বিএডিসির জন্য এক লাখ ৪০ হাজার টন সার কিনছে সরকার

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) জন্য এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি, টিএসপি, পটাশ সার কিনবে সরকার।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা প্রস্তাবে ভিন্ন ভিন্ন চারটি লটে সারগুলো কিনবে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় MA’ADEN, সৌদিআরব থেকে ১ম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এই লটে ডিএপি সার কিনতে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবে জানানো হয়, বিএডিসি কর্তৃক সৌদিআরব হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৩ আগস্টে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে MA’ADEN, সৌদিআরব থেকে ১ম লটে ৪০ হাজার (+১০%) মে. টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব প্রত্যাশামূলক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে ৩য় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে টিএসপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে ওসিপি, এসএ মরক্কো থেকে ৩য় লটে ৩০ হাজার (+১০%) মে. টন টিএসপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে ৩য় লটে ৪০ হাজার মে.টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তবা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে ওসিপি, এসএ মরক্কো থেকে ৩য় লটে ৪০ হাজার (+১০%) মে. টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪০ কোটি ৯০ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।

এছাড়া, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন “Prodintorg” থেকে ৪র্থ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক রাশিয়া হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে এমওপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১ জুন পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে জেএফইসি “Prodintorg” রাশিয়া হতে ৪র্থ লটে ৩০ হাজার (+১০%) মে. টন এমওপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ৯০ লাখ ৬৩ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।




দেড় লাখ টন সার আনতে তিউনিশিয়ার সঙ্গে চুক্তি

২০২৩ সালে দেড় লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার আনতে তিউনিশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিসে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং তিউনিশিয়ান কেমিক্যাল গ্রুপ (জিসিটি) এর মধ্যে এই চুক্তি সই হয়।

চুক্তিতে বিএডিসির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ ও জিসিটির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মেদ রিধা ছালঘৌম স্বাক্ষর করেন। এসময় কৃষিসচিব ওয়াহিদা আক্তার ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান বদিউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিএডিসি ২০০৮ সাল থেকে জিটুজি ভিত্তিতে তিউনিশিয়া থেকে টিএসপি আমদানি করে আসছে।

একইদিন কৃষিসচিব ওয়াহিদা আক্তার তিউনিশিয়ার কৃষি, পানিসম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রী আব্দেল মনাম বেলাতি এবং শিল্প, খনিজ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী নেইলা নৌরিয়া গঙ্গি এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে তিউনিশিয়ান মন্ত্রীদ্বয় বাংলাদেশের সঙ্গে কৃষি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বাড়ানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেন।