এলপিজি নিয়ে কারসাজি করলে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ যদি বাজার কারসাজি, বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কোনো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন, সরকার তা কঠোর হাতে দমন করবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার সহ্য করবে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কারণ, এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত।

কবে নাগাদ এলপিজি সমস্যার সমাধান হবে, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলপিজি বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য নয়, এটি আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা যেসব উৎস থেকে সাধারণত এলপিজি আমদানি করেন, সেসব অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে আমদানিকারকদেরও বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হওয়া, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আগামী বছরজুড়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল প্রণয়ন করতেই আজকে বৈঠক হয়েছে।

এর সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। বিইআরসির সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে দেশকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না বলেও এসময় সতর্ক করে দেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলার মাধ্যমে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এলপিজি ডিলাররা তাদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরে এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে সেই কৌশল বিস্তারিত জানানোর সময় এখনো আসেনি।

তিনি বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হতে পারে। লাভ-লোকসানের হিসাব কিংবা কমিশন কমবেশি হওয়া নিয়ে বিরোধও দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধৈর্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কথা শুনতে এবং তাদের সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে।




নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর বাজার নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।

আজ বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, রমজান মাসে ভোগ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা শুধু রমজান কেন্দ্রিক নয়। সারা বছর পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য সহনীয় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও কয়েকটি এলাকায় বাজারে পড়েছে। তবে শীতকাল সামনে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতির খোঁজ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের দামে দুই-চার টাকার অস্বাভাবিক ওঠানামা সামগ্রিক হিসাবে খুব বড় মনে না হলেও তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজারে মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি ও মনিটরিং কার্যক্রম বাড়ানো হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশকেও এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হয়। সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে একটি অংশ বহন করলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপরই পড়ে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করা হবে। দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের ঋণপত্র বা এলসি ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে কিংবা জাহাজীকরণ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।

কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে এক লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দুই লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন সিড আমদানি হয়েছিল। চলতি বছর তা বেড়ে তিন লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।

দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। কমিশন জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ট্রেসেবিলিটি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পণ্যের সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ডিম ও পোল্ট্রিসহ গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যকে এ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের আস্থা শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের পরামর্শ বাজার ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় ব্যবসায়ী নেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারমূল্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এবং ডাল, তেল, খেজুর, ডিম ও চিনি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।




ইতালির বিনিয়োগ আকর্ষণে চামড়া খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে ইতালির বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্ভাব্য ইতালি সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন৷

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্ভাব্য ইতালি সফরের মূল লক্ষ্য হবে নতুন বিনিয়োগকারী আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ।

বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের সক্ষমতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা ইতালির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে মিলান, ফ্লোরেন্স ও রোম সফরের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, মিলানে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক, ফ্লোরেন্সে টাসকানি অঞ্চলের চামড়া শিল্প এলাকা পরিদর্শন এবং রোমে সরকারি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের কোম্পানির মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব আরও বাড়বে।

সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বড় কারখানাগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হবে এবং ছোট কারখানার জন্য কেন্দ্রীয় সুবিধা বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইতালি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




চামড়া শিল্প পুনরুজ্জীবনে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের

দেশের চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং বাংলাদেশ’স লেদার সেক্টর: চ্যালেঞ্জেস, অপরচুনিটিজ অ্যান্ড রিফর্ম’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে দেশের চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও যারা বর্তমানে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য খাতে জায়গা তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডাব্লিউজি) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে।

তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগ ও উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পিত ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হচ্ছে। বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় সিইটিপি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবে।

এ ছাড়া ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকাকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, বিনিয়োগ সুবিধা, ইটিপি স্থাপন ও বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে আবারও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার বা ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পবকে। এছাড়া আলোচনায় আরও অংশ নেন ফ্ল্যাক্সার (এফএলএএক্সএ) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা।




জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধান নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে সরকার এ সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি সংকট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা তো বাস্তবতাই। দেশের মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সেটি আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এই দুটি এফএসআরইউ দিয়ে এর বেশি এলএনজি আমদানি করা সম্ভব নয়। ফলে রাতারাতি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় আরও দুটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন, এটা সত্য যে জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের শিল্প কারখানাগুলোর ইনস্টল ক্যাপাসিটির ৩০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে রাতারাতি এর কোনো সলিউশন নেই। সরকার এই সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ঘাটতিসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের বর্তমান সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫-৬টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হবে।

