শেয়ারবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ রিয়াজ ইসলাম

ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বিনিয়োগের অভিযোগে শেয়ারবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই ছয় মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই ঘটনায় যোগসাজশের দায়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকেও পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

যদিও এর আগে বেক্সিমকোর বন্ডের অনিয়মের দায়ে শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন আরেকটি অনিয়মের ঘটনায় তাঁকে পুনরায় শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিএসইসি।
সভা শেষে বিএসইসির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অনিয়মের ঘটনায় ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, তাঁরা হলেন এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলাম, রেজাউর রহমান সোহাগ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শরীফ আহসান, মদিনা আলী, সৈয়দ কামরুল হুদা, ওমর শোয়েব চৌধুরী ও বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয় বিজিআইসিকে। আর ছয় ব্যক্তিকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই ১ কোটি টাকার বাইরে রেজাউর রহমান সোহাগকে আরো ১০ লাখ টাকা এবং শরীফ আহসানকে আরো ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের হাতে থাকা ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে শেয়ারবাজারে ওটিসি বাজারে থাকা বন্ধ কোম্পানি পদ্মা প্রিন্টার্সের শেয়ারে দুই দফায় প্রায় ৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।

প্রথম দফায় বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানি পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালারের ৫১ শতাংশ শেয়ার চড়া মূল্যে অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই শেয়ার অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটির নাম বদলে করা হয় কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড। নামবদলের পর কোয়েস্ট বিডিসির মূলধন বাড়াতে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যু করে ছয়টি ফান্ড থেকে দ্বিতীয় দফায় ৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
বিএসইসি বলছে, বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ার চড়া মূল্যে কিনে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে এই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলত ফান্ডগুলোর ইউনিটধারীদের অর্থেরই অপচয় করা হয়েছে। এ কারণে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানটি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি।

সেই সঙ্গে ছয়টি ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করা অর্থ–সুদসহ ৯০ কোটি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় থাকা যে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ নিয়ে এই অনিয়ম ও অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো হলো এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও গ্রিন ডেলটা মিউচুয়াল ফান্ড।




পুঁজিবাজারে উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি

দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কাজ করবে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এমন মন্তব্য করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে যা দরকার সবই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি করবে। আর এ দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা একসঙ্গে কাজ করবে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বেশ কিছু সংস্কারের বিষয় রয়েছে। সেগুলোও কিভাবে আরও দ্রুত স্বম্পন্ন করা যায় তা নিয়েও গভর্নরের সঙ্গে আজকে আলোচনা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ নিয়ে কোনো আলাপ হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবিষয়ে কোনো আলাপ হয়নি’।

আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবার চার দিন পর (০৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেন হাসিনার আস্থাভাজন আবদুর রউফ তালুকদার। এর পরের দিনই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকসংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে যখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে। মূল্যস্ফীতির এই চিত্র ১৩ বছর ৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঠিক এ রকম সময়েই (১৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩তম গভর্নরের দায়িত্ব পান বিশিষ্ট গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

অন্যদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান সাবেক ব্যাংকার ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকা খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসলেন এই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।




বিএসইসি কমিশনার পদ থেকে ড. এটিএম তারিকুজ্জামানকে অব্যাহতি

কমিশনার পদ থেকে ড. এটিএম তারিকুজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ড. এটিএম তারিকুজ্জামানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ৮ নং শর্তানুযায়ী তাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য ৩ মাসের নোটিস প্রদান করা হলো। তিনি ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখের পর থেকে বিএসইসির কমিশনার পদে বহাল থাকবেন না।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।




শিবলী রুবাইয়াত ও তাঁর ছেলের ব্যাংক হিসাব স্থগিত

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ও তাঁর ছেলে জুহায়ের সারার ইসলামের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বিএফআইইউয়ের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হিসাব জব্দ করাদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সব লেনদেন বন্ধ থাকবে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় বাড়ানো হবে।

লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ও তার ছেলে জুহায়ের সারার ইসলামের পিতা-মাতার নাম এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো হিসাব স্থগিত করা হলে হিসাব সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।

প্রবল গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর অতি আস্থাভাজন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও চলতি বছরের ২৮ মে তাকে ৪ বছরের মেয়াদে পুনঃনিয়োগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০২০ সালের ১৭ মে তাকে প্রথমবার বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের মেয়াদে পুঁজিবাজারে ব্যাপক লুটতরাজ হয়েছে বলে আভিযোগ আছে। অভিযোগ অনুসারে, তারসঙ্গে যোগসাজশ করে হাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বাজারে লাগামহীন কারসাজি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফতুর করে দিয়েছেন আবুল খায়ের হিরো, এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমালসহ শিবলীঘনিষ্ট চক্র। পর্ষদ পুনর্গঠনের নামে বিভিন্ন কোম্পানিতে নিজের ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচালক হিসেবে বসিয়ে নতুনভাবে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া; ব্যবসা না করতে পেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিকে নিজের লোকদের হাতে তুলে দিয়ে সেগুলোকে পুনরায় বাজারে নিয়ে এসে বিনিয়োগকারীদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেন তিনি।




মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. মিজানুর রহমান বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে শেয়ারবাজারে এই খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম। যেটা ১৬ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু এটা হওয়া উচিত ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। তবে আগামি ১০ বছরে এই খাত অনেক এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে এসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) আয়োজিত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে ‘রোল অব এসডিজি অ্যানালিটিক্স ইন ক্যাপিটাল মার্কেট-বেজড ডেভেলোপমেন্ট ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন আরেক কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফ এর সভপাতি ড. হাসান ইমাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহি পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কোঅর্ডিনেটর অ্যান্ড ইকোনোমিস্ট জুবায়ের হোসেন।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া হিসাব মান পরিপালনে কঠোর কমিশন। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে মিউউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিরসন করে। যা ব্যক্তিগতভাবে করা কঠিন। এজন্য বিনিয়োগকারীদেরকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার আহবান করেন তিনি। এসময় তিনি ভালো কোম্পানি বাজারে না আনলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো করবে না বলে যোগ করেন।

রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফ এর সভপাতি ড. হাসান ইমাম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। এই খাতটি অনেক বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভালো করছে। শেয়ারবাজার যেখানে নেতিবাচক, সেখানে এই খাতের উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে শেয়ারবাজার নেতিবাচক ছিল। যেই ব্লু চিপস কোম্পানিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়, সেই ব্লু চিপস-৩০ সূচকও নেতিবাচক ছিল। এই অবস্থার মধ্যেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যবসায় ২৮৩ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এমনকি গত ১০ বছরের মধ্যে ৭ বছরই সূচক বৃদ্ধির তুলনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো করেছে বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয়ের প্রধান উৎস বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলো থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ এবং ক্যাপিটাল গেইন। কিন্তু গত অর্থবছরে দুই খাতই ছিল মন্দা।

এরমধ্য দিয়েও লভ্যাংশ দিয়ে অ্যাসেট ম্যানেজজাররা দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে বলে তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কম নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেন উল্লেখ করে হাসান ইমাম বলেন, এই যে কোন কোন ইউনিট দর ৪-৫ টাকা, এটা কিন্তু অ্যাসেট ম্যানেজারদের পারফরমেন্স না। আপনাকে দেখতে হবে ওই ইউনিটের অ্যাসেট কত আছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশে সম্পদের তুলনায় অনেক কমে বা ডিসকাউন্টে ইউনিট লেনদেন হয়। যেটা আমেরিকায় সর্বোচ্চ ২০% হয়।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ডিভিডেন্ড ইল্ড বা প্রকৃত লভ্যাংশ ১৫-২০%। যা অন্যসব খাতের শেয়ারে সম্ভব না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, বন্ডের কূপণ রেট থেকে কর অব্যাহতি দেওয়া দরকার। তাহলে ইউনিটহোল্ডাররা ভালো লভ্যাংশ পাবে।

এলআর গ্লোবালের সিআইও রিয়াজ ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবে শেয়ারবাজার এগোয়নি। এটা শেয়ারবাজারের জন্য খারাপ খবর। এটা সমাধান করা সম্ভব। যার অনেক সুযোগ রয়েছে।




পাওনার তথ্য দিতে বলেছে ডিএসই বিনিয়োগকারীদেরকে

ব্রোকারেজ হাউজ শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ বা শেয়ারের বিষয়ে কোনো দাবি থাকলে সে তথ্য জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিনিয়োগকারীদের ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বরাবর আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিনিয়োগকারীদের ইনভেস্টরস কমপ্লেইন্টস, আরবিট্রেশন অ্যান্ড লিটিগেশন ডিপার্টমেন্টে (আইসিএএলডি) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজটির লেনদেন ও ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট (ডিপি) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

 

২০১৭ সালের শেষ দিকে শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানির গ্রাহকরা জমাকৃত টাকা না পাওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করেন। আবার বেশকিছু গ্রাহক তাদের বিও হিসাবে শেয়ার না থাকা ও ঘাটতি দেখতে পান। তাদের অভিযোগ, গোপনে এসব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে কোম্পানিটি। এসব অভিযোগে কমিশনের নির্দেশক্রমে ডিএসইর পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এরপর ওই বছরের ১৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ডিপি লাইসেন্স স্থগিত ও সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দেয় ডিএসই। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের লিংক অ্যাকাউন্ট করে অন্য ব্রোকার হাউজে তাদের শেয়ার সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু যাদের টাকা ও শেয়ারের ঘাটতি আছে তারা তাদের প্রাপ্য পাননি। এ অবস্থায় ২০১৯ সালে বিএসইসির ৭০৩তম কমিশন সভায় অভিযুক্ত ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কোম্পানিটির মালিকদের শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রির প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা সেটিও ডিএসইকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।




লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চামড়া খাতের কোম্পানি লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এই নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি।

বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার বিষয়ে ডিএসইকে একটি তদন্ত করা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম চলতি বছরের ১৯ মার্চ মাসে ছিল ৪২ টাকা ৩০ পয়সা। যা বৃদ্ধি পেয়ে গত ৬ আগস্ট লেনদেন হয়েছে ১৩৬ টাকা ৫০ পয়সায়। শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়ার কারণে কোম্পানিটির ১৯ মার্চ থেকে পরবর্তী সময়ের জন্য লেনদেনের ওপর তদন্তের নির্দেশনা দিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর ডিএসইকে বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে পত্র মারফত ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের বোনাস লভ্যাংশে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর জন্য ৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ৮ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। কোম্পানিটির বোনাস লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৬৮ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ১৭ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৯ টাকা ৮৪ পয়সা।

২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৮৪ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৮ টাকা ১১ পয়সা। ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে ৫ শতাংশ স্টক ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। ২০১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৭ হিসাব বছরে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি একই হারে স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। আগের হিসাব বছরে ৭ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭২ পয়সা। এ বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৯৮ পয়সায়।




ন্যূনতম বিনিয়োগ থাকতে হবে ৩০ লাখ টাকা

পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনি কোম্পানিগুলোর প্লাটফর্ম এসএমই মার্কেটে লেনদেনের ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে সর্বনিম্ন বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে রিট নিষ্পত্তি শেষে এ বিষয়ে বিএসইসির আদেশ বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

তথ্যানুসারে, এসএমই মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে সর্বনিম্ন বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা ন্যূনতম বিনিয়োগসংক্রান্ত বিএসইসির আদেশ উচ্চ আদালতে বহাল থাকার কারণে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম বিনিয়োগসীমার শর্ত পরিপালনের আহ্বান জানিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

গত বছরের ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৮৩৩ তম কমিশন সভায় এসএমই মার্কেটে লেনদেনের ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে সর্বনিম্ন বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুরনো যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত পরিপালনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বিনিয়োগসীমা ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত করতে তিন মাস সময় দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে বিএসইসি।

তবে বিএসইসির এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাজধানীর দিলকুশার বাসিন্দা মো. রাজু হাসানের পক্ষে এ বিষয়ে একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবূ অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল। রিটের শুনানি শেষে ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে বিএসইসির পক্ষ থেকে আপিল করে বিএসইসি। আপিল নিষ্পত্তি শেষে এ বিষয়ে বিএসইসির আদেশ বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বেঙ্গল বিস্কুটস, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়স, এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, মাস্টারফিড এগ্রোটেক, অরিজা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও হিমাদ্রি লিমিটেডকে নিয়ে যাত্রা করে এসএমই মার্কেট। বর্তমানে এ মার্কেটে ১৭টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বেঙ্গল বিস্কুটস, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়স, এপেক্স ওয়েভিং, হিমাদ্রি লিমিটেড ও ইউসূফ ফ্লাওয়ার মিলসকে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেট (ওটিসি) থেকে এসএমই প্লাটফর্মে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ১২ কোম্পানি এ মার্কেটে কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুদিন ধরে ডিএসইর এসএমই সূচক নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ডিএসএমইএক্স সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ডিএসইর এসএমই মার্কেটে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে।




অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ায় বিএসইসি’র সম্মতি

পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৮ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

আইন অনুযায়ী, বিএসইসি’র অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারে না। তাই, বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা দেওয়ার লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট ছিল ২১ সেপ্টেম্বর।




ডিএসইকে তদন্ত করতে বিএসইসির নির্দেশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এসএমই প্লাটফর্মে লেনদেন হওয়া হিমাদ্রি লিমিটেডের শেয়ারদর সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে গত বুধবার ডিএসইকে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের সার্ভিল্যান্স বিভাগ থেকে এ চিঠি ইস্যু হওয়ার পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এক্সচেঞ্জটিকে এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বিএসইসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল হিমাদ্রি লিমিটেডের শেয়ারদর ছিল ৩৮ টাকা ৮০ পয়সা। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে ৩ হাজার ৬৯ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিএসইসির চিঠিতে। একই সঙ্গে কোম্পানির ২৭ এপ্রিল-পরবর্তী সময়ের গতিবিধি তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হিমাদ্রি লিমিটেডসহ চারটি ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটের (ওটিসি) কোম্পানি ও দুটি নতুন কোম্পানির লেনদেনের মাধ্যমে ডিএসইর এসএমই প্লাটফর্ম চালু হয়। কোম্পানিটি এ মার্কেটে ৯ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শুরু করেছে। এরপর দেড় বছর বা ১৮ মাস কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির গতি স্বাভাবিকই দেখা যায়। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ টাকা ৩০ পয়সায়। এর পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলছে। সর্বশেষ গতকাল লেনদেন শেষে কোম্পানির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭১৩ টাকা ৭০ পয়সায়। সে হিসাবে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩ হাজার ৬৭৮ টাকা ৪০ পয়সা বা ১০৪ দশমিক ২০ গুণ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে গত ৭ মে কোম্পানিটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ৭৭৪টি লেনদেন হয়। এরপর সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৪৫৯টি শেয়ার লেনদেন হয় গত ২ জুলাই। গতকাল কোম্পানিটির ১৭৮টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ার কারণে সহজেই এর শেয়ারদর প্রভাবিত হয়। এছাড়া এ প্লাটফর্মে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যাও সীমিত। মূল মার্কেটের তুলনায় এখানে শেয়ারদর বাড়া-কমার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণও কিছুটা শিথিল।




অতিশিগগিরই বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে

দেশে প্রথমবারের মতো কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অন্যদিকে দেশের মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের সেভাবে আকৃষ্ট করতে পারছে না। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছে বিএসইসি। সম্প্রতি বিএসইসির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ উদ্দেশ্যে ভারত সফর করেছে।

ভারতের মুম্বাইয়ে দেশটির সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (সেবি) কার্যালয়ে সম্প্রতি সেখানকার পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় হয়েছে। এ সময় মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়ার (এমসিএক্স) প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড খাতসংশ্লিষ্টরাও ছিলেন সেখানে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. গোলাম মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুকসহ বিএসইসি ও সিএসইর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি বিএসইসির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

 

সভায় বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠাসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কমোডিটি ডেরিভেটিভের বাজার সৃষ্টি এবং দেশের বাজারে কীভাবে সফলভাবে কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্যগুলোর সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে রয়েছে বিরাট আকারের ভোক্তা সম্প্রদায়। জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার সূচকে অব্যাহত উন্নতি করা বাংলাদেশে কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা ও কমোডিটি ডেরিভেটিভের বাজার সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা এবং এ মার্কেটের বিকাশের পথে নানা চ্যালেঞ্জ ও সেগুলো মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। এ সময় বাংলাদেশে এ ধরনের এক্সচেঞ্জ ও বাজার চালু হলে তার যথাযথ রেগুলেশন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নানা দিক নিয়ে ভারতের বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়।

