পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের ফের বিক্ষোভ

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের প্রতিবাদে ফের রাস্তায় নেমেছেন বিনিয়োগকারীরা। সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন একদল বিনিয়োগকারী।

বিক্ষোভ থেকে তারা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবি করেন। দরপতন ঠেকাতে তার ব্যর্থতাকে দায়ী করেন বিক্ষোভকারীরা।

তারা বলেন, বিনিয়োগকারীরা রাজপথে থাকতে চান না। কিন্তু সরকার এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থা পতন ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে এসেছেন।

সোমবার শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুর প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬০ পয়েন্টের বেশি কমে যায়। গতকাল সূচকটি প্রায় দেড় শ পয়েন্ট কমে ৫ হাজারের মাইলফলকের নিচে নেমে এসেছিল। তাতে ডিএসইএক্স সূচকটি চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।

এদিকে পুঁজিবাজারে বিগত সময়ের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য একটি ‘অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছর মেয়াদে অর্থনীতির অন্যান্য খাতের মতো পুঁজিবাজারেও অবাধ লুটতরাজ সংঘটিত হয়েছে। এ সময়ে অসংখ্য দুর্বল ও প্রায় অস্তিত্বহীন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারের জন্য আজ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমেই এসব কোম্পানির আসল চেহারা প্রকাশিত হচ্ছে। অন্যদিকে এই বাজারে লাগামহীন কারসাজির মাধ্যমে দুর্বল মৌলভিত্তির, জাঙ্ক কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।




২৩ হাজার টাকা মজুরিসহ ৮ দাবিতে পোশাককর্মীদের বিক্ষোভ

পোশাক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকাসহ আট দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক পরিষদের তিনটি সংগঠন জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক পরিষদ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন ও ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কাস।

রোববার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আট দফা দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা যা ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৫ নভেম্বর পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এই পাঁচ বছরে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, আলু, রসুন, মাছ-মাংস তরিতরকারী, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া খরচ বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে। সে তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। বরং বর্তমান ডলারের মান হিসাব করলে শ্রমিকদের মজুরি কমেছে এবং মালিকদের ডলারের বর্তমান বাজারদর অনুসারে মুনাফা অনেক বেড়েছে।

তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারমূল্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা আমলে নিয়ে শ্রমিকদের ন্যূনতমভাবে বেঁচে থাকার জন্য মজুরি বাড়াতে হবে। বর্তমানে শ্রমিক যে মজুরি পায় তা নিয়ে শ্রমিকদের সংসার চালানো সম্ভব নয়। ধারকর্য করে সংসার চালাতে হয়, না খেয়ে শ্রমিকদের কাজ করতে হয়, অনেক শ্রমিক কারখানার ছুটির পর বাইরে অতিরিক্ত কাজ করেন।

এ সময় তারা আট দফা দাবি পেশ করেন:

১. সাতটি গ্রেডের পরিবর্তে পাঁচটি গ্রেড করতে হবে।

২. এক নম্বর গ্রেড ও দুই নম্বর গ্রেড স্টাফদের জন্য করতে হবে।

৩. তিন নম্বর গ্রেড (অভিজ্ঞ অপারেটরসহ) শ্রমিকদের জন্য ২৮৫০০ টাকা করতে হবে।

৪. চার নম্বর গ্রেড (জুনিয়র অপারেটর বা কম অভিজ্ঞ) শ্রমিকদের জন্য ২৬০০০ টাকা করতে হবে।

৫. পাঁচ নম্বর গ্রেড হেলপারদের জন্য ২৩০০০ টাকা করতে হবে।

৬. মূল মজুরি ৬৫ শতাংশ এবং বাড়িভাড়া ৩৫ শতাংশ করতে হবে।

৭. শ্রমিকদের আইডি কার্ডে (পরিচয়পত্র) গ্রেড উল্লেখ করে দিতে হবে।