সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের মৃত্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর শোক

বিশিষ্ট শিল্পপতি সিটি গ্রুপ ও সময় টিভির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এক শোক বার্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় টিপু মুনশি আরও বলেন, ফজলুর রহমান একজন সফল উদ্যোক্তা ছিলেন।বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনীতির বিকাশ এবং একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে তার অবদান সবাই স্মরণ রাখবে। একটি শিল্প সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সিটি গ্রুপ চেয়ারম্যান সারাজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ফজলুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের বিশুদ্ধতা ও গুণগত সেরা মান ধরে রাখার বিষয়ে তিনি ছিলেন আপসহীন। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্য সুনামের সঙ্গে টিকে থাকবে এটাই ছিল ফজলুর রহমানের প্রত্যাশা। শুধু ব্যবসা নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েও সচেতন ছিলেন। তিনি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার কর্মনিষ্ঠা, একাগ্রতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ফজলুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।

সোমবার বাদ আসর গেন্ডারিয়া ধূপখোলা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।




নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার পাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ :বাণিজ্যমন্ত্রী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ উদ্যোগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক ছায়া সংসদের গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে হয়তো শতভাগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আমাদের সফলতা আছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে টিসিবিসহ নানান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার জন্য সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

করোনা পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের কষ্ট হচ্ছে এটি সত্যি। দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের যৌথ ভূমিকা মুখ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

দেশে মাংস আমদানি করা হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ বিবেচনায় মাংস আমদানির পরিকল্পনা সরকারের নেই। মাংস আমদানি করলে দেশের মানুষকে ৪০০-৪৫০ টাকায় খাওয়ানো সম্ভব। কিন্তু আমরা সবসময় দেশের খামারিদের কথা ভেবেছি যে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক।

তিনি বলেন, কোরবানির অর্ধেক গরু ভারত থেকে আমদানি করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে একটি গরুও আমদানি করতে হয় না, বরং উদ্বৃত্ত থাকে। এ খাতে অনেক নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। অনেকে চাকরি না করে গরুর খামার দিচ্ছে। দেশের খামারিদের কথা বিবেচনায় আপাতত আমরা মাংস আমদানি করতে চাই না।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে টিপু মুনশি বলেন, ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসায় যখন আমদানির অনুমতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তখন ডিমের দাম কমে গেলো। মাত্র ৬২ হাজার ডিম আমদানির পর প্রতি ডজনে আরও ২০-৩০ টাকা কমে গেলো। আলুর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এর মানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুত আছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে বাজারজাত করছে না।

দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা, তারচেয়ে প্রায় ৭-৮ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতি থাকে। যেটা আমরা ভারত থেকে আমদানি করে থাকি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির পারমিশন দেওয়ার জন্য বলা হলেও কৃষকের কথা ভেবে অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে যখন আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো তখন ভারত আমদানির উপর ৪০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করলো। এর কিছুদিন পরই আবার প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজ রপ্তানি আটশো ডলার করে। যে কারণে সরকার নির্ধারিত দাম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

চিনির আমদানি শুল্ক কমানোর পরও দাম না কমা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ডলারের মূল্য আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেসব পণ্য আমদানি করতে হয় সেগুলো আন্তর্জাতিক বাজার বা ডলারের মূল্যের ওপর নির্ভর করে। আমরা চাইলেও সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারি না। আমরা যেটা পারি সেটা হলো শুল্ক কমাতে। যেমন চিনির দাম কমাতে আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দামে কোনো প্রভাব পড়েনি, বরং বেড়েছে। ফলে এর সুফল ভোক্তা পায়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরকার বা সিন্ডিকেট শক্তিশালী নয়। জনগণের সিন্ডিকেট সবচেয়ে শক্তিশালী। ভোক্তাদের সচেতন ও প্রতিবাদী হতে হবে। সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই টিকতে পারবে না। এ উদ্যোগ মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

ইডেন মহিলা কলেজ এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ জয়লাভ করে।




ভারতকে পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রীদের সভার পূর্বে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেশটির প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের একটি প্রক্রিয়া প্রণয়নের অগ্রগতির জন্য টিপু মুনশি ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তার ক্রমাগত সমর্থন কামনা করেন।

