এফবিসিসিআই নির্বাচন ৪৫ দিন পেছাল

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ৪৫ দিন পেছানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) সংগঠনটির মহাসচিব মো. আলমগীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এফবিসিসিআই নির্বাচন বোর্ড পুনঃতফসিল ঘোষণা করবে এবং নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে। নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিগগিরই নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।

এর আগে, গত ১৮ জুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে এফবিসিসিআই নির্বাচন বোর্ড। তখন নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর। তবে সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে সেই তারিখ পরিবর্তিত হবে।

এফবিসিসিআই নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে থাকেন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই বছরের জন্য সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়।

 




ভারতে ২৪২০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ইলিশ গেছে ৫৩৩ টন

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ইলিশের সংকট এবং দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানি করা যায়নি। শনিবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত ১৭ দিনে ভারতে গেছে সর্বমোট ৫৩৩ টন ইলিশ।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ৪৯ রপ্তানিকারককে ২ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানিতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৮ জনকে ৫০ মেট্রিক টন করে ও একজনকে ২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর রাত পর্যন্ত ৫৩৩ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ভারতে। যার মূল্য ৫৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ৬৩ কোটি ৯৬ লাখ।

এ বছর ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ গড়ে ১০ মার্কিন ডলারে রপ্তানি হয়েছে, যা দেশের ১ হাজার ১৮০ টাকার মতো। দেশের বাজারে অবশ্য আরও অনেক বেশি দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, প্রথমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে পরে বিদেশে ইলিশ রপ্তানি হবে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তে অনড় থাকেনি সরকার। দেড় মাসের মাথায় ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

গত বছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি ছিল ৩ হাজার ৯০০ টন। রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৬৩ টন। এ বছর ভারতে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে অনুমোদিত পরিমাণের ইলিশ পাঠাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দর মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর আসাওয়াদুল ইসলাম গণামাধ্যমকে জানান, পূজার ছুটির মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানি চালু ছিল। আজ শেষ দিনে ৩৬ টনের মতো ইলিশ ভারতে রপ্তানি হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯–২০ অর্থবছরে ৪৭৬ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়। ২০২০–২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৯৯ টন ইলিশ রপ্তানি হয়। অন্যদিকে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ২৩০ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৯১ টন ইলিশ রপ্তানি করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০২ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়। সে হিসাবে ৫ বছরে মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি হয় ভারতে।

এদিকে, শনিবার (১২ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সাগর ও নদীতে ইলিশ ধরা, মজুত বা সংরক্ষণ এবং বিপণন সবই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।




সাড়ে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি

বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪ কোটি পিস ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ শাখা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি পিস ডিমের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ডিমের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সাময়িকভাবে সীমিত সময়ের জন্য এ আমদানি অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ আমদানির অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩১/১২/২০২৪ খ্রি. পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মেসার্স মিম এন্টারপ্রাইজকে এক কোটি পিস, যশোর চৌরাস্তা মোড়ের মেসার্স তাওসিন ট্রেডার্সকে এক কোটি পিস, সাতক্ষীরার লবশা এলাকার মেসার্স সুমন ট্রেডার্সকে ২০ লাখ পিস, রংপুরের ভগী এলাকার আলিফ ট্রেডার্সকে ৩০ লাখ পিস, রাজধানীর মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার হিমালয়কে এক কোটি পিস, শান্তিনগরের মেসার্স প্রাইম কেয়ার বাংলাদেশকে ৫০ লাখ পিস এবং তেজকুনিপাড়ার মেসার্স জামান ট্রেডার্সকে ৫০ লাখ পিস ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

যেসব শর্তে ডিম আমদানি করা যাবে:

(ক) The World Organization for Animal Health (WOAH)-এর গাইডলাইন অনুযায়ী বার্ড ফ্লু মুক্ত জোনিং/কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের স্বপক্ষে রপ্তানিকারক দেশের Competent Authority কর্তৃক জোনিং/কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের সার্টিফিকেট/ঘোষণা দাখিল করতে হবে;

(খ) আমদানিকৃত ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত/ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত মর্মে সনদ দাখিল করতে হবে;

(গ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শুদ্ধ-কর পরিশোধ ও অন্যান্য বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে;

(ঘ) ডিম আমদানির প্রতি চালানের অন্যূন ১৫ (পনের) দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট সংগনিরোধ কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে; (৩) আমদানির অনুমতি পাওয়ার পরবর্তী ৭ দিন পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।




রপ্তানি ট্রফি পাচ্ছে ৭৭ প্রতিষ্ঠান

রপ্তানি বাণিজ্যে অনন্য অবদান রাখায় ৭৭ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে রপ্তানি ট্রফি। তাদেরকে দেওয়া হবে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদক।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রফি প্রদান করবে। যার মধ্যে রপ্তানির মাধ্যমে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হিসাবে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেডকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আর অন্যান্যদের খাত ভিত্তিক রপ্তানি ট্রফি দেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তরফদার সোহেল রহমান সই করে প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি গেজেটটি ইস্যু করা হয়েছে।

স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ এ তিন ক্যাটাগরিতে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-

তৈরি পোশাক খাতে (ওভেন) উইন্ডি অ্যাপারেলস স্বর্ণ, অ্যাপারেল গ্যালারি রৌপ্য এবং চিটাগাং এশিয়ান অ্যাপারেলস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতে (নিটওয়্যার) লিবার্টি নিটওয়্যার স্বর্ণ, ডিভাইন ইন্টিমেটস রৌপ্য, ফ্লামিংগো ফ্যাশনস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

সব ধরনের সুতা খাতে বাদশা টেক্সটাইলস স্বর্ণ, স্কয়ার টেক্সটাইলস রৌপ্য এবং কামাল ইয়ার্ন ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

টেক্সটাইল ফেব্রিকস খাতে নাইস ডেনিম মিলস স্বর্ণ, হা-মীম ডেনিম রৌপ্য এবং ফোর এইচ ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

পণ্য খাত হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল- এই খাতে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস স্বর্ণ, মমটেক্স এক্সপো রৌপ্য এবং এসিএস টেক্সটাইলস (বাংলাদেশ) ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

টেরিটাওয়েল খাতে নোমান টেরিটাওয়েল মিলস স্বর্ণ এবং এসিএস টাওয়েল রৌপ্য ট্রফি পাচ্ছে।

হিমায়িত খাদ্য খাতে ছবি ফিশ প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ স্বর্ণ, প্রিয়াম ফিশ এক্সপোর্ট রৌপ্য এবং এমইউসি ফুডস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

কাঁচা পাট খাতে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ স্বর্ণ, তাসফিয়া জুট ট্রেডিং রৌপ্য এবং ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

পাটজাত দ্রব্য খাতে জনতা জুট মিলস স্বর্ণ এবং আকিজ জুট মিলস রৌপ্য ট্রফি পাচ্ছে। চামড়াজাত পণ্য খাতে পিকার্ড বাংলাদেশ স্বর্ণ এবং এবিসি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ রৌপ্য ট্রফি পাচ্ছে।

আর ফুটওয়্যার খাতে বে-ফুটওয়্যার স্বর্ণ, এডিসন ফুটওয়্যার রৌপ্য এবং এফবি ফুটওয়্যার ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

কৃষিজ পণ্য খাতে (তামাক ব্যতীত) ইনডিগো করপোরেশন স্বর্ণ, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং কোং রৌপ্য এবং সিএসএস ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

অ্যাগ্রো প্রসেসিং পণ্য খাতে (তামাকজাত পণ্য ব্যতীত) হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো স্বর্ণ, প্রাণ অ্যাগ্রো রৌপ্য এবং প্রাণ ফুডস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

অন্যদিকে হস্তশিল্পজাত পণ্য খাতে কারুপণ্য রংপুর স্বর্ণ, বিডি ক্রিয়েশন রৌপ্য এবং ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

মেলামাইন খাতে ডিউরেবল প্লাস্টিক স্বর্ণ ট্রফি পাচ্ছে। এই খাতে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ দেওয়া হয়নি।

প্লাস্টিক পণ্য খাতে অলপ্লাস্ট বাংলাদেশ স্বর্ণ, আকিজ বায়াক্স ফিল্মস রৌপ্য এবং বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

সিরামিক সামগ্রী খাতে শাইনপুকুর সিরামিকস স্বর্ণ, আর্টিসান সিরামিকস রৌপ্য এবং প্রতীক সিরামিকস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে এমঅ্যান্ডইউ সাইকেলস স্বর্ণ, মেঘনা বাংলাদেশ রৌপ্য এবং রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য খাতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি স্বর্ণ এবং বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ রৌপ্য ট্রফি পাচ্ছে।

অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য খাতে মেরিন সেফটি সিস্টেম স্বর্ণ, এশিয়া মেটাল মেরিন সার্ভিস রৌপ্য এবং তাসনিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস স্বর্ণ, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস রৌপ্য এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

কম্পিউটার সফটওয়্যার খাতে সার্ভিস ইঞ্জিন স্বর্ণ এবং গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক রৌপ্য ট্রফি পাচ্ছে।

ইপিজেডভুক্ত শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন (সি ক্যাটেগরি) তৈরি পোশাক শিল্প খাতে (নিট ও ওভেন) ইউনিভারসেল জিন্স স্বর্ণ, প্যাসিফিক জিন্স রৌপ্য এবং শাশা ডেনিমস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ পণ্য খাতে স্বর্ণ, মনট্রিমস রৌপ্য এবং ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।

অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য খাতে হেয়ার স্টাইল ফ্যাক্টরি স্বর্ণ ট্রফি, রায় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল রৌপ্য ও ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। অন্যান্য সেবা খাতে এক্সপো ফ্রেইট স্বর্ণ ট্রফি এবং মীর টেলিকম রৌপ্য ট্রফি পাচ্ছে।

এছাড়া নারী উদ্যোক্তা বা রপ্তানিকারকদের জন্য সংরক্ষিত খাতে পাইওনিয়ার নিটওয়্যার্স (বিডি) স্বর্ণ ট্রফি, বিকন নিটওয়্যার রৌপ্য ট্রফি এবং ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস ব্রোঞ্জ ট্রফি পাচ্ছে।




রপ্তানি বহুমুখী করে বাণিজ্য বাড়াতে চাই: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

রপ্তানি বহুমুখী করে বাণিজ্য বাড়াতে চান বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিকে কিভাবে বহুমুখী করা যায়। চেষ্টা করব লোকাল যে শিল্প আছে সেগুলোকে আরও উৎসাহিত করতে। আমাদের রপ্তানি ৬ গুন বেড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বেশি উৎসাহিত করে বিদেশীদের আনি না। কারণ মাসব্যাপী তারা অনেকে আসতে চান না। তবে আমাদের লোকাল ইন্ড্রাষ্ট্রিগুলোকে পরিচিত করাটাই অন্যতম লক্ষ্য। ভোক্তা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেবো মেলায় আগত দর্শনার্থীরা যেন প্রতারিত না হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের লোকজন আছে, তাদের অনেকে আসে। এবার আমরা তাদের একসঙ্গে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেবো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, গত দুই বছর রাস্তার কিছুটা সমস্যা ছিলো। এবার রাস্তা অনেক ভালো, ফলে অনেক দর্শনার্থী আসবে বলে আশা করছি। চেষ্টা করেছি একটি ভালো মেলা আয়োজনের জন্য। প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি মেলার আয়োজন করলেও এবার নির্বাচনের কারণে কিছুটা পিছিয়েছে। এ মেলাটি মানুষের জন্য বার্ষিক একটা ঐতিহ্যবাহী মেলায় পরিণত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম আহসান বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বিষয় থাকে। সেজন্য ৫০ জনের আউটসোর্সিং করে নিরাপত্তার জন্য লোকবল নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়াও পুলিশ-আনসার থাকবে। প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র্যাব কাজ করবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১০০ জন ক্লিনার নিয়োগ করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বাস থাকবে। এবার ফার্মগেইট থেকেও বাসে উঠা যাবে। ফলে খুব অল্প সময় মেলা কেন্দ্রে আসা যাবে।

ইপিবি জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে।

জানা গেছে, দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর, ফার্নিচার ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ মেলা হতো শেরেবাংলা নগরে। কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এরপর মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে ২০২২ সালে প্রথমবার মেলার আয়োজন করা হয় পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে। এবার তৃতীয়বারের মতো স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চীন এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চীনের অর্থায়নে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এখানেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর বসবে।




