প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ-বিকেএমইএ নেতাদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।




দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বে তুলে ধরবে ওপেন সাপ্লাই হাব

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেন সাপ্লাই হাব (ওএস হাব)।

এজন্য সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার উৎপাদন খাতের তথ্য একটি ওপেন-সোর্স বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে।

 

বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রোববার (১০ মে) এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিজিএমইএয়ের পক্ষে সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং ওপেন সাপ্লাই হাবের পক্ষে সিনিয়র ডাইরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএয়ের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ট্রেড ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান এম সাজেদুল করিমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য- একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি পোশাক কারখানার অবস্থান, উৎপাদিত পণ্য তালিকা ও বিশেষ সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ বৈশ্বিক সোর্সিং এবং ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিজিএমইএয়ের সদস্য কারখানাগুলোর তথ্য ও অবস্থান ওএস হাবের গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও গবেষকরা সহজেই কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য খুঁজে পেতে পারবেন।

এছাড়া, প্রতিটি কারখানাকে ওএস হাবের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে একটি ‘ইউনিভার্সাল ওএস আইডি’ দেওয়া হবে। এই ইউনিক আইডির মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে কারখানাগুলোকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তথ্যের স্বচ্ছতা ও মানসম্মত উপস্থাপন নিশ্চিত হবে।

পাশাপাশি, কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অনলাইন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের ডিজিটাল প্রোফাইল আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।

চুক্তির অধীনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বা ইন্টারঅপারেবিলিটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। এর ফলে নিরীক্ষা প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।

বিজিএমইএয়ের সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, ‘স্বচ্ছ ও ট্রেসেবল সাপ্লাই চেইন তৈরিতে ওপেন সাপ্লাই হাবের সঙ্গে বিজিএমইএয়ের এই অংশীদারত্ব একটি মাইলফলক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাসটেইনেবিলিটি-বিষয়ক কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত শর্তাবলীর প্রেক্ষাপটে নির্ভরযোগ্য ডাটা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অপরিহার্য ব্যবসায়িক প্রয়োজন। এই সমঝোতা স্মারকটি বিশ্ববাজারে আমাদের সদস্য কারখানাগুলোর দৃশ্যমানতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে একটি টেকসই সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।’

অনুষ্ঠানে ওপেন সাপ্লাই হাবের সিনিয়র ডাইরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট বলেন, ‘বিজিএমইএয়ের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কারখানাকে একটি ইউনিক ডিজিটাল প্রোফাইল দিচ্ছি, যা কেবল তথ্যের সঠিকতাই নিশ্চিত করবে না, বরং কারখানাগুলোর সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের চিত্র বিশ্বদরবারে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং রিটেইলারদের জন্য সঠিক সোর্সিং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক ও দায়িত্বশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।’

বিজিএমইএয়ের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতাই টেকসই বাণিজ্যের মূল ভিত্তি। ওপেন সাপ্লাই হাবের সঙ্গে এই উদ্যোগ আমাদের উৎপাদন খাতের সঠিক তথ্য বিশ্বজুড়ে সহজে পৌঁছে দেবে। সিএসথ্রিডির মতো আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো যে ধরনের স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিশ্চয়তা দাবি করে, বাংলাদেশ তা পূরণে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।




গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ: বিজিএমইএ

গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ ছাড়া আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এমন অবস্থায় আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ’র শীর্ষ নেতারা সভাউপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শুল্কের প্রভাবে রপ্তানি নিম্নমুখী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি নিম্নমুখী, অর্থাৎ কারখানাগুলো পরিমিত সভায় ক্ষমতায় চলতে পারছে না, ফলে ফিক্সড কস্ট আনুপাতিক হারে বেড়েছে এবং অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেছে।

বিজিএমইএ’র প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১.০০ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা ৫ বছরের জন্য নির্ধারণ করা, সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং ইটিপিসহ একাধিক কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।

 

বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২%-১৫% এ পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ২০১৭-২০২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি, গত ৫ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রণোদনা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।




বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে বিজিএমইএ-এর শোক

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক শোকবার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মরহুম মাহবুবুর রহমান ছিলেন একজন অত্যন্ত মেধাবী, কর্মনিষ্ঠ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ও প্রতিকূলতা নিরসনে তার অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি প্রণয়নে মাহবুবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বিষয়ক আলোচনা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বহুপাক্ষিক সম্মেলনসমূহে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তার প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে তার দক্ষ দরকষাকষি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং পোশাক শিল্পের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিজিএমইএ মনে করে, তার এই অকাল প্রয়াণে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাকে হারালো, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

সংগঠনটি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।




পোশাক শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান বিজিএমইএর

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এসময় বিজিএমইএ সভাপতি সরকারের প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে শিল্পে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গে সংগঠনের ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বর্তমানে কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫-৩০ শতাংশ কমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের বিপরীতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য শিপমেন্ট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

 

এ পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল সংকট মোকাবেলায় কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:-

জরুরি জ্বালানি সরবরাহ : তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান।

গ্যাস সংযোগ ও সমবণ্টন : বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য (যাদের বয়লার সক্ষমতা ৩০০-৫০০ কেজি) জরুরি গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সব শিল্প অঞ্চলে সমতার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানানো হয়।

 

অবকাঠামো উন্নয়ন ও অটোমেশন : দ্রুততম সময়ে অন্তত ২টি অতিরিক্ত এফএসআরইউ স্থাপন এবং শিল্পখাতে ইভিসি মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজতর করার অনুরোধ করা হয়।

শুল্ক ও কর হ্রাস : আমদানিকৃত জ্বালানির উপর আমদানি ও ভোক্তা পর্যায়ে সব প্রকার ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে উৎপাদন খরচ কমানোর এবং সরকারের ভর্তুকি চাপ কমানোর প্রস্তাব করা হয়।

বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জামাদি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক রেয়াতি সুবিধার আবেদন জানানো হয়েছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি ক্যাবল এবং বিইএসএস (বিইএসএস) এর মতো অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির উপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক (২৮.৭৩% থেকে ৬১.৮০%) কমিয়ে ১%এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদানের কথা বিবেচনা করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ করার জন্য বিজিএমইএ এর প্রদত্ত ফরমেট অনুমোদন করেন।




ঈদের আগেই প্রায় সব পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ

ঈদের আগেই প্রায় সব পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

‘আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাইবোনদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯.৯১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট দুটি কারখানার বেতন প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন করেছে ৯৯.৮১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট চারটি কারখানার ঈদ বোনাস প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম প্রদান করেছে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে। আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি দেবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়টিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি – এই তিনটি বড় চাপ একযোগে আমাদের শিল্পকে প্রভাবিত করছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমাদের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাব আমাদের মতো রপ্তানিনির্ভর শিল্পের ওপর সরাসরি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত ৫ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখনও নিশ্চিত নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিজিএমইএর সদস্যরা বরাবরই শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি দায়বদ্ধ। আর তাই, ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী কিছু সংখ্যক কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক এবং শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করেছি। আজ অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের জানামতে বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা রয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমরা অত্যন্ত গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি বর্তমান ব্যবসাবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব সরকারের বিশেষ নির্দেশনার কথা। সরকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ জানান।

সবশেষে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রতি বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা দেখি। আমরা পরিবহন চালকদের প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান জানাই, সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ, – মহাসড়কে নজরদারি আরও জোরদার করা হোক, যাতে কোনো পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে।




চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থায় দেশের রপ্তানিনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। এ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নৌ পরিবহন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

সেলিম রহমান বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি ও প্রস্তুত পণ্য রপ্তানি সরাসরি এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বন্দরের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন উৎপাদন চেইন ব্যাহত করে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে কনটেইনার জট, জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএ জানায়, তৈরি পোশাক শিল্প একটি সময়সংবেদনশীল খাত, যেখানে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য রপ্তানি করা অত্যাবশ্যক। বন্দরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পণ্য চালানে বিলম্ব ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। এতে একদিকে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চলমান অবরোধ ও অপারেশনাল জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ বাতিলের ঝুঁকি বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এমতাবস্থায় দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং রপ্তানিনির্ভর শিল্পের আস্থা ও সক্ষমতা বজায় থাকবে।