জাপানের সঙ্গে করা ইপিএ কবে থেকে কার্যকর হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হয়। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে জাপানের সঙ্গে করা চুক্তিটি উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেটি কার্যকর হবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং প্রধান প্রধান রপ্তানি খাতের সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগতো, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

 

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।

ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রসার এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সঙ্গে সরকার সম্পূর্ণ একমত। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জন ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।




টিসিবির কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে কার্যকর হতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সরবরাহ, শৃঙ্খলা, পর্যবেক্ষণ এবং টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”

সোমবার (১১ মে) ঢাকার আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বৃদ্ধি করে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রী বলেন, “দেশের যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করবে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “টিসিবির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে।”

বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে, যাতে সরকার বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি বলেন, “নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু বড় ব্যবসায়ী এ খাতে সক্রিয় থাকেন। তবে সরকার এমন একটি অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে আরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে অংশ নিতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।”

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “এই সরকার জনগণের পক্ষে বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য—বাজার হবে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল এবং কারসাজিমুক্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্রেতাদের কাছে নায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।




ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন, আমরা বাস্তবে রূপ দেবো: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পকেটে ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন, আমরা বাস্তবে তা রূপ দেবো। সেগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে সরকার।

তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরের বা যে কোনো সেক্টরের যত ইনোভেটিভ আইডিয়া আছে, সেগুলো লিখে তালিকা করে আমাদের কাছে নিয়ে আসবেন। ইউ ইউল ফাইন্ড এ ট্রাস্টেড লিসেনার, হু উইল ট্রান্সফর্ম ইউর আইডিয়াস ইনটু একশন।’

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লি. এর যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে৷ ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও বস্ত্র খাতের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী চলবে ২ মে পর্যন্ত৷

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সিবিশনের কনভেনর ফজলে শামীম এহসান। এছাড়া বক্তব্য দেন ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্পেন্সার লিন এবং অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বিকেএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের এই জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আগামী দিনে আমরা রিনিউয়েবল এনার্জিতে সুইচ করছি। এবং এই সরকার একটা স্কিম ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যেখানে আমরা এক্সপেডাইটেড বেসিসে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার জেনারেশন করব। আপনারাই করবেন, সরকার করবে না, প্রাইভেট সেক্টরই করবে, কিন্তু আমরা সেই সহায়ক স্কিম নিয়ে এগিয়ে আসব এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে এগিয়ে আসব।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুদের হার দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব পর্যায়ে আনা হবে। দুই অঙ্কের সুদের হারে ঋণ নিয়ে টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প খাতের টিকে থাকা কঠিন। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুদের হার এমন পর্যায়ে রাখতে হবে, যা নতুন বিনিয়োগ এবং চলমান ব্যবসার প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে। এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকার বিষয়।




বৈশ্বিক বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নোটিফিকেশন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালনের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ডব্লিউটিও’র নিয়ম মেনে চলতে, হালনাগাদ থাকতে এবং বৈশ্বিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নোটিফিকেশন একটি অপরিহার্য উপাদান। নোটিফিকেশন ডব্লিউটিও’র টুলবক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ— এটি সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারলেই আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারবো।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ট্রেনিং অন ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন রিকয়ারমেন্টস’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা কী শিখলেন তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করাই হবে এই প্রশিক্ষণের মূল সাফল্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আইটিটিসির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম আয়োজন করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্টরা ডব্লিউটিও সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, তা আরও শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাবে, এই আশাবাদ আমাদের রাখতে হবে। বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে খুব শিগগিরই ডব্লিউটিও নতুন উদ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। এছাড়াও ডাব্লিউটিও’র এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর আইটিটিসি ওসমান আলী খিলজি ও ডাব্লিউটিও’র সেন্ট্রাল ও এস্ট্রান ইউরোপ, সেন্ট্রাল এশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর ড. কেঞ্জা লি মেনটেক বক্তব্য রাখেন।

চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। ডব্লিউটিও সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একাধিক সেশনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।




বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সুইজারল্যান্ডের আগ্রহ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। রোববার (২৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে এবং জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ সুইস বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সুইস পণ্যের উচ্চ গুণগতমান সম্পর্কে অবহিত। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখ যোগ্য অংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুইস পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক হলে তারা বেশি গ্রাহক আকর্ষণ করতে পারবেন। সে লক্ষ্যে সার্ভিস ওরিয়েন্টেড খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে দুই দেশেরই লাভ হবে।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, শিপ বিল্ডিং শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ভিত দেবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছরের জন্য পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের সমর্থন প্রত্যাশা করে। দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং যৌথ উদ্যোগ জোরদারের মাধ্যমে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ অনেক বেশি।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ঘাটতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।