খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের শোক

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। তারা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত চেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন।

এফবিসিসিআইয়ের শোক

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোক বার্তায় জানিয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও দীর্ঘ সংগ্রাম জাতি কৃতজ্ঞতচিত্তে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারালো। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বে জাতি সবসময় মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ তাকে বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে পাশে পেয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এফবিসিসিআই বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেশত নসীব করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি ও সাহস দান করুন।

বিজিএমইএর শোক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) শোকবার্তায় বলা হয়েছে, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথিকৃৎ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। বিজিএমইএ পরিবার তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে বিজিএমইএ।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা সমগ্র পোশাকশিল্প পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দেশ একজন অভিভাবক ও কালজয়ী দেশপ্রেমিক নেতাকে হারালো। জাতীয় জীবনে এই অপূরণীয় শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে, তৈরি পোশাকশিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে তার আন্তরিকতা এবং সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো আমাদের এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় চিরকাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ইতিহাসে তার অর্থনৈতিক দর্শন ও কর্মময় জীবন অম্লান হয়ে থাকবে।

বিজিএমইএ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ও আধুনিক শিল্পায়নের পথ সুগম করতে বেগম খালেদা জিয়া অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তার সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পথচলা শুরু হয়, যা বেসরকারি খাতকে বিকাশের অবারিত সুযোগ করে দেয়।

বিজিএমইএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পোশাক খাতের জন্য সহায়ক শুল্ক নীতি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানের ফলেই এ খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসার ও অবৈতনিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে তিনি দেশের এক বিশাল নারী জনগোষ্ঠীকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা পোশাক শিল্পে নারী কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং নারীর ক্ষমতায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

বিজিএমইএ মনে করে, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে তার আমৃত্যু সংগ্রাম এবং অসামান্য ত্যাগের জন্য বাংলাদেশ ও জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল তাকে স্মরণ করবে।

বিটিএমএর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে টেক্সটাইল মিলের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিটিএমএর পরিচালনা পর্ষদ এবং সব সদস্য মিলের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানাচ্ছি। আমরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

ঢাকা চেম্বারের শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডিসিসিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া, দেশের অন্যতম প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশপাশি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন, যা জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

এতে বলা হয়, পরম করুণমায়ের নিকট তার রুহের মাগফেরাত কামনা ও জান্নাতের মর্যাদপূর্ণ স্থানে আসীনের প্রার্থনা করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

ডিএসইর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকাহত সবাইকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করুন।

শোকবার্তায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ছিল সততা, নীতি, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের প্রতি অটল অঙ্গীকার। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন এবং নীরব দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক কাঠামো সুদৃঢ়করণে তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন। তার ব্যক্তিত্বের সরলতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও দূরদৃষ্টি আমাদের জাতীয় জীবনে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে৷

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার শোকবার্তায় বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে তিনি সর্বদা চেষ্টা করেছেন দেশের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে। রাজনীতির অস্থির সময়ে তার প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব নানা সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতি তার নিবেদিতপ্রাণ সেবার কারণে তিনি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন এবং থাকবেন।
মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের শোক

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মোবাইল গ্রাহকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী জাতীয় একজন প্রবীণ নেত্রী ও রাজনৈতিক জীবনের অমোঘ ছাপ রেখে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।

 

সংগঠনটির পক্ষে বলা হয়, আমরা মরহুমার জীবনের কর্ম ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি একজন দৃঢ় নেতৃত্ব, গণতন্ত্রে অটল বিশ্বাসী ও দেশের উন্নয়নে নিবেদিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার নেতৃত্ব ও জনগণের জন্য নিবেদিত সময়ের স্মৃতি সার্বক্ষণিক আমাদের মনে থেকে যাবে।

এতে আরও বলা হয়, শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দান করুন। বাংলাদেশ আজ এক মহৎ নারী নেত্রীকে হারালো।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ যৌথভাবে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার অবদান ও সংগ্রাম দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় থাকবে।

বেসিসের শোক

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক এবং বাংলার মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকার প্রধান। সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা দেশের ইতিহাসে অনন্য।

এ উপলক্ষে বেসিসের প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাতি আজ এক সাহসী অভিভাবককে হারালো। দুঃসময়ে যিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে যিনি কখনো মাথা নত করেন নাই। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়—কোটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। তার সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই শূন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়।

বেসিসের পক্ষ থেকে মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।




৫ আগস্ট টেক্সটাইল শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ

আগামী ৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) দেশের সব টেক্সটাইল শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছে টেক্সটাইল শিল্পমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

রোববার (৩ আগস্ট) বিটিএমএর সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ (সাধারণ ছুটিসহ) ঘোষণা করেছে সরকার। টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১১৮ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১১০ মোতাবেক বছরের শুরুতেই উৎসব ছুটি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে বিধায় শিল্পকারখানার জন্য ৫ আগস্ট সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি প্রদানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সরকার ঘোষিত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমএর পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সব টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ ছুটি হিসেবে বন্ধ রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান বিটিএমএর সেক্রেটারি জেনারেল।




পোশাক রপ্তানি বাড়লেও কমেছে তুলা আমদানি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তুলা আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ। হঠাৎ করে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে সংকট তৈরির আশঙ্কা বস্ত্রকলমালিকদের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও দেশে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যদিও এই সময়ে পোশাকের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলার আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ।

