আইএসপিএবি সভাপতি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাত উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম।

তিনি বলেন, এই বাজেটে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি কিছুই পায়নি। কোনো ধরনের কর অবকাশ কিংবা কর ছাড়ের সংবাদ আমরা পাইনি। আমাদের প্রত্যাশা কিংবা প্রস্তাবনার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি বাজেটে।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকার বনানীতে আইএসপিএবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। লাইসেন্সধারী আইএসপি প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, বাজেটে আমরা চেয়েছিলাম, প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের যে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে, সেটি যেন মওকুফ করা হয়। এটি আমাদের দাবি ছিলো। কিন্তু সেটি আমরা পাইনি। আমরা স্পষ্টভাবে চেয়েছিলাম আমাদের শিল্পকে আইটি এনাভল সার্ভিস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক, সেটা দেওয়া হয়নি। আমরা আমাদের নেটওয়ার্কে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করি—রাউটার, সুইচ ও অপটিক্যাল ফাইভারসহ বিভিন্ন উপকরণে কর অবকাশ চেয়েছিলাম, যে ধরনের ভ্যাট আছে তা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেখানে কোনো ধরনের নতুন কোনো ছাড় দেয়নি। আগের মতোই উচ্চকর রয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা থাকলেও দেশের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড খাতের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য কর অবকাশ বা প্রণোদনা রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন আইএসপিএবি সভাপতি।

তিনি বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ফ্রিল্যান্সিং বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাজেটে সেই মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকার ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য কর সুবিধা দিয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে কম মূল্যে ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা না পেলে একজন ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর কার্যক্রম পরিচালনা করবেন কীভাবে—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি মৌলিক সেবার পর্যায়ে চলে গেছে। অথচ আবাসিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে বাজেটে কোনো ঘোষণা আসেনি।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের বিপরীতে মোবাইল অপারেটরদের প্রায় ৩২ কোটি ৮০ লাখ বৈধ সিম সক্রিয় রয়েছে। ফলে মোবাইল খাত ইতোমধ্যে ব্যাপক বিস্তৃতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড খাত এখন পর্যন্ত মাত্র দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে উচ্চগতির ও উৎপাদনশীল ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনতে পেরেছে। অর্থাৎ, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো মানসম্মত ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে ভ্যাট প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন কর সুবিধা প্রয়োজন ছিল। এতে ইন্টারনেট ব্যবহার আরও সাশ্রয়ী হতো এবং নতুন গ্রাহক সংযুক্ত করা সহজ হতো। ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ওপর উচ্চহারে কর আরোপিত থাকায় বিনিয়োগ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

আইএসপিএবি সভাপতি আরও বলেন, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, ওএলটি, রাউটারসহ বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের ওপর ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, অগ্রিম আয়করসহ বিভিন্ন কর মিলিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করভার বহন করতে হয়। ফলে নতুন অবকাঠামো স্থাপনে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও করের চাপ বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে উৎপাদনশীল ইন্টারনেট সেবার প্রসারে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা জরুরি। অন্যথায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে, দেশের অন্যতম ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডট ইন্টারনেটের করপোরেট কার্যালয়সহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং নেটওয়ার্ক দখলকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে আইএসপিএবি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ জুন রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় ডট ইন্টারনেটের প্রধান কার্যালয়সহ রাজধানীর বাড্ডা, চাঁদপুর সদর, কুমিল্লার দেবিদ্বার, গাজীপুর ও বগুড়ায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ নয়, বরং দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত।




জাতীয় সংসদের দেশের ৫৫তম বাজেট উপস্থাপন

দেশের ইতিহাসের রেকর্ড ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার নিট ঘাটতি ও ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় নতুন সরকারের হয়ে প্রথম এবং দেশের ৫৫তম এ মেগা বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বিশাল বাজেটে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে ৫ বছরের ঐতিহাসিক আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণার পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর কাঠামোয় বড় ধরনের ওলটপালট আনা হচ্ছে এ মহাপরিকল্পনায়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট উপস্থাপন। সংসদে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই বাজেট উত্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেয়।




উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এবারের বাজেটে বাতিল করা হয়েছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। রবিবার (২২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার সংসদ ছাড়াই আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গত ২ জুন সোমবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভি এবং অন্যান্য বেসরকারি গণমাধ্যমে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার এই নতুন বাজেট একযোগে প্রচারিত হয়।

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গত ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হয়। এরপর কিছু সংযোজন-বিয়োজন কর বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাজেটের এ চূড়ান্ত খসড়া আজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে তা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। এক্ষেত্রে আজই বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ এবং শুল্ক-কর সংক্রান্ত আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করার কথা রয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের আমলে বাজেট জাতীয় সংসদেই উপস্থাপন করা হয়। পরে মাসজুড়ে সেই প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হতো সংসদে। জুন মাসের শেষ দিকে সংসদে পাস হতো নতুন অর্থবছরের বাজেট। এবার সংসদ না থাকায় সংসদের আলোচনা বা বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। তবে বাজেট ঘোষণার পর প্রস্তাবিত বাজেটের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে মতামত নেওয়া হয়।




কালোটাকা সাদা করার সুবিধা তুলে দেওয়া হবে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুবিধা তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ হিসেবে বাজেটে কিছু সুযোগ থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিড আয়োজিত বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা জানান।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ খুব একটা কাজে আসে না। পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে কিনে কেউ যদি এক কোটিও দেখাতে না পারে, তাহলে এটা থাকার তো কোনো দরকার নেই। এতই যখন আলোচনা হয়েছে, তা তুলে দেওয়া হোক।

এ সময় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়টি একটি প্রস্তুতিহীন পরিকল্পনা। তারা এজন্য প্রস্তুত নন।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, এটি একটি প্রস্তুতিহীন পরিকল্পনা, আমরা কোনোমতেই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত নই।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী প্রযুক্তির ব্যবহারে শিল্পখাতে কর্মসংস্থান কমার শঙ্কা আছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্র্যাজুয়েশন আমাদের হয়ে গেছে ২০২১ সালে। এখন আমরা প্রথম তিন বছরের পর দুই বছর এক ধরনের গ্রেস পিরিয়ডে আছি। এখন নতুন করে যদি তিন বা পাঁচ বছর চাওয়া হয়–এটা এক ধরনের আবদার হতে পারে।




বাজেটে যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করা হোক : আনু মুহাম্মদ

আগামী ২২ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাসের আগে বাজেটে যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

শনিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ‘বাজেট : দেড় দশকের অভিজ্ঞতা ও অর্থনীতির গতিপথ ‘ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন লেখক কল্লোল মোস্তফা, গবেষক মাহা মির্জা প্রমুখ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এবারের বাজেটে দেখা যাচ্ছে যে, সুদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। এটা যদিও বর্তমান সরকারের দোষ না। এটার জন্য আগের সরকারই দায়ী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন যেসব সংস্কার কমিটিগুলো রয়েছে, তারা যেসব সুপারিশ দিয়েছে, সেগুলো অল্প করেও যদি বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলেও বাজেটে কিছুটা নতুনত্ব আসতো। সংস্কার কমিশনগুলো কি স্রেফ অলংকার হিসেবে রয়েছে নাকি, আমার জানা নেই। আমি চাই, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হোক।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার মেগা প্রকল্প থেকে বের হতে চায়, এটা তাদের প্রত্যাশা। কিন্তু যেসব মেগা প্রকল্প এখন চলমান রয়েছে, সেগুলোরও একটি পর্যালোচনা করতে হবে। উন্নয়ন নাম দিয়ে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিলাসী ও জনগণের জন্য বিপদজনক। যেমন— রূপপুর, মাতাবাড়ি, রামপাল, এসব প্রকল্প থেকে সরকারের বের হয়ে আসার কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি। এখন থেকে বের হওয়ার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিতে পারতো, তা হলো জাতীয় সক্ষমতার উন্নয়নের বিকাশ ঘটানো। আর এই বিকাশ ঘটানো হলে অনেক কম দামে আমরা গ্যাস পাবো, বিদ্যুৎ খাতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি রয়েছে তা আর দিতে হবে না। পরিবেশ বিনাশী কোনো প্রকল্পেও যেতে হবে না সরকারের।

তিনি আরও বলেন, তবে দুঃখজনক যে, বর্তমান সরকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছে, তাতে এই ধরনের পরিকল্পনা নেই। বাজেটে আগের ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে, ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন শুধু শিরোনামে দেখা যায়, বাস্তবতায় তা হলো জনগণের জীবন বিপন্নকারী। আমরা চাই ২২ তারিখের আগে বাজেটে যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করা হোক।




টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করবো না : পরিকল্পনা উপদেষ্টা

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করবো না। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের যে বাজেট আসছে, এটা শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের বাজেট। বাজেটের আকার ছোট হলেও বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট হবে এবার।

রোববার (১৮ মে) শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় সম্বলিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বাজেট ব্যবস্থাপনা টেকসই করা হলো আমাদের মূল লক্ষ্য। এ বাজেটে আমাদের রাজস্ব বৃদ্ধি করার চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে জিডিপি ৪ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টাও আমরা করছি। টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করবো না। সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব না পড়লেও কিছুদিন পরে তা মূল্যস্ফীতির ওপর কিছু প্রভাব পড়ে। বেতন বৃদ্ধি করলেও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে। এবার দায়িত্বজ্ঞানহীন বাজেট হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে এমন প্রকল্প নেওয়া হবে না। তবে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণে হবে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে। তবে এই প্রকল্পে জাপান স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। আমরা বাজেট ব্যবস্থাপনা টেকসই করা হবে। বাজেটের নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা ফেরানো হবে। টাকার অঙ্কে ছোট হলেও বাস্তবসম্মত বাজেট হবে। গতবারের থেকে এবার বাজেট ছোট হলেও কার্যকরী। বাজেট বাস্তব সম্মত করছি, ছোট নয়। আমরা আশা করবো, দ্রুততার সঙ্গে সব কিছু বাস্তবায়ন করবো। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি তবে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু কোথাও ডাক্তার নাই। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে পরিচালন ব্যয় মেটানো হবে। উন্নয়ন বাজেটে এই খাতে নজর দেওয়া হবে। স্কুলের সমস্যা, বাচ্চাদের স্কুলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

কিছু প্রকল্পের সমালোচনা করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, এডিপিতে যত প্রকল্প আছে সবই চলমান প্রকল্প। কিছু আছে যা ধুঁকে ধুঁকে খুড়াচ্ছে। অত্যাধিক প্রকল্পের বিড়ম্বনা দেখা দিচ্ছে। কিছু প্রকল্প আছে তা গিলতেও পারি না ফেলতেও পারি না। সু পরিকল্পিত প্রকল্প নয় এগুলো। কর্ণফুলী টানেল দিয়ে কোথায় যাবো জানি না। এটা কেন বানানো হলো। টানেল পার হয়েই ধু ধু মরুভূমি। এটা প্রকল্প না শুধু রিসোর্টে যাওয়ার জন্যই এই প্রকল্প। ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প ৩ হাজার কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হলো। অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ। তবে বাকি কাজ বাস্তবায়ন করতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। নিজের বাড়ির লিফট নষ্ট হয়, ঠিক করা হয় না, সুতরাং এই প্রকল্পের লিফট কীভাবে ঠিক হবে। বাসগুলো কেনা হয়নি। কোরিয়া থেকে আনা হবে। বাসগুলো স্পেশাল অর্ডার দিয়ে আনতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। সামন ঈদ আছে, র‍্যাপিড বাস ট্রানজিট ভুলে যান, সবকিছু খুলে দেন। যাতে করে এই রুটে ঈদে জটলা তৈরি না হয়।