সবুজ কারখানায় তৈরি পোশাকের সঠিক মূল্যায়ন প্রয়োজন

সবুজ কারখানায় বিশ্বে বাংলাদেশ নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙছে। প্রতিনিয়ত গড়ছে নিত্য নতুন রেকর্ড। এটি দেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে সবুজ কারখানাগুলো ক্রয়াদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। ক্রেতাদের এটি ভাবা উচিৎ। আর কারখানাগুলোর পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজ করা উচিত।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিশ্বের শীর্ষ গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি অর্জনের জন্য হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সম্মান অর্জন করায় শীর্ষ এই সবুজ কারখানাকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে। এটি কেবল একটি সংখ্যার বিচার নয়, বরং এটি বর্তমানে বিশ্বের যে কোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর।

তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য সারাবিশ্বের কাছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক’ তৈরি করেছে।

স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএ এর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা তারা সফলভাবে করেছে। কারখানার পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজতর করতে হবে।

বিজিএমইএ’র পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ লিড সার্টিফিকেশনে সর্বোচ্চ স্কোর করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে। এটি শিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো কার্যাদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের মূল্যের সঠিক প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে ইউএসজিবিসি এর কনসালটেন্ট ও ৩৬০ টিএসএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত আহমেদ এই অর্জনের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র যে সাসটেইনিবিলিটির পথে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে তা নয়, বরং নতুন বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক তৈরি করছে।

হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে কারখানার সাকসেস স্টোরি তুলে ধরেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিজিএমইএ’র বর্তমান পর্ষদ যেভাবে শিল্পের প্রতিটি অর্জনকে মূল্যায়ন করছে এবং বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ’র এই সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ শিল্পমালিকদের টেকসই শিল্পায়নের পথে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড টেকনোলজিস্টসের (আইটিইটি) ইনটেরিম কমিটির কনভেনর প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার এবং হ্যামস গার্মেন্টস এর পরিচালকগন ও উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফাইড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড মানের। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।




খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের শোক

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। তারা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত চেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন।

এফবিসিসিআইয়ের শোক

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোক বার্তায় জানিয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও দীর্ঘ সংগ্রাম জাতি কৃতজ্ঞতচিত্তে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারালো। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বে জাতি সবসময় মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ তাকে বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে পাশে পেয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এফবিসিসিআই বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেশত নসীব করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি ও সাহস দান করুন।

বিজিএমইএর শোক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) শোকবার্তায় বলা হয়েছে, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথিকৃৎ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। বিজিএমইএ পরিবার তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে বিজিএমইএ।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা সমগ্র পোশাকশিল্প পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দেশ একজন অভিভাবক ও কালজয়ী দেশপ্রেমিক নেতাকে হারালো। জাতীয় জীবনে এই অপূরণীয় শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে, তৈরি পোশাকশিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে তার আন্তরিকতা এবং সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো আমাদের এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় চিরকাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ইতিহাসে তার অর্থনৈতিক দর্শন ও কর্মময় জীবন অম্লান হয়ে থাকবে।

বিজিএমইএ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ও আধুনিক শিল্পায়নের পথ সুগম করতে বেগম খালেদা জিয়া অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তার সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পথচলা শুরু হয়, যা বেসরকারি খাতকে বিকাশের অবারিত সুযোগ করে দেয়।

বিজিএমইএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পোশাক খাতের জন্য সহায়ক শুল্ক নীতি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানের ফলেই এ খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসার ও অবৈতনিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে তিনি দেশের এক বিশাল নারী জনগোষ্ঠীকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা পোশাক শিল্পে নারী কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং নারীর ক্ষমতায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

বিজিএমইএ মনে করে, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে তার আমৃত্যু সংগ্রাম এবং অসামান্য ত্যাগের জন্য বাংলাদেশ ও জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল তাকে স্মরণ করবে।

বিটিএমএর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে টেক্সটাইল মিলের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিটিএমএর পরিচালনা পর্ষদ এবং সব সদস্য মিলের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানাচ্ছি। আমরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

ঢাকা চেম্বারের শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডিসিসিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া, দেশের অন্যতম প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশপাশি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন, যা জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

এতে বলা হয়, পরম করুণমায়ের নিকট তার রুহের মাগফেরাত কামনা ও জান্নাতের মর্যাদপূর্ণ স্থানে আসীনের প্রার্থনা করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

ডিএসইর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকাহত সবাইকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করুন।

শোকবার্তায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ছিল সততা, নীতি, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের প্রতি অটল অঙ্গীকার। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন এবং নীরব দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক কাঠামো সুদৃঢ়করণে তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন। তার ব্যক্তিত্বের সরলতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও দূরদৃষ্টি আমাদের জাতীয় জীবনে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে৷

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার শোকবার্তায় বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে তিনি সর্বদা চেষ্টা করেছেন দেশের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে। রাজনীতির অস্থির সময়ে তার প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব নানা সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতি তার নিবেদিতপ্রাণ সেবার কারণে তিনি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন এবং থাকবেন।
মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের শোক

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মোবাইল গ্রাহকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী জাতীয় একজন প্রবীণ নেত্রী ও রাজনৈতিক জীবনের অমোঘ ছাপ রেখে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।

 

সংগঠনটির পক্ষে বলা হয়, আমরা মরহুমার জীবনের কর্ম ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি একজন দৃঢ় নেতৃত্ব, গণতন্ত্রে অটল বিশ্বাসী ও দেশের উন্নয়নে নিবেদিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার নেতৃত্ব ও জনগণের জন্য নিবেদিত সময়ের স্মৃতি সার্বক্ষণিক আমাদের মনে থেকে যাবে।

এতে আরও বলা হয়, শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দান করুন। বাংলাদেশ আজ এক মহৎ নারী নেত্রীকে হারালো।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ যৌথভাবে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার অবদান ও সংগ্রাম দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় থাকবে।

বেসিসের শোক

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক এবং বাংলার মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকার প্রধান। সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা দেশের ইতিহাসে অনন্য।

এ উপলক্ষে বেসিসের প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাতি আজ এক সাহসী অভিভাবককে হারালো। দুঃসময়ে যিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে যিনি কখনো মাথা নত করেন নাই। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়—কোটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। তার সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই শূন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়।

বেসিসের পক্ষ থেকে মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।




বিজিএমইএ’র নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সোমবার (১৬ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন নবনির্বাচিত সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

দুই পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী প্রশাসক আনোয়ার হোসেন। দ্বিতীয় পর্বে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ফারুক হাসান, ড. রুবানা হক, এস এম ফজলুল হক, কাজী মনিরুজ্জামান ও আনিসুর রহমান সিনহা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারাসহ সাধারণ সদস্যরা অংশ নেন।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন— সিনিয়র সহ-সভাপতি: ইনামুল হক খান (বাবলু) , প্রথম সহ-সভাপতি: সেলিম রহমান, সহ-সভাপতি: মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ): মিজানুর রহমান, সহসভাপতি: ভিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি: মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহসভাপতি: মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী।

ঢাকা অঞ্চল থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা হলেন— শাহ রাঈদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফয়সাল সামাদ, মো. হাসিব উদ্দিন, মো. আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, সুমাইয়া ইসলাম, ফাহিমা আক্তার, মজুমদার আরিফুর রহমান, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, কাজী মিজানুর রহমান, জোয়ারদার মো. হোসনে কমার আলম, এবিএম সামছুদ্দিন, আসেফ কামাল পাশা, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, ফারুক হাসান, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল এবং সামিহা আজিম।

চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা হলেন— এমডি এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাকিফ আহমেদ সালাম, মো. সাইফ উল্যাহ মনসুর, এনামুল আজিজ চৌধুরী, এস এম আবু তৈয়ব এবং রাকিবুল আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে সম্মিলিত পরিষদের পক্ষে সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারি ও চৈতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম নতুন পরিচালনা পর্ষদকে শুভেচ্ছা জানান। অপরদিকে, ঐক্য পরিষদের পক্ষে রোমো গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন (সিআইপি) নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান।

এ ছাড়া বিকেএমইএ’র পক্ষে নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং নন-বন্ডেড এসএমই উদ্যোক্তাদের পক্ষে আরএল অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান নবনির্বাচিত কমিটিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।




বিজিএমইএর নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি–বিজিএমইএর ২০২৫-২৭ মেয়াদের জন্য মাহমুদ হাসান খান সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পদ বণ্টন নির্বাচনে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি ঘোষণা করে নির্বাচন বোর্ড। একইসঙ্গে কমিটির অন্যান্য পদের জন্যও আটজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন এবং প্রত্যেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বিজিএমইএ নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন ও আশরাফ আহমেদ।

তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল না করায় বৈধভাবে জমা পড়া সব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে অফিস বেয়ারার পদে মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়।

বিজিএমইএর নবনির্বাচিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– প্রথম সহ সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং সহ সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজিএমইএর প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন নবনির্বাচিত কমিটির সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিজিএমইএর নতুন নেতৃত্ব দেশীয় গার্মেন্টস খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ মে বিজিএমইএর ২০২৫-২৭ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে আজ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আগামী ১৬ জুন উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্বাচিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।




বিজিএমইএ নির্বাচন : চট্টগ্রামে সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল ঘোষণা

বিজিএমইএ ২০২৫–২০২৭ সালের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সম্মিলিত পরিষদ। চট্টগ্রাম ক্লাবে ঈদ-পরবর্তী এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সোমবার (২১ এপ্রিল) সম্মিলিত পরিষদের পক্ষ থেকে এ তথ‌্য জানানো হয়েছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আবু তৈয়বকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্যানেল প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই দলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন এইচকেএফ লিমিটেড ও অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল আলম চৌধুরী।

প্যানেলে আরও রয়েছেন কয়েকজন খ্যাতনামা শিল্প উদ্যোক্তা, যাদের মধ্যে রয়েছেন- আর এ এন ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন শেখর দাস, মদিনা ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুসা, ভিশন অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিদ নবী, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, এআরএম অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা সরোয়ার রিয়াদ, টপ স্টার ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফসার হোসেন এবং সাউথ ইস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের পরিচালক গাজী মো. শহীদুল্লাহ।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিজিএমইএ ২০২৫–২০২৭ সালের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্যানেলের ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই প্যানেল নির্বাচিত হলে এস এম আবু তৈয়ব প্রথম সহ-সভাপতি এবং রকিবুল আলম চৌধুরী সহ-সভাপতি হিসেবে আঞ্চলিক নেতৃত্বে থাকবেন। বাকি সদস্যরা চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্যানেল ঘোষণার পর বক্তারা চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা কারখানা মালিকদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার গুরুত্ব এবং সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলার ওপর জোর দেন, যাতে খাতটি একটি টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে। প্যানেল স্বচ্ছতা, ঐক্য এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং বিজিএমইএ ২০২৫–২০২৭ সালের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান। সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার মো. আবুল কালামও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ এবং এস এম নুরুল হকসহ অনেক খ্যাতনামা ব্যবসায়ী নেতা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম।

আগামী ৩১ মে ২০২৫ তারিখে বিজিএমইএ-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি সম্মিলিত পরিষদের

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) আসন্ন ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেছে সম্মিলিত পরিষদ।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বর্তমানে পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জোরালো কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন সম্মিলিত পরিষদের নেতারা৷

অনুষ্ঠানে সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিজিএমইএর প্রাক্তন সভাপতি এবং সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ফারুক হাসান, বিজিএমইএর আরেক প্রাক্তন সভাপতি ও সহ-সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম, সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার আবুল কালাম আজাদসহ বিজিএমইএর অন্যান্য সহ-সভাপতি, পরিচালক এবং সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অফিস উদ্বোধনীর আলোচনা সভায় বক্তারা বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অগ্রগতি ও সংকটকালে সম্মিলিত পরিষদের শক্তিশালী ভূমিকা ও অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরেন। একইসঙ্গে পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ট্যারিফ, এলডিসি গ্রাজুয়েশন, কাস্টমস, ব্যাংকিং, জ্বালানি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কীভাবে মোকাবিলা করে পোশাক শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে জন্য একটি যোগ্য প্যানেল উপস্থাপন করার দৃঢ় প্রত্যয়ও জানান সম্মিলিত পরিষদের নেতারা।




কর্পোরেট করহার ১২ শতাংশ অব্যাহত রাখার দাবি বিজিএমইএ’র

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য কর্পোরেট করহার ১২ শতাংশ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে রিসাইকেল ফাইবার (পুনঃব্যবহারযোগ্য সুতা) উৎপাদনে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব বোর্ড ভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য কর্পোরেট কর হার ১২ শতাংশ এবং এলইইডি সার্টিফিকেট কারখানার জন্য ১০ শতাংশ নির্ধারিত আছে, যা আগামী ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তৈরি পোশাক শিল্পে কর্পোরেট ট্যাক্স হার পরিবর্তন করা হলে স্থানীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থার ঘাটতি দেখা দেবে।

বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ছাড়াও বিটিএমএ, এসএমই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বাজেট প্রস্তাবে এনবিআরকে বিনিয়োগ বান্ধব করনীতি প্রণয়ন করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- রপ্তানীমুখী তৈরি পোশাক কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি এবং বিভিন্ন অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামাদি পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর কর রেয়াত করাসহ ইত্যাদি।




বিজিএমইএর তফসিল ঘোষণা, নির্বাচন ২৮ মে

দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালনা পর্ষদের (২০২৫-২৭) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (৯ মার্চ) বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হ‌য়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন উপলক্ষ্যে সদস্যদের বকেয়া চাঁদা পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ ২৯ মার্চ ২০২৫। ভোটার নমিনেশন দাখিলের তারিখ ৬ এপ্রিল। পরিচালক পদের প্রার্থীরা আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সর্বশেষ তারিখ ৬ মে।

নির্বাচন ২০২৫-২৭ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য নির্বাচনী বোর্ডের সচিব (পরিচালক, তথ্য, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিজিএমইএর সদস্যদের বলা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিজিএমইএর পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনকে।

বিজিএমইএর পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, গত ২৪ আগস্ট এস এম মান্নান সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও সেটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে পর্ষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। মূলত এসব অভিযোগে পর্ষদ ভেঙে ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




‘বিজিএমইএর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন’

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট বিজিএমইএ ফোরামের প্যানেল লিডার রাইজিং গ্রুপের কর্ণধার মাহমুদ হাসান খান বাবু।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘পোশাক শিল্পের সমসাময়িক অবস্থা বিবেচনায় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আমরা দুর্নীতি করি না, অন্যকে দুর্নীতি করতে দেবো না। আপনারা সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে ভোট দেবেন। এই বিজিএমইএর অভ্যন্তরীণ সংস্কার অবশ্যই হবে। আমরা চাই সঠিক জায়গায় সঠিক নেতৃত্ব আসুক, তাহলে পোশাকশিল্প এগিয়ে যাবে, দেশ এগিয়ে যাবে। আমরা পোশাকশিল্পের অগ্রগতিতে কাজ করবো। একতা, দক্ষতা ও সততার সাথে যুক্তিসঙ্গতভাবে কাজ করবো।

এর আগে মাহমুদ হাসান খান বাবুকে পরিচয় করিয়ে দেন ফোরাম সভাপতি এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ সালাম। ফোরাম চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি খন্দকার বেলায়েত হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি কেডিএস গ্রুপ চেয়ারম্যান আলহাজ খলিলুর রহমান, ফোরাম বাংলাদেশের সাবেক প্যানেল লিডার ফয়সাল সামাদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, ইনামুল হক খান বাবলু, ফোরাম চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক এমডিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ফোরাম চট্টগ্রামের সাবেক প্যানেল লিডার সেলিম রহমান, দেশ গার্মেন্টস’র এমডি ভিদিয়া অমৃত খান, মোহাম্মদ আলী, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় পোশাকশিল্পের বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া পোশাকশিল্প মালিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও সমস্যা সমাধানে ফোরাম সবসময় মালিকদের পাশে থাকবে বলেন আশ্বাস দেন নেতৃবৃন্দ।

সভায় দুই শতাধিক পোশাকশিল্প মালিক অংশ নেন। কোরআন তেলাওয়াত করেন ফোরাম চট্টগ্রামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. শফিকুল ইসলাম টিটু। উপস্থিত ছিলেন ফোরাম চট্টগ্রামের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান রানা, মোহাম্মদ ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক, চৌধুরী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিক চৌধুরী বাবলু, ট্রেজারার সাইফুল্লাহ মনসুর, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল আজিজ চৌধুরী, মির্জা আকবর খোকন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিয়াজ ওয়াইজ, মোরশেদ কাদের, ওয়াদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, আরশাদুর রহমান, বশির উদ্দিন আহমদ ও এমএ সিদ্দিক চৌধুরী।




