কোরবানির চামড়া সংরক্ষণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়- এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু, সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদে খতিব ও ইমামরা যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে । পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদরাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে তা যেন সফল হয় সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

এছাড়াও, বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন। সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও যেন সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার এরইমধ্যে দেশব্যাপী মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-

• কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ;
• প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার;
• বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ;
• স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান;
• পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ;
• অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ;
• সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।




ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে (বিএফটিআই) একটি কার্যকর, আধুনিক ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে, যা দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে ভবিষ্যতে এটি নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করে একটি স্বনির্ভর জ্ঞান কেন্দ্রে পরিণত হয়।

আজ (মঙ্গলবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিএফটিআই-এর ৬২তম বোর্ড সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জটিলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও দক্ষ ও প্রস্তুত হতে হবে। বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) বিরোধ নিষ্পত্তি, বাণিজ্য নীতি বিশ্লেষণ এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় সহায়তার জন্য বিএফটিআই-এর অধীনে একটি স্থায়ী বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হবে। এই প্যানেলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ এবং গবেষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিএফটিআইকে একটি স্থায়ী ও কার্যকর রিসোর্স বেস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

সভায় বিএফটিআইকে একটি দক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে একজন যোগ্য চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নিয়োগের সুপারিশ গৃহীত হয়। পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন অব বাংলাদেশের (ইউজিসি) অনুমোদন নিয়ে বিএফটিআই-এর অধীনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন ও বাণিজ্য নীতি গবেষণায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বোর্ড সভায় প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




টিসিবির জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য আলাদাভাবে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে৷ তারা টিসিবির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ত্বরান্বিত করতে পদক্ষেপ নেবেন।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ কার্য-অধিবেশন শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আমদানি পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি এআই-নির্ভর মডেলের আওতায় এনে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। টিসিবির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি কার্যকর উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যা নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। আজ জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকেও বিভিন্ন উন্নয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে বন্ধ চিনিকল চালু, নতুন শিল্প এলাকা গড়ে তোলা এবং ডিস্টিলারির পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ এলাকার রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এসব শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে নতুন বিনিয়োগ আনা, আধুনিকায়ন এবং পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক পর্যায় ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে, বিশেষ করে কৃষিপণ্যে। গত পাঁচ দশকে এ খাতে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। সরকার এখন একটি সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে। সেজন্য আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে হঠাৎ সরবরাহ সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বন্ধ মিল চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, বস্ত্র ও পাট খাতের ৫০টি মিল পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে অনেকগুলো ইতোমধ্যে হস্তান্তর হয়েছে এবং বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এসব মিল চালু হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে, গতকাল রোববার (৪ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনব্যাপী ডেপুটি কমিশনারদের (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধন করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে। বাৎসরিক এই সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন ডিসিরা। এর বিপরীতে আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত দেয় সরকার।




বাংলাদেশ ও ইতালির বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলাসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঐতিহাসিকভাবে দৃঢ়। ইতালি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইতালির বিনিয়োগ বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফার্নিচার, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বন্ধ জুটমিল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে। দেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।

ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলাসান্দ্রো বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য খাতেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, আগামী জুলাই মাসে ইতালি থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও যৌথ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহিম খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বাণিজ্যের প্রসারে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে : টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও রপ্তানি আয় বাড়াতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ এ শব্দ দুটি ভুলে যেতে হবে।

বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি আয়োজিত ‘রপ্তানি উন্নয়ন ভবন’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে ডেনিমে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম এবং তৈরি পোশাক শিল্পে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এটি আমাদের মতো দেশের জন্য কত যে গৌরব ও অহংকারের তা সবাই বুঝি। সেবা নিশ্চিত করতে হলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। এই শব্দ আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে অবহেলা করে টেবিলে কাজ ফেলে রাখা উচিত নয়। যেদিনের কাজ সেদিনেই করতে হবে। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা যাবে না।

তিনি জানান, রপ্তানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। রপ্তানি বাড়ানোর অনেক সম্ভাবনাময় খাত আছে। দেশে রপ্তানিযোগ্য বৈচিত্র্যময় নানা পণ্যের সমাহার রয়েছে। এগুলো কাজে লাগানোর জন্য দরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।

এছাড়া নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ এবং ২০৪১ সালের যে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম।




রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসছে পোশাক খাত থেকে : বাণিজ্যমন্ত্রী

তৈরিপোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর হোটেল র্যাডিসনে আয়োজিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ শীর্ষক সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ‘বঙ্গবন্ধু ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ফর লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার’ এবং ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ সেন্টার নির্মাণ কাজের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বেসরকারি খাত, বিশেষ করে রপ্তানিকারকরা অর্থনীতির বড় চালিকা শক্তি। মানসম্পন্ন বহুমুখী পণ্যের মাধ্যমে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, টেকনোলজি সেন্টার দুটি স্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা সহজেই অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের টেকনোলজির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। এখান থেকে সেবা নিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্যে আমাদের শক্তি ও সামর্থ্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, রপ্তানি বাজার খুবই স্বল্প সংখ্যক পণ্যে সীমাবদ্ধ। শুধু তৈরি পোশাক খাত থেকে আমাদের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসছে। পক্ষান্তরে রপ্তানি বাজারও সীমিত। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (EC4J) প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গাজীপুরের কাশিমপুরে ৫ একর জমিতে ‘বঙ্গবন্ধু ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ফর লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার’ এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি-তে ৫.২ একর জমিতে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ নির্মিত হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আব্দুল বাকী বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।




আমদানি করা ডিম দেশে আসবে এ সপ্তাহেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

আগামী তিন-চারদিনের মধ্যেই আমদানি করা ডিম দেশে আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ কর্তৃক দেশব্যাপী অক্টোবর মাসের এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের নিকট চালসহ টিসিবির পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ডিমের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে ডিমের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৫ কোটি ডিম আমদানির জন্য ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি প্রতিষ্ঠান এলসি খুলেছে। আশা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহে ডিম আমদানির প্রথম চালান দেশে প্রবেশ করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমদানিকৃত ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ামুক্ত মর্মে সনদ দাখিল করতে হবে।

দেশে এর আগে ডিম আমদানি না হওয়ায় এই সনদ পেতে আমদানিকারকদের কিছুটা সময় লাগায় ডিম আসতে দেরি হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

আলু আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না অপর এক প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, আমরা দেশে এখনো আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। দেশে আলুর পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। বাজার মনিটরিং চলছে। যদি দাম আরও ঊর্ধ্বগতির দিকে যায় তাহলে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে আলু আমদানির উদ্যোগ নেবে সরকার।

এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকার টিসিবির মাধ্যমে দেশের এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় করছে। তেল, চিনি, ডালের পাশাপাশি জুলাই থেকে চাল দেওয়া শুরু হয়। এ মাস থেকে পেঁয়াজ দেওয়া শুরু হলো। যা রাজধানীর মধ্যে আপাতত সীমাবদ্ধ থাকবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা গরিব-দুঃখী, অসহায় মানুষের যারা দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে তাদের কথা বিবেচনা করে এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড অর্থাৎ ৫ কোটি মানুষকে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা জানি বৈশ্বিক কারণে বেশ কয়েকটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে। কিন্তু আমদানিকৃত পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। যার জন্য চাইলেও কমানো সম্ভব হয় না। তবে আমরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

টিপু মুনশি বলেন, টিসিবির কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এক কোটি কার্ডকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ মাসের শেষ নাগাদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।

এটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণেরও অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এসময় টিসিবির চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান পিএসসি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবলা অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।