এ সময় টিপু মুনশি সম্প্রতি পেঁয়াজের ওপর ৪০% রপ্তানি শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দামে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এর জবাবে পীযূষ গোয়েল জানান, বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে ব্যাঘাত, সরবরাহের ঘাটতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতও কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন ঘাটতিতে ভুগছে। এ কারণে ভারত সরকারকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে বলেন খুব শিগগিরই এ সংকট কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হবো।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ওপর থেকে এন্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ করলে পীযূষ গোয়েল এ বিষয়ে সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া, অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে উপস্থাপন এবং এগুলি নিষ্পত্তি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী জি-২০ মন্ত্রী পর্যায়ের ঘোষণা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করে বলেন ভারত সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করে থাকে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী জি-২০ এর প্রেসিডেন্সি হওয়ায় ভারতকে অভিনন্দন জানান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে অতিথি দেশ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরে, টিপু মুনশি সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী এমই মাজিদ আল কাসাবির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। এসময় দিল্লিতে অনুষ্ঠাতব্য জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আসন্ন বৈঠক ফলপ্রসূ হবে বলে উভয় মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এরআগে ২৪-২৫ আগস্ট জয়পুরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রীদের সভায় যোগদান দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশসহ গ্র্যাজুয়েশন ট্র্যাকে থাকা দেশগুলোকে ২০২৬ সালের পর এলডিসি দেশসমূহের জন্য প্রযোজ্য শুল্কমুক্ত কোটা মুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সমর্থন প্রদানের জন্য জি-২০ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। আগামী ১৩তম ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে (এমসি১৩) এলডিসি থেকে উত্তরণপ্রাপ্ত দেশগুলোর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি জি-২০ দেশের মন্ত্রীদের অনুরোধ করেন।




জাপান বাংলাদেশে মেগা প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে চায়: বাণিজ্যমন্ত্রী

জাপান বাংলাদেশে বড় বড় প্রজেক্টে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এছাড়া, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, জাপান সরকার এ অগ্রযাত্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় করেছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

রোববার (২৩ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাপানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়াসুতোশি নিশিমুরার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

টিপু মুনশি বলেন, জাপান দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে আছে। তারা আমাদের দেশের অনেক বড় বড় প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মাঝে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত অনুসন্ধান করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপান-বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে জাপানে এ-সংক্রান্ত প্রথম রাউন্ড আলোচনা হয়েছে এবং আগামী ২৫-২৬ তারিখে ঢাকায় দ্বিতীয় রাউন্ড আলোচনা হবে। খুব শিগগিরই এই চুক্তি করার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) মাধ্যমে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সমস্যা সমাধান করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প উৎপাদন বাড়বে এবং আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

বাংলাদেশ-জাপানের প্রধানমন্ত্রীরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার ইচ্ছা পোষণ করায় উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ও সহযোগিতার মাত্রা আরও বিস্তৃত হবে উল্লেখ করেন টিপু মুনশি। এছাড়া, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হওয়ার পর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য অগ্রাধিকার বিষয়েও কথা হয়েছে বলেন জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫০ বছর একসাথে কাজ করার জন্য করণীয় এবং ব্যবসায়িক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিভাবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা যায়, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যেসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত, সেসব পণ্যের মূল্য ওঠানামা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে বাড়ে আবার দাম কমলে দেশেও কমে। যার প্রভাব সয়াবিন তেলের ওপর পড়েছে। আমরা কিন্তু ভোজ্যতেলের দাম দুই দফা কমিয়ে দিয়েছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার সব সময় কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে। বাজার মনিটরিং করার জন্য আমাদের ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যারা অবৈধভাবে খাদ্যপণ্য মজুদ করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার আইনও পাস করেছে।

সাক্ষাৎকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেটরো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক রিলেশনশ ফর নেক্সট ফিফটি ইয়ারস ফর দি ইন্ডাস্ট্রি আপগ্রেডেশন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সামিটে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।




পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৭২ বিলিয়ন ডলার

পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা গতবারের চেয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ বাড়িয়ে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও ঘোষণা সংক্রান্ত সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতার পরেও ভালো ফলাফল এসেছে। গতবছর কিন্তু গ্যাসের সমস্যা হয়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে। এমন সমস্যার পরও তারা ভালো অর্জন করেছে। গতবছরের টার্গেট অর্জন করতে না পারলেও তার আগের বছরের চেয়ে বেশি অর্জন হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়েছে, যেটি আগের বছরের চেয়ে ৬.৭ শতাংশ বেশি। পণ্যভিত্তিক দেখলে দেখা যায়, তৈরি পোশাকে প্রায় ১০ ভাগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পণ্যে একটু বেশি।

