১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমলো ৫৫ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমেছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এছাড়া প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল ১২ কেজিতে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৭ টাকা করেছিল বিইআরসি। অর্থাৎ দুই দফায় ১২ কেজিতে ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।




ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে বাড়ল ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে বেড়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা। নতুন নির্ধারিত দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা। যার পূর্বনির্ধারিত মূল্য ৭০ টাকা ১০ পয়সা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকালে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হচ্ছে।

এর আগে ফার্নেস অয়েলের দাম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নির্ধারণ করত। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো সংস্থাটি ফার্নেস অয়েলের দাম ঘোষণা করে। আজ দ্বিতীয়বারের মতো দাম সমন্বয় করা হলো।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ফার্নেস তেলের দাম সবশেষ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে বিপিসি। এরপর চারটি জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিও প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।

বিপিসির অধীন থাকা জ্বালানি তেল বিপণন করা সরকারি চার কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। এ তেলের প্রধান ক্রেতা সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।




গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ঠিক করবে বিইআরসি : জ্বালানি উপদেষ্টা

সরকার নয়, এখন থেকে গণশুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জ্বালানি বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করতে চায় সরকার। এখন থেকে কোনো যোগসাজশের মাধ্যমে নয়, জ্বালানি খাতের সব কেনাকাটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হবে।

তিনি বলেন, সরকার নয়, এখন থেকে গণশুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকার কতদিন থাকবে রাজনৈতিক দলগুলো তা জানতে চাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সংস্কারে খুব বেশি সময় পাবে না বর্তমান সরকার।

ধান কাটার মতো দাবি আদায়ের মৌসুম চলছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যৌক্তিক দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করার যে দাবি তুলেছে, সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হুট করে কোনো ঘোষণা দেওয়া যায় না।




সহসাই দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না : বিইআরসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, দেশে সহসাই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না।

তিনি বলেন, বিগত সরকার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াত। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির নিয়ম বাতিল করেছে। দাম বৃদ্ধি করলে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনই করবে। এর জন্য এ কমিশনের একটি দাম নির্ধারণী প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হবে।

রোববার (২৬ আগস্ট) হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ধরা আয়োজিত ‘খোয়াই অববাহিকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা, কারণ ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।

জালাল আহমেদ বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তিন বছরের চুক্তি ছিল। কিন্তু অনেকগুলোর চুক্তি নবায়ন করার সময় মূল্যের বিষয়টি যথাযথ সমন্বয় হয়নি। এসব অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। যারা চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে চুক্তি অব্যাহত থাকবে। অন্যগুলো বাতিল করা হবে।

তিনি বলেন, খোয়াই নদী ও পুরাতন খোয়াই নদী নিয়ে ২ হাজার কোটি টাকার যে উন্নয়ন প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। সিএস ও আরএস ম্যাপ দেখে নদীর অবস্থান নিরূপণ করে কারা নদীর ভেতরে আছে আর কারা বাইরে আছে, তার তালিকা করলে অনেককেই নদীর জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। নদীতে যাতে কেউ ময়লা না ফেলে, তার জন্য সচেতনতামূলকভাবে প্রোগ্রাম করতে হবে।

পরিবেশ আন্দোলন কর্মী কবি তাহমিনা বেগম গিনির সভাপতিত্বে ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপারের তোফাজ্জল সোহেল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।




আবারও বাড়লো এলপিজির দাম

আবারও বাড়লো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৪৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

 

রোববার (৩ মার্চ) বিকেল ৩টায় বিইআরসির কার্যালয়ে নতুন দর ঘোষণা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন। আজ সন্ধ্যা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।

 

এছাড়া ভোক্তাপর্যায়ে বোতলজাত এলপিজির ৫.৫ কেজির দাম ৬৭৬ থেকে বেড়ে ৬৭৯ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ১ হাজার ৫৩৬ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৪৪ টাকা, ১৫ কেজি ১ হাজার ৮৪৩ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৫৩ টাকা, ১৬ কেজি ১ হাজার ৯৬৬ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬, ১৮ কেজি ২ হাজার ২১১ থেকে বেড়ে ২ হাজার ২২৩ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৪৫৭ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৭০ টাকা, ২২ কেজি ২ হাজার ৭০৩ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭১৭ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ৭২ থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৮৮ টাকা, ৩০ কেজি ৩ হাজার ৬৮৬ থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৭০৬ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৫৪ থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৭৬ টাকা, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৩২৩ ও ৪৫ কেজির এলপিজির দাম ৫ হাজার ৫২৯ থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৮ টাকা হয়েছে।

