকাঠামো, টেক্সটাইল এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তাঁর স্বপ্ন বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে, যা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষেরও স্বপ্ন। আর তা হলো ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি এবং একটি সম্পূর্ণ উন্নত স্মার্ট জাতিতে পরিণত করা।’

স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা শুরু করেছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার রেডিসন হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে ‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস সামিট’ শীর্ষক একটি রোড শো’র অনুষ্ঠানে তাঁর বাসস্থান থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার আমন্ত্রণে ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণে বাংলাদেশ তাঁর বাণিজ্যিক পরিস্থিতিকে দৃঢ়তার সঙ্গে শক্তিশালী করে চলেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের প্রচেষ্টা শুধুমাত্র আমাদের জন্য সুবিধাই দেবে না বরং যারা আমাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে তাদের জন্যও লাভজনক প্রমাণিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবনা খুঁজে নিতে তারা বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ, এটি বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোর সাথে নিজেকে পরিচিত করার উপযুক্ত সময়।

তিনি বলেন, ‘এটিই সময় বাংলাদেশকে আরও ভালোভাবে জানার এবং এর ভবিষ্যতে এখানে বিনিয়োগ করার আমরা আইসিটি, ইলেকট্রনিক্স, অবকাঠামো, টেক্সটাইল, পর্যটন, ভারী শিল্প এবং ছোট শিল্পের মতো খাতগুলোতে নানা সুযোগ সুবিধার প্রস্তাব করেছি। আমাদের সরকার সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশ সম্ভাব্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যেমন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সর্বোত্তম আয়ের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

‘বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই আপনারা আমাদের উন্নয়ন যাত্রায় অংশ নিন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন; আমরা আস্থাশীল যে আপনাদের বিনিয়োগ সাফল্যের জন্য প্রাধান্য পাবে এবং আমরা একটি টেকসই অংশীদারিত্বের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ। আমরা আপনাকে আমাদের প্রবৃদ্ধিতে আরও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আসলে, আমাদের দেশে আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত রয়েছে অব্যাহত হাই রিটান্স ইনভেস্টমেন্টের(আরওআই) কারণে। এছাড়া, আমাদের সরকার ব্যবসা-বান্ধব এবং স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে যা আপনার বিনিয়োগের সফলতার নিশ্চয়তা দেয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয় এবং বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের রয়েছে সবচেয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নীতি। এর মধ্যে রয়েছে একটি উদারীকৃত শিল্প নীতি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, ১০০% বিদেশী মালিকানার ভাতা, একটি সহজ প্রস্থান নীতি, ১৫-বছরের কর ছাড় নীতি, আমদানি করা যন্ত্রপাতির জন্য ভ্যাট ছাড়, সুবিন্যস্ত পরিষেবা এবং আরও অনেক কিছু।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে, আমরা টেকসই দীর্ঘ-মেয়াদী অর্থায়নের জন্য প্রস্তুত আছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, এআই ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ‘আর্থিক সংযোগ’ অনুসরণ করছে। বাংলাদেশ ট্রেডিশনাল কাস্টমার ব্যাংকিংয়ের চেয়ে বিনিয়োগ ব্যাংকিংকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

বাংলাদেশ কেন ‘লুক আফ্রিকা পলিসি’ গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আফ্রিকার জনসংখ্যা ১.৫ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে এবং বর্তমানে দ্রুত নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্মুখীন হচ্ছে- যা বাংলাদেশের জন্য, বিশেষত টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস ও কৃষি পণ্যের মতো খাতে রপ্তানি সম্প্রসারনের জন্য অনুকূল সুযোগ প্রদান করছে। গত এক দশকে বাংলাদেশ আফ্রিকার নতুন বাজারের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতা উভয়েই আফ্রিকার অর্থনীতির সম্ভাবনা ও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুবিধার কথা স্বীকার করে। আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি, দ্রুত বর্ধিত জনসংখ্যা ও ভোক্তা চাহিদার কারণে অঞ্চলটি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির একটি আকর্ষণীয় বাজারে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে আফ্রিকান দেশগুলো থেকে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামাল সংগ্রহের উপায় খুঁজছে। এই অন্বেষণের মধ্যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প, খনিজ, পেট্রোলিয়াম পণ্য, তুলা, কৃষিপণ্য ও আরো অনেক কিছুর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

গত পাঁচ দশকে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধা, অভীন্ন মূল্যবোধ ও বিশ্বাস এবং সংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই বন্ধন ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সংযোগের মাধ্যমে আরো সুদৃঢ় হয়েছে। উভয় দেশই উন্নয়নের একই পথে আছে- যা পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নকে সম্ভবপর করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গত বছর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩১৬.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার- যা উভয় দেশের রপ্তানি ও আমদানির পূর্ণ সম্ভাবনার তুলনায় কম। উভয় দেশের জন্য আমদানি-রপ্তানির আরও সম্ভাবনা রয়েছে।

‘আমরা এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যে-উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতার সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার বাইরে আমরা ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি যৌথ কমিটি’ প্রতিষ্ঠা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দ্বৈত কর এড়ানোর চুক্তি নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহী’—যোগ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এফবিসিসিআই ও দক্ষিণ আফ্রিকার চেম্বারের মধ্যে একটি যৌথ ব্যবসায়িক ফোরামও গঠনেরও বাংলাদেশের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ীদের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানসহ অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকার গণপূর্ত ও অবকাঠামো মন্ত্রী সিহলে জিকালালা বক্তৃতা করেন।

বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) লোকমান হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিএসইসির চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা ও বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন।

বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় নগরী জোহানেসবার্গে এটি হচ্ছে ৭ম রোড শো।

বিডা ও বিএসইসি বাংলাদেশে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পদক্ষেপের অংশ হিসাবে দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, কাতার ও জাপানে এই ধরণের রোড শো আয়োজন করে। জার্মানি, কানাডা, রাশিয়া, হংকং, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশেও একই ধরনের রোড শো করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেও বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক ও জাতীয় অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বতন্ত্র একটি দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দশকের অবিচল দৃঢ় সংকল্প, নিরলস প্রচেষ্টা এবং আমাদের নাগরিকদের আপসহীন প্রতিশ্রুতির কারণে সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি, অনেকগুলো বৈশ্বিক গবেষণা, সমীক্ষা ও ব্যাপক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের সাফল্যের যাত্রা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র উন্নয়নমূলক নজির হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি এর জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।

তিনি আরও বলেন, সে কারণেই বাংলাদেশকে প্রায়শই উন্নয়নমূলক বিবরণে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও কল্যাণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং প্রায়শই অদম্য চেতনার মানুষের দেশ হিসাবেও দেখা হয়।

‘গত এক দশকে, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধির হার বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মহামারী এবং অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও এই স্থিতিস্থাপকতা সুস্পষ্ট রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের একটি ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উত্তরণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এই অসাধারণ পথচলাকে সুস্পষ্ট করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের জন্য আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, একটি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথ তৈরিতে আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ও শিল্পায়নের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ১০৯টি হাই-টেক অ্যান্ড সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং আইটি প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করছে।

সম্প্রতি পদ্মা সেতু এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের উদ্বোধন বহিঃসংযোগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উভয় ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে এবং তা প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় ও শক্তিশালী বেসরকারি খাত ভবিষ্যতে যারা আমাদের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করবে তাদের জন্য প্রচুর সুযোগ প্রদান করবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে সম্পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের শক্তির কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নিহিত রয়েছে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন আমাদের প্রায় ৫৫ মিলিয়ন তরুণ-তরুণী ভবিষ্যতে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সংযোগের মাধ্যমে আমাদেরকে সৌভাগ্যের অবস্থানে উন্নীত করেছে। উপরন্তু, একটি ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার এবং একটি সম্প্রসারিত ভোক্তা শ্রেণী এই জনসংখ্যাগত সুবিধাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য তার পুঁজিবাজারকে উন্নত করছে।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে, দেশের স্টক মার্কেট আঞ্চলিক মার্কেটগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বাজার মূলধন প্রায় ৬১ বিলিয়ন ডলার যা জিডিপির ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘আর্থিক অগ্রগতির জন্য, আমরা আমাদের বন্ড মার্কেটকে প্রসারিত করেছি। বিনিয়োগের সুযোগ বৈচিত্রময় করতে আমরা সুকুক, গ্রিন বন্ড, ইটিএফ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, প্রাইভেট ইক্যুইটি এবং ইমপ্যাক্ট ফান্ড প্রবর্তন করেছি। শিগগিরই, আমরা আমাদের পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভ পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছি, যা বেড়াজালের মাধ্যমে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।




জাপানে ‘রোড শো’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পুঁজিবাজারের ব্যপ্তি বাড়ানো ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিকভাবে ‘রোড শো’ আয়োজন করা হচ্ছে। এবার এশিয়ান দেশ হিসেবে জাপানে আগামী ২৭ এপ্রিল রোড শো অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের রোড শোটি উদ্বোধন করবেন বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

 

‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে জাপানের ওয়েস্টিন টোকিওতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রোড শো বিএসইসি’র ষষ্ঠতম আয়োজন।

জাপানের রোড শোতে এবার বিএসইসির সঙ্গে আয়োজক হিসবে রয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা)। এছাড়া পার্টনার হিসবে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া সহযোগিতায় রয়েছে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, মিনোরি জাপান বাংলাদেশ ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো)।

জানা গেছে, এবার জাপানের রোড শো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। এ সময় উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামসহ বিএসইসি’র প্রতিনিধিরা।

 

জাপানের ‘রোড শো’তে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিরা বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, শেয়ারবাজার ও সার্বিক অর্থনীতির পরিস্থিতি এবং এফডিআই’র বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হবে।

এছাড়া, দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কীভাবে শেয়ার বাজারে সরাসরি বিনিয়োগ করবেন তার কৌশল ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরা হবে।

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও শহরগুলোতে ধারাবাহিক রোড শো করার পরিকল্পনা করেছে বিএসইসি।

এর আগে প্রথম দফায় দুবাইতে, দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রে, তৃতীয় দফায় সুইজারল্যান্ড, চতুর্থ দফায় যুক্তরাজ্য ও পঞ্চম দফায় কাতারে সাফলতার সঙ্গে রোড শো সম্পন্ন করেছে বিএসইসি। এছাড়া সিঙ্গাপুর, জার্মানি, কানাডা, রাশিয়া, ইতালি, হংকং, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিকভাবে রোড শো আয়োজন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএসইসি’র ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবার এশিয়ার দেশ হিসেবে জাপানে রোড শো আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল এ রোড শো অনুষ্ঠিত হবে। শেয়ারবাজারের এসব অর্জনসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিস্থিতি জাপানের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডারদের কাছে রোড শো’র মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।’