কিন্তু চামড়াসহ অন্যান্য খাতে কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় ওভারঅল ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি বৈশ্বিক রপ্তানির ডেসটিনেশন লক্ষ্য করি, তাহলে দেখা যাবে আমেরিকা এবং ইউরোপে মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। নভেম্বর থেকে হয়তো বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আসবে, ফলে নভেম্বর থেকে হয়তো সারা বিশ্বব্যাপী আমাদের চাহিদা বাড়বে।




ঢাকায় ৩ দিনব্যাপী ভুটান বাণিজ্য-বিনিয়োগ মেলা শুরু

ঢাকায় প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী ভুটান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মেলার উদ্বোধন হয়েছে। ভুটান দূতাবাসের আয়োজনে এ মেলা আজ শুরু হয়ে চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত।

শুক্রবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশান শ্যুটিং ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যকার বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ভুটান আমাদেরকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। আর ভুটানের পর আমাদের স্বীকৃতি দেয় ভারত। সে হিসেবে ভুটান আমাদের বন্ধু। ভুটানের সাথে আমাদের সম্পর্ক কোনোদিন শেষ হবে না।

তিনি বলেন, তিন দিনব্যাপী ভুটান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মেলার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই ভুটান আমাদের দেশে আরও বিনিয়োগ করুক। ভুটানের জন্য আমাদের দ্বার সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের ইকোনমিক জোনগুলোতে বিনিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে ভারত, জাপান, সাউথ কোরিয়া এগিয়ে এসেছে। ভুটানের জন্যও আসার সুযোগ আছে। ভুটানকে বলব, বাংলাদেশে আসুন, বিনিয়োগ করুন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভুটান এবং বাংলাদেশ ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষর করেছে। তবে, মহামারি দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের কারণে দুই দেশ চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। এই লক্ষ্যে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধার জন্য ঐতিহাসিক পিটিএ চুক্তির বিধানগুলোকে আরও সহজতর করার লক্ষ্য নিয়ে ভুটান এই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মেলার আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে ভুটানের আবাসিক মিশন বা দূতাবাসের প্রধান, ব্যবসায়ীক চেয়ারপারসন, শীর্ষ ব্যবসায়ীক সংস্থার নির্বাহী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ভুটানের প্রায় ২৫টি কোম্পানি এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি মেলায় তারা ভুটানে তৈরি এবং ভুটানে উৎপাদিত প্রিমিয়াম মানের পণ্যের প্রদর্শন করেছে।




জুলাই থেকে টিসিবির পণ্যে যুক্ত হবে ৫ কেজি চাল : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, নিত্যপণ্যের দাম বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতি মাসে এক কোটি দরিদ্র পরিবারকে কম দামে তেল, ডাল ও চিনি দেওয়া হচ্ছে। আশা করি আমরা ঈদের আগেই সবাইকে এই মাসের পণ্য হাতে তুলে দিতে পারব। আমরা আশা করছি আগামী মাস থেকে এর সঙ্গে ৫ কেজি চালও যুক্ত হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জুন) তেজগাঁওয়ের কলোনি বাজারে দেশব্যাপী এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে জুন মাসে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, এই মাসে ভোজ্যতেলের দাম ১০ টাকা কমাতে পেরেছি। অর্থাৎ তারা ১১০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকায় তেল কিনতে পারবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার ফলে আমরা এই দাম কমাতে পেরেছি। যদি এর মধ্যে আরও কমে তবে তার সঙ্গে সমন্বয়ে রেখে আমরা দাম কমাব।

তিনি বলেন, আপনাদের কাছে একটাই কথা, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন সুযোগ না নেয়। প্রকৃতপক্ষে যারা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে তারা যেন পায়। আমরা পুরো সিস্টেমটাকে ডিজিটালাইজ করছি যেন ছোটখাট বাধা বিপত্তি অতিক্রম করতে পারি। সর্বোপরি যতদিন পর্যন্ত বাজার মূল্য স্বাভাবিক না হয় ততদিন পর্যন্ত এটি চালিয়ে যাব।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, টিসিবির চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউল্লাহ (সফি), নবী হোসেন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী নবী হোসেন প্রমুখ।

 




সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের প্রতি আহ্বান

টেকসই উন্নয়নের জন্য পোশাক খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সুইডেনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের হেড কোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্রুপের সিইও হেলেনা হেলমারসন-এর প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, সহ-সভাপতি মিরান আলী, বাংলাদেশের জন্য এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের গ্লোবাল হেড অব প্রোডাকশন কারিন লিন্ড, হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স পার্নিলা হলদিন এবং হেড অব ম্যাটেরিয়াল ইনোভেশন গগন বানসাল।

বৈঠকে তারা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। পোশাক খাতের উন্নয়নকে আরও টেকসইভাবে চালিত করার জন্য কীভাবে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা যেতে পারে, সে বিষয়গুলোও উঠে আসে আলোচনায়।

বৈঠকে সার্কুলার ফ্যাশন এবং কার্বন নিরপেক্ষতার পথে শিল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তারা শিল্পের টেকসই কৌশলগত রূপকল্প-২০৩০ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য একসঙ্গে আরও কী কাজ করা যেতে পারে, সেগুলো নিয়েও কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত সহযোগিতা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপকে আগামী দিনগুলোতে উন্নয়নের পথে শিল্পের এই অগ্রযাত্রায় শিল্প ও শিল্পের কর্মীদের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।




উজবেকিস্তানকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য উজবেকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকেল মন্ত্রণালয়ে উজবেকিস্তানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাখরম অ্যালোয়েভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

এছাড়া বাংলাদেশ-উজবেকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাত সম্প্রসারণে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট পরিষেবা চালু করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এসময় টিপু মুনশি বলেন, উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতের বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করেছেন। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনা প্যাকেজ ও সুবিধা ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উজবেক বিনিয়োগকারীদের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং ভিসা সহজিকরণ হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা সফর করে বিনিয়োগের ক্ষেত্র বের করতে পারবেন। সরকার টু সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক সুবিধার জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাখরম অ্যালোয়েভ সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে তার সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আগামী আগস্ট মাসে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠাতব্য ‘ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিশন’ যোগদান করবে। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই সফরে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল থাকবেন বলেও জানানো হয়।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে উজবেকিস্তান সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করেন। তারপর থেকেই বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান অত্যন্ত দৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। কালের পরিক্রমায় এ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

২০১৯ ও ২০২২ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে তার তাসখান্দ সফরে আতিথেয়তার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন উজবেকিস্তান বিশ্বের মাত্র দুটি দ্বি-ভূমিবেষ্টিত দেশের মধ্যে একটি। এটি প্রাচীন সিল্ক রুটের ওপর অবস্থিত। দেশটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রধান উন্নত দেশসহ ১৫২টিরও বেশি দেশে ‍ওষুধ রপ্তানি করছে। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য এবং জেনেরিক ওষুধ আমদানি ছাড়াও তৈরি পোশাক, পাট, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ, সিরামিক পণ্য, আইসিটি পণ্য, হস্তশিল্প, চামড়া কৃষি, টাটকা ফল, শাকসবজি এবং কৃষি-যন্ত্র দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার বিশাল সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে, উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের দেশে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সব সূচকে সাফল্য অর্জন করেছে। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য বিশ্বে সুনাম ধরে রেখেছে। এসময় তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের উজবেকিস্তানে বিনিয়োগের আ্বান জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বন্ধত্বপূর্ণ এবং দৃঢ় অবস্থানে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৬.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির বিপরীতে উজবেকিস্তান থেকে ৮.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানি করে।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর হচ্ছে টিসিবির কার্ড

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, নিম্ন আয়ের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেওয়া এককোটি ফ্যামিলি কার্ডকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সোমবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় টিসিবি আয়োজিত দেশব্যাপী এককোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে রমজান মাস উপলক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্বের টিসিবি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম এবং উত্তরা এলাকায় টিসিবি পণ্যের অস্থায়ী সংরক্ষণাগারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ এবং বরিশালে টিসিটির কার্ড স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরের পাইলটিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাতে লেখা সব কার্ড কিউআর কোড সম্বলিত স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করা হবে। যার কাজ চলমান রয়েছে। এসব কার্ড স্মার্ট কার্ডে পরিবর্তন করলে অসঙ্গতিগুলো দূর করা সহজ হবে।

