বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি হ্রাসের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্টের (বিও অ্যাকাউন্ট) রক্ষণাবেক্ষণ ফি কমানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিপজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩ এর তফসিল-৪ এর ক্রমিক নং ৩ অনুযায়ী সেবার ফি হার কমানো হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব জনমত ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ’র সভাপতিত্বে ৯৭১তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য মতে, বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্টের রক্ষণাবেক্ষণ ফি হবে ১৫০ টাকা। এটি সমান ৩ ভাবে ভাগ হবে, যা ডিপজিটরি, ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্টস (ডিপি) এবং বিএসইসির মধ্যে ৫০ টাকা হারে বণ্টন হবে।

এই প্রস্তাব শিগগিরই সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। গেজেট প্রকাশের পর এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কার্যকর হবে।

তবে পূর্ববর্তী বছরগুলোর ক্ষেত্রে আগের বিধান অনুযায়ী ৪৫০ টাকা হারেই বিও রক্ষণাবেক্ষণ ফি দিতে হবে।

এদিকে বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের ফি হিসাবের সময়সীমা আরও একবার বাড়িয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর আগে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সময় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছিল বিএসইসি।




বোনাস লভ্যাংশ বিওতে পাঠিয়েছে আইসিবি

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রয়াত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে ৮ জানুয়ারি বিও হিসাবে পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, আলোচ্য বছরে আইসিবি ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ২.৫০ শতাংশ বোনাস ও ২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।




নভেম্বরে বিও’র সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ৪ হাজার

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের তুলনায় নভেম্বরে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৬টি। আর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৪টি। অর্থাৎ নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ৫৭৮টি বিও হিসাব বেড়েছে।

গত অক্টোবর মাসের শেষ দিন পুরুষদের বিও হিসাব ছিল ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৮০১টি। নভেম্বর মাসে পুরুষদের বিও ৩ হাজার ৩৯৮টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২১ হাজার ১৯৯টি।

আর অক্টোবর মাসের শেষ দিন নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৫টি। নভেম্বর মাসে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ৯৮০টি বেড়ে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

নভেম্বর মাসে কোম্পানি বিও হিসাব ছিল ১৬ হাজার ৯৭০টিতে। আর অক্টোবর মাসে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৭০টি।

নভেম্বর মাসে দেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে। এর মাধ্যমে নভেম্বর মাসের শেষ দিন দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ১৬৫টিতে, যা অক্টোবর মাসের শেষ দিন ছিল ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭৭১টি।

নভেম্বর মাসে বিদেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৪৮৯টিতে। অক্টোবর মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫০৫টি।




আগস্টে বিও হিসাব বেড়েছে সাড়ে ৪ হাজার

আগস্ট মাসে দেশের পুঁজিবাজারে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে ৪ হাজার ৫৯৬।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শেয়ার ও বিও হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড(সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিডিবিএলের তথ্য মতে, দেশের পুঁজিবাজারে নারী ও পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বর্তমান সংখ্যা ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬২১। যা গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছিল ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ২৫।

বিনিয়োগকারীদের এক লাখ বিও হিসাব বাতিল

দুই প্রকার বিও হিসাবের মধ্যে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পুরুষ বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৪ হাজার ৩৭২ আর নারী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৩০১। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা হচ্ছে ১৬ হাজার ৩৫২। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ২৫।

সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার বেড়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগকারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬২১। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও সংখ্যা ১৩ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ও নারী বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব ৪ লাখ ২৩ হাজার ২৫২। আর বাকি ১৬ হাজার ৪৬৮ টি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিও হিসাব।




জুলাইয়ে বিও হিসাব কমেছে সোয়া লাখ

শেয়ারবাজারে অব্যাহত পতন এবং নবায়ন না করার কারণে চলতি বছরের জুলাই মাসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব কমেছে ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি। সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিডিবিএল জানায়, জুন মাসের শেষ দিন শেয়ারবাজারে বিও হিসাব ছিল ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৪টি। আর বছরের জুলাই মাসের শেষ দিন বিও হিসাব ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ০২৫টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ জুলাই মাসে শেয়ারবাজারে থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৯টি বিও হিসাব কমেছে।

তথ্যমতে, জুলাই মাসে পুরুষদের বিও ৮৭ হাজার ০২৫টি কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ০৪ হাজার ৩৭২টিতে। জুন মাসের শেষ দিন পুরুষদের বিও হিসাব ছিল ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৭টিতে। আর জুলাই মাসে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ৩০ হাজার ২৩১টি কমে ৪ লাখ ২২ হাজার ৩০১টিতে দাঁড়িয়েছে। জুন মাসের শেষ দিন নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৩২টিতে।

জুন মাসের শেষ দিন কোম্পানি বিও হিসাব ছিল ১৬ হাজার ৮৪৫টিতে। আর জুলাই মাসে কোম্পানি বিও ৪৯৩টি কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৫২টিতে।

জুলাই মাসে দেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের ১ লাখ ১১ হাজার ২৮৩টি বিও হিসাব কমেছে। এর মাধ্যমে জুলাই মাসের শেষ দিন দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭১ হাজার ১৯৯টিতে। যা এপ্রিল মাসের শেষ দিন ছিল ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৮২টিতে।

জুলাই মাসে বিদেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের ৫ হাজার ৯৭৩টি বিও হিসাব কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৪৭৪টিতে। জুন মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৬১ হাজার ৪৪৭টিতে।