ব্যবসার জন্য ভালো জায়গা বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য ভালো জায়গা। আপনারা আসুন বাংলাদেশে আপনাদের ব্যবসাকে প্রসারিত করুন। বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট করে কেউ ঠকবেন না। আশা করছি আমাদের সামনের দিনগুলোতে ব্যবসায়ীক প্রসারতা আরও ভালো হবে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) গুলশানের রেনেসাঁ ঢাকা হোটেলে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে আমাদের যা যা সমস্যা আছে, তার সমাধান করব। আমরা আরও এগিয়ে যাব। বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীদের যেন কোনোরকমের বাধা না থাকে, সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখব। ব্যবসায়ী, সরকারের সবাই মিলে একসঙ্গে আমরা কাজ করে, বাণিজ্যিক দিককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব ইনভেস্টররা এখানে আছেন, তারা তাদের ব্যবসা এখানে আরও প্রসারিত করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সমৃদ্ধ পরিবেশে যেন ভালোভাবে আপনারা ব্যবসা পরিচালিত করতে পারেন, তা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করব। এছাড়া যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমরা সবাই মিলে তা সমাধানের চেষ্টা করব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে, ব্যবসায়ীদের ব্যবসার পরিবেশ আরও প্রসারিত করতে এই সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় ব্যবসায়ীদের ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করতে যা যা করণীয় সব কিছুই করা হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বিদেশি ব্যবসায়ীরা যেন বাংলাদেশে খুব সুন্দরভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তাদের ব্যবসাকে আরও বাড়াতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। আর বর্তমান সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রই সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। সরকার, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক সবার পক্ষ থেকে আমাদের একটাই উদ্যোগ, যেন বাংলাদেশে সবাই ভালোভাবে বিনিয়োগ করে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে ব্যবসায়ী প্রসারতা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি তারা আরও অধিক বিনিয়োগ করতে পারে এবং সেরকম স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত থাকে। আমাদের জনশক্তি আছে, দক্ষ জনশক্তি আছে, এগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন প্রতিনিধিরাসহ আরও উপস্থিত ছিলেন এইচ অ্যান্ড এম’র রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, বাইসাইকেল পার্টস ম্যানুফেকচার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহম্মাদ মোস্তাক আহমেদ তানভির, বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিরান আলী, বেসিসের প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, অ্যাপেক্স ফুটওয়ার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর প্রমুখ।




কাগজে কলমেই আটকে ডিম-আলু-পেঁয়াজের দাম, স্বীকার করলেন মন্ত্রী

ডিম, আলু, পেয়াঁজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বেঁধে দেয়া দাম বাজারে কার্যকর করতে না পারার কথা স্বীকার করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে বেঁধে দেয়া দাম কার্যকরে বাজারে অ্যাকশন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্যে রুপিতে লেনদেন নিয়ে রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিত্যপণ্যের বাজারের বিষয়ে তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বেঁধে দেয়া দাম কার্যকরে বাজারে অ্যাকশন শুরু হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

হাতে ট্রিগার আছে কিন্তু গুলি করাটা সমাধান না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ব্যবসায়ী’হ সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা ও সমন্বয় করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডিম আমদানির অনুমতি দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। ডিম আমদানির বিষয়টি আগে মাথায় আসেনি।

এ সময় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকটি ব্যাংকের বাড়তি দামে ডলার বিক্রি করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এর আগে উর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রথম বারের মতো ডিম, আলু ও দেশি পেয়াজ-এই তিন পণ্যের দাম দেয় সরকার। বেঁধে দেয়া দাম অনুযায়ী, প্রতিটি ফার্মের ডিম ১২ টাকা, খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম ৩৫ টাকা থেকে ৩৬ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজের দাম হবে ৬৪ টাকা থেকে ৬৫ টাকা।

এ ছাড়া একই দিন সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দামও কমানোর ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পরে সেদিন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভোজ্যতেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য কমায় দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমানো হয়েছে। ফলে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা কমিয়ে ১৬৯ টাকা এবং ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৮২৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের দাম ৪ টাকা কমিয়ে ১২৪ টাকা করা হয়েছে।




আলু-পেঁয়াজের দামও বেঁধে দিলো সরকার

প্রতি পিস ডিমের দাম ১২ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি আলু ও পেঁয়াজের দামও বেঁধে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

 

তিনি বলেন, পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আলুর দাম হবে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা ভোক্তা পর্যায়ে। আর পেঁয়াজের দাম ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার মাঠে থেকে এটি মনিটরিং করবেন।

সয়াবিন তেলের দাম পাঁচ টাকা কমে আসবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাজারে কোনো কারণ ছাড়াই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন ন্যায্যদাম কার্যকর করবো।

মন্ত্রী বলেন, নতুন করে টিসিবির কার্ড করা হচ্ছে। আমরা (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ৫০ লাখ পরিবারের জন্য কার্ড করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক কোটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাকিগুলো শিগগির মানুষ হাতে পেয়ে যাবে। কার্ডের কাজ চলছে।