টিপু মুনশি বলেন, আমরা সবাই জানি করোনা মহাসংকটের পরপরই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে সারাবিশ্বে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরিব মানুষদের মধ্যে কমমূল্যে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বের উন্নতসহ অনেক দেশ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের বেশি ক্রেতাদের দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববাজার বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে দেশের এককোটি পরিবারের মধ্যে স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি মাসে একবার দিলেও পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে দ্বিতীয়বার দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে বিতরণ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন শেখ হাসিনা তাদের দুঃখ কষ্ট অনুভব করেন। সেজন্যই তিনি এককোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী অর্থাৎ প্রতি পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য হলে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এই সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ মানুষকে সাশ্রয়ী দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা এককোটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তা বাস্তবায়ন করছি।

পণ্য মজুতের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে পণ্য মজুত আছে। বিগত কয়েক বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে এ বছর আমরা সরবরাহ ও বিতরণে শক্ত অবস্থানে আছি। কোনো একটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সবাই প্রশ্ন তোলেন। অথচ মূল্য যখন কমে তখন কেউ আর কিছু বলেন না। সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসা করাও উচিত। এতে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ পাওয়া যায়।

পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত এরপরেও বাজারে দাম কমছে না কেন জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাজারে সব পণ্যের মূল্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে না। এ বিষয়ে একটা মিস কনসেপশন আছে যে মূল্যবৃদ্ধি মানেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত। ব্রয়লার মুরগি, মাংস এবং মাছসহ কিছু পণ্য অন্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়। তারপরও আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি যাতে দ্রব্যমূল্য মানুষের হাতের নাগালে রাখা সম্ভব হয়।

টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে পণ্য সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষাণাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে উত্তরা এলাকায় আজকে এই সংরক্ষণাগারের উদ্বোধন করা হলো। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলে পণ্য মজুত করে কার্ডধারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।




বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি করলো ভুটান

পার্শ্ববর্তী দেশ ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। রাজধানী থিম্পুতে এ চুক্তি সই হয়েছে। বুধবার (২২ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এই চুক্তির ফলে উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজতর হবে। সর্বশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির বিষয়টি কেবিনেট বৈঠকে চূড়ান্ত হয়। এছাড়া, ভুটানের আমাদের কাছে নদীপথের বিষয়ে দুটি প্রস্তাব ছিল সেটিও আমরা ওকে করে দিয়েছি। ভুটানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। ভুটান ছোট দেশ হলেও আমাদের নিয়ে তারা সবসময়ই পজিটিভ।

দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও জোরদারের তাগিদ দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) এবং ভারত চেম্বার অব কমার্স (বিসিসি)।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বিসিসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোকপাত করেন দুই প্রতিষ্ঠানের নেতারা।

বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উত্তর আমেরিকা এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোসহ অন্যান্য জোটগুলো আঞ্চলিক বাণিজ্য শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। সেখানে সার্কভুক্ত দেশগুলো এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জিটুজি (গভার্নমেন্ট টু গভার্নমেন্ট) সম্পর্ক অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। আমাদের এখন বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ এবং বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে ভারতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিকায়ন এবং যান্ত্রিকীকরণে জোর দিয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম একটি কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশের বাজার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ভারতের কৃষি যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারীরা এদেশে কারখানা স্থাপন করতে পারেন।

এসময় বাংলাদেশের প্রশংসা করে ভারত চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এন জি খইতান বলেন, ভারত বাংলাদেশ সবসময়ে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, গত দশ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো, ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা সবসময়েই বাংলাদেশের এ উন্নয়নের সহযোগী হতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতির মূলশক্তি হলো গ্রামীণ অর্থনীতি। প্রতিবেশী দেশ দুটির ভোক্তাবাজার, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতিতে যখন এতো মিল রয়েছে, তখন আমাদের উচিত নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

বৈঠকে এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী, এফবিসিসিআই পরিচালক এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, ভারত চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিশিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজকুমার আগারওয়ালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাতের পর ভারত চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিটুবি মিটিংয়ের আয়োজন করে এফবিসিসিআই। যেখানে অংশ নেন উভয় দেশের বস্ত্র, ওষুধ, চামড়া, পাট, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং, ফার্মাসিউটিক্যাল, লেদার, সিমেন্ট, ইস্পাত, সিরামিক, কয়লা, জ্বালানি, কাগজ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রেল যন্ত্রাংশ শিল্পের ব্যবসায়ীরা।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সহজ করতে ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী। বিটুবি মিটিংয়ের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদী এফবিসিসিআই এবং বিসিসি।