গত জানুয়ারি থেকে জুন—এই সময়কালে দেশের বস্ত্রকলগুলো ১৭ হাজার কোটি টাকার ৬ লাখ ৩২ হাজার টন তুলা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৮ লাখ ৯১ হাজার টন তুলা। যদিও গত বছর শেষে তুলা আমদানি দাঁড়িয়েছিল ১৮ লাখ টনে। তাতে ব্যয় হয়েছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা।

পোশাক রপ্তানি বাড়ল আর তুলার আমদানি কমল—এমন বৈপরীত্যের বিষয়ে বস্ত্র খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমেছে। তার প্রভাব বস্ত্র খাতে পড়েছে। এমনও হয়েছে, যেটুকু ক্রয়াদেশ ছিল সেটুকুও গ্যাস-সংকটের কারণে সময়মতো দেওয়া যায়নি। অন্যদিকে গত বছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি হয়। যেহেতু গ্যাস, ডলার ও ক্রয়াদেশ-সংকট ছিল, তাই অনেক স্পিনিং মিল বেশি তুলা আমদানির ঝুঁকি নেয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে সুতার সংকট দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানান উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, তুলা আমদানির জন্য বুকিং দিলে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। আবার ডলার-সংকটের কারণে তুলা আমদানির ঋণপত্র খুলতে অনেক প্রতিষ্ঠানের বেগ পেতে হচ্ছে।

আমদানি করা তুলা দিয়ে স্পিনিং মিলগুলো সুতা তৈরি করে। সেই সুতায় উৎপাদিত কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়।

বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বিটিএমএর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী নিট পোশাক কারখানার চাহিদার ৮০ শতাংশ সুতার জোগান দেয় দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো। ওভেন পোশাক কারখানার ক্ষেত্রে সেটি ৩৫-৪০ শতাংশ। দেশে বর্তমানে সুতার কল আছে ৫১০টি। সেগুলোর সুতা উৎপাদনের ক্ষমতা বছরে ৩৮০ কোটি কেজি।

বিটিএমএ জানায়, করোনাকালেও দেশে তুলা আমদানি কমেনি। ২০১৯ সালে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টন তুলা আমদানি হয়। পরের বছর করোনার মধ্যেও আগের বছরের চেয়ে তিন হাজার টন বেশি তুলা আমদানি হয়। ২০২১ সালে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ালে ১৯ লাখ ৭৯ হাজার টন তুলা আমদানি হয়। ২০২২ সালে আমদানি হয় ১৮ লাখ টন তুলা।

বাংলাদেশে আমদানি হওয়া তুলার ৪৩ শতাংশ আফ্রিকা থেকে আসে। একক দেশ হিসেবে ভারত থেকে আসে ২০ শতাংশ তুলা। গত বছর ৮১ লাখ বেল তুলা আমদানি হয়। তার মধ্যে আফ্রিকা থেকে সাড়ে ৩৫ লাখ বেল, ভারত থেকে ১৬ লাখ, ব্রাজিল থেকে ১৩ লাখ এবং বেনিন থেকে ১১ লাখ ৫১ হাজার বেল তুলা আমদানি হয়েছে।

লিটল গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে না পারায় গুদামে তুলা পড়ে আছে। বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী যদি উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেক ব্যবহার করি, তাহলে মজুতকৃত তুলায় ছয় মাস চলবে। আর পুরো সক্ষমতায় চললে তিন মাস।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে খোরশেদ আলম বলেন, গত মাসের তুলনায় নতুন ক্রয়াদেশের অনুসন্ধানের হার বাড়ছে। গুদামে থাকা সুতা বিক্রি বেড়েছে। সামনের দিনে ক্রয়াদেশ বাড়লে তুলা আমদানি নিয়ে সমস্যা হবে না।

এদিকে তুলার পাশাপাশি সুতা আমদানিও কমেছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে ৭ লাখ ১৪ হাজার ও ৬ লাখ ৪৫ হাজার টন সুতা আমদানি হয়। করোনার বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে আমদানি হয় ৬ লাখ ৫৩ হাজার টন সুতা। পরের বছর তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে সুতা আমদানিও বেড়ে ১০ লাখ ৭৪ হাজার টন হয়। সর্বশেষ গত বছর ৩৯ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার ১০ লাখ ২৮ হাজার টন সুতা আমদানি হয়।

বিটিএমএ বলছে, এ বছরের প্রথমার্ধে সুতা আমদানি কমেছে ৩৬ শতাংশ। গত জানুয়ারি-জুন সময়ে ৪ লাখ ১৩ হাজার টন সুতা আমদানি হয়। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ৪৮ হাজার টন সুতা। তার মানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সুতা আমদানি কমেছে ২ লাখ ৩৫ হাজার টন।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্ম্মদ আলী বলেন, বস্ত্রকলগুলোতে উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ নেই। এ জন্য অধিকাংশ কারখানা উৎপাদন সক্ষমতার ৪০-৫০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারছে না। আবার ডলার-সংকটও কাটেনি। এরই মধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার (ইডিএফ) কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে তুলা আমদানির এলসি খুলতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এখন হঠাৎ করে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে তুলা ও সুতার জোগানে কিছুটা সমস্যা হলেও হতে পারে।