দেশে সাড়ে তিন কোটি দরিদ্র মানুষ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এরমধ্যে এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য দিচ্ছি। অর্থাৎ পাঁচ কোটি মানুষ এ সেবায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একটি পরিবারে গড়ে পাঁচজন করে সদস্য থাকে। তারপরও যদি কোনো দরিদ্র মানুষ টিসিবির সেবা থেকে বাদ পড়েন, সে বিষয় আমরা দেখবো।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে খাদ্যখাতে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কথা জানায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্যে প্রকাশ করা হয়।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্য মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। ২০২০ সালে খাদ্য খাতে ১০০ টাকার পণ্যে ৫ টাকা ৫৬ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছিল। একই পণ্যে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বেড়েছে ১২ টাকা ৫৪ পয়সা।




পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশীয় পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্পর্কিত গবেষণায় সহযোগিতা করার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার (৯ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশে সফররত যুক্তরাজ্যের বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড স্টেট মিনিস্টার নাইজেল হাডলস্টোনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২য় বৃহত্তম আরএমজি রপ্তানিকারক, ৩য় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী, বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদক এবং অভ্যন্তরীণ মিষ্টি জলের মৎস্য চাষের ৫ম বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ। এছাড়া উচ্চ মানের ওষুধ, জেনেরিক ওষুধ, অনন্য পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, সিরামিক, আসবাবপত্র, খেলনা এবং ইলেকট্রনিক পণ্যসহ অনেক বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এসব পণ্য আমদানির জন্য অনুরোধ জানান।

যুক্তরাজ্য বর্তমানে বাংলাদেশের ৩য় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য উল্লেখ করে টিপু মুনশি জানান, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করেছে এবং যুক্তরাজ্য থেকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানি করেছে।

তিনি বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে অর্থ ও বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে একযোগে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের উত্তম জায়গা জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঢাকা মেট্রো রেলের উদ্বোধন, ঢাকা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কক্সবাজারে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দেশভিত্তিক আলাদা অর্থনৈতিক জোন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় যুক্তরাজ্যের বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড স্টেট মিনিস্টার নাইজেল হাডলস্টোন তার দেশ বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি এভিয়েশন, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষার বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




চিনির বাজার মনিটরিংয়ের  নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

নির্ধারিত মূল্যে বাজারে চিনি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা মনিটরিংয়ের জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ওমেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড হারবাল প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ নির্দেশ দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েই চলেছে। যার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য ট্যারিফ কমিশনকে বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে দেশের চিনির দামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মূল্যের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সেটা আমরা সমন্বয় করবো।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিনির ওপর যে শুল্কহার নির্ধারণ করা আছে তা কমানো অথবা ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ করবো। এটি করা হলে চিনির দাম কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

টিপু মুনশি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হ্রাসকৃত মূল্যে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য সাধারণ মানুষের হাতে নাগালে রাখার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু যেসব পণ্য আমদানি করতে হয় সেসব পণ্যের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিক্রি করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দেশে চিনি ও ভোজ্যতেলের চাহিদার বিপরীতে প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। এ দুই পণ্যের দাম ওঠানামা করে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে।

এর আগে সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে টিপু মুনশি বলেন, আয়ুর্বেদিক ওষুধশিল্প একটি প্রাচীন চিকিৎসাব্যবস্থা। যা মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে এর উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশসমূহ আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করে থাকে। আমরাও আমাদের দেশে উৎপাদিত আয়ুর্বেদিক ওষুধ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি। এজন্য সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় আয়ুর্বেদ ওষুধ শিল্প খাতকে কাজে লাগাতে হলে গবেষণার ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। এছাড়া এর উপরকারিতা সবার কাছে পৌঁছাতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে। আমরা অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। আয়ুর্বেদিক ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার।

এতে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক বোর্ডের সদস্য আ. খ. মাহবুবুর রহমান সাকী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান।




হাঙ্গেরি বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাঙ্গেরি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

একই সঙ্গে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (৬ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, শুক্রবার (৫ মে) রাতে বুদাপেস্টে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার সিজ্জারটো এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানায়।

পিটার সিজ্জারটোর আমন্ত্রণে হাঙ্গেরি সফর করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এটি বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্যমন্ত্রীর হাঙ্গেরিতে প্রথম সরকারি সফর।

টিপু মুনশি বলেন, বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা, আকর্ষণীয় প্রণোদনা এবং অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশসহ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে।