 




বুড়িমারী হয়ে ভারত-ভুটান সফরে গেলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাঁচদিনের সরকারি সফরে সপরিবারে ভারত ও ভুটান গেলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় বুড়িমারী ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ট্রাফিক-ইন-ট্রানজিট চলাচলের চুক্তি এবং প্রটোকলের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুর কবির  এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দেশে ফেরার পথে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে যে ক্যাম্প (শিলিগুড়ি ক্যাম্প) থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিলিটারি প্রশিক্ষণ নেন সেটি পরিদর্শন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২৬ মার্চ সকালে বুড়িমারী ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট দিয়ে তিনি দেশে ফিরবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বুড়িমারী স্থলবন্দরে এলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) গিয়াস উদ্দিন, পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুজ্জামান সাঈদ।

এর আগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের অবসর রেস্ট হাউজে যাত্রিযাপন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।




রোজার প্রথম সপ্তাহেই চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

শুল্ক ছাড় দেওয়ায় চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমাতে ব্যবসায়ীরা সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, শুল্ক কমানোর ফলে চিনিতে সাড়ে চার টাকার মতো কমানো যাবে।

তবে আমরা ব্যবসায়ীদের চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমানোর অনুরোধ করছি। তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। আশা করি, রোজার প্রথম সপ্তাহেই চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমবে।

রোববার (১৯ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ষষ্ঠ সভা’ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিনিতে যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেই সুবিধা এখনো পাওয়া যায়নি। শুল্ক ছাড়ের চিনি কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারে আসবে। আমরা আশা করি, রোজার প্রথম সপ্তাহেই চিনির যে দাম, তা থেকে কেজিতে পাঁচ টাকা কমবে। আগামীকাল থেকে আমরা মনিটরিং করব। শুল্ক কমানোর পর বাজারে কী প্রভাব পড়ছে, তা নজর রাখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কাছে তেল ও চিনি যথেষ্ট পরিমাণে আছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজে থেকে একটা কথা বলেছেন, মিলগেটে যে দামে তারা দেয়, তা থেকে পাঁচ-ছয় টাকা লাভ করে দোকানে বিক্রি করে, সেটা চলবেই। তবে তারা নিজ উদ্যোগে ঢাকার পাশাপাশি প্রধান শহরে মিলগেটের দামে ট্রাক সেল (বিক্রি) করবে। চিনি যথেষ্ট পরিমাণে আছে, মানুষের মনে ভয় লেগে আছে যে, চিনি নেই। চিনি কিন্তু পাইপ লাইনেও প্রচুর আছে। ফলে চিনি নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই।

চিনির দাম পাঁচ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত সেটা কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, পাঁচ টাকা কমানোর বেসিস হচ্ছে ট্যারিফ (শুল্ক) যেটা কমানো হয়েছে, সেটার প্রভাব থাকতে হবে। তবে ব্যবসায়ীরা কিন্তু নতুন শুল্ক ছাড়ের মাল ছাড়াতে পারেনি। তবে তারা আমাদের সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন। রমজানের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নতুন দামে তারা পণ্য দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, তারা পাঁচ টাকা কম রেটে মিলগেট থেকে দেশের সকল স্থানে চিনি পৌঁছে দেবে। ব্যবসায়ীদের অবস্থান ইতিবাচক। আমরা তাদের বলেছি, আগামীকাল থেকে মনিটরিং করতে শুরু করব, নতুন ট্যারিফে তারা পণ্য ছাড় করতে শুরু করেছেন কি না। যদি না করে, তাহলে আমরা বলব তিন দিনের মধ্যে করতে হবে। সেটা তাদের অনুসরণ করতে হবে।




