বিএফআইইউ প্রধানের ‘আপত্তিকর ভিডিও’, তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি এমন একসময় সামনে এলো যখন সম্প্রতি এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাহীনুল ইসলাম। গত বছরের নভেম্বরে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করে বিএফআইইউ। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি হিসাব পুনরায় ফ্রিজ না করে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ তথ্য জানতে পারে। দুদকের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। দুদকের আবেদনে গত ২৭ মে আদালত ওই ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখন জানা গেছে, এসব হিসাবে রয়েছে প্রায় ১০১ কোটি টাকা, আর বাকি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার পেছনে অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ উঠেছে।

শাহীনুল ইসলাম এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এনা পরিবহনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে কিছু টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। অনুরূপভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দুদক থেকে জানতে চাইলে আমি ব্যাখ্যা দেবো।’

আপত্তিকর ভিডিও’র বিষয়ে তার দাবি, ‘আমাকে হেয় করার জন্য কে বা কারা এগুলো ছড়িয়েছে। এগুলো ভুয়া।’

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার (১৮ আগস্ট) থেকে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিও প্রকাশের পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি বিভাগকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৮ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য হন বিএফআইইউর তৎকালীন প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পদটি শূন্য থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এএফএম শাহীনুল ইসলামকে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে গভর্নরের নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটির সুপারিশ তালিকায় তার নাম না থাকায় নিয়োগের পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।




আশরাফ টেক্সটাইলের পরিচালকদের বিরুদ্ধে বিএফআইইউকে ব্যবস্থা নিতে বলবে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে মূল বোর্ড থেকে তালিকাচ্যুত বস্ত্র খাতের কোম্পানি আশরাফ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের (বিএফআইইউ) শরনাপন্ন হচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কোম্পানিটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ইস্যুতে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯৪১ তম কমিশন সভায়এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আশরাফ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের উপর পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৮৮১তম ও ৯০২তম কমিশন সভার সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা করে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি ভঙ্গের জন্য এনফোর্সমেন্ট ব্যবস্থা গ্রহণের এবং মানি লন্ডারিং বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) প্রেরণ করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিএসইসি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (২০১০-২০১২) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করার পর বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি উদ্ঘাটন করা হয়। নিরীক্ষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০০৬ সালে তার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে সকল যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে শুরু করে। কোম্পানিটি গাজীপুরের টঙ্গীর আশরাফাবাদে অবস্থিত মোট ৩২ দশমিক ৮২বিঘা বা ১০৮৫ ডেসিমেল জমি কর্ণফুলী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে ৭৫ কোটি টাকা দামে বিক্রি করেছিল।

এই জমি বিক্রির ৭৫ কোটি টাকা ব্যবহারের তথ্য জানতে চেয়ে কোম্পানিটির কাছে চিঠি দিয়েছিল বিএসইসি। সেইসঙ্গে কোম্পানির পরিচালক পর্ষদকে উল্লেখিত বিষয়ের নথিপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রসহ সশরীরে ব্যক্তিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, আশরাফ টেক্সটাইলের জমি বিক্রির টাকা এর উদ্যোক্তারা আত্মসাৎ করেছেন। এর কিছু অংশ বিদেশেও পাচার হয়ে থাকতে পারে।

বর্তমানে কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) এ তালিকাভুক্ত।




শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হ‌য়ে‌ছে। এ ছাড়া ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এবং চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাতের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করা হয়েছে। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লেনদেন তলব করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তলব করা ব্যক্তির নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হিসাব তলব করা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।

 

বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে কোথা থেকে কীভাবে টাকা এসেছে, তা জানাতে বলা হ‌য়ে‌ছে। আবার সেই অর্থ পরবর্তী সময়ে কোথায় খরচ হয়েছে, নগদে উত্তোলন হয়েছে কিনা, এসব বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হ‌য়ে‌ছে। চি‌ঠি‌তে এই ট্রাস্টের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা। তার বোন শেখ রেহানা অন্যতম ট্রাস্টি। এ ছাড়া অন্য যারা এই ট্রাস্টের সঙ্গে জড়িত কিংবা যেসব অ্যাকাউন্টে ট্রাস্টের হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে, জমা হয়েছে, তাদের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।

ব‌্যাংকগু‌লো‌তে পাঠা‌নো বিএফআইইউর আরেক চিঠিতে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাত, তার ভাই চৌধুরী হাবিবুল্লাহ সরাফাত, তাদের মা ডালিয়া চৌধুরীর হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর আগে তাদের আরেক ভাই ও পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বিএফআইইউ। তাদের পরিবার শেখ হাসিনা পরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে।




২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব

দেশের ২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব (হিসাব তথ্য) করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পরই চিঠি দিয়ে এসব সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ। চিঠির মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে ২৮ সাংবাদিকের নামে কোনো ব্যাংকের লকার, সঞ্চয়পত্র, ক্রেডিট কার্ডসহ অন্যান্য কোনো আর্থিক উপকরণ রয়েছে কি না বা টাকা-পয়সার লেনদেন হয়েছে কি না।