এছাড়া সভায় ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড ও সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর বাজার নিয়ে আলোচনা হয় এবং ভারতের পুঁজিবাজারের মতো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে কথা হয়। ভারতের পুঁজিবাজারে ২০১৩ সালে মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির আকার ছিল ৭ দশমিক ৬১ লাখ কোটি রুপি, যা মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে ছয় গুণেরও বেশি বেড়ে ২০২৩ সালে ৪৬ দশমিক ৩৮ লাখ কোটি রুপি হয়েছে। সভায় বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতের পণ্যগুলোর উন্নতি সাধন ও জনপ্রিয় করার বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন খাত থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।

একই দিন কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে বিএসইসির প্রতিনিধি দলের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্য হিসেবে যে পণ্যগুলো ভারত ও বিশ্বজুড়ে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয় তার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি পণ্য হচ্ছে কটন বা তুলা। বাংলাদেশের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে প্রাথমিকভাবে যে কয়টি কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্য লেনদেন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে তার একটি হচ্ছে তুলা। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশ গভীরভাবে জড়িত হওয়ায় এ দেশে কটন কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্য হিসেবে ব্যাপক সম্ভাবনাময়। ভারতের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে কটনের মতো কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্যের লেনদেন তথা ট্রেডিং-ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া এবং এক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসহ এর নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত, অতিশিগগিরই বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে দৃঢ় ভিত্তিসম্পন্ন ও সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোয় কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠায় এবং দেশের বিনিয়োগকারীদের কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্যের লেনদেনের নিরাপদ বিনিয়োগের প্লাটফর্ম উপহার দিতে বিএসইসি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিএসইসি এরই মধ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের খসড়া বিধিমালা প্রস্তুত করেছে এবং বিধিমালা চূড়ান্তে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে।

দেশে কমোডিটি ডেরিভেটিভ মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য সিএসই ভারতের বৃহত্তম পণ্য ডেরিভেটিভ এক্সচেঞ্জ এমসিএক্সের সঙ্গে কাজ করছে। দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পরামর্শসেবা নেয়ার জন্য সিএসই এমসিএক্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ফলে এমসিএক্স বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠায় কনসালট্যান্ট বা পরামর্শকের ভূমিকায় কাজ করছে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পেতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এমসিএক্স পরিদর্শন করে এবং এর পরিচালনা পদ্ধতিসহ নানা বিষয় প্রত্যক্ষ করে।




পুঁজিবাজারে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন

পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত শেষ করে বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য মতে, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক মো. তাহসিন আহমেদ এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. মাহমুদুর রহমান।

তথ্য মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাজারে অনাকাঙ্খিত অস্থিরতা বিরাজ করছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পুঁজিবাজারে এ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লোকসানে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে।

অনেক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা তাদের কর্তৃপক্ষ এবং বিনিয়োগকারীদের মার্জিন লোন সম্পর্কে এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিচ্ছে। যার ফলে বাজারে মন্দভাব আরও গভীর হচ্ছে।

বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি এবং অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, যা পুঁজিবাজারকে আরো পতনমুখী করে তুলছে।

এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ব্যাক্তি বা চক্র যেন পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সে বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লিমিটেড এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুর সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসি এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিমের সৌজন্য সাক্ষাতে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মাহবুবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মচারী মাহবুবুর রহমানের ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শের-ই-বাংলা নগর থানায় বিএসইসি একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে। ওই ডায়েরির ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর, ‘শেয়ার বাজার ২০২১’ শিরোনামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে তিনি লিখেন ‘সবাই, আপনার যা কিছু শেয়ার আছে বিক্রি করে শেয়ারবাজার ছেড়ে দিন। সূচকটি ৫৬০০-এ নেমে আসবে। আমি এটা বলছি না। আতঙ্ক, এটাই বাস্তবতা।’

বিএসইসির সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়েছে, মাহবুবুর রহমান ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করে আসছেন।

ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ায় তাদের চিহ্নিত করতে গত বছর বিএসইসি একটি ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’ গঠন করে।

পুঁজিবাজার সংক্রান্ত গুজব নিয়ন্ত্রণে বিএসইসি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।




বিএসইসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্দেশনা দিয়ে ডিএসইকে চিঠি

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই বিএসইসি ও ডিএসইর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসইসির এসএমএমআই বিভাগ, সার্ভেইল্যান্স বিভাগ ও রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্সিং বিভাগের সাথে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে ওই সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্যই ডিএসইকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে ডিএসই সূত্র বলেছে।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতিগত জিজ্ঞাসা বা সহায়তা পেতে নির্মিত ডিএসই কর্তৃক কমিশনের সিএমআরআরসি বিভাগে পত্র প্রেরণের ক্ষেত্রে এসএমএমআই বিভাগকেও অনুলিপি প্রদান করতে হবে। যেন এসএমএমআই বিভাগ কর্তৃক ফলো আপ করা সম্ভব হয়।

ডিএসই কর্তৃক এমআইএ ডিভিশনের কাজের সাথে ডিএসইর সংশ্লিষ্ট ডেস্কসমূহের অফিসারদের তালিকা এমআইএ ডিভিশনে প্রেরণ করতে হবে। ডেস্কসমূহে অফিসারদের দায়িত্বে পরিবর্তন আসলে ডিএসই সে অনুযায়ী হালানাগদ তথ্য এমআইএডি ডিভিশনে প্রেরণ করতে হবে।