 

বিইআরসির ঘোষণায় বলা হয়, রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহকৃত বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মাল্য প্রতি কেজি ১১৯ দশমিক ৬৯ টাকায় এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি লিটার ০.২৬৬০ টাকায় বা প্রতি ঘনমিটার ২৬৬ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া ভোক্তাপর্যায়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ মূল্য প্রতি লিটার ৬৮ দশমিক শূন্য ৫ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছে।

 

বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন বলেন, ডলারের দাম না বাড়লেও জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে।

 

গত ফেব্রুয়ারিতে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ৪১ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।




আবারো বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১২ কেজিতে আরও ৪১ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা, যা গতমাসে ছিল এক হাজার ৪৩৩ টাকা।

আজ রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুরেটরি কমিশনে (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ দাম ঘোষণা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের অন্য সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সৌদি আরামকো কম্পানির প্রপেন ও বিউটেনের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তার পর থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।




এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৩ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে ডিসেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম সমন্বয় করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

চলতি মাসের প্রথম কর্মদিবস রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ মূল্য ঘোষণা করা হয়, যা কার্যকর হবে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে।

প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এলপিজির সমন্বয়কৃত দর ঘোষণা করে বিইআরসি।

সমন্বয়কৃত মূল্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হবে ১ হাজার ৪০৪ টাকা, যা নভেম্বরে ছিল ১ হাজার ৩৮১ টাকা। অর্থাৎ রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে চলতি মাসে ক্রেতাকে ২৩ টাকা বেশি গুনতে হবে।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর তথা মূসকসহ সাড়ে পাঁচ কেজি এলপিজির দাম ঠিক করা হয়েছে ৬৪৪ টাকা। এ ছাড়া ১৫ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৭৫৫ টাকা, ২০ কেজির দাম দুই হাজার ৩৪০ টাকা, ২৫ কেজির দাম ২ হাজার ৯২৬ টাকা ও ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৫১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




নির্বাহী আদেশে বাড়লো গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ

নির্বাহী আদেশে গ্যাসের বিতরণ ও সঞ্চালন চার্জ বাড়ানো হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিভেদে প্রতি ঘনমিটারে ৭ থেকে ১১ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে এতে গ্রাহকের গ্যাসের দামে কোনো তারতম্য হবে না। তারা আগের দামেই টাকা পরিশোধ করবেন গ্রাহকেরা।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বিকেলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। যা চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে।

নতুন আদেশে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির বিতরণ চার্জ ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৬ পয়সা এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৪ পয়সা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ১৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২১ পয়সা, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ১৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ পয়সা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৭ পয়সা, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ পয়সা করা হয়েছে।

তবে আদেশে অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিকে সিস্টেম লস না দিলেও তিতাস গ্যাসকে ২ শতাংশ হারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আর গণশুনানির মধ্যদিয়ে গত বছরের জুনে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গ্যাসের দামের বিষয়ে সর্বশেষ গণশুনানি হয় গত বছরের মার্চে। কোম্পানিগুলো গ্যাসের দামের পাশাপাশি বিতরণ চার্জ বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল। ওই শুনানিতে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল সবগুলো কোম্পানিই মুনাফায় রয়েছে।

শুনানিতে দেখা যায়, কোম্পানিগুলোর পরিচালন বহির্ভূত আয় এত বেশি, তাদের বিতরণ চার্জ আদায় না করলেও মুনাফায় থাকে। অর্থাৎ হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক আমানত, নানারকম মাশুল দিয়েই মুনাফায় থাকে কোম্পানি। এ কারণে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিতরণ কোম্পানির কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কিছুটা মাশুল দেওয়ার মতামত দেয় টেকনিক্যাল কমিটি। পরে কর্ণফুলীর তৎকালীন বিদ্যমান দর ঘনমিটার ২৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৯ পয়সা করার সুপারিশ দেওয়া হয়। আর অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির বিতরণ চার্জ বিলুপ্ত করার সুপারিশ আসে হিসাব থেকে।

