হাইব্রিড-ইভি গাড়িতে শুল্ক কমানোর দাবি বারভিডার

জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোটরযান আমদানির শুল্ক-করহার যৌক্তিকীকরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে আমদানি নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হক বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বিদ্যমান শুল্ক হ্রাস করা জরুরি। একই সঙ্গে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর কর কমানোর দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইলেকট্রিক গাড়ি শিল্পে সরকারের বিদ্যমান প্রণোদনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে কর ছাড় দিলে বাজারে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে।

বারভিডা সভাপতি জানান, প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে গাড়ির দাম মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। ফলে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে মোটরযান খাতে যুক্তিসংগত শুল্ক কাঠামো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশে মানসম্মত, নিরাপদ ও স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




গাড়ি আমদানিতে অবচয় সুবিধা বাড়ানোর দাবি বারবিডার

রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানির ক্ষেত্রে অবচয় সুবিধা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৫০ শতাংশ করার দাবি করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস্ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বারভিডার প্রেসিডেন্ট মো. হাবিব উল্লাহ ডন এ দাবি জানান।

বারভিডার প্রেসিডেন্ট বলেন, যে কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে সর্বোচ্চ হারে মূল্যের অবচয় প্রদানের বিধান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। অবচয় প্রদানের উদ্দেশ্যে বয়স গণনার ক্ষেত্রে আমদানি নীতি অনুযায়ী লিপিবদ্ধ বছর চলতি হিসেবে ধরা হয়। অবচয় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বছরভেদে ও গাড়ির প্রকৃতিভেদে এক বছরের রিকন্ডিশন গাড়ি ০ শতাংশ, দুই বছরের পুরোনো গাড়ি ১০ শতাংশ, ২ বছরের অধিক হলে ২০ শতাংশ, ৩ বছর পর্যন্ত পুরোনো হলে ৩০ শতাংশ, ৪ বছর পুরোনো হলে ৪০ শতাংশ ও ৫ বছর পুরোনো হলে ৫০ শতাংশ হারে অবচয় প্রদানপূর্বক রিকন্ডিশন গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করেছি।

তিনি আরও বলেন, এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হলে গাড়ি আমদানি বৃদ্ধি পাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এ বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার তৃণমূলে সম্প্রসারিত হবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

অন্যদিকে পুরাতন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সিসি স্ল্যাব ও সম্পূরক শুল্ক পূর্ণবিন্যাসের প্রস্তাব দিয়েছে বারবিডা। সংগঠনটি বলছে, পুরাতন রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর হতে বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, হাইব্রিড গাড়ি যেমন পরিবেশের জন্য কল্যাণকর তেমনি জ্বালানি সাশ্রয়ী বিধায় রাষ্ট্র এবং গ্রাহক উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন। সিসি স্ল্যাব ৪০০০ সিসি পর্যন্ত করভার ২৮৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৪৪২.৬০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত হারে বিবেচনা করা হলে উন্নত প্রযুক্তির পরিবেশ ও জ্বালানি সহায়ক হাইব্রিড গাড়িগুলির আমদানি সহজলভ্য হবে বলে মনে করে বারভিডা।

প্রাক- বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো রহমাতুল মুনিম বলেন, শুল্ক সুবিধা দিলে সেই সুবিধার অপব্যবহার হয়। যারা অপব্যবহার করে তারা শিল্পের ক্ষতি করছে। তিনি বারবিডার প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।