একসঙ্গে বেশি পণ্য না কেনার কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য মজুত রয়েছে। পণ্য সংকটের কোনও সম্ভাবনা নেই। একসঙ্গে বেশি পণ্য কেনার প্রয়োজন নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) ঢাকায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর আয়োজিত ‘১৫ মার্চ বিশ্বভোক্তা অধিকার দিবস-২০২৩’ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তা সাধারণ নিজ দায়িত্বে একসঙ্গে বেশি বা একমাসের পণ্য ক্রয় না করলে বাজারে পণ্যের ওপর কোনও চাপ পরবে না। কৃত্রিম উপায়ে কোনও পণ্যের সংকট সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে অবৈধ মজুত করার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে বাজারে নজরদারি এবং মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের প্রচার মাধ্যমও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ভোক্তার অধিকার রক্ষা করা সহজ হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার জন্য। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেশি। সে কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। দেশের নিম্নআয়ের মানুষকে সহায়তা করার জন্য সরকার দেশের এককোটি পরিবারকে পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় করছে। ভোক্তা সাধারণ সংযমী হলে কোনও ব্যবসায়ী বেশি লাভের সুযোগ নিতে পারবে না।’

বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে। সঠিক মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের বিষয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। ভোক্তাকে পণ্য বিক্রয়ের রশিদ প্রদান করতে হবে, রশিদ না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মার্চ সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উদ্যোগে ‘বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২৩’ উদযাপন করা হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি উপস্থিত থাকবেন।




তিন খাতে বিনিয়োগ করবে চীন : টিপু মুনশি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অ্যাগ্রো প্রসেসিং এবং ই-কমার্স খাতে চীন বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শনিবার (১১ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’ শীর্ষ সম্মেলনে চীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ বিজনেস সামিটের আয়োজন করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় রপ্তানিকারক দেশের একটি। তারা বলছে, তোমাদের দেশে আরও বিনিয়োগ করতে চাই। আমরা বলছি, তোমাদের জন্য সব কিছু ওপেন, তোমরা আসো, দেখো, আমাদের এখানে অনেকগুলো আইটেম আছে, যেখানে বিনিয়োগ করলে তোমাদের জন্য ভালো হবে।

তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে তোমাদের কাছ থেকে আমদানি করছি, এখন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে পারো। তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অ্যাগ্রো প্রসেসিং এবং ই-কমার্স খাতে বিনিয়োগ করবে, সেজন্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে এসেছে, তারা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলবে। তারপর বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এর আগে শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে ৩০০ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বাজারের কেন্দ্রস্থল হতে পারে। পূর্ব-প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন হিসেবে যোগাযোগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। আমরা যে পারি, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে সেটা প্রমাণ করেছি। এই সেতু শুধু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলেই নয়, এ সেতু আমাদের আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়াবে। ন্যূনতম ১.২ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, গত ডিসেম্বরে আমরা মেট্রোরেল যুগে প্রবেশ করেছি। এসব সাফল্যের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখন ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে চায়। এটা আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের রূপকল্প ২০৪১ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বেসরকারি, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি কৌশলগত পথরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতি বছর যদি গড়ে ৫ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা যায়, তাহলে ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে সক্ষম হবে বলে আশা করি।

সরকার প্রধান বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। করোনায় পুরো বিশ্ব থমকে গেলেও আমাদের অর্থনীতি থামেনি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি বলেন, আমাদের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৯ম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যুক্তরাজ্য বা জার্মানির মতো প্রতিষ্ঠিত বাজারগুলোকে এবং বর্তমানে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করি। আমি জানি, এটা একটু বেশি উচ্চ আকাঙ্ক্ষা, তারপরও উচ্চ আকাঙ্ক্ষা করতে তো কোনো আপত্তি নেই। ২০২৫ সাল বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ধনীর সংখ্যা হবে ৩ কোটি ৪০ লাখ। ২০৪০ সালের মধ্যে আনুমানিক মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮৮০ মার্কিন ডলার।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সেটি আরও সংস্কার ও ব্যবসাবান্ধব করা হবে। লাল ফিতার দৌরাত্ম্য সরিয়ে দেওয়া হবে। (যে বিষয়ে) সিদ্ধান্ত হবে, সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়ন হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনায় পুরো বিশ্ব থমকে গেলেও আমাদের অর্থনীতি থামেনি। ২০০৬ এর ৬০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হয়েছে।




বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগসহ সৌদির সঙ্গে হচ্ছে তিন সমঝোতা