ডিএসইতে সংরক্ষিত অনুমোদিত প্রতিনিধিদের লাইভ ডাটাবেইজ শুধুমাত্র সংস্থাটির অভ্যন্তরীন ব্যবহারকারীদের জন্য খোলা রয়েছে। এ ডাটাবেইজে ডিএসইর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাবলিক ইনফরমেশনে রুপান্তর করতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে জমাকৃত অর্থ এবং বিও হিসাবে রক্ষিত সিকিউরিটিজ এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্রোকার ও ডিলারদের অসংশোধনযোগ্য ব্যাক অফিস সফটওয়্যার চালুর বিষয়ে সফটওয়্যার সরবরাহকারীদের তালিকাভুক্তিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত দেয় বিএসইসি। ৩১ মে তারিখের মধ্যে এই সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। ফলে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই এ প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি কোন বিষয়ে ডিএসইর কাছে জানতে চাইলে ডিএসই যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য কমিশনকে জানাবে। যদি ওই বিষয়ে ডিএসই কোন কিছু না জানে সেটিও বিএসইসিকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনের কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও তা বিএসইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

ডিফল্টার এবং আনউইলিং টেক হোল্ডার কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বিএসইসি এবং ডিএসই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। প্রয়োজনে আদালত, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে সমাধানের পথ নিরুপণ করা হবে- এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ট্রেক হোল্ডারদের সমন্বিত গ্রাহক হিসাব সার্বক্ষনিক তদারকির জন্য ব্যবহৃত অনলাইন মডিউলের এক্সেস এমআইএডি ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রদান করার জন্য ডিএসইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্রেক নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছরে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলেছে বিএসইসি।




১৪ কোম্পানির কার্যক্রম যাচাই করবে ডিএসই

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৪ কোম্পানির কারখানা পরিদর্শনের অনুমোদন পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ অনুমোদন দিয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, ডিএসইর পক্ষ থেকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানির কার্যক্রম ও কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। তবে বিএসইসির পক্ষ থেকে ১৪টি কোম্পানির কার্যক্রম পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যে ১৪টি কোম্পানি পরিদর্শনের অনুমোদন ডিএসইকে দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো ফরচুন শুজ, ন্যাশনাল ফিড মিলস, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, ফ্যামিলিটেক্স, কেয়া কসমেটিকস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, উসমানিয়া গ্লাস শিট, জাহিন স্পিনিং ও জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এর মধ্যে ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি ৮টি, ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত ৪টি ও ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত ২টি।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে সিকিউরিটিজ আইনের বিভিন্ন বিধিবিধান পরিপালন করছে না। কোনো কোনো কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করছে না। আবার কোনো কোনো কোম্পানির উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কোনো কোনো কোম্পানি নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম করছে না। ফলে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হচ্ছেন না।

 

সার্বিক বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, কোনোগুলো উৎপাদনে আছে কি না এবং আর্থিক প্রতিবেদনে এসব কোম্পানি আয়-ব্যয়সহ অন্যান্য যেসব তথ্য দিচ্ছে, সেগুলো যথাযথ কি না ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে পরিদর্শনে। এরপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ঢাকার বাজারে গত ছয় মাসে তিন গুণ হয়ে গেছে। অথচ ক্রয়াদেশ না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানি বর্তমানে মাঝারি মানের কোম্পানি হিসেবে ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত। ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে আসার পর প্রথম চার বছর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ করে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। এরপর থেকে কোম্পানিটি আর বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

আবার ২০১৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন শু ২০২২ সালের জন্য বোনাস ও নগদ মিলিয়ে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও এখনো তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করেনি। অন্যদিকে ফ্যামিলিটেক্স, উসমানিয়া গ্লাস ও জাহিনটেক্স ২০১৮ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এর মধ্যে ফ্যামিলিটেক্সের মূল উদ্যোক্তাদেরও কোনো হদিস মিলছে না। ডিএসইর কাছেও কোম্পানিটির হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই।

যে ১৪টি কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার একটি বড় অংশই ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর বাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের সময় এসব কোম্পানিকে বাজারে আনা হয়েছিল। ওই সময় মানহীন কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। ওই সময় অনেক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত না করতে ডিএসইর পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসার অনুমোদন দেয়। এখন এসে দেখা যাচ্ছে সেসব কোম্পানি একে একে খারাপ হতে শুরু করেছে। আর তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

যে ১৪ কোম্পানিকে নিয়ে এখন ডিএসই উদ্বিগ্ন, তার মধ্যে খায়রুল হোসেনের আমলে তালিকাভুক্ত হয়েছিল ৮টি। কোম্পানিগুলো হলো- ফরচুন শু, ন্যাশনাল ফিড মিলস, সেন্ট্রাল ফার্মা, ফ্যামিলিটেক্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন, রিজেন্ট টেক্সটাইল, জাহিন স্পিনিং ও জাহিনটেক্স।

ডিএসইর এ উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘যেসব কোম্পানি খারাপ হয়ে গেছে, সেগুলো পরিদর্শন করে খুব বেশি কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। পরিদর্শনের পর যদি জানা যায়, কোনো কোম্পানি বন্ধ, তাহলে সেগুলোর বিষয়ে কী করবে ডিএসই বা বিএসইসি? বড়জোর এসব কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা যাবে। তাই তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়ার আগেই যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেই কোম্পানি বাজারে আনা উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করা যাবে না।’




ফ্লোর প্রাইস-এর ১ বছর : ১৮১ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে

পুঁজিবাজারে যেন ‘আলাদীনের চেরাগ’ নেমে এসেছে। এই প্রদীপের ওপর ভর করে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ৫ গুণ ক্যাপিটাল গেইন (মুনাফা) হয়েছে। এই খাতের আরেক কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের মুনাফা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ গুণ।

গত এক বছরে একইভাবে ভ্রমণ খাতের কোম্পানি রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার শেয়ারের মুনাফা হয়েছে চার গুণ। অর্ধেক উৎপাদনে থাকা এমারেল্ড অয়েল কোম্পানির শেয়ারেও চার গুণ মুনাফা করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

অস্বাভাবিক মুনাফার কারণে ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ বনে গেছেন অন্তত ৫০ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা। এই ৫০ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা গত এক বছরে শেয়ার প্রতি সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ থেকে ৫২০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করেছেন। ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বেশকিছু ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দরপতন ঠেকাতে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ এ ‘থেরাপি’র এক বছর পূর্ণ হয়েছে গত ৩০ জুলাই (রোববার)।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রথম যেদিন পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয় সেইদিন ২২২ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের যা দাম ছিল, ঠিক এক বছর পর ৩০ জুলাই (রোববার) একই ছিল। অর্থাৎ ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেনি। বরং এখান থেকে কোম্পানিগুলো বার্ষিক লভ্যাংশ পেয়েছে।




কে অ্যান্ড কিউ’র মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটি বিদ্যমান ৫ কোটি ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৯ টাকা বাড়াবে। এজন্য কোম্পানিটি ১৭ লাখ ৮ হাজার ২৭৫টি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করবে। কে অ্যান্ড কিউ ১০ টাকা দরে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১ কোটি ৭০ লাখ ৮২ হাজার ৭৫০ টাকা উত্তোলন করবে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, কে অ্যান্ড কিউ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি ১৫ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এটা মাল্টিসোর্সিং লিমিটেডের সঙ্গে কে অ্যান্ড কিউ এর একীভূতকরণে উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে দিয়েছে।

বিএসইসির অনুমোদনের মাধ্যমে কে অ্যান্ড কিউ প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকার নতুন শেয়ার ইস্যু করবে। যা ইস্যু করা হবে মাল্টিসোর্সিং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে। যেগুলোর মালিক কে অ্যান্ড কিউ’র উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা। অর্থাৎ কে অ্যান্ড কিউ’র উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা ২২৩ টাকা বাজার দরের প্রতিটি শেয়ার পেতে যাচ্ছে ১০ টাকা করে।




সিএসইর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বিষয়ক কর্মশালা

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (সিএসই) বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১০ জুন) সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মশালায় সিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আব্দুল হালিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিম। এ সময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম, সিএসইর পরিচালক সজিব হোসেন, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মো. সিদ্দিকুর রহমান, মো. রেজাউল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. গোলাম ফারুক অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন।

বিএসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিম বলেন, আমাদেরকে নিজেদের কাজগুলো নির্দিষ্ট করে তা অর্জন করার জন্য লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। এই এপিআই চুক্তির আওতায় আমাদের কাজগুলো এমনভাবে ঠিক করতে হবে যেন আমারদের বাৎসরিক কর্মলক্ষ্য সফলতার সাথে অর্জন করা যায়। আমাদের আরও খেয়াল রাখতে হবে যে, সবার কাজের দক্ষতা সমান নয় তাই কাজ বণ্টনের জন্য আপনাদের অবশ্যই সবার কাজ করার সামর্থ্যকে বিবেচনা করতে হবে। দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য পুঁজিবাজারকেও তার অবদান রাখতে হলে প্রতি পদক্ষেপে উন্নয়নকে লক্ষ্য ধরে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। বিএসইসি টিম তার কাজ শুরু করেছে এবং আপনাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) মূলত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা দলিল। সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি প্রবর্তন করা হয়েছে। এই চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ, এ সকল কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গৃহীত কার্যক্রমসমূহ এবং এ সকল কার্যক্রমের ফলাফল পরিমাপের জন‌্য কর্ম সম্পাদন সূচক ও লক্ষ্য মাত্রাসমূহ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ার পর ওই বছরের চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্য মাত্রাসমূহের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রকৃত অর্জন মূল্যায়ন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত ভিশন ‘৪১ –‘উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ এর অংশীদার হিসেবে পুঁজিবাজারকে স্বয়ংক্রিয়, টেকসই ও উন্নত পুঁজিবাজারে রূপান্তরকরণে বিএসইসি রুপকল্প গ্রহণ করেছে এবং এর বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম পুঁজিবাজার উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ ও এপিএ সংক্রান্ত বিষয়ে তার উপস্থানা প্রদান করেন।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক সমাপনী বক্তব্যে কর্মশালা আয়োজনের জন্য বিএসইসিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, এই কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে আমরা আমাদের পুঁজিবাজার, সর্বোপরি দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরে আরও বেশি অবদান রাখতে পারব।




আলহাজ টেক্সটাইলের চেয়ারম্যানসহ ৩ পরিচালক অপসারণ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও দুই পরিচালককে অপসারণ করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সোমবার (৫ জুন) প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান খন্দকার কামারুজ্জামান এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক মো. জিকরুল হক এবং এএফএম আবদুল মঈনকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

প্রতিষ্ঠানটির বহিষ্কৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মিজানুর রহমানের মামলার প্রেক্ষিতে তাদের অপসারণ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে পর্ষদে নতুন তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও নিয়োগ করেছে। পরিচালকরা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারেকুজ্জামান ও নোভারটিস বাংলাদেশের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ফাহমিদ ওয়াসিক আলী।