এছাড়া একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএল বর্তমান চার্জ ৪২ পয়সা থেকে ৬ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ দেওয়া হয়। পরে জুন মাসে দেওয়া আদেশে ৫ পয়সা বাড়িয়ে ৪৭ পয়সা করা হয়।




ভর্তুকি কমিয়ে আনতে বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম

আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণপ্রাপ্তির শর্তানুযায়ী আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে বিদ্যুতের দাম বাড়নোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইএমএফের ঋণের বিপরীতে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ৫ শতাংশ। চলতি মাসে কিংবা আগামী মাসের যেকোনো সময় দাম বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, লোকসান কমাতে বিতরণ সংস্থাগুলোও ভোক্তা পর্যায়ে ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির জন্য পিডিবির কাছে আবেদন করে। সে ভিত্তিতেই ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সে ভর্তুকির পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সরকার বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয় করতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, চলতি মাস কিংবা আগামী জুনে আরেক দফা বাড়ানো হবে বিদ্যুতের দাম। এর আগে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গ্রাহকপর্যায়ে তিন ধাপে পাঁচ শতাংশ হারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম নতুন করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। আর খুচরায় বাড়তে পারে ৫ শতাংশের মতো। দাম বাড়ানোর বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হবে উচ্চপর্যায় থেকে।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ভর্তুকি ছাড় করেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরের ভর্তুকি হিসেবে পেয়েছে তারা। একই অর্থবছরের জন্য আগে পেয়েছে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভর্তুকির কোনো টাকা এখনো পাওয়া যায়নি। পিডিবি ভর্তুকি চাহিদা জানিয়ে চিঠি দিলেও টাকা ছাড় করতে দেরি করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ-সভাপতি এম শামসুল আলম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মে ব্যয় বাড়ছে। আর এটি চাপানো হচ্ছে ভোক্তার ওপর। এখন বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানো হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হবে। সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় সমন্বয় না করে মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, আইএমএফের শর্ত পরিপালনের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতগুলোতে সরকারি ব্যয় বাড়াতে সার ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে ভর্তুকি কমানোর জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ভর্তুকি আইএমএফ নির্ধারিত সীমায় আটকে রাখতেই সরকার ইতোমধ্যে সারের দাম বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়। জ্বালানি তেলের মূল্য আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই তিন মাস পরপর আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে নিট ভর্তুকির পরিমাণও কমিয়ে আনা হবে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রিজার্ভ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্ষেত্রে আইএমএফের শর্তপূরণে কি ধরনের সমস্যা তা জানাতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকার সরে আসতে চায়। শিল্প খাতেও বাড়তি গ্যাস দরকার। এ কারণে আমদানি বাড়াতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয় করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তেল ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনঃনির্ধারণ এবং সমন্বয়ে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রেখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০২৩ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

এর আগে আইন সংশোধন করে গত ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন), অধ্যাদেশ, ২০২২’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এর মধ্যদিয়ে বিশেষ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সরাসরি বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা যায় সরকারের হাতে।

গত ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি করে বিইআরসি। এরপরই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির আবেদন করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি গণশুনানি করে বিইআরসি। কিন্তু গণশুনানি শেষে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাহী আদেশে কয়েক দফায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়।

এর আগে গত নভেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় প্রায় ২০ শতাংশ (কার্যকর হয় ডিসেম্বর থেকে)। এটি সমন্বয়ে ১২ জানুয়ারি ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে গত ১৪ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ১০ বার ও খুচরায় ১১ বার বেড়েছে বিদ্যুতের দাম।




১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১২৩৫ টাকা নির্ধারণ

ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১ হাজার ১৭৮ টাকা থেকে ৫৭ টাকা বাড়িয়ে ১২৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২ মে) দুপুর আড়াইটায় নতুন দর ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন মূল্য আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।

ঘোষণায় বলা হয়, বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১০২ টাকা ৯১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহকৃত বেসরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ৯৯ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম মূসকসহ প্রতি লিটার মূল্য ৫৭ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৪২২ টাকা থেকে ২৪৪ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ১৭৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সংস্থাটি প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের দাম সমন্বয় করে।




এলপিজির দাম কমল

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। যা এতদিন ছিল ১ হাজার ৪৯৮ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিইআরসি সচিব ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানোনো হয়েছে।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৩২ টাকা থেকে একলাফে ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।