চার মাস বাড়ল বিজিএমইএ’র প্রশাসকের মেয়াদ

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে তিনি আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত প্রশাসকের দায়িত্বে থাকছেন।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগ এ সংক্রান্ত একটি আদেশ দিয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ২০ অক্টোবর এক অফিস আদেশে বিজিএমই-এর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রশাসক হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রশাসকের মেয়াদ বাড়ানোর চিঠিতে বলা হয়, সংগঠনের নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হলেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু ও সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না, এমনটা জানিয়ে প্রশাসক মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই শর্তে প্রশাসকের মেয়াদ চার মাস বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়। শর্ত দুটি হচ্ছে— সংগঠনের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসরণ করে বিজিএমই-এর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন করতে হবে।

এ ছাড়া বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

এর আগে বিজিএমই-এর পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ২৪ আগস্ট এস এম মান্নান সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও সেটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে পর্ষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। মূলত এসব অভিযোগে পর্ষদ ভেঙে ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে প্রশাসক নিয়োগ করে মন্ত্রণালয়।




এপ্রিলে বিজিএমইএ’র নির্বাচন

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচন আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই দল-সম্মিলিত পরিষদ ও সম্মিলিত ফোরামের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনটির প্রশাসক আনোয়ার হোসেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-পারভেজ, সাবেক সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের প্যানেল লিডাররা। বৈঠকে বিজিএমইএ এর গঠিত সহায়ক কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিজিএমইএ এর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে সবার সহযোগিতায় নির্বাচনের কাজ চলছে।

বৈঠকে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা দেওয়া হয়- চলতি জানুয়ারির শেষ নাগাদ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড এবং এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

বৈঠকে পোশাক শিল্পের সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু, বিশেষ করে চলমান জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ও এনবিআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা এবং শিল্পের জন্য করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত সবাই অঙ্গীকার করেন যে, পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য জন্য তারা সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন।




বিজিএমইএ প্রশাসকের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রশাসক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সাপোর্ট কমিটির সদস্য মিরান আলী ও শিহাবুদ্দোজা চৌধুরী।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিশেষ করে পোশাক ও বস্ত্র খাতে আরও সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণ করা।

বিজিএমইএ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের সমৃদ্ধশালী পোশাকশিল্পের ওপর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন, বিশেষ করে পোশাকশিল্পের বর্তমান অগ্রাধিকারগুলো- উচ্চমূল্যের নন-কটন পোশাকে যাওয়ার মাধ্যমে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনয়ন, পরিবেশগত সাসটেইনেবিলিটির প্রসার এবং প্রযুক্তির মানোন্নয়ন।

তিনি বাংলাদেশি এবং চীনা টেক্সটাইল এবং ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ওপরও জোর দেন।

আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশ থেকে চীনের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের মধ্যে সফর বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা অন্বেষণে বাণিজ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বিজিএমইএ প্রশাসক বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি, চীনের সঙ্গে মসৃণ ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুবিধার্থে বাজার সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আরও সহযোগিতার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন।

বিশ্ববাজারে ম্যানমেইড ফাইবারভিত্তিক ফেব্রিক্স, কেমিক্যালস এবং অন্যান্য কাঁচামালের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে চীনের অবস্থান তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পারে।




অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য প্রতিশ্রুতিশীল বাজার

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, অষ্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য একটি প্রতিশ্রুতিশীল বাজার। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারিত করার এবং অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিশাল সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পবকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বিরাজমান বাণিজ্যের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়াতেও সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা বলা হয়।

এ সময় আনোয়ার হোসেন বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার অব্যাহত রয়েছে। সেজন্য আমরা অস্ট্রেলিয়ার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। পোশাক শিল্পে সার্কুলারিটি গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে বর্জ্য রিসাইক্লিং ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।

বৈঠকে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পবকে বলেন, আগামী বছরের মাঝামাঝিতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ শীর্ষক একটি ইভেন্ট আয়োজিত হচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকরা নিজ নিজ পণ্য উপস্থাপন করা সুযোগ পাবেন। অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন এই ইভেন্ট আয়োজনে বিজিএমইএ থেকে সহযোগিতা চান।

পরে বিজিএমইএ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে বিজিএমইএ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।




বিজিএমইএ পরিচালনা করতে ১০ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পরিচালনা করতে সহায়ক কমিটি গঠন করেছে সংগঠনটিতে নিযুক্ত সরকারের প্রশাসক। এতে সংগঠনের নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের পাঁচজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সহায়ক কমিটিতে স্থান পাওয়া সম্মিলিত পরিষদের পাঁচ সদস্য হলেন— ক্ল্যাসিক ফ্যাশন কনসেপ্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহিদউল্লাহ আজিম, মিসামি গার্মেন্টসের এমডি মিরান আলী, উর্মি গার্মেন্টসের এমডি আসিফ আশরাফ, এম এস ওয়্যারিং অ্যাপারেলসের এমডি আ ন ম সাইফুদ্দিন ও শাশা গার্মেন্টসের এমডি শামস মাহমুদ। পাঁচজনই বিভিন্ন সময় বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন।

আর সহায়ক কমিটিতে স্থান পাওয়া ফোরামের প্রতিনিধিরা হলেন— অনন্ত ক্লথিংয়ের এমডি এনামুল হক খান, ক্লিফটন ফ্যাশনের পরিচালক এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সফটেক্স কটনের এমডি রেজওয়ান সেলিম, এমিটি ডিজাইনের এমডি মো. শিহাবুদ্দোজা এবং অনন্ত অ্যাপারেলসের এমডি শরীফ জহির।

সহায়ক কমিটি গঠনের অফিস স্মারকে বলা হয়েছে, বাণিজ্য সংগঠন আইনের আলোকে বিজিএমইএর দায়িত্বে থাকা প্রশাসককে তার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করতে সংগঠনটির সদস্যদের সমন্বয়ে এ সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এর আগে গত ২০ অক্টোবর বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক বাণিজ্য সংগঠন) মো. আবদুর রহিম খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই আদেশে বলা হয়, বিজিএমইএ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি নিবন্ধিত বাণিজ্য সংগঠন। সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এস. এম. মান্নান (কচি) পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগ করেছেন এবং গত ২৪ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠিত হলেও পরিচালনা পর্ষদ গঠন প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ছিল। সাধারণ সদস্যদের উপস্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিরা সন্তোষজনক জবাব উপস্থাপন করতে পারেননি।

এতে আরও বলা হয়েছে, পোশাক শিল্পের চলমান অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিজিএমইএর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বর্তমান পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়হীনতার কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ এর ১৭(১) অনুযায়ী ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবাখাতের স্বার্থে সংগঠনটির সার্বিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বিজিএমইএর সব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও চলমান অস্থিরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ১৯৯৪, সংগঠনের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া আবশ্যক। তাই বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ এর ১৭ ধারা মোতাবেক সংগঠনটির পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে।

সবশেষে নতুন প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে সরকারের অনুমোদনক্রমে বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা মোতাবেক ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনকে বিজিএমইএর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকৃত প্রশাসক ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন বলেও জানানো হয় আদেশে।




বিজিএমইএর প্রশাসক হলেন আনোয়ার হোসেন

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা মোতাবেক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২০ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক বাণিজ্য সংগঠন) মো. আবদুর রহিম খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগ করা প্রশাসক ১২০ দিনের মধ্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে।




তৈরি পোশাক শিল্পখাত এখন স্থিতিশীল : বিজিএমইএ

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলছেন, পোশাক শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করে বর্তমানে স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। সরকার, মালিক, শ্রমিক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতায় বিজিএমইএ বোর্ড বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সবাই আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। তার জন্য বিজিএমইএ বোর্ড সরকার
ও সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাছাড়া ক্রেতারাও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর আস্থা রেখেছে। বিজিএমইএ বোর্ডের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকারের নির্দেশনায় পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী গঠন হয়েছে এবং যৌথবাহিনী গার্মেন্টস অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিতভাবে টহল পরিচালনা করেছে। বিজিএমইএ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় কমিউনিটি পুলিশিং চালু করেছে।

তিনি আরও বলেন, পোশাক কারখানাগুলোতে আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বিজিএমইএ থেকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়ে অর্থ উপদেষ্টাকে চিঠি দেওয়া হয়। বিজিএমইএ বোর্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও দেখা করেছে। তারপর বিজিএমইএ এর অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগস্ট মাসের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শ্রম অসন্তোষে আশুলিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯টি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বেতনভাতা পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। বিজিএমইএ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে ৩৯টি পোশাক কারখানাকে সুদবিহীন সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ সময় বোর্ডের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।




এলসি খোলায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় বিজিএমইএ

নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির মাধ্যমে বেনামে ঋণ বের করে নিয়ে যাওয়ায় গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও এলসির ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে ওই ব্যাংকগুলোয় বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর এলসি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার সফট লোনসহ রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সীমা না কমানোর দাবিও জানায় বিজিএমইএ।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ দাবি জানান বিজিএমইএর নেতারা।