আমদানি স্বাভাবিক, রোজায় স্থিতিশীল থাকবে দাম: বাণিজ্যসচিব

দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি স্বাভাবিক আছে। তাই রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রমজান ৯ মার্চ শুরু হতে পারে। যদিও এটা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। সেই উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। আমদানিকারক সমিতি, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সবাই ছিলেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, রমজানের সময় বাজারে তেল, চিনি, চাল, ছোলা, খেজুর ও পেঁয়াজসহ যেসব পণ্যের বেশি চাহিদা থাকবে, সেগুলোর মজুতের পরিমাণ কী, এবং আগামী মাসে আরও কী পরিমাণ আসছে, আসার পরে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য আছে কি না; সেটা দেখা। আবার আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা আছে কি না, বা বন্দরে মাল খালাসের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে কি না, বৈঠকে সেসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

সচিব বলেন, আমদানি মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। আমরা জানি যে, আগে থেকেই অর্থাৎ প্রায় সাত-আট মাস ধরেই চিনি আমদানি একটু কম ছিল, সেটার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে চিনির আমদানি করা যাচ্ছিল না, যেমন ভারত চিনি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে, ব্রাজিল থেকে আনতেও কিছু বাধা ছিল। এখন নতুন করে আমরা জানি যে, জাহাজের ক্ষেত্রে লোহিত সাগরের চ্যানেলে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমরা ভালো অবস্থানে চলে যাবো। নতুন পেঁয়াজ আসবে। ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হচ্ছে। আগামী দু-মাসে আরও আমদানি হবে। আলোচনা করে দেখলাম, খেজুরের ক্ষেত্রেও একটা সমস্যা হচ্ছে। খেজুরের শুল্ক নিয়ে একটা দাবি আমদানিকারকদের আছে। তাদের অভিযোগ, এনবিআর থেকে অ্যাসেসম্যান্ট ভ্যালু অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। সেটা কমানোর জন্য আমরা লিখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মাল অনেক ক্ষেত্রে বন্দরে এসে গেছে। খালাস হচ্ছে না। আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দরে আমরা খবর নেবো। যদি এ ধরনের বিষয় হয় যে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে, কিন্তু সেটির সেটেলড হয়েছে অনেক কম, এটা আলোচনা করে ফয়সালা করতে হবে। যাতে আগামী দুই মাসের মধ্যে খেজুর চলে আসে।

রমজান উপলক্ষে কতটা বাড়তি আমদানি করতে হবে? প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণত বছরে বা মাসিক যে চাহিদা থাকে, রমজানে সেটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। যেমন মাসে হয়ত দেড় লাখ টন সয়াবিন তেল লাগে, রমজানে সেটা তিন লাখ টন লাগে। রমজানে চিনিও লাগে দেড় লাখ টনের মতো, যেটা স্বাভাবিক সময়ে ৭৫ হাজার টন। বেশির ভাগ পণ্যই দেড় থেকে দুই গুণ বেশি চাহিদা থাকে। আর সারা বছরে খেজুরের যে চাহিদা, সেটার অর্ধেকটাই রমজানে, ৫০ হাজার টন।

এ বর্ধিত চাহিদা মেটাতে বৈঠক করা হয়েছে। রমজান সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা একটু বেশিই আমদানি করেন, আমরা সেটাকে সহায়তা দেওয়ার জন্য, বন্দর থেকে খালাস কিংবা এনবিআরের শুল্ক নিয়ে যদি কোনো সমস্যা থাকে, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো। বাংলাদেশের ব্যাংকের বিষয়েও কথা হয়েছে। অনেক সময় শতভাগ মার্জিন দিয়ে এলসি খুলতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা চাচ্ছন, এটা কমিয়ে দেওয়া বা শূন্য করা যায় কি না। এটা নিয়েও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি লিখবো।

আমদানি সহজ করে দেওয়া, যাতে পণ্যগুলো বাজারে সহজলভ্য হয়। আমাদের মূল্য উদ্দেশ্য সেটা। কারণ দামের ক্ষেত্রেও সেটার প্রভাব পড়বে। আমরা যদি পণ্যের যথেষ্ট যোগান দিতে পারি, তাহলে ভোক্তারা দামের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। রমজানে খুব ভালোভাবেই এসব পণ্য সরবরাহ করতে পারবো বলে আশা করছি।

রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য যাতে সহজে আমদানি করতে পারেন ব্যবসায়ীরা, এ জন্য ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে এলসি খুলতে পারেন, সে জন্য অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া অনেকক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন নেওয়া হচ্ছে। এটা আমদানিকারকরা অভিযোগ করেছেন। এসব পণ্যের আমদানিকারকদের দাবি হচ্ছে, তারা শূন্য মার্জিনে আমদানি করতে চান। এটা অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিষয় না, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেরাই করতে পারে।

কারণ রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আসবে, সেটার যদি মার্জিন কম রাখেন, তাহলে ভোক্তাদের লাভ হবে। তারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। আশা করি, বাণিজ্য ব্যাংকগুলো সেই ভূমিকা রাখবে। তাদেরও এ বিষয়ে লিখবো।

রমজানে প্রতিবছরেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমদানিমূল্যের ওপর নির্ভর করে পণ্যের দাম। জাহাজে আনতে কত খরচ হয়, বিমায় কত দিতে হয়! সবকিছু মিলিয়ে দাম নির্ধারিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে এখানেও দাম বেশি হবে, কম হলে কম হবে। আজ পর্যালোচনা করে দেখেছি, তেল ও চিনির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল আছে। খুব একটা বেশির দিকে না। এর মধ্যে ডাল, ছোলার দামও স্থিতিশীল আছে। পেঁয়াজের দামও কমে যাবে।

রমজানের প্রথম সাতদিন ভোক্তারা একটু বেশি কেনাকাটা করেন, এ কারণে তখন দাম একটু বেশি হয়ে যায়। আশা করি, ভোক্তারাও এ বিষয়ে সচেতন থাকবেন। রোজার প্রথম কয়েকটা দিন যাওয়ার পর দাম কমে আসে, স্থিতিশীল হয়ে যায়। আগে কিনলে লাভবান হতে পারবেন না। রমজানে যেসব পণ্য বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলো আমদানি করতে যাতে ডলার থাকে, সেটা আমি বলেছি। এলসি খুলতে যাতে কোনোভাবে নিরুৎসাহিত করা না হয়। রমজানে যাতে পণ্যের ঘাটতি না হয়।