এসব সাংবাদিকের মধ্যে রয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, ডিবিসি নিউজের হেড অব নিউজ জায়েদুল হাসান পিন্টু, এবিনিউজ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, এটিএন বাংলার জ ই মামুন, বাংলা ইনসাইডারের সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীর, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক ও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিটি এডিটর মির্জা মেহেদী তমাল ও চিফ রিপোর্টার জুলকারনাইন রনো, সমকালের সাবেক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বাসসের মধুসূদন মণ্ডল, ডিবিসি নিউজ টিভির মাসুদ আইয়ুব কার্জন, আমাদের সময় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সাংবাদিক ফরাজী আজমল হোসেন, বৈশাখী টিভির অশোক চৌধুরী, ইডির এক্সিকিউটিভ এডিটর রাহুল রাহা, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির ডেপুটি চিফ নিউজ এডিটর ও হেড অব ডিজিটাল আশিকুর রহমান শ্রাবণ, যুগান্তর পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি (সাবেক) আবদুল্লাহ আল মামুন, স্বদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন, দৈনিক মুখপাত্রের সম্পাদক শেখ জামাল হোসেন, ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি আদিত্য আরাফাত, এটিএন নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি তাওহিদুল ইসলাম সৌরভ, যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক শ্যামল সরকার, দৈনিক ইত্তেফাকের নগর সম্পাদক আবুল খায়ের এবং দৈনিক কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা।




অসীম কুমার ও অপু উকিলের ব্যাংক হিসাব জব্দ

সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অসীম কুমার উকিলের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সহধর্মিণী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

পাশাপাশি এ দম্পতির দুই সন্তানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠায় বিএফআইইউ।

এতে বলা হয়, হিসাব জব্দ করা ব্যক্তি ও তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সব লেনদেন বন্ধ থাক‌বে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন হবে না। প্রয়োজনে হিসাব জব্দের এ সময় বাড়ানো হবে।

বিএফআইইউর চিঠিতে অসীম কুমার উকিল, অপু উকিল এবং তাদের সন্তান শায়ক উকিল ও শুদ্ধ উকিলের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাদের হিসাব সংশ্লিষ্ট তথ্যসহ (হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী) যাবতীয় তথ্য চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ২ কার্যদিবসের মধ্যে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।




অনলাইন জুয়ায় জড়িত সন্দেহে ৪৮৫৮৬ হিসাব স্থগিত

অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং হুন্ডির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৮৬টি ব্যক্তিগত এমএফএস হিসাব স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম. আবদুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান।

জুয়া ও হুন্ডির কারণে মুদ্রাপাচার বেড়ে যাচ্ছে, ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া, বেটিং ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধসহ সব ধরনের অর্থপাচার রোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেনের মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধুচক্র অনলাইন জুয়া-বেটিং, গেমিং, ফরেক্স, ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং ও হুন্ডি প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ হতে মুদ্রাপাচার বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে এবং ফলশ্রুতিতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত অভিযোগে ৫ হাজার ৭৬৬ জন এজেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের তথ্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। হুন্ডি লেনদেনে জড়িত সন্দেহে ৫ হাজার ২৯টি এমএফএস এজেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে ২১টি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান ও এদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ৩৯টি হিসাবের তথ্যাদি সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়েছে। অবৈধ হুন্ডি, গেমিং, বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৬৬৬টি এমএফএস এজেন্ট হিসাবের লেনদেন ব্লক করা হয়েছে।




মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রাধান্য দিয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণা

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ২য় ষান্মাসিক (জানুয়ারি-জুন, ২০২৪) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ভবনের ৫ম তলায় জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

মুদ্রানীতি ঘোষণার পর গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নেমে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে। এবারের মুদ্রানীতিতে ৪টি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং পলিসি করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে এই মুদ্রানীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ কমলে অসুবিধা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরবৃন্দ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, চিফ ইকোনোমিস্ট, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সহকারী মুখপাত্ররা।




বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুব আলম

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক হলেন মোহাম্মদ মাহবুব আলম। তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অতিরিক্ত পরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে পরিচালক হয়েছেন।

সোমবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্যমতে, মোহাম্মদ মাহবুব আলম ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে এবং পরে ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসেও কর্মরত ছিলেন।

মোহাম্মদ মাহবুব আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর উভয় ডিগ্রিতে সাফল্যের সঙ্গে প্রথম শ্রেণিতে ২য় স্থান অর্জন করেন। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইউএনডিইএসএ পরিচালিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমা অন ম্যাক্রোইকোনোমিক মডেলিং ফোর্সকাস্টিং’ বিষয়ে বিশেষ কোর্স ছাড়াও আইএমএফ, এডিবি, আইটিইউ ও এপিজি কর্তৃক সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

দাপ্তরিক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে তিনি ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণ করেছেন।




আরও ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত

ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সল্যুশনসের (ইউএফএস) চার মিউচুয়াল ফান্ডের ২৩৫ কোটি টাকা লোপাট ঘটনায় নতুন করে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার (৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে লোপাটের মূলহোতা সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ ১৫ জনের হিসাব স্থগিত করা হয়েছিল।

নতুন করে যাদের হিসাব স্থগিত করা হয়েছে তারা হলেন– ইউএফএসর প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক, ম্যানেজার সাকিব আল ফারুক, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান রাজিব। এছাড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে– নিটওয়্যার ক্রিয়েটর লিমিটেড, ভেনগার্ড ট্রেডার্স লিমিটেড, ম্যাক্স সিকিউর লিমিটেড, তানজিনা ফ্যাশন, আরআই এন্টারপ্রাইজ, নেত্রকোনা এক্সেসরিজ ও মাল্টিম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

উল্লেখ্য, ইউএফএসের চার মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বিনিয়োগকারীদের ২৩৫ কোটি টাকা লোপাট এবং ১৭০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। মূলহোতা ইউএফএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হামজা আলমগীর দুবাই পালিয়েছেন। এ ঘটনায় ইউএফএসের এমডির সৈয়দ হামজা আলমগীর এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করাসহ পাঁচ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা