বিএসটিআইয়ের নতুন মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক

জাতীয় মান নির্ধারণকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কাজী ইমদাদুল হক।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কর কমিশনার, গবেষক ও লেখক কাজী ইমদাদুল সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি রোববার (৩ মে) নতুন পদে যোগদান করেন।

দেশের রাজস্ব প্রশাসন ও সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে সুপরিচিতি কাজী ইমদাদুল দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদান রেখেছেন। বিসিএস (কর) ক্যাডারের সপ্তম ব্যাচের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইবুনালের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং এনবিআরের সাবেক কর কমিশনার হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮৮ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর থেকে কাজী ইমদাদুল কর প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে এনবিআরে কর কমিশনার এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক করনীতি এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডিটিএএ) বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বৈশ্বিক পরিসরে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন। এছাড়া, ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

কাজী ইমদাদুল শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য প্রতিযোগিতায় দুইবার চ্যাম্পিয়ন ও জাতীয় টিভি বিতর্কে তিন বছর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার গবেষণাধর্মী ‘কালো টাকা’ (ব্ল্যাক মানি) একটি আলোচিত গ্রন্থ।

প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও কাজী ইমদাদুল নিয়মিত সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি টেলিভিশনে আয়করবিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে কর সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মেধা, সততা ও সৃজনশীলতার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি দেশের সিভিল সার্ভিস এবং সাহিত্য অঙ্গনে অবদান রেখে চলেছেন।




বিএসটিআইয়ের মান সনদের আওতাভুক্ত ৩৭ পণ্য

গ্রিন টি, টুথব্রাশ, সুইটমিট, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার, মাইক্রোওয়েভ ওভেনসহ ৩৭টি পণ্যকে বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত করেছে মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ কাউন্সিলের ৩৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বর্তমানে বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত পণ্যের সংখ্যা ২৩৯টি। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী ও বিএসটিআই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই কাউন্সিলের প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, দ্বিতীয় ভাইস চেয়ারম্যান শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, মহাপরিচালক ও কাউন্সিলের সদস্য সচিব মো. আবদুস সাত্তারসহ শিল্প, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, তথ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, তথ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিভিশন, কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বিসিএসআইআর, আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রক, ইপিবি এবং এমসিসিআই, ক্যাবসহ কাউন্সিলের সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক ও কাউন্সিলের সদস্য-সচিব মো. আবদুস সাত্তার সভাটি পরিচালনা করেন।

নতুন করে বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতায় এসেছে– গ্রিন টি, সয়া সস, চাটনিজ, ডেকোরেটেড কেক, মল্ট বেইজড ফুড, মল্ট ড্রিঙ্ক, ছানা, চিজেস, হুয়ে চিজেস, ক্রিম চিজেস, এক্সট্রা হার্ড গ্রাটিং চিজ, হেয়ার ক্রিম, কাজল, ফেস প্যাক, গ্লিসারিন টয়লেট সোপ, লিকুইড টয়লেট সোপ, ট্রান্সপারেন্ট টয়লেট সোপ, ক্লিন কুক স্টোভস অ্যান্ড কুকিং সল্যুশনস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি হেলমেট, হেসিয়ান জুট ব্যাগস ফর রাইচ অ্যান্ড পালস, হেসিয়ান জুট ব্যাগস (লেমিনেটেড/ইনার লিনার) ফর পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড ফিস ফিড, হেসিয়ান জুট ব্যাগস ফর প্যাকিং ৩০ কেজি ফুড গ্রেইনস, জুট ব্যাগস ফর প্যাকিং ৫০ কেজি ফুড গ্রেইনস, টেক্সটাইল লাইট ওয়েট জুট সাকিং ব্যাগস ফর প্যাকিং ৫০ কেজি ফুড গ্রেইনস, ননওভেন উয়িপস, সিল্ক ফেব্রিকস, সিনথেটিক মসকুইটো নেটস, টাওয়েলস অ্যান্ড টাউয়েলিং, লিড-অ্যাসিড ট্রাকশন ব্যাটারিজ, সিঙ্গেল ফেস মটর এবং টুথ ব্রাশ।

সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বিএসটিআই সকলের জন্য একটি আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইকে আরও সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘রাতারাতি বড়লোক হওয়ার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। যারা অনৈতিকভাবে ব্যবসা করে তাদের সংশোধন হতে হবে।’

সভায় কাউন্সিলের শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পণ্যে ভেজাল দিচ্ছে, সিন্ডিকেট করছে। ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় বিএসটিআইকে দায়িত্ব নিতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিম্নমানের পণ্য ও ভেজালরোধে বিএসটিআইকে কাজ করতে হবে।’