আয়কর রিটার্ন সনদ ঝুলিয়ে না রাখলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সনদ ঝুলিয়ে না রাখলে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন কর কর্মকর্তারা। বাজেটে এমন প্রস্তাব দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট দেবেন। সেখানে এই প্রস্তাব করা হতে পারে।

বর্তমানে সারা দেশে আড়াই লাখের বেশি প্রতিষ্ঠানের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) আছে। তাদের প্রতিবছর রিটার্ন দেওয়ার কথা। কিন্তু বছরে গড়ে ৫০ হাজারের মতো কোম্পানি রিটার্ন দেয়।

আবার প্রতিটি কোম্পানি নিজেদের আর্থিক প্রতিবেদন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেমে (ডিভিএস) জমা দেয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা কোম্পানির দেওয়া রিটার্নের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করতে ডিভিএসে প্রবেশ করতে পারেন।

অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির কিছু অপ্রদর্শিত আয় ও পরিসম্পদ প্রদর্শনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর নিজেদের এই অপ্রদর্শিত অর্থ ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার ঘোষণা আসতে পারে বাজেটে। পাশাপাশি কোম্পানির অপ্রদর্শিত সম্পদ নির্দিষ্ট হারে কর দিয়েও বৈধ করার সুযোগ দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী।

রেস্তোরাঁমালিকেরা আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে তাঁদের ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না, এমন ঘোষণাও আসতে পারে বাজেটে। এর মানে, রেস্তোরাঁর লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নকালে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের রিটার্ন জমার অনুলিপি লাগবে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সাড়ে চার লাখের মতো ছোট-বড় রেস্তোরাঁ আছে।

এদিকে বর্তমানে ৩০ নভেম্বর কর দিবস পালিত হয়। ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির রিটার্ন জমা দিতে হয়। প্রায়ই নানা কারণ দেখিয়ে একাধিক দফায় দুই-তিন মাস সময় বাড়ায় এনবিআর। অর্থমন্ত্রী এবার এনবিআরের এই ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারেন। প্রস্তাব আসতে পারে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন জমার জন্য এনবিআর সর্বোচ্চ এক মাস সময় বাড়াতে পারবে।

এদিকে যেকোনো ধরনের ট্রাস্টের লেনদেন বা টার্নওভারের ওপর ৩ শতাংশ কর বসানোর প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।




ভোক্তার স্বস্তি ফেরাতে  আসন্ন  বাজেটে নিত্য প্রয়োজনীয় ৩০ পণ্যে কমছে কর

নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার স্থিতিশীল রাখা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে অন্তত ৩০ প্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যশস্য সরবরাহের ওপর উৎসে কর কমানো হচ্ছে। আসছে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যে উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয় তবে বাজারে এই পণ্যগুলো আগের চেয়ে কমমূল্যে কিনতে পারবেন ভোক্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রানুসারে পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- পেঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, চাল, গম, আলু, মসুর, ভোজ্যতেল, চিনি, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, ময়দা, আটা, লবণ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, খেজুর, তেজপাতা, পাট, তুলা, সুতা এবং সব ধরনের ফলসহ ৩০ পণ্য।

অন্যদিকে প্যাকেটজাত গুঁড়াদুধ আমদানিতে কারহার কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আড়াই কেজি ওজন পর্যন্ত গুড়াদুধের ওপর করহার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসছে। বর্তমানে গুঁড়াদুধের বাল্ক আমদানিকারকদের জন্য মোট করহার ৩৭ শতাংশ।

আর আগে গত ১৪ মে গণভবনে বাজেট বিষয়ক সভায় বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকেও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার স্থিতিশীল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগের বাজেট বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। ওই সভায় কৃষি উপকরণ ও সার আমদানিতে শুল্ক না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে। খাদ্যদ্রব্য ও খাদ্য বহির্ভূত জিনিসপত্রের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ২২ শতাংশ।

এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগের মাসের ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশে। আর খাদ্যবহির্ভুত খাতে মূল্যস্ফীতি ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে। এপ্রিল মাসে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকার মানুষ বেশি পরিমাণে মূল্যস্ফীতির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।