আমি চাইবো, গত বছর আমরা ৮টি পণ্যের জন্য বিশেষভাবে এলসি খোলার ব্যবস্থা করতে লিখেছিলাম। এ বছরে ৬টি পণ্যের জন্য লিখেছি। এগুলো নিয়েই মূলত আজ আলোচনা করেছি। কালকেই এ বিষয়ে চিঠি লিখবো।

সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম এখনো কমছে না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম, কৃষিপণ্যের দাম কমে আসবে। সেটার দাম কমে এসেছে। আরও কমে যাবে। পেঁয়াজ ও আলুসহ যেসব পণ্য এসময়ে বাজারে উঠে, সেগুলোর দাম কমে এসেছে, আরও কমবে। পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে। আলুর দাম আরও কমে যাবে।

তিনি বলেন, সমসময়ই নতুন আলুর দাম বেশি থাকে। আর পুরোনো আলু সব খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। ডিমের দাম স্থিতিশীল। ডিমের দাম নিয়ে আমি কোনো সমস্যা দেখছি না। সারাবছর যে পণ্যের দাম একই রকম রাখা যাবে, সেটা না।




বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে যৌথ সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনেতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করতে জয়েন্ট স্টাডি গ্রুপ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের ভাব মর্যাদা তৈরি এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে। যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে পণ্য রপ্তানিকালে শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা ২০২৬ সালের পরে হারানো অন্যতম।

এতে বাংলাদেশের রফতানি পণ্য ওই সব দেশের বাজারে প্রবেশের সময় সাধারণভাবে আরোপিত শুল্কের সম্মুখীন হতে হবে। ফলে ওই সব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সংকোচনের শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও ট্রেড ব্লকের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতের দেশ এবং এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপান থেকে ২০২৯.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ১৯০১.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য জাপানে রপ্তানি করে।

জাপান বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য একটি বাণিজ্য সম্ভাবনাময় এলাকা। পণ্য ছাড়াও সেবা ও বিনিয়োগ খাতেও জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাপান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর দুই দেশ যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার বিষয়ে ঘোষণা প্রদান করে। গত ২৫-২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে উভয়দেশ দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে-কে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জয়েন্ট স্টাডি গ্রুপ প্রতিবেদন দুই দেশের বিভিন্ন খাতের বিদ্যমান অবস্থা পর্যালোচনা করেছে। সরকারি, বেসরকারি, একাডেমিয়া ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্তার মাধ্যমে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে।




টিসিবির জন্য ২৪৬ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ- টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির লক্ষ্যে ২৪৬ কোটি ৫ লাখ টাকার ভোজ্যতেল এবং মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০৪ কোটি টাকার মসুর ডাল এবং ১৪২ কোটি ৫ লাখ টাকার ভোজ্যতেল কেনা হবে।

এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা হয়। সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৪০ লাখ লিটার রাইস ব্রান অয়েল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই তেল কিনতে খরচ হবে ৬৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫৮ টাকা ৫০ পয়াসা। আগের মূল্য ছিলো ১৫৬ টাকা ২৫ পয়সা। মজুমদার প্রডাক্টস লিমিটেড এবং মজুমদার রাইস ব্রান অয়েল লিমিটেড থেকে এই তেল কেনা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবর পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোনদ দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড থেকে এই তেল কিনতে মোট খরচ হবে ৭৮ কোট ৬১ লাখ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫৭ টাকা ২২ পয়সা। আগের মূল্য ছিল ১৫৪ টাকা ২৯ পয়সা।

তেল কেনার এই দুই প্রস্তাবের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। নাবিব নাবাব ফুডস লিমিটেড থেকে এই ডাল কিনতে মোট খরচ হবে ১০৪ কোটি টাকা। প্রতি কেজির দাম পড়বে ১০৪ টাকা। আগের দাম ছিল ১১২ টাকা।

এদিকে, জননিরাপত্তা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আভিযানিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৪টি পারসোনাল আর্মস ক্যারিয়ার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই আর্মস ক্যারিয়ার কিনতে খরচ হবে ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা।




ইউনিক গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪ কোটি টাকার ফি মওকুফ

নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস ও এলএনজি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রযোজ্য ৪ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিবন্ধন ফি মওকুফ করা হয়েছে। এর ফলে ইউনিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড ওই সুবিধা পাবে।

গত ৭ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২২৬ ধারার ২ক উপ-ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বেসরকারি খাতে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস/আর-এলএনজি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ফিনান্সিং ডকুমেন্টস নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আরোপণীয় নিবন্ধন ফি বাবদ মোট ৪ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ২০০ টাকা মওকুফ করা হলো। ডিড অব মর্টগরজ এবং ডিড অব হাইপোথেকেশন এর ক্ষেত্রে ওই নিবন্ধন ফি মওকুফ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ইউনিক গ্রুপ ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১৯ একর জমিতে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। যার খরচ ধরা হয়েছে ৫২০ মিলিয়ন ডলার। বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সই হয়েছিল।




রিহ্যাবে প্রশাসক নিয়োগ দিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (রিহ্যাব) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দিয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে রিহ্যাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুসারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। প্রশাসক যথাসময়ে রিহ্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। তারপর নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন তিনি।

গত মাসে রিহ্যাবের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর এই কমিটির মেয়াদ ৫ মাস বৃদ্ধি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে মামলা করেন রিহ্যাবের এক সদস্য। উচ্চ আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে ১৩ নভেম্বর চেম্বার জজ আদালত নির্দেশ দেন, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আইন অনুযায়ী বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।




সরকার নির্ধারিত আলুর দাম কার্যকরে ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের নির্দেশ

আগামীকাল (বুধবার) থেকে সরকার নির্ধারিত দামে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বিক্রি নিশ্চিত করেতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর বিক্রয়মূল্য ২৬ থেকে ২৭ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মূল্যে কোল্ড স্টোরেজ ও খুচরা কোনো পর্যায়েই আলু বিক্রি করা হচ্ছে না

এ প্রেক্ষাপটে কোল্ড স্টোরেজ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

জানা যায়, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আলু ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, আড়ৎ থেকে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এ দামে বিক্রি করছে। অন্যদিকে আড়ৎদারদের দাবি, তারাও কোল্ড স্টোরেজ থেকে বেশি দামে কিনছে। তাদের কিছু করার নেই। সরকার নির্ধারিত দাম তারা মানছে না।




