ঘরে বসেই রিচার্জ করা যাবে মেট্রোরেল কার্ড

ঢাকার জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এখন থেকে কার্ড রিচার্জে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘরে বসেই ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ধরনের অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কার্ডে টাকা ভরা যাবে। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে এ সেবা চালু হবে।

তবে শুরুতে ডিটিসিএর ওয়েবসাইটে থাকা লিংকে গিয়ে কার্ড রিচার্জ করতে হবে। এর মধ্যে আগামী মাসে একটি অ্যাপ চালু করবে ডিটিসিএ। তখন অ্যাপের মাধ্যমে টাকা রিচার্জ করা যাবে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) ডিটিসিএর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়। ওই পোস্টে বলা হয়, আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে র‍্যাপিড পাস অনলাইন রিচার্জ চালু হবে। ওই দিন থেকে ঘরে বসেই সহজে, নিরাপদে এবং দ্রুত র‍্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস কার্ড রিচার্জ করা যাবে। এতে স্টেশন কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। এখন থেকে মোবাইল বা কম্পিউটারেই কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে।

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তাদের নিজস্ব স্থায়ী কার্ডের নাম এমআরটি পাস। অন্যদিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সরবরাহ করা স্থায়ী কার্ডের নাম র‍্যাপিড পাস। এটি মেট্রোরেল ছাড়াও বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য গণপরিবহনে ব্যবহার করার কথা।

স্থায়ী কার্ডের লেনদেন নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র নিকাশ ঘর (ক্লিয়ারিং হাউজ) ডিটিসিএর অধীন। ঘরে বসে র‍্যাপিড ও এমআরটি পাস রিচার্জ করার কাজে সহায়তা করছে ডেটাসফট নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

ডিটিসিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে মেট্রোরেলে দুই ধরনের স্থায়ী কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে—র‍্যাপিড ও এমআরটি পাস। নতুন ব্যবস্থায় দুই ধরনের কার্ডই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইচ্ছামতো রিচার্জ করা যাবে। তবে টাকা রিচার্জের পর গ্রাহককে তার স্থায়ী কার্ডটি একবার অন্তত স্টেশনে থাকা বিশেষ যন্ত্রে স্পর্শ করিয়ে হালনাগাদ করে নিতে হবে, যা অ্যাড ভ্যালু মেশিন (এভিএম) নামে পরিচিত।

এর মধ্যে ঘরে বসে মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ করার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। ডিটিসিএর তৈরি করা এ ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রথমে ডিটিসএর ওয়েবসাইট বা মুঠোফোন অ্যাপে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। রিচার্জ অপশনে ক্লিক করে র‍্যাপিড পাস নাকি এমআরটি পাস রিচার্জ করা হবে, তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর ব্যাংকের কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পেমেন্ট মাধ্যম নির্বাচন করে টাকা ভরতে হবে। টাকা পরিশোধ সফল হলে স্টেশনে থাকা যন্ত্রে কার্ডটি স্পর্শ করে রিচার্জ সম্পন্ন করতে হবে।

ডিটিসিএ সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে এভিএম যন্ত্র বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রতিটি স্টেশনের দুটি প্রশস্ত স্থানে এ যন্ত্র বসানো হবে। ২১ ও ২২ নভেম্বর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে ৩২টি এভিএম যন্ত্র বসানো হবে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে মেট্রোরেলের ৫৫ শতাংশ যাত্রী র‍্যাপিড বা এমআরটি কার্ডে যাতায়াত করেন। বাকি ৪৫ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করেন একক যাত্রার কার্ড।




আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগের পাশে বিকাশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের জরুরি ও উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসাসেবায় অংশ নিতে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে ২০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করেছে বিকাশ।

বুধবার সেনা সদরে সেনা প্রধানের কার্যালয়ে সহায়তার এই অর্থ প্রদান করেন বিকাশ-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কামাল কাদীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অবঃ)।

সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী যাদের অনেকেরই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যেসকল শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন, তাদের নিকটস্থ সিএমএইচে যোগাযোগ করতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।




বিকাশের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা মাহফুজ সাদিক এর ইন্তেকাল

মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) বিকাশের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা মাহফুজ সাদিক মারা গেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বিকাশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহফুজ সাদিকের মারা যাওয়ার সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করলে মাহফুজ সাদিককে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসকেরা জানান— কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন মাহফুজ সাদিক।

২০২১ সালে বিকাশের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মাহফুজ সাদিক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

২০২১ সালে বিকাশে যোগ দেওয়ার আগে ২০০৭ সাল থেকে তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজে কর্মরত ছিলেন। একই সময় তিনি এমি ও বাফটা অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামের প্রেজেন্টার ও প্রোডিউসার হিসেবেও কাজ করেছেন। এর আগে সিটি ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি লাইফ ফেলো রয়েল সোসাইটি অব আর্টস (এফআরএসএ) অ্যাওয়ার্ড পান। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পাবলিক পলিসি বিষয়ে মাস্টার্স করেছিলেন মাহফুজ সাদিক।




ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে ১৯ পুরস্কার জিতল বিকাশ

‘ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’-এ একক ব্র্যান্ড হিসেবে ১৯টি পুরস্কার জিতে নিয়েছে দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এর মাঝে বিকাশ সরাসরি পেয়েছে ১০টি পুরস্কার আর পার্টনার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পেয়েছে বাকি ৯টি। এ পুরস্কারগুলোর মধ্যে দুটি গোল্ড, ৫টি সিলভার এবং ১২টি ব্রোঞ্জ রয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত ‘ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড’-এর সপ্তম আসরে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে। এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৪টি ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৩৭টি আবেদন জমা পড়ে, যার মাঝে ১৩৯টি ক্যাম্পেইন বর্ষসেরার স্বীকৃতি পেয়েছে।

বিকাশের ‘আমার বিকাশ ঠেকায় কে’ ক্যাম্পেইনটি জিতে নিয়েছে ‘বেস্ট ভিডিও’ ক্যাটাগরিতে গোল্ড পুরস্কার এবং বিকাশের ‘পিন রিসেট’ ক্যাম্পেইনটি গোল্ড জিতেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বেস্ট ইউজ অব টিকটক’ ক্যাটাগরিতে।

এদিকে বিকাশ সিলভার পেয়েছে ‘বেস্ট ইউজ অব ডাটা অ্যান্ড অ্যানালিটিকস’, ‘বেস্ট ইউজ অব মোবাইল’, ‘বেস্ট ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স’, ‘বেস্ট ইউজ অব ইউজার কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম/নিউ প্ল্যাটফর্ম/ওউন প্ল্যাটফর্ম’, এবং ‘বেস্ট ইউজার জেনারেটেড ক্যাম্পেইন’ ক্যাটাগরিতে।

এছাড়াও বিকাশ পৃথকভাবে তিনটি ব্রোঞ্জ জিতেছে ‘বেস্ট ইউজ অব ইউজার কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম/নিউ প্ল্যাটফর্ম/ওউন প্ল্যাটফর্ম’ ক্যাটাগরিতে, এবং একটি করে জিতেছে- ‘বেস্ট ইউজ অব ডিসপ্লে’, ‘বেস্ট ইউজ অব ইউটিউব’, ‘বেস্ট ইউজ অব সার্চ’, ‘বেস্ট ইউজ অব ডাটা অ্যান্ড অ্যানালিটিকস’, ‘বেস্ট ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল ক্যাম্পেইন’, ‘বেস্ট ইউজ অব টিকটক’, ‘বেস্ট ইউজ অব পিআর ইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’, ‘বেস্ট ইউজার জেনারেটেড ক্যাম্পেইন’, এবং ‘বেস্ট ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স’ ক্যাটাগরিতে।

পুরস্কার জেতা ক্যাম্পেইনগুলোতে পৃথকভাবে বিকাশের পার্টনার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল- ম্যাগনিটো ডিজিটাল লিমিটেড, এফসিবি বিটপী, অ্যানালাইজেন, এস্কিমি, এক্স-ইন্টিগ্রেটেডে মার্কেটিং এজেন্সি, প্রথম আলো, এবং টেকনো ম্যাজিক।