এছাড়াও কোম্পানির দুই পরিচালক বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটসের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি মেম্বার মো. সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন খান কোম্পানিতে দায়িত্ব পালন করবে। এই চার জনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারেকুজ্জামানকে পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হবে।

এর আগের গত ২২ মে কোম্পানি পর্ষদ এমডি মিজানুর রহমানকে এমডি পদ থেকে বহিষ্কার করেন। তিনি কোম্পানির দ্বিতীয়তম শেয়ারধারী শেয়ারহোল্ডারহোল্ডার পরিচালকও। মিজানুর রহমান নিজ শক্তির বলে কোম্পানি সচিবকে বহিষ্কার করে।

এরপর পর্ষদ মিজানুর রহমানের জায়গায় তার শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও তার চাচাতো ভাই বখতিয়ার রহমানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

তারপর গত ২৫ মে বহিষ্কৃত এমডি মিজানুর ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এমডির ‘অবৈধ’ বদলির বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে এবং নতুন ব্যবস্থাপনাকে ব্যাংকিং লেনদেন চালিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য একটি মামলা দায়ের করেন। তার প্রেক্ষিতে কমিশন নতুন বোর্ডকে অপসারণ করেছে।

১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে কোম্পানিটি ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিলো। তার আগে ২০২০ ও ২০১৯ সালে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।

এদিকে চলমান হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসের ব্যবসায় কোম্পানিটি লোকসান করেছে। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ পয়সা।

২২ কোটি ২৯ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৯টি। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ১৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ।




এনসিসি ব্যাংককে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (৩১ মে) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডকে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের সম্মতি দিয়েছে।

বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ জুন।




ঢাকা ব্যাংককে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

তথ্য মতে, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনও কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডকে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের সম্মতি দিয়েছে।

বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট ছিল ২২ মে।




এসআইবিএলকে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (২৪ মে) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনও কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডকে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের সম্মতি দিয়েছে।

বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে ৫ জুন।




সাউথইস্ট ব্যাংককে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে সম্মতি দিল বিএসইসি

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (২৪ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৬ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডকে বোনাস লভ্যাংশ প্রদাণের সম্মতি দিয়েছে।

বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে ২৭ জুন।




গ্রীন ডেল্টা ড্রাগন এনহ্যান্সড ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন

গ্রীন ডেল্টা ড্রাগন এনহ্যান্সড ব্লু চিপ গ্রোথ ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ মে) বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিশন সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আজকের সভায় গ্রীন ডেল্টা ড্রাগন এনহ্যান্সড ব্লু চিপ গ্রোথ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করা হয়েছে। ফান্ডটির লক্ষ্যমাত্রা ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও ড্রাগন ক্যাপিটাল মার্কেট লিমিটেড যৌথভাবে ৫ কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ৪৫ কোটি টাকা সকল বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ফান্ডটির অভিহিত মূল্য ধরা হয়েছে ১০ টাকা। এর সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ড্রাগন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। ফান্ডটি ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করছে যথাক্রমে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।




এনআরবিসি ও এবি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার অনুমোদন

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত দুই ব্যাংকের বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যাংক দুইটি হলো- এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (এনআরবিসি) ও এবি ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে এনআরবিসি বিদায়ী বছরে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আর এবি ব্যাংকের পর্ষদ শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

পর্ষদ ঘোষণার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করে এই ব্যাংক। কমিশন সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে দুটির। মঙ্গলবার (২৩ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই জানায়, এনআরবিসি পর্ষদ গত ২ মে বোর্ড সভায় জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে সাড়ে ৪ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

সেই সিদ্ধান্তের আলোকে বিএসইসিকে মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ বোনাস শেয়ার ছাড়ার জন্য আবেদন করে। কোম্পানির আবেদনের বিষয়ে সম্মতিপত্র বিএসইসি দিয়েছে। কোম্পানির রেকর্ড ডেট অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মে।

এবি ব্যাংকের পর্ষদ ডিএসইকে জানিয়েছে যে, পর্ষদ গত ২ এপ্রিল বোর্ড সভায় জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিএসইসির কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। বিএসইসি আবেদনের বিষয়ে সম্মতিপত্র দিয়েছে। কোম্পানির রেকর্ড ডেট আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠিত হবে।




৫১০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার অনুমোদন পেল নগদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে ৫১০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ড ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ।

মূলত ব্যবসা সম্প্রসারণ, সেবা পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে এ অর্থ খরচ করবে নগদ। একইসঙ্গে পুরোনো কিছু ঋণও এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র মতে, কোম্পানিটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শুধু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে এ বন্ড বিক্রির অনুমতি পায়। বন্ডের প্রকৃতি হস্তান্তরযোগ্য, রিডিমেবল এবং অরূপান্তরযোগ্য। এর ফলে নগদ লিমিটেড খুব কম সময়ে লাভে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে নগদের হেড অব পাবলিক কমিউনিকেশন্স মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মর্যাদা পাওয়া নগদের গ্রাহক সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ কোটি পেরিয়ে গেছে। এত বড় সংখ্যক গ্রাহকের জন্য ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ, নেটওয়ার্ক তৈরি, চলমান ঋণ পরিশোধ, কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, আইটি সরঞ্জাম সংগ্রহ, বিপণন ও একইসঙ্গে প্রচারের কাজে বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ খরচ করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশে ছাপা টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস লেনদেনে গ্রাহকদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার জন্যে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

এই জিরো কুপন বন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং কুপনের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। জিরো কুপন বন্ডের মাধ্যমে কোম্পানিটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে লাভে আসবে বলে তারা আশা করছে।