এবার আলু আমদানি করবে সরকার

এবার আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে আলুর সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম স্থিতিশীল রাখতে আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী আমদানিকারকদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত তিন দিনে আলু কেজিপ্রতি অন্তত ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ার পর সরকার বহুল ব্যবহৃত এই পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিল। প্রায় দেড় মাস আগে সরকার ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও দেশে এখনো ডিম আমদানি হয়নি।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আলু, ডিম ও দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেয়। এর কোনোটির দামই বাজারে কার্যকর হয়নি। প্রায় প্রতি মাসেই বেঁধে দেওয়া হয় ভোজ্যতেল ও চিনির দাম, যদিও এসব পণ্য বাজারে তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়।

সরকার খুচরা বাজারে আলুর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। সেই আলু এখন বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে, প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। গত বৃহস্পতিবারও আলুর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে ছিল। বিক্রেতারা প্রথম আলোকে বলেছেন, আলুর সরবরাহ সংকট রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দাম বাড়তি থাকার কারণে আলুর চাহিদা বেড়েছে। সে কারণেও দাম বেড়েছে বলে মনে করেন অনেক বিক্রেতা।

সরকার গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথমে চার কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয়। পরে পর্যায়ক্রমে মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে ডিম আমদানি হয়নি। ডিমের দামও কমেনি।

আমদানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, শিগগিরই ডিম আসবে, যদিও শেষ পর্যন্ত একটি ডিমও দেশে আসেনি।




দুর্গাপূজায় বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার টন ইলিশ চায় ভারত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে এবারও পাঁচ হাজার টন ইলিশ মাছ আমদানি করতে চায় ভারত। তবে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে গত বছরের চেয়ে বেশি রপ্তানি করার। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টন পাঠানোর অনুমতি পেলেও রপ্তানিকারকরা এক হাজার ৩০০টন পাঠাতে পেরেছিলেন।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের আজকাল পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে, তারা সে অনুযায়ী কাজ করছে কি না-তা কঠোর নজরদারিতে রাখবে সরকার।

এদিকে কলকাতা ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আসন্ন দুর্গাপূজা-২০২৩ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার টন ইলিশ আমদানি করতে চায়। ইতিমধ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত বছর পূজা উপলক্ষে ২ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও মাত্র এক হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছিল। এ বছর তারা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ থেকে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ঢাকার ইলিশ শুধু রপ্তানিযোগ্য সুস্বাদু মাছই নয়, কলকাতার মানুষ এটাকে ঢাকার পাঠানো বহু মূল্যবান উপহার হিসেবে বিবেচনা করে। একই সঙ্গে উন্নত গুণাগুণ সমৃদ্ধ বড় সাইজের ইলিশ চেয়েছে কলকাতা।

বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে এবারও ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে কী পরিমাণ অনুমোদন দেবে সেটি চূড়ান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে দুর্গাপূজার মৌসুমে প্রতি বছর কলকাতায় ইলিশ পাঠিয়ে আসছে ঢাকা।

 




ভারতে ইলিশ রপ্তানি করতে চেয়ে ১০০ প্রতিষ্ঠানের আবেদন

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে।

মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এবারও সে ধারাবাহিকতায় অনুমতি দেয়া হবে। তবে কত প্রতিষ্ঠানকে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এবারও ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হবে। তবে কী পরিমাণ অনুমোদন দেবে সেটি চূড়ান্ত হয়নি। অনেকেই আবেদন করেছেন, সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এর মধ্যে মৌসুমি ব্যবসায়ী বেশি। সেখান থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে বৈঠক করে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

ওই সূত্র আরও জানায়, গতবার যেসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকে নির্ধারিত পরিমাণ মাছ রপ্তানি করতে পারেনি। অনেকে একেবারেই রপ্তানি করতে পারেনি। মাছ রপ্তানির বিষয়টি মূলত কী পরিমাণ মাছ ধরা পড়ল সেটির ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। তাই এবার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দেখে অনুমতি দেয়া হবে।

গত বছর দুর্গাপূজায় ১১৫টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে সময় ইলিশ সংকটের কারণে মাত্র ১ হাজার ১০৮ টন ২৮০ কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়েছিল। ইলিশ রপ্তানির শর্তে বলা হয়েছিল, রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ এর বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে; শুল্ক কর্তৃপক্ষ দ্বারা রপ্তানি করা পণ্যের কায়িক পরীক্ষা করাতে হবে। প্রতিটি কনসাইনমেন্ট শেষে রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র রপ্তানি-২ অধিশাখায় দাখিল করতে হবে; অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ইলিশ পাঠানো যাবে না।




ডিমের দাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঠিক করবে না: টিপু মুনশী

ডিমের দাম কী হওয়া উচিত সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঠিক করবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী। বুধবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত ‘ইউএস- বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার পরে আমি বলেছিলাম প্রয়োজনে সরবরাহ ঠিক রাখতে ডিম আমদানি করা হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি সব সময়।

 

ডিমের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সেদিনও বলেছি, ডিমের কী দাম হওয়া উচিত সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঠিক করবে না। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্তণালয় দাম ঠিক করে দিয়েছে এরকম হওয়া উচিত। আমরা চেষ্টা করছি তারা যে দামটা নির্ধারণ করে দিয়েছে সেটা যেন বাজারে থাকে সে রকম চেষ্টা করছি।

 

সার্বিক মূল্যস্ফীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্লোবাল অবস্থাটা দেখেন, আপনারা যখন দেখেন ইংল্যান্ডের দোকানেও যখন তিনটার বেশি টমেটো কেনা যাবে না সে বিষয়ে রেস্টিক করে দেয়। জার্মানেও দোকানগুলোতে তেলের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়। আমাদের এখানেও নিশ্চয়ই প্রভাব পড়েছে। মুহুর্তের মধ্যে সমাধান হবে এমনতো নয়, তবে আমাদের প্রতিনিয়ত চেষ্টা চলছে। গ্লোবাল এই দুরবস্থার মধ্যেও যেন আমরা ঠিক থাকতে পারি।




পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০% শুল্ক আরোপ করল ভারত

ভারতের পেঁয়াজের ওপর আরোপিত নতুন এই শুল্ক চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে

পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। ভারতের পেঁয়াজের ওপর আরোপিত নতুন এই শুল্ক চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। শনিবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের বার্ষিক খুচরা মূল্যস্ফীতি গত ১৫ মাসের সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে; যা তার আগের মাসের ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে, দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যের প্রায় অর্ধেক ১১ দশমিক ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটিতে খুচরা খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২০২০ সালের জানুয়ারির পর চলতি বছর সর্বোচ্চ ছুঁয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ রুপি হতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দেশের বাজারে সরবরাহ বৃৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।’

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ভারতে টমেটো, পেঁয়াজ, মটরশুটি, বেগুন, রসুন ও আদাসহ রান্নাঘরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কিছু সবজির দাম গত কয়েক মাসে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশটির ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘসময় ধরে অত্যধিক গরম থাকায় পেঁয়াজের মান নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর ভারত সবচেয়ে শুষ্কতম আগস্টের মুখোমুখি হয়েছে। এল নিনোর ধাঁচের আবহাওয়ার কারণে ভারতে অল্প বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দেশটির শুক্রবার আবহাওয়া বিভাগের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।




ভোজ্যতেল কিনতে গাইড লাইন করছে সরকার

ভোজ্যতেল কিনতে একটি গাইড লাইন করছে সরকার। সেকারণে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ‘ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যে গাইড লাইন প্রস্তুতকরণ সংক্রান্ত কমিটি’ গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

কমিটি ভোজ্যতেল কিনতে ট্যারিফ কমিশনের নির্ধারিত দামে আন্তর্জাতিক বা দেশীয় অভ্যন্তরীণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদন করা যায় কি না তা পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতি বছরের চাহিদা অনুযায়ী ভোজ্যতেল কিনতে একটি গাইড লাইন প্রণয়ন করবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

কমিটিতে সদম্য হিসেবে রয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য), ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক/পরিচালক এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব/যুগ্মসচিব।

কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে। কমিটি প্রয়োজন অনুসারে সভা আহ্বান করবে ও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।




ঈদের আগে আরেক দফা কমতে পারে ভোজ্যতেলের দাম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ঈদের আগে আরেক দফা তেলের দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় দেশের বাজারে সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম কমানো হয়েছে লিটারে ১০ টাকা, আর পাম তেলের দাম কমানো হয়েছে ২ টাকা করে।

এখন থেকে বোতলের সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হবে ১৮৯ টাকায়, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬৭ টাকায়। আর পাম তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম এখনও নিম্নমুখী জানিয়ে সচিব আরও বলেন, আমরা আশা করছি ঈদের আগে আরেক দফায় দাম কমাতে পারব।

নতুন এই দামের সুফল ভোক্তারা কবে থেকে পাবে–এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভোক্তারা এই দামে ভোজ্যতেল পাবেন।

তবে বৈঠকে উপস্থিত সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, নতুন দামের তেল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে পাঁচ দিন সময় লেগে যাবে।

এর আগে গত ৪ মে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানো হয়। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা এবং বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয় সে সময়। আর এছাড়া খোলা পাম তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৩৫ টাকা।




তেলের দাম কেজিতে কমলো ১০ টাকা

প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের দাম ১০ টাকা কমে ১৮৯ টাকা, খোলা তেল ৯ টাকা কমিয়ে ১৬৭ টাকা এবং পাম তেলের দাম ২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা করা হয়েছে।

রোববার (১১ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রতি লিটার প্যাকেটজাত সয়াবিন তেলের দাম কমে ১৮৯ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল কমে ১৬৭ টাকা, পামঅয়েল ১৩৩ টাকা এবং পামঅয়েল সুপার হচ্ছে ১৬৫ টাকা।

এই দাম আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে বলেও জানান সিনিয়র সচিব।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতির দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা হয়ত আরও ১৫ দিন পর বসে চেষ্টা করব তেলের দাম আরও কমানো যায় কি না।




বাংলাদেশে আরও উন্নত বিনিয়োগের পরিবেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ব্রেনডেন লিঞ্চের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের বিনিয়োগের পরিবেশটা আরও উন্নত করা বিষয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমেরিকা আরও উন্নত পরিবেশ চায় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

রবিবার (২১ মে) বিকালে বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠককালে ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ব্রেনডেন লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিব এসব তথ্য জানান।

এ সময় কৃষি, শ্রম ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তপন কান্তি ঘোষ বলেন, গত ৬ ও ৭ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে যে টিকফা বৈঠক হয়েছিল, সে বিষয়গুলোর ফলোআপ আলোচনা হয়েছে। এখন থেকে ইউএস কটনের ফিউমিগেশন লাগবে না। এটা সেটেল হয়ে গেছে, সে জন্য তারা আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি আমরা বলেছি, এর ফলে তোমাদের কটন এক্সপোর্ট বাংলাদেশে বাড়বে। সুতরাং আমরা আগেও প্রস্তাব দিয়েছি ওই কটন থেকে প্রসেস করে আমরা রেডিমেড গার্মেন্টস আমেরিকায় এক্সপোর্ট করবো, সেই পণ্যের ওপর যেন ডিউটি ফ্রি সুবিধা দেওয়া হয়। তারা বলেছেন, এটা তারা দেখবেন, তবে এটা তাদের কংগ্রেসেই সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে কোনও একটি পার্টিকুলার কান্ট্রিকে সাধারণত তারা এ সুবিধা দিতে চান না। তবে তারা বিষয়টি নোট নিয়েছেন।

সচিব আরও জানান, এ ছাড়া আইপিআর (ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি রাইটস) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু কিছু আইপিআর ভায়োলেশন করে কিছু প্রোডাক্ট এক্সপোর্ট হয়েছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন। আমরা জোরালোভাবে বলেছি, বাংলাদেশ থেকে কোনও কাউন্টারট্রেড প্রোডাক্ট এক্সপোর্ট হয় না। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকায় সেটি হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সেখানে আমাদের যারা ইম্পোর্টার, তাদের একটি প্রসেস আছে। সেখানে কোয়ালিটি ইন্সপেকশন হয়, প্রতিটি ধাপে ইন্সপেকশন হয় এবং স্যোসাল অডিটও হয়। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক অডিটও হয়। দেখা যায় একজন সাপ্লায়ার দুই-তিনটা ইম্পোর্টারকে সাপ্লাই দিলে তিন রকম কোয়ালিটি ইন্সপেকশন হয়।

এখানে কাউন্টারট্রেড প্রোডাক্টের সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে অন্য কোনও দেশ তাদের ওয়েবসাইটে যদি আমাদের কোনও প্রোডাক্ট দেখায় যে ইটস ফ্রম বাংলাদেশ এবং কেউ যদি বলে এটা কাউন্টারট্রেড, সেই দায়িত্ব তো আমরা নিতে পারি না। তারপরও যদি কোনও অভিযোগ আসে, সেটি আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো।’ যোগ করেন সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটি হলো আমাদের বিনিয়োগের পরিবেশটা আরও উন্নত করা বিষয়ে। আমরা বলেছি, এটি একটি কন্টিনিউয়াস প্রসেস, আমরা চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবছর যে লাইসেন্স নবায়ন করতে হতো, এগুলো আমরা সহজীকরণ করেছি, পাঁচ বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যায়। আমরা ব্যবসার পরিবেশ এবং প্রক্রিয়া সহজীকরণে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারা বলছে, এটি হলে তাদের বিনিয়োগটা বাড়বে।




বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-বিজিএমইএর সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) দক্ষ ফ্যাশন পেশাজীবী এবং ডিজাইনারদের একটি পুল তৈরি করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

এই পেশাজীবী ও ডিজাইনাররা দেশীয় কাপড় এবং উপকরণ ব্যবহার করে উচ্চ মূল্যের ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরিতে কাজ করবে।

প্রশিক্ষণ উদ্যোগটি ইআইএফ এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (টায়ার-২) অধীনে হাই অ্যান্ড ফ্যাশন প্রজেক্ট (আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে সংযুক্তকরণ) এর একটি অংশ।

সমঝোতা অনুযায়ী ডিজাইনার, প্যাটার্ন মার্কার, মার্চেন্ডাইজার, দেশীয় টেক্সটাইল সামগ্রী ব্যবহারকারী তাঁতি এবং ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশি টেক্সটাইল পেশাজীবীদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পোশাকে সংযুক্ত করে উচ্চমানের ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি ও ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, প্রশিক্ষণটি বিজিএমইএর সেন্টার অব ইনোভেশন, এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথের (সিআইইও এসএইচ) অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে মোট ১৬০ জন পেশাজীবী বৈশ্বিক হাই-এন্ড ফ্যাশন স্পেস, কালেকশন ডেভলপমেন্ট, সাসটেইনেবিলিটি ইস্যু প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে সুযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ লাভ করবেন।

প্রশিক্ষণ সেশনগুলো পরিচালনা করবেন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার, শিকাগো-ভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড নেভালের প্রতিষ্ঠাতা আনাদিল জনসন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও শাখার রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈচিত্র্যকরণ প্রকল্পের (টায়ার-২) উপ-সচিব এবং প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এবং বিজিএমইএর পরিচালক নীলা হোসনা আরা সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

মঙ্গলবার (১৬ মে) ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে ডেভিড অস্টিন আঞ্চলিক পোর্টফোলিও ম্যানেজার, ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস এবং রাফায়েল নিকোল ড্যানিয়েল কুইন্টাৰ্ড, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট অফিসার, ইআইএফ এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারিয়েট ডব্লিউটিও উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল বাংলাদেশি ঐতিহ্যকে উন্নতমানের ফ্যাশন পণ্যে রূপান্তরিত করতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এই পণ্যগুলোর জন্য একটি বাজার তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের সমৃদ্ধময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফ্যাশনের সঙ্গে যুক্ত করে পোশাক রপ্তানির সুযোগ অন্বেষণ করাও এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

এটি জামদানি, খাদি, সিল্ক ও মণিপুরির মতো ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল এবং ফেব্রিক থেকে তৈরি ফ্যাশনেবল পোশাকের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও বস্ত্রশিল্পের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

প্রকল্পটি স্থানীয় তাঁতিদের সক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করবে, যাতে করে তারা দেশীয় কারুশিল্প ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উচ্চ-মূল্যের পোশাক ডিজাইন করতে পারে।

এইভাবে এটি দেশীয় শিল্পকে বাঁচানোর পাশাপাশি বাংলাদেশী তাঁতিদের জন্য কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মুক্ত করবে।

এছাড়া এটি পোশাক খাতে পণ্য বৈচিত্র্য আনা, উচ্চতর মূল্য সংযোজন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করার রূপকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করবে বলে মনে করে বিজিএমইএ।




রপ্তানি ট্রফি বিতরণ আজ

জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৯-২০ বিতরণ করা হবে রোববার (১৬ এপ্রিল)। এ উপলক্ষ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইপিবি) ওইদিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইপিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেল জিনস লিমিটেড এবার সেরা রপ্তানিকারক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি পাচ্ছে। রপ্তানিতে অবদান রাখায় ইউনিভার্সেল জিনসসহ ৭০টি কোম্পানি বিভিন্ন শ্রেণিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের নাম গতবছরের ২৯ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রকাশ করে। এখন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে রোববার ট্রফি তুলে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, করোনা অতিমারির কারণে বৈশ্বিক পর্যায়ে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় কিছুটা কমে যায়। ওই বছর রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।




চিনির দাম কমেছে

পরিশোধিত চিনির দাম সমন্বয় করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খোলা চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে ১০৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির দামও প্রতি কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে ১০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দাম আগামী শনিবার (৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে।

এতে জানানো হয়, ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্স-এর ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৭ মার্চের আবেদন পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পরিশোধিত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য সমন্বয় করা হলো।’

গত ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরএ) প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ১০৭ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম প্রতি কেজি ১১২ টাকা নির্ধারণ করে।




‘মুরগির দাম না কমালে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে’

যৌক্তিক দামের চেয়ে বেশি দামে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করলে এবং তা অব্যাহত থাকলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সীমান্ত খুলে দিয়ে মুরগি আমদানির সুপারিশ করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বিকালে কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে পোলট্রি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান।