প্রতিবছর বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট ও মার্কেটিং প্রফেশনালদের নিয়ে গঠিত জুরি প্যানেল বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী বছরের সেরা মার্কেটিং ক্যাম্পেইনগুলো নির্বাচন করেন।

এ বছর চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত করার জন্য ‘শর্ট লিস্টিং’ ও ‘গ্র্যান্ড জুরি’ দুই স্তরে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ১৩৬ জন জুরির সমন্বয়ে ১০টি জুরি প্যানেল ৪৫৩টি ক্যাম্পেইন সংক্ষিপ্ত তালিকায় দেয়, যা থেকে আরেক স্তরের যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত বিজয়ীদের বেছে নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম পরিচালিত ভোক্তা জরিপে টানা চারবার- ২০১৯, ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের সেরা ব্র্যান্ডের পুরস্কার অর্জন করে বিকাশ।




মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস পেল বিকাশ

যেকোনো প্রয়োজনে লেনদেন করতে দিন-রাত যেকোনো সময়ে কার্ড থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে অ্যাড মানি করার সুবিধা এনে মানুষের জীবনমান এবং অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রেখে ‘এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড ডিজিটাল বিজনেস ২০২২-২৩’ পেল দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আর্থিক লেনদেনে অবদানের ভিত্তিতে ১৭টি শ্রেণিতে এবার পঞ্চমবারের মতো দেওয়া হয় ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিকাশের চিফ কমিউনিকেশনস অফিসার মাহফুজ সাদিক ও হেড অফ ব্যাংকিং পার্টনারশিপ অ্যান্ড অপারেশনস আদনান কবির রকি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের দুই পরিচালক মো. শারাফাত উল্লাহ খান ও মো. মোতাসেম বিল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেইন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগের পরিচালক মো. সারোয়ার হোসেন, এবং মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।

গ্রাহকসেবার উন্নয়ন এবং জরুরি আর্থিক সেবা দেশের প্রতিটি প্রান্তে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিয়মিত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করে আসছে বিকাশ। নিরাপদ ও সময়সাশ্রয়ী এসব ডিজিটাল আর্থিক সেবা দিয়ে গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেনে স্বাধীনতা ও সক্ষমতাও এনেছে বিকাশ। আর তাই দেশের মানুষের কাছে ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে বিকাশ।




‘এইচএসবিসি বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’ পেল বিকাশ

নতুন উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান এবং অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রেখে ‘তৃতীয় এইচএসবিসি বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’ পেল দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

কঠিন সময়েও দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা এবং অর্থনীতিতে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আট ক্যাটাগরিতে আটটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয় এইচএসবিসি বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের এবারকার আসরে। বিকাশ পুরস্কার তুলে নিয়েছে ‘শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি’ ক্যাটাগরিতে।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে এইচএসবিসি বিজনেস অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির হাত থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.)। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান ও এইচএসবিসি কান্ট্রি হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং জেরার্ড কেভিন হগি।

গ্রাহকসেবার উন্নয়ন এবং জরুরি আর্থিক সেবা দেশের প্রতিটি প্রান্তে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিয়মিত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করে আসছে বিকাশ। নিরাপদ ও সময়সাশ্রয়ী এসব ডিজিটাল আর্থিক সেবা দিয়ে গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেনে স্বাধীনতা ও সক্ষমতাও এনেছে বিকাশ। আর তাই দেশের মানুষের কাছে ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে বিকাশ।




ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নীতিগত অনুমোদন পেল নগদসহ ৮ প্রতিষ্ঠান

নগদ ও বিকাশসহ ৮টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানান, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ৫২টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন যোগ্য বিবেচিত হওয়ায় পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হয়। তার মধ্যে বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি আবেদন বাদ পড়েছে। বাকি ৮টি আবেদন গৃহীত হয়েছে।

এর মধ্যে ৩টি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আবেদন এসেছিল বিদ্যমান ব্যাংকগুলো থেকে। এগুলো হলো: ১০টি বেসরকারি ব্যাংকের জোট ‘ডিজি-১০’, ব্রাক ব্যাংক ও বিকাশের যৌথ আবেদন ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’ এবং ব্যাংক এশিয়ার ‘ডিজিট-অল ব্যাংক’। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ তিনটি ডিজিটাল ব্যাংক পৃথক ‘উইন্ডো’ খুলে সেবাদান শুরু করতে পারবে।

প্রযুক্তিখাতের যে পাঁচটি কোম্পানি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছে সেগুলো হলো: নগদ ডিজিটাল ব্যাংক, কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক, স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংক, জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক ও নর্থ ইস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। এর মধ্যে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে এখনই লেটার অব ইনটেন্ট বা সম্মতিপত্র (এলওআই) দেয়া হবে। বাকি তিনটি ডিজিটাল ব্যাংকের এলওআই দেয়া হবে ৬ মাস পর।

বর্তমানে দেশে প্রচলিত ধারার ব্যাংক আছে ৬১টি। এর মধ্যে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পাওয়া বিশেষ আইনে গঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ মোট ১৫টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে। সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষের দিকে এসে এখন আরও ৮টি ডি‌জিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হলো।




মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক ছাড়াল ২১ কোটি

হিসাব খুলতে কোনো টাকা লাগে না। শহর কিংবা গ্রামে নিমেষেই পাঠানো যায় অর্থ। কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, ঋণ গ্রহণসহ যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নানা পরিষেবা। বিদেশ থেকে সহজে আসছে রেমিট্যান্স। মুহূর্তে সর্বত্র লেনদেনে গতিশীল করছে দেশের অর্থনীতি। এসব সুবিধার কারণে মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওপর মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি বাড়ছে নির্ভরশীলতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় চলতি বছরের আগস্ট মাসে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। গড়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সঙ্গে দিনদিন বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। বর্তমানে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, মাই ক্যাশ, শিওর ক্যাশসহ বিভিন্ন নামে ১৩টির মতো ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান এমএফএস সেবা দিচ্ছে। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার জন। অনেক গ্রাহক একাধিক সিম ব্যবহার করছেন। লেনদেনের সুবিধার্থে তারা একাধিক সিমে হিসাব খুলছেন।

নিবন্ধিত এসব হিসাবের মধ্যে পুরুষ গ্রাহক ১২ কোটি ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৪১ ও নারী ৮ কোটি ৯০ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৮ জন। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৮৮টি।

নিয়ম অনুযায়ী, টানা তিন মাস একবারও লেনদেন ক‌রে‌নি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় বলে গণ্য করে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে আগস্ট শেষে সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৬৩ হাজার।

এখন গ্রাহক ঘরে বসেই ডিজিটাল কেওয়াইসি (গ্রাহকসম্পর্কিত তথ্য) ফরম পূরণ করে সহজে ঝামেলা ছাড়াই এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলার সুযোগ পাচ্ছেন।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এরপরই রয়েছে ‘নগদ’র অবস্থান।

বিভিন্ন সেবা : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এখন গাড়িচালক, নিরাপত্তাকর্মী ও গৃহপরিচারিকাদের বেতনও দেওয়া হচ্ছে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবা মাধ্যম ব্যবহার করে। পোশাকখাতসহ শ্রমজীবীরা এমএফএস সেবার মাধ্যমে গ্রামে টাকা পাঠাচ্ছেন। যার ফলে দিনে দিনে নগদ টাকার লেনদেন কমে আসছে। এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আগস্ট মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঢুকেছে ৩৫ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা, আর উত্তোলন হয়েছে ৩০ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। এসময় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে ৩০ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এসময় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৫১৫ কোটি টাকা।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বাবদ বিতরণ হয় দুই হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন পরিষেবার তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয় এবং কেনাকাটায় ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়।