বিজনেস সামিট থেকে সৌদির সঙ্গে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মাজেদ বিন আব্দুল্লাহ আলকাসাবি। তিনি জানান, তিনটি বিষয়ে চুক্তি হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে, রংপুর চিনি কলের জায়গাটিতে বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে রুপান্তর করে সেখানে গ্যাস লাইন সংযোগে বিনিয়োগ করবে সৌদি এবং আরবি ভাষা শিখিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।

শনিবার (১১ মার্চ) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এফবিসিসিআই আয়োজিত বিজনেস সামিটে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে তিনি এ কথা জানান।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা যায়। আমাদের যে মার্কেট আছে সেটি এট্রাক্ট করতে পারলে তারা বিনিয়োগ করবে। বিদ্যুৎ সেক্টরে একটি ভালো খবর সৌদি সেখানে বিনিয়োগ করবে। আমরা আশা করি আমরা একসঙ্গে আমাদের দুই দেশের বাণিজ্য এগিয়ে নিতে পারবো। আমরা খুব আশাবাদি আমরা এবং সৌদি আরব একসঙ্গে অনেক দূর যেতে পারবো। এছাড়াও তারা কৃষি খাত ও জনশক্তির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।




টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) তেজগাঁওয়ে রমজান মাস উপলক্ষ্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য দেওয়ার জন্য আমাদের এ কার্যক্রম। রমজান মাসের আগেই মানুষের হাতে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন। বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের দাম যখন বেড়েছে, আমাদের দেশেও তার প্রভাব পড়েছে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে। কার্ডধারীরা যেন পণ্য পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আগামীতে কার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, টিসিবি চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মঞ্জুর প্রমুখ।




বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনার মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষর

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ এমওইউ স্বাক্ষর হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং আর্জেন্টিনার পক্ষে ঢাকায় সফররত দেশটির ফরেন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মিনিস্টার সানটিয়াগো কেফিয়ারো এ এমওইউ স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের পজিটিভ ইমেজ বিল্ডিং এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে। যার ফলে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা সংকুচিত হবে।

এতে জানানো হয়, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের এই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ, বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও ট্রেড ব্লকের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সম্ভাবনাময় দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলো সফর করেছেন। এ অঞ্চলের বাণিজ্য জোট মার্কোসুরের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিশ্বের প্রধান খাদ্য উৎপাদকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য একটি বাণিজ্য সম্ভাবনাময় এলাকা আর্জেন্টিনা। পণ্য ছাড়াও সেবা ও বিনিয়োগ খাতেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আর্জেন্টিনার সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধন আরও জোরদার এবং বাণিজ্য সম্পর্ক গভীর করার উদ্দেশে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারকরণে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে তাদের নিজ নিজ অর্থনীতির অগ্রগতি সাধনে পারস্পরিক স্বার্থ সমুন্নত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে উভয় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ অন্যান্য দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য বিনিময়ের উন্নয়ন ও বর্ধিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।




বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ রয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। সরকার বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। ফ্রান্সের বিনিয়োগকারীরা এসব সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। সরকার প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা করছে।

ফ্রান্সে ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি ওইসিডি আয়োজিত ‌প্রমোটিং অ্যান্ড ইনাব্লিং রিসপনসিবল বিজনেস কনডাক্টর ইন দ্যা গ্লোবাল ইকনোমিক শীর্ষক মিনিস্টারিয়াল মিটিংয়ে যোগদান করে মতবিনিময় সভায় ফ্রান্সের ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, লেদার, মেডিকেল পণ্য, সিরামিক, এনার্জি ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০ স্পেশাল ইকনোমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে, এর অনেকগুলোতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এগুলোতেও বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

ফ্রান্সে অবস্থিত বিজনেস কমিউনিটি আয়োজিত অপর এক মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে। ফ্রান্সে অবস্থিত প্রবাসীদেরকে রেমিট্যান্স বৈধ উপায় বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। এতে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। ফ্রান্সের সঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রে যেকোনো জটিলতা সরকার গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করবে। এ সময় ইউরো-বাংলা বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফ্রান্স বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে বাণিজ্যমন্ত্রী হাঙ্গেরির ফরেন অ্যান্ড ট্রেড মিনিস্টার পিটার এসজিজার্টোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী হাঙ্গেরিতে পড়ালেখার জন্য বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের ভিসা সহজ করার আহ্বান জানান। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ডাবল ট্যাক্সেশন পরিহারে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেন।