ঈদে মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখেছি : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাজার পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব দিতে চান না বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখে মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখেছি।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদের ছুটিতে ৫ দিন আমি গ্রামে ছিলাম, মাঠে ঘাটে ঘুরেছি৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। সবার মধ্যে একটা স্বস্তি দেখতে পেয়েছি। সবাই উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন। এছাড়া এবারের নববর্ষ শুধু ঢাকা শহরে নয়, গ্রামেও উদযাপন হয়েছে, মেলা হয়েছে, সেখানে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখেছি৷

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ঈদ ও পহেলা বৈশাখের আনন্দ সাধারণ মানুষের চোখের জলে ভেসে গেছে—বিরোধী রাজনৈতিক দলের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, রাজনৈতিকভাবে কেউ কিছু বলে থাকলে সেখানে উত্তর না দেওয়াই ভালো। এর উত্তর জনগণই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি সবার মধ্যেই স্বস্তি দেখেছি। এটা আমার অভিজ্ঞতা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু রমজান না, সারা বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিত্যপণ্য সরবরাহের জন্য কাজ করে যাবো। আমদানি-রপ্তানি বাজিণ্যসহ লোকাল সাপ্লাই চেইনগুলো শক্তিশালী করবো। রমজানটা ব্যাপক চ্যালেঞ্জ ছিলো, কারণ সব কিছুর চাহিদা তিনগুণ বেড়ে যায়। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো। ভারত থেকে পেঁয়াজ এনেছি। সেই সঙ্গে আমাদের তেল চিনিসহ আমাদের নিত্য পর্যাপ্ত ছিল। চ্যালেঞ্জগুলো পার হয়ে এসেছি।

চালের বস্তায় দাম লিখে দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় এর সঠিক উত্তর দিতে পারবে। সেই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় আরও ভালো উত্তর দিতে পারবে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের কোনো কিছু থাকলে আমরা সমন্বয় করবো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো বাজার ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা।

গ্রামে বেগুন ৫ টাকা শহরে এসে ৭০ টাকা হয় কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সংশ্লিষ্ট প্রশ্নটি কৃষি বিপনন অধিদপ্তর ভালো উত্তর দিতে পারবে। আমরা কাজ করতে পারি বাজার ব্যবস্থাপনার অংশটুকু নিয়ে। তেল, চিনিসহ আমদানি বাজারে যেসব জিনিস রয়েছে সেগুলোতেই আমাদের নজরদারি থাকবে।




পণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে চলে আসবে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে চলে আসবে। এর জন্য সমন্বিতভাবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবাই মিলে সমন্বয় করবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রোববার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টায় রাজধানীর টিসিবি ভবনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর পণ্যের একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ অধিদপ্তরের নিজস্ব জেলা, উপজেলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি আছে। আমরা যেহেতু বাজার মনিটরিং করি আমরা সমন্বয় করে মনিটরিং শুরু করব। প্রাইস ডিসকভারিটা হুট করে হয় না। আমাদের দায়িত্ব হবে উৎপাদকপর্যায়ে থেকে পাইকারি এবং পরে খুচরাপর্যায় পর্যন্ত বাজার মনিটরিং করা।

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতার কোনো অভাব নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস আপনি যখন যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করবেন, সঙ্গে সঙ্গে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। আগে এটা নির্ধারণ করা জরুরি ছিল। অনেকদিন ধরে আইনটা ছিল কিন্তু করা হয়নি। আমরা এখন সমন্বিতভাবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিদপ্তর , ইউএনও, ডিসি সবাই মিলে সমন্বয় করব। আশা করি এটা একটা যৌক্তিক পর্যায়ে চলে আসবে।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, আমরা যেখানে যাচ্ছি বাজার কমিটিকে নিয়ে বসছি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছি, তাদেরকে এনকারেজ করতেছি। তাদের সমস্যার সমাধান করে এটা (সঠিক দামে পণ্য বিক্রি) আমরা বাস্তবায়ন করতেছি। আমরা কোনো জায়গায় কোনো দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি না বা তালাবদ্ধ করে দিচ্ছি না। যারা একেবারেই আইন মানছেন না। যেমন, পাইকারি থেকে খুচরাপর্যায়ে যখন বিক্রি করতে হবে তখন আপনাকে রিসিটটা রাখতে হবে। আপনি যখন পাইকারি চালান করবেন তখন আপনাকে রিসিট দিতে হবে। এই জিনিসগুলোকে বলে একেবারে মিনিমাম কমপ্লায়েন্স। এই জিনিসগুলো না করলে আমরা শাস্তির আওতায় আনছি।

এর আগে টিসিবি ভবনের অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




কাঁচা বাজারের চেয়ে সুপার শপে পণ্যের দাম কম: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ফিক্সড প্রাইজ শপগুলোতে পণ্যের দাম কাঁচা বাজারের দোকানগুলোর তুলনায় অনেকটা কম।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের কাজ উপজেলা পর্যায়ে চলে গেছে। আমাদের নিয়ন্ত্রণে যে উদ্যোগগুলো সেগুলো নিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর কাজ করছে। আমার নিজের কাছেও অবাক লেগেছে যারা মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত তাদের জন্য সুপার মার্কেট। কিন্তু সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন আমাকে একটি চিঠি দিয়েছে রোজার মধ্যে কোন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কতো কমে বিক্রি করবে- এটা উদাহরণ হতে পারে।

তিনি বলেন, আপনাদের বলব, পণ্যের দাম হাইলাইট করতে যেখানে পণ্যের দাম ফিক্সড করে দেওয়া আছে। মানুষের মুখের দামটা না নিয়ে, যেটা ট্যাগে লাগানো আছে সুপার মার্কেটে যেগুলো থাকে, সেটি হাইলাইট করলে মানুষ জানবে- সুপার মার্কেটে তো এই দাম, তাহলে কাঁচা বাজারে গিয়ে কেন এটা কিনব? সুপার মার্কেটে যদি ২৯ টাকায় আলু থাকে, তাহলে কেন আমি ৩৫ টাকায় দামাদামি করব। অনেকে মনে করে, দামাদামি করলে হয়ত দুই টাকা সাশ্রয় হবে, সে জন্যই মানুষ কাঁচা বাজারে যায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোজার পণ্য সুপারশপগুলোতে ফিক্সড প্রাইজ। সব সুপারশপ না, ফিক্সড প্রাইজ শপগুলোতে তুলনামূলকভাবে কাঁচা বাজারের চেয়ে কম। ঢাকার প্রত্যেকটা হোলসেল মার্কেট আমাদের নজরদারিতে। পাইকারি বিক্রেতাদের একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। আমরা সাপ্লাই চেইন মনিটরিংয়ে একটি সফটওয়্যার ডেভলপ করার চেষ্টা করছি। এটা আমরা আগামীকাল উদ্বোধন করব। এতে মনিটরিং করা যাবে, কোথা থেকে কীভাবে পণ্য যাচ্ছে। কৃষক বেগুনের দাম পাচ্ছে ১০ টাকা, সেটি ঢাকায় এসে কতো টাকায় বিক্রি হচ্ছে? বিপণন একটি আইনের আওতায় আছে, সেটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে আমরা শক্তিশালী করব।

এ সময় তিনি ‘চালের বাজারে অস্থিরতা নেই, যেহেতু কোনো নিউজ নেই’ বলে মন্তব্য করেন।

সুপারশপ থেকে মানুষকে পণ্য কেনার উৎসাহ দিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি মানুষকে ফিক্সড প্রাইজে যেখানে পণ্য পাওয়া যায় সেখান থেকে কিনতে বলছি। কিন্তু একটি ব্যক্তির মুখের কোডকে প্রচার না করার জন্য বলছি। আমি কাউকে প্রমোট করছি না। আমি ভোক্তাতের যেন সহজ হয়, কম দামে যেখানে জিনিস পাওয়া যায় সেটাই রেফার করার চেষ্টা করছি।




নিত্যপণ্যের দামে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছি: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাজারে নিত্যপণ্যের দামের মধ্যে একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, ‘আমরা একেবারে কাঁচাবাজারে যাচ্ছি। ভোক্তা এবং রিপোর্টারদের সঙ্গে কথা বলছি। মিলের মালিকদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। খুচরা বাজারেও যাচ্ছি।’

সোমবার সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা কোথায়, সবাই কিন্তু যেখানে যাচ্ছি। সেটাই খোঁজার চেষ্টা করছি। মিল মালিক, হোলসেল সবার কিছু চাওয়া পাওয়া আছে। যখনই তাদের কাছে যাচ্ছি, তারা চাওয়া-পাওয়ার কথা বলছেন।’

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ, ‘বাজার থেকে কেউ রশীদ ছাড়া পণ্য কিনবেন না। আমরা কারওয়ান বাজারসহ সকল পাইকারি মার্কেটকে বলব, আপনারা রশীদ ছাড়া কোনো মালামাল বিক্রি করবেন না। তাহলে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন যে সরবরাহ সেখানে সমস্যা হয়।’ তিনি জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি আমাদের এই জিনিসগুলো বাস্তবায়ন করতে। এরপর আমরা কঠোর হতে একটুও পিছপা হবো না।’

রমজানকে কেন্দ্র করে যেসব পণ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে সেসব পণ্যের সাপ্লাই চেন কোথায় থেকে আসে সেগুলো বেশি তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কোন জায়গা থেকে পণ্যটি রাজধানীর বাজারে আসে, কার মাধ্যমে আসে, সেই বিষয়গুলো শান্তিনগর বাজার পরিদর্শন করে তদারকি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রমজানকেন্দ্রিক যে পণ্যের চাহিদা থাকে সেই চাহিদাটির আসলে ঘাটতি কোথায় তা খুঁজতে সরেজমিনে গিয়েছি।’

রশীদ ছাড়া পণ্য ক্রয়-বিক্রয় না করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোন পণ্যের দাম কত হওয়া উচিত তা নিশ্চিত করতে হবে। তেলের শুল্ক কমানো হলেও বাজারে তা বাস্তবায়নে ঘাটতি আছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব মিল ১৬৩ টাকায় সয়াবিন তেল বাজারে দেয়নি তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আহসানুল ইসলাম টিটু সাফ জানিয়ে দেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদেরও লাইসেন্স দেওয়া হবে। বিকল্প ব্যবস্থা করে মৌসুমী বা এক রাতের ব্যবসায়ীদের আর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।’




অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন যুগোপযোগী করা হবে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অস্বাভাবিক পণ্যমূল্য ও মজুত প্রতিরোধে ১৯৫৬ সালে করা অ্যাসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনকে যুগোপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

 

সোমবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের অধিবেশন শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

 

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকরা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন, মন্ত্রণালয় থেকে মূলত সে প্রস্তাবনা ছিল। এ বিষয়ে তারা (জেলা প্রশাসকরা) জানিয়েছেন ১৯৫৬ সালের অ্যাসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন অনেক পুরনো। সেই আইনে যেসব পণ্যের উল্লেখ রয়েছে সে তালিকাও যথার্থ নয়। আইনটি আপডেট করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

 

আহসানুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। অচিরেই আমরা বিভাগীয় কমিশনারদের নিয়ে একটি মিটিং করে এ আইনকে কীভাবে যুগোপযোগী করা যায় সেটি করবো। পণ্যের তালিকা কীভাবে বড় করা যায়, সেটা করবো।

 

তিনি বলেন, টিসিবির পণ্য বিতরণ যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। টিসিবির কার্ডধারীদের তালিকা করোনার সময় করা, সেটি আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছি। দুই মাসের মধ্যে এ তালিকা সংযোজন ও বিয়োজন করে যেন নতুন তালিকা দেওয়া হয়, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজানের আগেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে। তারা (ভারত) কীভাবে কখন পণ্য দেবে সেটা আজ আমরা পরিষ্কার জানতে পারবো। তবে পণ্য রোজার আগেই আসছে।

 

পেঁয়াজের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের মূল্য কৃষক পেলে তারা উৎপাদন বাড়াবে। এখন হাটে-ঘাটে কৃষকরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দাম পাচ্ছে। যা গত বছর অর্ধেক ছিল। ভালো দাম পাওয়ায় আগামী বছর কৃষকরা পেঁয়াজ উৎপাদনে আরও আগ্রহী হবে। অন্য পণ্যগুলোর দামও কিছুটা বেশি, সে কারণেও পেঁয়াজের বাজার কিছুটা চড়া।




নতুন রপ্তানিবাজার খোঁজার নির্দেশ বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সব কমার্শিয়াল কাউন্সিলরকে কর্মরত দেশের একটি করে স্টল নিশ্চিত করতে এখন থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুধু রপ্তানি নয়, বাংলাদেশ যেসব পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তার উৎপাদন ও মূল্য মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোরও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ২৩ দেশে কর্মরত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরকে এসব নির্দেশনা দেন আহসানুল ইসলাম টিটু।

এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হয়, সেসব দেশে বিকল্প কী পণ্য রপ্তানি করে আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি কোনো বাণিজ্যবাধা (ট্যারিফ-নন ট্যারিফ) থাকে, তাও দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, সব কমার্শিয়াল কাউন্সিলকে কর্মস্থল দেশের প্রথম দশটি আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের দামসহ মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠাতে হবে। কোন দেশে কী পণ্যের চাহিদা আছে, তা খুঁজে বের করে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিটি দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক, ব্যবসায়িক অ্যাসোসিয়েশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে আহসানুল ইসলাম টিটু তাদের সঙ্গে নিয়মিত সভা-সেমিনার করে বাংলাদেশি পণ্যেও ব্র্যান্ডিং করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন, তা বাস্তবে রূপ দিতে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।

কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের আরো উদ্ভাবনী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তারা যেসব দেশে কর্মরত আছেন, সেসব দেশের ভাষা আয়ত্ব করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, যেসব দেশ আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক জোটে আছে, তাদের বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে হবে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং টার্গেট অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। আমাদের দেশে অ্যাগ্রোফুড, সি ফুড, প্লাস্টিক, সিরামিক, বাইসাইকেল, ফার্নিচার এবং চাসহ অনেক রপ্তানিযোগ্য পণ্য আছে। এগুলো রপ্তানির নতুন বাজার ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির জন্য বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। এককভাবে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনলাইন সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ এইস এম আহসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।




পেঁয়াজ-চিনি নিয়ে ‘বড় সুসংবাদ’ দিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

পেঁয়াজ ও চিনি নিয়ে ‘বড় সুসংবাদ’ দিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেছেন, “ভারত থেকে ২০ হাজার টন পেঁয়াজ এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হবে।”

ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশ থেকেও তেল-চিনি আসছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার বেলা ১১টায় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। চিনি, তেল ও খেজুরের শুল্ক বেশি ছিল। সেই শুল্ক আমরা যাতে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, সে বিষয়ে এনবিআরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে একটা ঘোষণা আসবে।’

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘দেশের জন্য বড় একটা সুসংবাদ আছে।’

তিনি জানান ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছিলেন। ফোনে বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ ও চিনি রপ্তানি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘ভারত থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হবে। এছাড়াও ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশ থেকে তেল চিনি আসছে।’

মতবিনিময়কালে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে ডিএসই এমডির অভিনন্দন

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান। এ সময় নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীকে ডিএসইর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর বাসভবনে গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) ডিএসই’র পক্ষ থেকে এ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাতকালে ড. এটিএম তারিকুজ্জামান বলেন, সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই নিয়োগ আপনার প্রতি সরকারের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আমরা নিশ্চিত যে, পুঁজিবাজারের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা, চিকিৎসা, বস্ত্র, শিক্ষা এবং ওষুধ খাতের অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার দক্ষ নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা এবং দিক-নির্দেশনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামীতে আরও বেশি সুনাম ও সাফল্য অর্জন করবে। আপনার করপোরেট জগতের বহুমুখী পেশাদারিত্ব অভিজ্ঞতায় বর্তমান পুঁজিবাজারের সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন তথা সার্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা খাইরুল বাসার আবু তাহের মোহাম্মদ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম, জেনারেল ম্যানেজার মো. ছামিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শফিকুর রহমান এবং সহকারী মহাব্যবস্থাপক অলক কুমার বসু।

উল্লেখ্য, আহসানুল ইসলাম টিটু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে ২০১৩ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ বা ডিমিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন হয়। তিনি ১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হন। পুঁজিবাজার বিষয়ে তার রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা।

এর আগে, ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহসানুল ইসলাম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনয়নে ১৯৯৮ সালে গঠিত ডিএসই অটোমেশন প্রক্রিয়া কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ ছাড়া, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে তিনি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।