বিজিএমইএর নেতারা জানান, সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিন হাজার কোটি টাকার সফট লোনের প্রয়োজন। এসব ঋণের সুদসহ আগামী ১ বছরের মধ্যে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। পোশাকশিল্প মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা জানান, রিজার্ভের অর্থে গঠিত এ তহবিলে বর্তমানে আড়াই বিলিয়ন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে এ তহবিল বিলুপ্ত করা হবে। তাছাড়া এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৬ ব্যাংকের এলসি ও ঋণ বিতরণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোয় অনেক ব্যবসায়ী এলসিসহ বিভিন্ন লেনদেনের জড়িত। বিধিনিষেধ আরোপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ব্যাংকের বিধি নিষেধ তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আমাদের।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সীমা আরও কমিয়ে আনা হবে। তহবিলের সীমা আরও কমলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মুহূর্তে ইডিএফ সীমা আর না কমানোর অনুরোধ জানিয়েছি। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিত ইডিএফের সীমা কমানো হবে না বলে জানিয়েছেন গভর্নর।

Jagonews24 Google News Channelজাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল।
বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, গভর্নরের কাছে আমরা তিনটি দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম। এর মধ্যে ছিল ৬ ব্যাংকের এলসি খুলে দেওয়া, ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সফট লোনের ব্যবস্থা এবং ইডিএফের তহবিল না কমানো। গভর্নর তিনটি বিষয়েই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। আশা করছি, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ছয়টি ব্যাংকের এলসি সমস্যা সমাধান হবে।




সহজ শর্তে দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ চায় বিজিএমইএ

সরকার পতনের আন্দোলনের সময় সরকারি ছুটি, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এই অবস্থায় পোশাক শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের কাছে সহজ শর্তে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছেন বিজিএমইএ’র নতুন সভাপতি ও ডিজাইন ট্যাক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, শুধু তৈরি পোশাক খাতের জন্য আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আনুমানিক ১৮শ থেকে ১৯শ কোটি টাকা সফট লোন চেয়েছি। গত ৪৫ দিনের মধ্যে আমাদের ১৬-১৭ দিন প্রোডাকশন বন্ধ ছিল। পাশাপাশি বন্যার কারণেও চার-পাঁচ দিন রপ্তানি করা যায়নি। অনেকগুলো কারণে শুধু এই সেক্টরের জন্য সহায়তা চেয়েছি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে আমাদের ফ্যাক্টরিগুলো প্রায় ১৬ দিন রান করতে পারেনি। এই কারণে আমরা একটি সফট লোনের জন্য উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করেছি। একটা মাসের জন্য যদি একটা সফট লোন দেওয়া যায়, এই লোন ইন্টারেস্টসহ এক বছরের মধ্যে আমরা ফেরত দিয়ে দেব। এছাড়া আরো ছোট ছোট কিছু ইস্যুও ছিল। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমরাও এই সরকারের সঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

‘পাশাপাশি আমাদের আরেকটি ইস্যু ছিল যে, আগে আমরা ছয়টি লোনের কিস্তি ফেল করলে আমাদের ক্লাসিফায়েড করত, পরে এটা পরিবর্তন করে তিনটিতে নেমে এসেছে। আমরা এটাকে আবারো ছয়টা করতে বলেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এটা আবার তিনটা করতে পারবেন। তিনি অত্যন্ত পজিটিভ আমাদেরকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং আমরাও তাকে সব ধরনের সহযোগিতার করব বলে আশ্বস্ত করেছি। বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক দ্রুত বাড়বে। আমরা আশা করছি আমাদের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমাদের সবার সহযোগিতা থাকলে বিদেশি বায়ারদের আস্থা বাড়বে। আমরা বিশ্বাস করি যে অনেক বেশি বিজনেস, বাংলাদেশে মুভ করবে,’ বলেন বিজিএমইএ সভাপতি।




বিজিএমইএর নতুন সভাপ‌তি খন্দকার রফিকুল

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতির পদ থেকে পদত‌্যাগ করেছেন এস এম মান্নান কচি। নতুন সভাপ‌তি নির্বা‌চিত হয়েছেন ডিজাইনটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া সংগঠন‌টির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হয়েছেন টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিব এবং উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ সহ-সভাপতি নির্বাচিত করেছে।

শ‌নিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় তারা নির্বা‌চিত হন।

বৈঠকে উপস্থিত বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ঢাকা পোস্টকে এসব তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন।

গত নির্বাচনে রফিকুল ইসলাম তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আর পদত‌্যাগ ক‌রা সভাপতি এস এম মান্নান কচি ঢাকা উত্তর সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। সরকার পরিবর্তনের পর গত নির্বাচনে পরাজিত প্যানেল বর্তমান বোর্ডের বিলুপ্তি এবং সমিতির জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন তদারকি করতে একটি অন্তর্বর্তী কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছিল। এরপর ক‌চি বাধ‌্য হ‌য়ে পদত‌্যাগ কর‌লেন।




ব্যবসায়ীদের মূল প্রস্তাবগুলো বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি : বিজিএমইএ

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এস এম মান্নান কচি বলেছেন, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের (ব্যবসায়ীদের) মূল প্রস্তাবগুলো প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। বাজেটে শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাজেটের ইতিবাচক দিক।

শনিবার (৮ জুন) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ এর যৌথ সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম মান্নান বলেন, বিশেষ করে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ কমে আসায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের এই প্রধান খাতটির জন্য কিছু নীতি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মূল প্রস্তাবগুলো প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তবে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য সহায়ক প্রস্তাবনা গুলোকে আমরা সাধুবাদ জানাই।




পোশাক খাতের উন্নয়নে ইইউ’র সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান

পোশাক খাতের উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

রোববার (১৯ মে) সংগঠনটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, স্পেন এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) এই আহ্বান জানান।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস-মোলার, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রস্টার, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দো, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডে, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের চার্জ ডি’ অ্যাফেয়ার্স থিজস ওয়াউডস্ট্রা, ইউ ডেলিগেশনের উপপ্রধান (ডেপুটি হেড অব মিশন) ড. বার্ন্ড স্প্যানিয়ার, স্প্যানিশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল অ্যাটাশে এসথার পেরেজ তাহোসেস এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধি দলের বাণিজ্য উপদেষ্টা আবু সৈয়দ বেলাল। বৈঠকে বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল (দীপু), সহ-সভাপতি (অর্থ) মো. নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন দিকগুলো বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের কল্যাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, বিশেষ করে চলমান ইবিএ স্কিম থেকে জিএসপি প্লাস এ উত্তোরণের সময়কাল বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণের পরও বাংলাদেশ যাতে করে তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিউ ডিলিজেন্স ডিটেকটিভ ও অন্যান্য আসন্ন প্রটোকলগুলো অনুসরণ করার ক্ষেত্রে শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ইইউ এর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইইউ-এর সহযোগিতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য ইইউ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং এথিক্যাল সোর্সিং নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ক্রেতাদের আহ্বান জানানোর জন্য রাষ্ট্রদূতদের অনুরোধ করেন। বিজিএমইএ নেতারা অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ইইউর সাথে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।




 বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের নতুন পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নবনির্বাচিত প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরীসহ পরিচালকরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শনিবার (২০ এপ্রিল) ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের জন্য তারা সংগঠনটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এসময় সাবেক সহ-সভাপতি এ এম চৌধুরী সেলিম, সাবেক পরিচালক এস এম সাজেদুল ইসলাম, ফরহাদ আব্বাস, এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, অঞ্জন শেখর দাশ, মোহাম্মদ তানভীর, মোহাম্মদ আতিক, খন্দকার বেলায়েত হোসেন, সাইফ উল্লাহ মনসুর, এনামুল আজিজ চৌধুরী, এ এম শফিউল করিম (খোকন), মো. হাসান (জ্যাকি) ও গার্মেন্টস মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ বিদায়ী পরিচালকদের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, বিগত পর্ষদ তাদের কর্মতৎপরতা ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই চট্টগ্রামে গার্মেন্টস শিল্পে শিল্পবান্ধব স্থিতাবস্থা বিরাজ করছে। তারা বিজিএমইএর সদস্যদের সেবাদানে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বর্তমান নবীন এবং প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত নতুন কমিটি ভবিষ্যতেও এ শিল্প মালিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব নব-নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পর্ষদের প্রতি তার যথেষ্ট আস্থা আছে। গার্মেন্টস সেক্টরের যে কোনো সমস্যা সমাধানে বর্তমান পর্ষদ সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