এ সময় পাইকারি, খুচরা ব্যবসায়ীরা এবং উৎপাদনকারীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কাজী ফার্মস, আফতাব বহুমুখী ফার্মস, প্যারাগন পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড এবং সিপি বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রমজান মাসে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন উৎপাদনকারীরা।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়ে শফিকুজ্জামান বলেন, ‘অন্তত রমজান মাসে আপনারা একটি অবস্থায় আসেন। আপনারা একটু কম লাভ করেন। আজ উৎপাদনকারীরা দাম নিয়ে একটা ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর আমরা পাইকারি ও খুচরা বাজার ঠিক করবো। যদি কোনও সমাধান না আসে, আমরা আমদানির জন্য সুপারিশ করবো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা এত দিন হস্তক্ষেপ করিনি। জাতির কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত যে এই মুরগি বাবদ অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি নিচ্ছে ঢাকার বাজারে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। আমরা চাই পোলট্রি শিল্প আরও বিকশিত হোক, সরকার বারবার হস্তক্ষেপ করলে এই শিল্প খারাপের দিকে যেতে পারে। আপনারা ইন্ডাস্ট্রি চালান আমরা সাপোর্ট দেবো। কিন্তু অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে আমরা সহায়তা করতে পারবো না।’


মহাপরিচালক বলেন, ‘৯ মার্চের বৈঠকের পর দেখা গেল বাজারের ব্রয়লার মুরগির দাম আবার বেড়ে গেল। গতকাল (বুধবার) বাজারে দেখলাম কোথাও ২৭০ আবার কোথাও ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফিড আমদানি ও খরচসহ সব তথ্য যাচাই করে আমি বলেছি ২০০ টাকার বেশি দাম হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিউমার্কেটের যে বিক্রেতা ২৭০ টাকায় বিক্রি করছেন, তিনি কাপ্তান বাজার থেকে কিনছেন ২৪৯ টাকা দরে। আমরা কাপ্তান বাজারে গিয়ে ওই বিক্রেতাকে ধরলাম এবং ভোরে সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা গিয়ে দেখল যে কত টাকায় মুরগি সেখানে আসে। সারা দেশ থেকে তথ্য নিয়ে জানলাম যে খামার থেকে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২২০-২৩০ টাকায় কিনছে। সেটি হাতবদল হয়ে খুচরা পর্যায়ে এসে কোথাও ২৬০ আবার কোথাও ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

এসএমএসের মাধ্যমে মুরগি নিলাম হয় জানিয়ে ভোক্তা অধিদফতরের প্রধান বলেন, ‘ঢাকার বাইরের সঙ্গে ঢাকার বাজারের মূল্য ৩০ টাকা ব্যবধান। মুরগি নিয়ে যা চলছে, প্রত্যেক ভোক্তা হয়রানি হচ্ছেন। টাস্কফোর্সের বৈঠকে আমি বলেছিলাম এ বিষয়ে, সেখানে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাও ছিলেন। তারাও বলছেন মুরগির উৎপাদন খরচ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। ৯ মার্চের বৈঠকের পর ফিডের দাম আরও বেড়ে গেছে। বৈঠকে উৎপাদনকারীরা বলেছেন যে ফিডের দাম বাড়ার কারণে এই বৃদ্ধি হয়েছে। আজকের বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন। তাদের কাছে সব তথ্য আছে, কীভাবে এসএমএসের মাধ্যমে মুরগি নিলাম হচ্ছে।’

কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান বলেন, ‘আমরা পোলট্রি ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের ফার্ম থেকে সরাসরি মুরগি বিক্রি করবো। ফার্ম থেকে মুরগি যাওয়ার পর কয়েক হাতবদল হয়, দাম বেড়ে যায়। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে উৎপাদন বাড়াবো, তাতে দাম একটু কমবে বাজারে। এই রমজান মাসে আমরা ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করবো।’




বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি করলো ভুটান

পার্শ্ববর্তী দেশ ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। রাজধানী থিম্পুতে এ চুক্তি সই হয়েছে। বুধবার (২২ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এই চুক্তির ফলে উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজতর হবে। সর্বশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির বিষয়টি কেবিনেট বৈঠকে চূড়ান্ত হয়। এছাড়া, ভুটানের আমাদের কাছে নদীপথের বিষয়ে দুটি প্রস্তাব ছিল সেটিও আমরা ওকে করে দিয়েছি। ভুটানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। ভুটান ছোট দেশ হলেও আমাদের নিয়ে তারা সবসময়ই পজিটিভ।

দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও জোরদারের তাগিদ দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) এবং ভারত চেম্বার অব কমার্স (বিসিসি)।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বিসিসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোকপাত করেন দুই প্রতিষ্ঠানের নেতারা।

বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উত্তর আমেরিকা এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোসহ অন্যান্য জোটগুলো আঞ্চলিক বাণিজ্য শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। সেখানে সার্কভুক্ত দেশগুলো এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জিটুজি (গভার্নমেন্ট টু গভার্নমেন্ট) সম্পর্ক অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। আমাদের এখন বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ এবং বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে ভারতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিকায়ন এবং যান্ত্রিকীকরণে জোর দিয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম একটি কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশের বাজার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ভারতের কৃষি যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারীরা এদেশে কারখানা স্থাপন করতে পারেন।

এসময় বাংলাদেশের প্রশংসা করে ভারত চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এন জি খইতান বলেন, ভারত বাংলাদেশ সবসময়ে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, গত দশ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো, ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা সবসময়েই বাংলাদেশের এ উন্নয়নের সহযোগী হতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতির মূলশক্তি হলো গ্রামীণ অর্থনীতি। প্রতিবেশী দেশ দুটির ভোক্তাবাজার, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতিতে যখন এতো মিল রয়েছে, তখন আমাদের উচিত নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

বৈঠকে এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী, এফবিসিসিআই পরিচালক এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, ভারত চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিশিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজকুমার আগারওয়ালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাতের পর ভারত চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিটুবি মিটিংয়ের আয়োজন করে এফবিসিসিআই। যেখানে অংশ নেন উভয় দেশের বস্ত্র, ওষুধ, চামড়া, পাট, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং, ফার্মাসিউটিক্যাল, লেদার, সিমেন্ট, ইস্পাত, সিরামিক, কয়লা, জ্বালানি, কাগজ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রেল যন্ত্রাংশ শিল্পের ব্যবসায়ীরা।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সহজ করতে ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী। বিটুবি মিটিংয়ের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদী এফবিসিসিআই এবং বিসিসি।