বৈঠকে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

হাঙ্গেরির ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিতে অনুরোধ জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি এবং বিভিন্ন বিদেশি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে ভূমিকা রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী এসময় হাঙ্গেরির সরকারকে ইইউ আলোচনাকালে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নীতি সহায়তা এবং অপারেশনাল সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। বিশেষ করে এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণের পর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশাধিকারের ব্যাপারে সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় হাঙ্গেরির বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে তার দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতকালে, উভয় মন্ত্রী বিগত সময়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়ে তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের জন্য নতুন উপায় খোঁজার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

 

এছাড়া দুই দেশের বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের আরও কাছাকাছি আনতে বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন, যা দুই দেশের মধ্যে বি-টু-বি সংযোগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলেও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বিশেষ করে জ্বালানি, বেসামরিক বিমান চলাচল, রেলওয়ে, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, আইটি পরিষেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ‘Stipendium Hungaricum’ প্রোগ্রাম নিয়ে উভয় মন্ত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, যার অধীনে ১৪০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হাঙ্গেরি থেকে সম্পূর্ণ সরকারি বৃত্তি নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

বৈঠককালে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার সিজ্জারটো ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তার সফল বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন।




বিশ্ববাজারের তুলনায় আমরা ভালো আছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জিনিসপত্রের দামে প্রভাব পড়া প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী বলেছেন, ‘বিশ্ববাজারের তুলনায় আমরা ভালো আছি।’ সোমবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় পর্বে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম ও অস্থায়ী আপদকালীন পণ্য মজুদগার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পণ্যের সমস্যা নেই, তাহলে বাজারে দাম কমছে না কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবকিছু নয়। আপনারা যেমন ভাবছেন মুরগীর দাম, এটা কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল করে না। সবার ধারণা হয়েছে যাই বাড়বে সব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রয়লারের দাম বেড়েছে সেটা মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমরা চেষ্টা করি ভোক্তাদের যেন কষ্ট না হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব পণ্য সেগুলোর দাম আমরা ঠিক করে দেই। আমরা প্রত্যক্ষভাবে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি। এখন যদি বলেন, ধান উৎপাদনের সমস্যার উত্তর দিতে হবে সেটি তো আমি দিতে পারবো না। চালের দাম বাড়লেও বলা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কি করে।’

রমজানে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর আগের চারটি রমজান আর এবারের রমজান তুলনা করলে দেখবেন আগের চেয়ে ভালো। সংকট গভীর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি।’

এসময় তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম যে ২৫ টকা হয়েছে সেটা তো বলেন না, সেটার অ্যাপ্রিসিয়েশনটা চাই। ইংল্যান্ডের দোকানে তিনটির বেশি টমেটো কিনতে পারেন না। জার্মানির স্টোরগুলোতে তেলের তাক খালি পড়ে আছে। সারা বিশ্বের বাজারে একই অবস্থা। সেই বিবেচনায় আমরা ভালোই আছি।’

টিপু মুনশী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে আমরা ১ কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে ডাল, তেল, চিনি এবং রমজান উপলক্ষে ছোলা ও ঢাকা শহরে খেঁজুর দিয়েছি। প্রতি মাসে একবার দেই। কিন্তু রমজান মাসের কথা চিন্তা করে আমরা দুই বার একই ধরনের পণ্য দিচ্ছি।’

তিনি বলেন ‘আমরা প্রথমে চিন্তা করছিলাম ৫০ লাখ মানুষকে দেওয়া যায় কি না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১ কোটি পরিবারকে দিতে। প্রতিটি পরিবারে যদি ৫ জন ধরি তাহলে ১ কোটি পরিবারের ৫ কোটি মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের দেশের দরিদ্রসীমায় আছে ৩ কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি। আমরা কিন্তু তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই সুবিধা দিয়েছি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় ১৩ লাখ পরিবারকে আমরা সহায়তা দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এটা চালিয়ে যেতে বলেছেন। করোনা মহামারি গেছে, মহামারি-অতিমারি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সবকিছুর প্রভাব মানুষের ওপর পড়েছে। আমরা শুরু করেছি, আশা করি সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবো এই কার্যক্রম।’

এক কোটির বাইরেও বেশি সংখ্যক মানুষকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক কোটিকে আমরা ধরেছি। কোথাও কোথাও দেখা যায় কিছু বাদ পড়ে গেছে সেক্ষেত্রে আমরা ১-২ হাজার বাড়াই।’