পুনঃ নির্বাচিত প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বিদায়ী পরিচালকদের দীর্ঘ পথ চলায় পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে তাদের লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে নতুন পর্ষদকে পরামর্শ দানে এগিয়ে আসবেন। নতুন সভাপতি এস এম মান্নান (কচি)-এর নেতৃত্বে আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে এ সেক্টরের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বর্তমান বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন। তিনি তার নতুন পর্ষদের মেয়াদকালে বিজিএমইএর সদস্যদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য যে, এস এম মান্নানের (কচি) নেতৃত্বে সম্মিলিত পরিষদ, বিজিএমইএর ২০২৪-২০২৬ মেয়াদে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ৩৫টি পদে (ঢাকায় ২৬টি এবং চট্টগ্রামে ৯টি পদে) জয়লাভ করে।




বিজিএমইএর নতুন পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নবনির্বাচিত সভাপতি এস এম মান্নানের (কচি) নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের নবনির্বাচিত কর্মকর্তরা ২০২৪-২৬ মেয়াদের জন্য বাণিজ্য সংগঠনটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শনিবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিদায়ী পরিচালনা পর্ষদ নতুন বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

সভায় বিজিএমইএর ২০২২-২৩ সালের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী গৃহীত হয় এবং ২০২৩-২৪ সালের বাজেট অনুমোদন করা হয়।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের অফিস কর্মকর্তরা হলেন-সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১ম সহসভাপতি, খন্দকার রফিকুল ইসলাম সিনিয়র সহসভাপতি, আরশাদ জামাল (দীপু) সহসভাপতি, মো. নাসির উদ্দিন সহসভাপতি (অর্থ), মিরান আলী সহসভাপতি, আব্দুল্লাহ হিল রাকিব সহসভাপতি এবং রকিবুল আলম চৌধুরী সহসভাপতি।

ঢাকা থেকে পরিচালনা পর্ষদের অন্য পরিচালকগন হলেন- শহিদউল্লাহ আজিম, আসিফ আশরাফ, মো. ইমরানুর রহমান, শোভন ইসলাম, হারুন আর রশিদ, মোহাম্মদ সোহেল সাদাত, আশিকুর রহমান (তুহিন), আনোয়ার হোসেন (মানিক), মেসবাহ উদ্দিন খান, শামস মাহমুদ, রাজীব চৌধুরী, আবরার হোসেন সায়েম, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. জাকির হোসেন, নুসরাত বারী আশা, মো. মহিউদ্দিন রুবেল, শেহরিন সালাম ঐশী, মো. নুরুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সাগর এবং মো. রেজাউল আলম (মিরু)।

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালকরা হলেন মোহাম্মদ মুছা, আমজাদ হোসেন চৌধুরী, এম আহসানুল হক, মোস্তফা সরোয়ার রিয়াদ, মোহাম্মদ রাকিব আল নাসের, গাজী মো. শহীদুল্লাহ এবং মো. আবছার হোসেন।

এস এম মান্নানের নেতৃত্বে সম্মিলিত পরিষদ, বিজিএমইএর ২০২৪-২৬ মেয়াদে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ৩৫টি পদে ঢাকায় ২৬টি এবং চট্টগ্রামে ৯টি পদে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।




বিজিএমইএ নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদের পুরো প্যানেল জয়ী, সভাপতি হচ্ছেন এস এম মান্নান

দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন-বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদের ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনে ৩৫ পরিচালক পদের মধ্যে সম্মিলিত পরিষদের পুরো প্যানেল জয়ী। ফলে সংগঠনটির পরবর্তী নতুন সভাপতি হচ্ছেন এই প্যানেলের দলনেতা সেহা ডিজাইনের চেয়ারম্যান এবং বিজিএমইএ’র বতর্মান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি।

 

এর আগে শনিবার (৯ মার্চ) ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ও চট্টগ্রামের দক্ষিণ খুলশীতে অবস্থিত বিজিএমইএ’র আঞ্চলিক কার্যালয়ে একসঙ্গে ভোটগ্রহণ হয়। ঢাকায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগে দুই প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। বিকেলে ভোটকক্ষে বিশৃঙ্খলাও হয়। শেষ পর্যন্ত ৮৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। সন্ধ্যা ছয়টার পর ভোট গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে মধ্যরাতে বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন বোর্ড ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে দেখা যায়, সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা এস এম মান্নান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫১০ ভোট পেয়েছেন।

 

সম্মিলিত পরিষদের যারা বিজয়ী হয়েছেন : ঢাকা অঞ্চলের সেহা ডিজাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম মান্নান, টিম গ্রুপের এমডি আবদুল্লাহ হিল রাকিব, ক্ল্যাসিক ফ্যাশন কনসেপ্টের এমডি মো. শহিদউল্লাহ আজিম, ডেনিম এক্সপার্টের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল, ডিজাইনটেক্স নিটওয়্যারের এমডি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, এনভয় ডিজাইনের পরিচালক শেহরিন সালাম, ফোরর্টিজ গার্মেন্টসের এমডি শাহদাৎ হোসেন, গালপেক্সের এমডি মো. রেজাউল আলম, কাউজার নিটওয়্যারের এমডি জাকির হোসেন, লায়লা স্টাইলের এমডি মো. ইমরানূর রহমান, মেসিস গার্মেন্টসের পরিচালক মো. আশিকুর রহমান, বিটপী গ্রুপের এমডি মিরান আলী, মমসন সার্ভিস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি নুসরাত বারী, নিউটেক্স ডিজাইনের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সাদমা ফ্যাশনওয়্যারের এমডি মো. নাসির উদ্দিন, সায়েম ফ্যাশনের পরিচালক আবরার হোসেন, শাশা গার্মেন্টসের এমডি শামস মাহমুদ, শিন শিন অ্যাপারেলসের এমডি মোহাম্মদ সোহেল সাদাত, স্প্যারো গ্রুপের এমডি শোভন ইসলাম, টেক্স টাউনের এমডি আনোয়ার হোসেন, টিএমএস ফ্যাশনের এমডি সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী, টিআরজেড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির এমডি হারুন অর রশীদ, তুসুকা ফ্যাশনসের চেয়ারম্যান আরশাদ জামাল, উর্মি গার্মেন্টসের এমডি আসিফ আশরাফ, উইন্ডি অ্যাপারেলসের এমডি মেসবাহ উদ্দিন খান, ইয়ং ফোরএভার টেক্সটাইলের এমডি রাজীভ চৌধুরী।

 

ফেব্রিকসের এমডি এম আহসানুল হক, আর্জেন্টা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মোহাম্মদ রাকিব আল নাসের, হাই ফ্যাশনের এমডি আমজাদ হোসেন চৌধুরী, এইচকেসি অ্যাপারেলসের রাকিবুল আলম চৌধুরী, মদিনা গার্মেন্টসের এমডি মোহাম্মদ মুসা, আরডিএম অ্যাপারেলসের এমডি মোস্তফা সারোয়ার, সোনেট টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক গাজী মো. শাহীদ উল্লাহ, টপ স্টার ফ্যাশনের এমডি মো. আবজার হোসেন ও ওয়েল গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

 

নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলামিন জানান, ‘এবারের বিজিএমইএ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বড় কোনো অভিযোগ ছিল না, ছোট-খাটো দুয়েকটি অভিযোগ ছিল। নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৪৯৬ ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ হাজার ২২৬ জন। যা শতকরা হিসাবে ৮৯ শতাংশের কিছু বেশি। ঢাকায় ২ হাজার ৩২ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন এক হাজার ৮৩৯ জন, যা ৯০ শতাংশের বেশি। আর চট্টগ্রামে ৪৬৪ জনের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩৮৭ জন। যা শতকরা হিসাবে ৮৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

 

সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালে। যেখানে সম্মিলিত পরিষদ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫ পরিচালকের ২৪টিতে জয়ী হয়। সভাপতি নির্বাচিত হন ফারুক হাসান। ২০২৩ সালের এপ্রিলে এ পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুইদফায় তারা এক বছর সময় বাড়িয়ে নেয়। ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪-২৬ মেয়াদে বিজিএমইএ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।




চলছে বিজিএমইএ নির্বাচন

পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের নির্বাচন শুরু হয়েছে শনিবার (৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে। রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। একইদিনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে খুলশীর স্থানীয় অফিসে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫টি পরিচালক পদের বিপরীতে লড়ছেন ৭০জন প্রার্থী।

 

বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ফোরাম এবং সম্মিলিত পরিষদ নামে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এদিকে নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর হলেও ভোট গণনা নিয়ে আগেই সন্দেহপোষণ করেছে ফোরাম। তবে ভোটগ্রহণ শুরুর ১০ মিনিট আগেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

ফোরাম প্যানেল লিডার ফয়সাল সামাদ বলেন, সকালের দিকে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঘটেছে। সেটা নিয়ে এখন আর বলতে চাই না, তবে এখন ভোটের পরিবেশ ভালো রয়েছে। এভাবে ভোটগ্রহণ চললে জয়ের ব্যাপারের শতভাগ আশাবাদী। তবে ভোট গণনা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেখানে প্রভাব বিস্তারের শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থান নিলে সেখানেও সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে। আমরা চাই ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়ে আসুক।

 

ফোরাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মো. খায়ের মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সকাল পৌনে ১০টার দিকে আমাদের ভোটারদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। মেইনগেটের বাইরে তাদের মারধর করে পার্শবর্তি শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটির পর্যন্ত সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভোটের পরিবেশ ফিরে আসে।

 

তবে সম্মিলিত পরিষদ বলছে ভোটের পরিবেশ ভালো রয়েছে এখানে কোন প্রভাব বিস্তারের কিছু হচ্ছে না। ফোরামের প্যানেল লিডার এস এম মান্নান কচি বলেন, ভোটের পরিবেশ খুবই সুন্দর রয়েছে। এখানে কোনো বহিরাগত নেই। ভালো পরিবেশ রয়েছে, আমাদের প্রার্থীও পরীক্ষিত। আশা করি পুরো প্যানেলে জয়ী হবো।

 

একই কথা জানান সম্মিলিত পরিষদ সদস্য সচিব সালাম মুর্শেদী বলেন, এখানে মারধরের কোনো ঘটনা আমার চোখে পড়েনি। আমরা নির্বাচনে এসেছি দিন শেষে সবাই ব্যবসায়ী। সবাই আমরা একে অপরের সহযোগী।

 

এদিন ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনে ভোটার ২ হাজার ৪৯৮জন ভোটার রয়েছে। যার মধ্যে ঢাকায় ২ হাজার ৩২জন এবং চট্টগ্রামে ৪৬৪ জন ভোটার। নির্বাচনে পরিচালক নির্বাচিত হবার পর সংগঠনের সভাপতি এবং প্রথম সহ-সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দু’জন সহ-সভাপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। তাদের মনোনয়ন বাছাই শেষে ১৯ মার্চ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। সাধারণত নির্বাচনের দিনই নেতা নির্বাচন চূড়ান্ত হয়। নেতা নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকলে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তির পর ২৮শে মার্চ চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। যারা ২০২৪-২৬ মেয়াদের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবে।




 বিজিএমইএর ক্যারিয়ার সামিট ২৩ ডিসেম্বর শুরু

প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী ক্যারিয়ার সামিট অ্যান্ড ফেস্ট আয়োজন করছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ। আগামী ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই সামিট অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাসান বলেন, উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্তই হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তাই আমরা শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী ক্যারিয়ার সামিট অ্যান্ড ফেস্ট-২০২৩ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী ২৩-২৪ ডিসেম্বর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে তৃতীয় তলায় এটি অনুষ্ঠিত হবে।

এ ইভেন্টের লক্ষ্য পোশাক শিল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট এবং নেতৃস্থানীয় কোম্পানির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা। শিক্ষার্থীদের পোশাক শিল্প বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রদান করা, যাতে করে তারা দক্ষতাসমৃদ্ধ হয়ে ক্যারিয়ারে সফল হতে পারেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ক্যারিয়ার সামিট অ্যান্ড ফেস্ট উদ্বোধন হবে। ইভেন্টে ৪০টিরও বেশি নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল কলেজ, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শেষ বর্ষের এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী, যারা পোশাক শিল্পে চাকরি করতে ইচ্ছুক, তারা সবাই এখানে সিভি ড্রপ এবং অন স্পট ইন্টারভিউ দিতে পারেবেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ক্যারিয়ার সামিটে বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। ইভেন্ট চলাকালে তারা বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেবেন। এই ইভেন্টটি সামগ্রিক শিল্প নিয়ে মতবিনিময় এবং অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতমূলক মনোভাব গড়ে তুলবে। বিজিএমইএ ক্যারিয়ার সামিট শিক্ষার্থী এবং নিয়োগদানকারী কোম্পানিগুলোকে একই ছাদের নিচে আনবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সম্ভাব্য সুযোগ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।

এই ইভেন্টে আগতরা বর্তমানে পোশাক শিল্পে চাকরির চাহিদা কেমন সে বিষয়ে ধারণা নিতে পারবেন। এছাড়া এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনুষদের ডিন উপস্থিত থাকবেন। ফলে শিল্পর সঙ্গে একাডেমির সংযোগ তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 




মা‌র্কিন ‘বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা’র বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলো বিজিএমইএ

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের একটি বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এলসি বা ঋণপত্রে নতুন শর্ত দিয়েছে। এই শর্তের কারণে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। এক ব্যাখ্যায় তারা এসব দাবি করেছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো ব্যাখ্যায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেছেন, ঋণপত্রটি একটি নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছ থেকে এসেছে। এটি কোনো দেশের আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি নয়। সুতরাং এটিকে বাংলাদেশের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ বলে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত হবে না।

তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের দৃশ্যপট দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। মানবাধিকার এবং পরিবেশগত কারণে ক্রমবর্ধমান অগ্রাধিকার পাচ্ছে। অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোও বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে। যেহেতু বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং এর প্রবৃদ্ধি বাণিজ্যের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যেকোনো উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে। তাই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্যই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ’র একজন সদস্যকে বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে ঋণপত্রের নতুন শর্ত সম্পর্কে ফারুক খান জানান, বিজিএমইএ’র একজন সদস্যকে বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে পাঠানো লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্রের একটি অনুলিপি আমাদের নজরে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, “আমরা জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, ইউকে কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত কোনো দেশ, অঞ্চল বা কোনো পক্ষের সঙ্গে লেনদেন প্রক্রিয়া করব না। নিষেধাজ্ঞার কারণগুলোর জন্য আমরা কোনো বিলম্ব, অ-কর্মক্ষমতা (নন পারফরমেন্স) বা তথ্য প্রকাশের জন্য দায়বদ্ধ নই”।

তিনি বলেন, স্বতন্ত্র ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতি এবং প্রোটোকল থাকতে পারে, তবে একটি এলসি কপি বা একটি ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক উপকরণ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। এছাড়া বিজিএমইএ আমাদের দেশের কোনো কূটনৈতিক মিশন থেকে বা সরকারি উৎস থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো তথ্য পায়নি।

অতীতের এমন ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমরা অতীতেও একই উদাহার দেখেছি। একজন ক্রেতার কাছ থেকে আসা একটি এলসি ধারা উদ্ধৃত করে এটিকে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে সাধারণীকরণ করা হয়েছে। এই ধরনের ভুল তথ্য উপস্থাপনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সব সময় স্পষ্ট করে দিয়েছি। যাই হোক, আমরা বাণিজ্যিক উপকরণে এই ধরনের ধারা অন্তর্ভুক্ত করাকে সমর্থন করি না। এমন পরিস্থিতিতে, আমরা আমাদের সদস্য কারখানাগুলোকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার জন্য এবং প্রয়োজনে এই ধরনের ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পর্যালোচনা বা পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করব।

বিজিএমএইএ সভাপতি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ আমাদের জন্য সর্বোচ্চ বিবেচ্য বিষয়। বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে একটি শ্রম রোডম্যাপ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে শ্রম আইনের সংশোধনসহ এটি বাস্তবায়নের জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শ্রম বিধিগুলি ২০১৫ সালে জারি করা হয়েছিল এবং ২০২২ সালে সংশোধন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯ সালে পাস করা হয়েছিল এবং ২০২২ সালে ইপিজেড শ্রমবিধি জারি করা হয়। শ্রমিকদের সুস্থতার জন্য কেন্দ্রীয় তহবিলে অবদান আইনত বিধান করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই শিল্পের তহবিলে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার অবদান রয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পরিবেশবান্ধব সবুজ কারাখানার ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে আছি। বাংলাদেশ এখন ২০৪টি লিড সবুজ কারখানার আবাসস্থল। যার মধ্যে ৭৪টি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটিনাম রেটিং অর্জন করেছে এবং ১১৬টি গোল্ড মর্যাদা অর্জন করেছে। আরও ৫০০ কারখানা সার্টিফিকেশনের জন্য পাইপলাইনে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ মানের লিড সবুজ কারখানার মধ্যে ৫৪টি বাংলাদেশে রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০টির মধ্যে ৯টি এবং শীর্ষ ২০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ১৮টি বাংলাদেশে রয়েছে। এটি সত্যিই গর্বের বিষয় যে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরিং ১০৪ স্কোর নিয়ে কারখানাগুলো বাংলাদেশে রয়েছে।




বিজিএমইএর নির্বাচন আগামী মার্চে

বিজিএমইএর ২০২৪-২৬ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে
বিজিএমইএর ২০২৪-২৬ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২০২৪-২৬ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় আগামী ২০২৪-২৬ মেয়াদের পর্ষদ নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য বোর্ড গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান।

বিজিএমইএর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএ জানায়, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন নির্বাচনি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য হলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি শমী কায়সার এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাবেক সভাপতি এ এস এম নাঈম।

অন্যদিকে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকার (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভীরুর রহমান। বাকি দুই সদস্য হলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি খায়রুল হুদা ও পরিচালক নিজামুদ্দিন রাজেশ।

বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদের বর্ধিত মেয়াদ আগামী ১২ এপ্রিল শেষ হবে। তার ১৫ দিন আগে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। অবশ্য নির্বাচনের অন্তত ৮০ দিন আগে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন বোর্ড।

প্রসঙ্গত, দুই বছর মেয়াদি বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ গত এপ্রিলে শেষ হয়। তবে কমিটির মেয়াদ দুই দফায় ছয় মাস করে এক বছর বৃদ্ধি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 




চার মাসে ইউরোপে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত— এই চার মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং ইতালিতে বাংলাদেশে পোশাক রফতানিতে যথাক্রমে ১৮.০৭ শতাংশ ২.৫৬ শতাংশ, ১২.৭৩ শতাংশ এবং ৯.৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অপরদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম রফতানি বাজার, জার্মানিতে ২০২২-২৩ সালের জুলাই-অক্টোবর সময়ে রফতানি ২.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১১.৪৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে , ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে রফতানি ১.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বছরওয়ারি ৩.০৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ২০২৩-২৪ সালের জুলাই-অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাক রফতানি ২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। একই সময়ে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রফতানি যথাক্রমে ১৪.৬৩ শতাংশ (ধনাত্মক) প্রবৃদ্ধি এবং ১.৫৩ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৪৬২.৮৬ মিলিযন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে আমাদের পোশাক রফতানি আগের বছরের একই সময়ের মধ্যে ২.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১৭.০১ শতাংশ বেড়ে ২.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে রফতানি যথাক্রমে ২৩.০৩ শতাংশ, ৪৫.৪৪ শতাংশ, এবং ২৯.৮৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে ভারতে আমাদের পোশাক রঅতানি ১২.৮ শতাংশ কমেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ সালের জুলাই-অক্টোবরে বিশ্বে মোট রফতানি হয়েছে ১৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক বছর আগের একই সময়ে ১৩.৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে।




ডলার সংকটে বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিল এফবিসিসিআই

ডলার সংকট সমাধান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি- এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। বিপরীত দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অর্থনীতির স্বার্থে সব ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সংগঠনটির গুলশান কার্যালয়ে ‘বিরাজমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানান মাহবুবুল আলম। সভায় চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি, বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, এসিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবৎ দেশে অত্যন্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে যা ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সাথে, তৈরি পোশাক খাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা জাতীয় অর্থনীতিকে শঙ্কার দিকে ঠেলে দিচ্ছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি দেশের সাপ্লাই চেইনকে ভীষণভাবে বিঘ্নিত করছে, যার প্রভাব পণ্যের উৎপাদন, বাজার মূল্য এবং রপ্তানি ও সেবা খাতের ওপরও পড়ছে। এসময় রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে সব ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক ও কর্মচারীদের চাহিদা অনুযায়ী মজুরি কমিশন গঠন এবং শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। তার পরও তৈরি পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা কোনোভাবেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাশাপাশি ডলার সংকট সমাধান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সারা দেশের সকল চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসায়ী সংহতি সমাবেশ আয়োজনের জন্য এফবিসিসিআইকে পরামর্শ দেন।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অর্থনীতির এই সংকটের মুহূর্তে রাজনৈতিক সহিংস কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের বিতর্কিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে এফবিসিসিআইকে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়াও বিদ্যমান সহিংস কর্মসূচির বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এফবিসিসিআইকে আহ্বান জানান তিনি।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডলারের ওপর চাপ কমাতে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে আগামী ৬ মাস থেকে এক বছর সময়ে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানির হার আরও কমিয়ে আনতে হবে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কাট-ছাটের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি তৈরি পোশাক খাতে সৃষ্ট সহিংস ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, প্রকৃত শ্রমিকরা কখনও নিজ কারখানায় আগুন দিতে পারে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক মূখ্য সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা মো. আব্দুল করিম, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ও প্যানেল উপদেষ্টা খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা ড. মাসরুর রিয়াজ, আব্দুল মুক্তাদির, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, শমী কায়সার, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, বিকেএমইএ’র এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, নাসিব সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।




যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ভ্যালু কমেছে ৩৪.৭২ শতাংশ : বিজিএমইএ

সময়ের পরিক্রমায় ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও শিল্পের সক্ষমতা সে অর্থে খুব বেশি বাড়েনি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি বলেন, চলতি ২০২৩ সালের প্রথম ৯ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক পোশাক আমদানি ভ্যাল্যু কমেছে ২২.৮১ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানি কমেছে প্রায় ২৩.৩৩ শতাংশ। একই সময়ে সারা পৃথিবী থেকে আমদানি কমেছে ২৫.১৬ শতাংশ, আর বাংলাদেশ থেকে কমেছে ২৯.৩৭ শতাংশ। শুধু আগস্টেই বাংলাদেশ থেকে ভ্যালু কমেছে ৩৩.৭১ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৩৪.৭২ শতাংশ।

রোববার (১২ নভেম্বর) দুপুরে উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি।

ফারুক হাসান বলেন, চলতি ২০২৩ সালের প্রথম ৮ মাসে ইউরোপের বৈশ্বিক আমদানি কমেছে ৯.৬১ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে কমেছে ১৩.৭১ শতাংশ। শুধু আগস্ট মাসেই কমেছে ২৬.০৬ শতাংশ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি অক্টোবর ২০২২ এর তুলনায় ১৩.৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে পোশাক রপ্তানির কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি পারফরমেন্স ২৮.৩৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের অন্যতম প্রধান বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের দরপতন শুরু হয়েছে, যেটা শিল্পের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করছে। সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পোশাকের দর ৮ দশমিক ০৩ শতাংশ কমেছে। একই মাসে (আগস্ট ২০২৩) বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের দর কমেছে ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক কারণের জের ধরে পোশাক শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বহু গুণ বেড়েছে। বিগত ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ২৮৬.৫ শতাংশ এবং বিদ্যুতের মূল্য বেড়েছে ২১.৪৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে পোশাক শিল্পে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংক সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, এর ফলে আমাদের ক্রেতাদেরও কস্ট অব ফান্ড বেড়ে গেছে, যার চাপ বহন করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে ন্যূনতম ৫ শতাংশ হারে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় তহবিল কার্যকর করা হচ্ছে, যা শ্রমিকদের নানামুখী কল্যাণে ব্যয় করা হয়। এই তহবিলের অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে।




কারখানা চালাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চেয়েছে বিজিএমইএ

পোশাক শিল্পকে ঘিরে যারা চক্রান্ত করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে এবং কারখানা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ)।

রোরবার রাজধানীর উত্তরায় সংগঠনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অনুরোধ জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। সংবাদ সম্মেলনটি এখনও চলছে।

গত ৭ নভেম্বর মূল মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করে সরকার। এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করে ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করছে শ্রমিকদের একটি অংশ। এই প্রেক্ষাপটে মালিকরা কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন।
চলমান বিক্ষোভে শুধু গাজীপুরেই ১২৩ কারখানা ভাঙচুর করা হয়েছে। এর মধ্যে পোশাক কারখানা তুসুকায় গত বৃহস্পতিবারের হামলায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মালিকপক্ষ।

এসব হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২২টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৮ জনকে। পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার পর্যন্ত আশুলিয়া, গাজীপুর ও উত্তরায় ১৩৭ পোশাক কারখানায় ‘বন্ধের’ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় দেশের সব পোশাক কারখানায় সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কারখানার গেটে নিয়োগ বন্ধের নোটিশ টাঙানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।