প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ-বিকেএমইএ নেতাদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।




ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন, আমরা বাস্তবে রূপ দেবো: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পকেটে ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন, আমরা বাস্তবে তা রূপ দেবো। সেগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে সরকার।

তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরের বা যে কোনো সেক্টরের যত ইনোভেটিভ আইডিয়া আছে, সেগুলো লিখে তালিকা করে আমাদের কাছে নিয়ে আসবেন। ইউ ইউল ফাইন্ড এ ট্রাস্টেড লিসেনার, হু উইল ট্রান্সফর্ম ইউর আইডিয়াস ইনটু একশন।’

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লি. এর যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে৷ ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও বস্ত্র খাতের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী চলবে ২ মে পর্যন্ত৷

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সিবিশনের কনভেনর ফজলে শামীম এহসান। এছাড়া বক্তব্য দেন ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্পেন্সার লিন এবং অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বিকেএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের এই জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আগামী দিনে আমরা রিনিউয়েবল এনার্জিতে সুইচ করছি। এবং এই সরকার একটা স্কিম ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যেখানে আমরা এক্সপেডাইটেড বেসিসে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার জেনারেশন করব। আপনারাই করবেন, সরকার করবে না, প্রাইভেট সেক্টরই করবে, কিন্তু আমরা সেই সহায়ক স্কিম নিয়ে এগিয়ে আসব এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে এগিয়ে আসব।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুদের হার দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব পর্যায়ে আনা হবে। দুই অঙ্কের সুদের হারে ঋণ নিয়ে টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প খাতের টিকে থাকা কঠিন। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুদের হার এমন পর্যায়ে রাখতে হবে, যা নতুন বিনিয়োগ এবং চলমান ব্যবসার প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে। এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকার বিষয়।




বিদ্যুৎ ও ফুয়েল ক্রাইসিসে সোলার সিস্টেম জরুরি : বিকেএমইএ

বিদ্যুৎ ক্রাইসিস এবং ফুয়েল ক্রাইসিসের কারণে এই মুহূর্তে সোলার সিস্টেম জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এমন মন্তব্য করেন।

হাতেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে নতুন বাস্তবতা তৈরি হলেও ব্যাটারি আমদানির বিধিনিষেধ এবং কাস্টমস জটিলতায় বাধার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।

ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এতদিন নেট মিটারিং ব্যবস্থায় সোলার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে মাস শেষে বিল সমন্বয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা চালু রাখতে সোলার সিস্টেমকে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য ব্যাটারি স্টোরে

তিনি বলেন, দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং মোকাবিলায় সোলার জেনারেটর মোডে যেতে হলে ব্যাটারি প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমদানি নীতিতে নমনীয়তা দরকার, যাতে আমরা বিদ্যুৎ ঘাটতি নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সোলার সিস্টেমের যন্ত্রাংশ আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ৪ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পের জন্য আমদানি করা মাউন্টিং স্ট্রাকচার কাস্টমস ছাড় দিচ্ছে না, যদিও এ বিষয়ে পূর্বে একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পোর্ট ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব। একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন না হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

পোশাক খাতে সাব-কন্ট্রাক্ট ব্যবস্থার জটিলতাও তুলে ধরেন বিকেএমইএ নেতা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সাব-কন্ট্রাক্ট প্রয়োজন হলেও পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা থাকায় তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না। এছাড়া এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে পণ্য পরিবহনের সময় ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যেসব কার্যক্রমে জাতীয় অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য সংযোজন নেই, সেগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা রাখা হবে না। তবে সুবিধা পেতে হলে দেশের জন্য কীভাবে উপকার হচ্ছে তা প্রমাণ করতে হবে।

বিকেএমইএ তাদের বাজেট প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর ০.৫ শতাংশে স্থির রাখার দাবি জানিয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি প্রস্তাব জানিয়েছে বিকেএমই। পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইকেলড ফাইবার উৎপাদনে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে।




পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ ২০% বেড়েছে: বিকেএমইএ সভাপতি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ফলে দেশের তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬) উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকেরা জানান, প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শক এতে অংশ নেবেন। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণে ২৯ এপ্রিল শুরু হয়ে ২ মে পর্যন্ত চলবে এই মেলা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যবসার পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই খারাপ। ব্যাংকিং খাতের নানা অসহযোগিতার কারণে অনেক কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, আরও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলসি খোলা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং ঋণসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কাস্টমসের জটিলতা ও কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও করেন তিনি, যা বাণিজ্য কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানান।

জ্বালানি সংকটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, বাস্তবে শিল্প-কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশন থেকে কনটেইনারে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাগুলো বিপাকে পড়ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক; লোডশেডিং গড়ে ২-৩ ঘণ্টা, কোনো কোনো এলাকায় ৬-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হচ্ছে, যা উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো রপ্তানি করা যাচ্ছে না, ফলে এয়ার শিপমেন্ট বা ডিসকাউন্টের মতো অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় আরও বাড়ছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে এতে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, বিপিসি নির্দেশনা দিয়েছে যে কনটেইনারে করে তেল সরবরাহ করা যাবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন মনিটরিং করছে এবং প্রয়োজনে জরিমানাও করছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, কারখানা থেকে কি জেনারেটর ফিলিং স্টেশনে নিয়ে গিয়ে সেখানে তেল ভরে আনা সম্ভব? বাস্তবে তা সম্ভব নয়।

সবমিলিয়ে উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি। তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে এই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করা যাচ্ছে না, কারণ আগেই মূল্য নির্ধারিত থাকে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং শিল্প-কারখানাগুলো বর্তমানে মোট সক্ষমতার মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ ব্যবহার করে চলছে, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।

এসময় ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সব স্থানে কার্যকরভাবে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও অনেক জায়গায় এখনো ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা ব্যয় কমেছে, যার প্রভাব পড়ছে পোশাকখাতে। ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিকভাবেই ক্রয়াদেশ কমে গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী মৌসুমে অর্ডার প্রবাহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




সংসদে পাস হওয়া শ্রম বিল সংশোধনের আহ্বান বিকেএমইএর

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে সময় স্বল্পতার কারণে আইনের কিছু ধারায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, সেগুলো ভবিষ্যতে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সই করা এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শ্রম আইনের কিছু ধারায় কৌশলে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিকেএমইএর মতে, এসব পদক্ষেপ শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদে শ্রম অসন্তোষের বীজ বপন করতে পারত।

সংগঠনটির দাবি, ওই ধরনের অস্পষ্টতা অব্যাহত থাকলে শিল্প কল-কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারত।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু ধারা পরিবর্তন করে আইনটি পাস করলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে শ্রম অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিকেএমইএ।
সংগঠনটির মতে, এসব অস্পষ্টতা দূর না হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

শিল্প কারখানায় শান্তিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে শ্রমবিধি ও শ্রম আইনের পরবর্তী সংশোধনের সময় এসব অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

বিবৃতিতে শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করার বিধানকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি শ্রমিকের পরিচয়ে আইনবহির্ভূত দাবি তুলে শিল্প কারখানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করা, অবৈধ ধর্মঘট বা অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে সেগুলোও অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার ও সংশোধনে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাস নির্দেশনামূলক ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতি সংগঠনের আহ্বান—আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের ন্যায্য ও নৈতিক মূল্য (ফেয়ার অ্যান্ড এথিক্যাল প্রাইস) দিচ্ছেন কি না, সেটিও যেন তারা নজরদারিতে রাখেন।

অন্যথায়, দিন শেষে শিল্প কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

 




খালেদা জিয়ার মৃত্যু, বুধবার কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ বিকেএমইএর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার নিটওয়্যার খাতের পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছে এ খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) মালিকদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

এর আগে বিজিএমইএর পক্ষ থেকেও আগামীকাল পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণার অনুরোধ জানানো হয়।

মালিকদের উদ্দেশে বিকেএমইএর চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সরকার এ উপলক্ষ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
(শিল্প কলকারখানা হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ১১৮ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধি ১১০ মোতাবেক বছরের শুরুতে উক্ত বছরের নির্ধারিত ছুটি পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে থাকে)।

সরকার ঘোষিত অন্যান্য কোনো ছুটি শিল্প কলকারখানার জন্য প্রযোজ্য নয়। তারপরেও বাংলাদেশের তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত সব পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে আগামী ৩১ ডিসেম্বর এক দিনের ছুটি ঘোষণা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। মঙ্গলবার বিজিএমইএর পাঠানো এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা সমগ্র পোশাকশিল্প পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দেশ একজন অভিভাবক ও কালজয়ী দেশপ্রেমিক নেতাকে হারালো। জাতীয় জীবনে এই অপূরণীয় শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে তার আন্তরিকতা এবং সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো আমাদের এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় চিরকাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ইতিহাসে তার অর্থনৈতিক দর্শন ও কর্মময় জীবন অম্লান হয়ে থাকবে।

এছাড়া,খালেদা জিয়ার মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে টেক্সটাইল মিলের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিটিএমএর পরিচালনা পর্ষদ এবং সব সদস্য মিলের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানাচ্ছি। আমরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।




বিকেএমইএ নির্বাচন: হাতেমের নেতৃত্বাধীন পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী

বিকেএমইএ (বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন) পরিচালনা পর্ষদের ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্সের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ী হয়েছে। জোটটি ৩৫টি পদের প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়েছে।

শনিবার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া বিকেএমইএ ভবনের ষষ্ঠ তলায় এবং ঢাকার বাংলামোটরে অবস্থিত বিকেএমইএ ঢাকা কার্যালয়ে। ভোটগ্রহণ শেষে দুই কেন্দ্রেই শুরু হয় ভোট গণনা।

মোট ভোটার ছিল ৫৭২ জন, এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৪৩১ জন; যা ভোটারদের ৭৫.৩৫ শতাংশ।

ঢাকা কেন্দ্রে ভোট পড়ে ২৩১টি, যার মধ্যে ১২টি ভোট বাতিল হয়। নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রে ভোট পড়ে ২০০টি, বাতিল হয় ১১টি ভোট। সবমিলিয়ে ৪০৮টি বৈধ ভোট গণনা করা হয়।

নির্বাচন পরিচালনায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সফিউল্লা চৌধুরী, সদস্য ওবায়দুর রহমান এবং নির্বাচন আপিল বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব। অন্যদিকে ঢাকা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন বোর্ড সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিকী এবং আপিল বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন মোট ৩৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৩৫ জনকে প্রাথমিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন : মোহাম্মদ হাতেম, বেলায়েত হোসেন রিপন, ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ, আশিকুর রহমান, এম ইসফাক আহসান, আহমেদ নূর ফয়সাল, আহসান খান চৌধুরী, মো. আব্দুল হান্নান, মহসিন রাব্বানি, শাহরিয়ার সাইদ, ইমরান কাদের তূর্য, মোহাম্মদ শামসুল আজম, গাওহার সিরাজ জামিল, আব্দুল বারেক, মো. জামাল উদ্দিন মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান, মো. সামসুজ্জামান, মোহাম্মদ রাশেদ, ফজলে শামীম এহসান, মনসুর আহমেদ, মামুনুর রশিদ, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. ইয়াসিন, রাজীব চৌধুরী, ফওজুল ইমরান খান, মোহাম্মদ জাকারিয়া ওয়াহিদ, মো. মোরশেদ সারোয়ার, মোহাম্মদ সেলিম, মিনহাজুল হক, অমল পোদ্দার, রাকিব সোবহান মিয়া, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, নন্দ দুলার সাহা, রতন কুমার সাহা।

বিকেএমইএ নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সফিউল্লা চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ এক যুগ পর দেশের নিট গার্মেন্টস মালিকদের জাতীয় সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হ‌লো। এর আগে ২০১২ সালে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে এমন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের আয়োজন হয়ে‌ছিল।




স্বার্থান্বেষী মহল রপ্তানি খাত নিট শিল্প ধ্বংসে ষড়যন্ত্র করছে: বিকেএমইএ

বিশ্বের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে দেশের প্রধানতম রপ্তানিখাত নিট শিল্পখাতে এর ঋণাত্মক প্রবাহ পড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। রপ্তানিখাত নিট শিল্পের ক্রান্তিলগ্ন এ সময়ে মধ্যেও ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। কষ্টকর হলে এ মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করবে তারা। একই সঙ্গে কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা মহল এ শিল্পটিকে ধ্বংস করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি। বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে সামনের দিনগুলোতে বিকেএমইএ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে।

বিকেএমইএ দাবি করছে, কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা মহল এ শিল্পটিকে ধ্বংস করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, দেশের অর্থনীতির এবং শ্রমিকদের স্বার্থে এ শিল্পকে আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলমাফিক নীতি প্রণয়ন।

সংগঠনটি বলছে, শ্রমিকরাই এ শিল্পের প্রাণ। তাই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কিন্তু একইভাবে মালিকপক্ষের দিকটিও বিবেচনা করে কারখানায় কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজন না হলে কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ ও গেইটে এ নোটিশটি লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিকেএমইএ’র লিখিত অনুমোদন ব্যতীত তৃতীয় কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নিকট কারখানার তথ্য/উপাত্ত দেয়া যাবে না।

কারখানার ওয়ার্কার ডাটাবেইজ আবশ্যিকভাবে হালনাগাদ করতে হবে। কারণ, শ্রমিকদের যেকোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান বা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যাদি অত্যাবশ্যকীয়। কারখানার সব ধরনের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনিক তদারকি বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলোর উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখুন, যাতে করে যেকোনো ধরনের আশঙ্কার আভাস পাওয়া মাত্রই সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তাই সিসি টিভির ফুটেজ নিরাপদে সংরক্ষণে রাখতে হবে।




বিকেএমইএর সপ্তমবার সভাপতি হলেন সেলিম ওসমান

আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০২৩-২৫ মেয়াদে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিকেএমইএর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন একেএম সেলিম ওসমান। এ নিয়ে তিনি টানা সপ্তমবার বিকেএমইএর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বিকেএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ে ২০২১-২৩ মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণকারী নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। বুধবার (২৬ জুলাই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলভ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২৩-২৫ মেয়াদে আগামী দুই বছরের জন্য আবারও মোহাম্মদ হাতেমকে নির্বাহী সভাপতি, মনসুর আহমেদ সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সহ সভাপতি পদে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন ফজলে শামীম এহসান, অমল পোদ্দার, গাওহার সিরাজ জামিল, মোরশেদ সারোয়ার সোহেল সহ-সভাপতি (অর্থ), আখতার হোসেন অপূর্ব ও মোহাম্মদ রাশেদ।

গত ২০ জুলাই মনোনয়নপত্র সংগ্রহের নির্ধারিত দিনে সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে বিকেএমইএ পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত পদের বিপরীতে সমান সংখ্যক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সম্মিলিত নীট ফোরামের প্রার্থীরা। নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৫ জুলাই। যেহেতু নির্ধারিত পদের বিপরীতে সমান সংখ্যক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে সেহেতু বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের প্রয়োজন হয় না। ফলে বিধি অনুযায়ী ২৫ জুলাই তারিখেই টানা ৭ম মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন একেএম সেলিম ওসমান।

এ পর্ষদে ২৫ জন পরিচালকের মধ্যে ২৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন মঞ্জুরুল হক, আবু আহমেদ সিদ্দিক, শামসুজ্জামান, মোস্তফা মনোয়ার ভূঁইয়া, আশিকুর রহমান, শ্যামল কুমার সাহা, সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, তারেক আফজাল, রাজিব দাস সুজয়, এম আই সিদ্দিক, রতন কুমার সাহা, নন্দ দুলাল সাহা, মির্জা আকবর আলী চৌধুরী, আহমেদ নূর ফয়সাল, আব্দুল হান্নান,ইমরান কাদের তুর্য, ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ, মোহাম্মদ শামসুল আজম, আক্কাস উদ্দিন মোল্লা, মোহাম্মদ জাকারিয়া ওয়াহিদ, লুতফর রহমান, মে মিনহাজুল হক, ফওজুল ইমরান খান, খোরশেদ আহমেদ তুনিম। বাকি এক জনের নাম বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

এফবিসিসিআই’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা এ বোর্ডের সদস্য।




মে মাসের বেতন দেয়নি ২৩শ কারখানা

বাংলাদেশে এখন প্রায় ১০ হাজার শিল্প ও কল-কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৭ হাজার ৬০২টি শিল্প ও কল-কারখানায়। অর্থাৎ জুনের ১৭ দিন পার হলেও এখনো বেতন পায়নি ২ হাজার ৩১৩টি কল-কারখানার শ্রমিকরা।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, বেপজা,পাটকল এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শনিবার (১৭ জুন) দুপুর ২টা পর্যন্ত সময়ে ৯ হাজার ৯১৫টি কল-কারখানার মধ্যে চলতি বছরের মে মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৬০২টি কল-কারখানায়। যা শতাংশের হিসেবে ৭৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ ২ হাজার ৩১৩টি কারখানার শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। যা শতাংশের হিসেবে ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ১ হাজার ৬২৪ কারখানার মধ্যে মে মাসের বেতন হয়েছে ১ হাজার ৩৪৩টি কারখানায়। অর্থাৎ ২৮১টি কারখানায় এখনো মে মাসের বেতন হয়নি। নিটওয়ার মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ৬৯৯টি কারখানার মধ্যে ৫৩১ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়। ১৬৮টি বেতন পরিশোধ করা হয়নি।

বিটিএমইএ-র ৩৫৯টি কারখানার মধ্যে ২৫৩ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি আছে ১০৬টির। বেপজার ৩৯২টির মধ্যে ৩৮৯ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি আছে ১২টির। পাটকল ৯০টির মধ্যে ৮৪ বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি আছে ৬টির। ৬ হাজার ৭৫১টি কারখানার মধ্যে ৫ হাজার ১১টির বেতন দেওয়া হয়েছে, আর পরিশোধ করা হয়নি এক হাজার ৭৪০টির। মোট ২ হাজার ৩১৩টি কারখানায় বেতন হয়নি। যা শতাংশের হিসেবে ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

সূত্র মতে, আশুলিয়া এলাকার থাকা ১৭৯২টি কল-কারখানার মধ্যে ৬৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি রয়েছে ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গাজীপুর এলাকার মধ্যে ২ হাজার ২৮৭ কারখানার মধ্যে ৭০ দশমিক ৪০ শতাংশ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৯ দশমিক ৬০ শতাংশ কারখানার বাকি রয়েছে। চট্টগ্রামের ১৪৮০ কারখানার মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কারখানার বেতন দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ২২০৭টির মধ্যে ৬০ দশমিক ৮৫ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ২৬৬টির মধ্যে ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, খুলনার ৩৬৭টির মধ্যে ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং সিলেটের ৭৪০টি কারখানার সব কয় পরিশোধ করা হয়েছে।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনের বেতন পরিশোধ করেছে ৫১টি কারখানা। অর্থাৎ জুন মাসের ১৫ দিনের বেতন পাননি ৯ হাজার ৮৬৪টি কারখানার শ্রমিকরা।

সার্বিক বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অধিকাংশ কারখানায় মে মাসের দেওয়া হয়েছে। অল্প কিছু কারখানায় মে মাসের বেতন পরিশোধ করেননি। এগুলো দ্রুত পরিশোধ করা হবে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই মে মাসের পাশাপাশি আমরা জুন মাসের ১৫ দিনেরও বেতন দেওয়া শুরু করেছি।

নিটওয়ার মালিকদের সংগঠনের বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের অধিকাংশ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা রয়েছে সেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা দুই চারদিনের মধ্যে বেতন দিয়ে দেব।

উল্লেখ্য, জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৭৫তম এবং আরএমজি টিসিসির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত হয় ৬ জুন। সেখানে শিল্প-কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। সভা শেষে তিনি ঈদুল আজহার ছুটির আগেই শ্রমিকদের ঈদ বোনাস এবং জুন মাসের ১৫ দিনের বেতন দেওয়ার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।




৭৯ কারখানায় এবার ঈদের ছুটি হচ্ছে না

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার এবং অন্যান্য খাতসহ প্রায় ৩০০ কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাসহ মোট ২৮১টি কলকারখানায় শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

শিল্প পুলিশ বলছে, কাজের প্রচণ্ড চাপ থাকায় এ বছর ৭৯টি কারখানায় ঈদের ছুটি হচ্ছে না। তবে শ্রমিকরা এই ঈদের ছুটি পরবর্তী সময়ে ভোগ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্যমতে, দেশে মোট ৯ হাজার ৬১৬টি কলকারখানা রয়েছে। তাতে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকদের বলেছি ধাপে ধাপে ছুটি দিতে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনদের যাতায়াতের ভোগান্তি কম হয়। তাই তারাও সেভাবে ছুটি দিচ্ছে।

নিটওয়্যার মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকরা যাতে সুন্দরভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য এবার ধাপে ধাপে ঈদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে কারখানাগুলোতে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে অধিকাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি থাকবে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, দেশের ৮টি শিল্পাঞ্চলের মধ্যে ১ নম্বর অঞ্চল আশুলিয়ায় ১ হাজার ৭৯২টি কারখানার মধ্যে ৬৪টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অঞ্চল গাজীপুরের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে ৩ নম্বর অঞ্চল চট্টগ্রামের ১ হাজার ৪৮০টি কারখানার মধ্যে ১৬৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের ২ হাজার ২০৭টি কারখানার মধ্যে ১৮টি কারখানায় এবং খুলনায় অঞ্চলে ৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

আজ ও কাল (বৃহস্পতিবার) আরও বেশি কিছু কারখানা ঈদের ছুটি দেওয়া হবে। আর শুক্রবার থেকে বাকি সব কল-কারখানায় ছুটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা নেতারা।

তারা বলছেন, একসঙ্গে সব কল-কারখানায় ছুটি হলে বাড়ি ফেরা নিয়ে শ্রমিকদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তাই কারখানার মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে ধাপে ধাপে, আগে-পরে করে ছুটি দিয়ে দেওয়ার জন্য। কারখানা মালিকরাও সেই নির্দেশনা অনুসারে বেতন-বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি ঘোষণা করছেন।




নগদ সহায়তা না পেলে ঈদে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে ‘শঙ্কা’ বিকেএমইএ’র

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখন টিকে থাকার সংগ্রামে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এক কঠিন সময় পার করছে রপ্তানিখাত। ঈদের আগেই এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে আরও অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকা নগদ সহায়তা দাবি করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। অন্যথায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়ে চরম বিপদে পড়তে পারে রপ্তানিখাত।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি।

বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমানের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের নগদ সহায়তা বাবদ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাত হাজার ৮২৫ কোটি টাকা (পাট ব্যতীত)। জুলাই-সেপ্টেম্বরের প্রথম কিস্তিতে ২৮ আগস্ট ছাড় করা হয়েছিল এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা, অক্টোবর-ডিসেম্বরের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড় করা হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর টাকা এক হাজার ৫০০ কোটি। যদিও ওই সময়ে ক্লেইম জমা হয়েছিল প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

‘ফলে বকেয়া থেকে যায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এরইমধ্যে গত ২৮ মার্চ ছাড় করা হয়েছে জানুয়ারি-মার্চ তৃতীয় কিস্তির দুই হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ঈদের আগে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে আরও কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা।’

এমন অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে আরও অন্তত এক হাজার কোটি টাকা চতুর্থ কিস্তি থেকে ছাড় করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরাোধ জানানো হয়। অন্যথায় শ্রমিক নিয়ে চরম বিপদে পড়তে পারে রপ্তানিখাত, এমনটিও জানানো হয় ওই চিঠিতে।

এতে আরও বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতি অনেকটা স্থবির। টিকে থাকার সংগ্রামে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ। এক কঠিন সময় পার করছে রপ্তানিখাত। বিশ্ব মন্দার কারণে অধিকাংশ কারখানাতে পর্যাপ্ত কার্যাদেশ নেই। ৫০-৬০ শতাংশ ক্যাপাসিটি নিয়ে চলছে উৎপাদন, যা রপ্তানি করে মাস শেষে শ্রমিকের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার যা রপ্তানি হচ্ছে, সেই বিলও ক্রেতারা যথাসময়ে পরিশোধ করছেন না।

‘সামনের মাসেই রয়েছে বেতন ও ঈদ বোনাসের বিশাল চাপ। সময়টাও খুবই স্পর্শকাতর। যথাসময়ে বেতন-বোনাস দেওয়ার ব্যর্থতায় ঘটে যেতে পারে শ্রম অসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে সরকার তথা অর্থ বিভাগের বিশেষ সহযোগিতা ছাড়া চাপ সামলে ওঠা খুবই কঠিন হয়ে যাবে’ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।