২০১৯ সালে সেবা চালু করার পর একে একে নানা উদ্ভাবন দিয়ে বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে নগদ। একইসঙ্গে তাদের উদ্ভাবন আর্থিক খাতের বাজারে ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করেছে।

প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করায় নগদ এখন দৈনিক ১২শ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

এর আগে গত ১৭ মে ‘নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি’ নামে নতুন একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।




বোনাস লভ্যাংশ প্রদানেস ম্মতি পায়নি ঢাকা ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংকখাতে তালিকাভুক্ত ঢাকা ব্যাংকের সমাপ্ত হিসাব বছরের (৩১ ডিসেম্বর, ২০২২) ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ সংক্রান্ত সম্মতি এখনো দেয়নি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, সর্বশেষ সমাপ্ত বছরের জন্য ঢাকা ব্যাংক ১২ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিলো। যার মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে। কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড তারিখ আগামি ২২ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বোনাস লভ্যাংশ সংক্রান্ত সম্মতি এখনো দেয়নি বিএসইসি। এর ফলে পূর্ব ঘোষিত কোম্পানিটির নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। কিন্তু সম্মতি না পাওয়ায় বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারছে না ব্যাংকটি।

আইন অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে।




ডিএসইর ৭ ব্রোকারেজ হাউজের মূলধন সংক্রান্ত তথ্য চায় বিএসইসি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সাতটি ব্রোকারেজ হাউজের মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত ও রেগুলেটরি ক্যাপিটাল বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্তের জন্য এ ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তথ্য চেয়েছে। ডিএসইকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত ৯ মে বিএসইসির সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমানের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের কোয়ার্টারলি প্রতিবেদন যাচাইয়ে সাতটি ব্রোকারেজ হাউজের মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত ও রেগুলেটরি ক্যাপিটাল বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এতে করে ব্রোকারেজ হাউজগুলো মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত ও রেগুলেটরি ক্যাপিটালের নির্দেশনা পরিপালন করছে কি না, তাও জানা যায়নি। এ অবস্থায় ডিএসইকে চিঠি ইস্যুর তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউজগুলো হচ্ছে- এশিয়া সিকিউরিটিজ, হাবিবুর রহমান সিকিউরিটিজ, আরএকে ক্যাপিটাল, স্নিগ্ধা ইক্যুইটিজ, মীর সিকিউরিটিজ, আমার সিকিউরিটিজ ও সিএএল সিকিউরিটিজ।

এ ব্রোকারেজ হাউজগুলোর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের কোয়ার্টারলি হিসাবে ক্যাপিটাল ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে ১২০ কোটি টাকার সর্বনিম্ন ক্যাপিটাল রাখার বাধ্যবাধকতা থাকা আরএকে ক্যাপিটালের ঘাটতি ছিল ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এছাড়া এশিয়া সিকিউরিটিজের আট কোটি আট লাখ টাকা, হাবিবুর রহমান সিকিউরিটিজের ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা, স্নিগ্ধা ইক্যুইটিজের ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, মীর সিকিউরিটিজের চার কোটি ১৯ লাখ টাকা, আমার সিকিউরিটিজের ৬৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ও সিএএল সিকিউরিটিজের ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ক্যাপিটাল ঘাটতি ছিল।




বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালে নতুন এমডি নিয়োগ

দেশের শীর্ষস্থানীয় এনবিএফআই-বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে‌ছেন সুমিত পোদ্দার। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ছাড়পত্র পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২ মে) যোগ দেন তিনি।

সকা‌লে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালে যোগ দেওয়ার আগে সুদীর্ঘ ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে সুমিত পোদ্দার বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেডের স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্সকে লিড দিয়েছেন; এর আগে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাডভাইজরির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও রিভার স্টোন ক্যাপিটাল লিমিটেড, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড এবং অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে কাজ করেছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে সুমিত পোদ্দার বলেন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালে শীর্ষপদে যোগ দিতে পেরে তিনি গর্বিত; প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্যে অবদান রাখবেন বলেও জানান তিনি।

সুমিত পোদ্দার একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ আর্থিক পেশাদার ব্যক্তিত্ব; যিনি অভিজ্ঞতার সঙ্গে পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, কোম্পানি একত্রীকরণ ও অধিগ্রহন, আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ, ঋণ এবং ইক্যুইটি অর্থায়ন, লেনদেন পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে গ্রাহকদের পরামর্শমূলক পরিষেবা দেওয়ায় বিশেষজ্ঞ।

এমনকি অভিজ্ঞতার বিস্তৃত পরিসরে রয়েছে প্রযুক্তি, টেলিকম, ব্যাংক এবং এনবিএফআই, বিদ্যুৎ, শিল্প, রিয়েল এস্টেট, উৎপাদন এবং ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়ার বাস্তবতা। তার দক্ষতা এবং জ্ঞান গ্রাহকদের সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাদের আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।




এক্সচেঞ্জ অব লেটার স্বাক্ষর করল বিএসইসি ও এফএসএ

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্সি অব জাপানের (এফএসএ) প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা সভা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) ওই সভায় এ দুই সংস্থার মধ্যে একটি এক্সচেঞ্জ অব লেটার (ইওএল) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ এপ্রিল বিএসইসি’র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এফএসএ’র আলোচনা সভা হয়। সভায় বিএসইসি’র চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) ও আইওএসকো-এপিআরসি ভাইস-চেয়ার অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, এফএসএ’র কমিশনার নাকাজিমা জুনুচি এবং এফএসএ’র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ভাইস-কমিশনার ও আইওএসকো-এপিআরসি চেয়ার শিগেরু আরিজুমিসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক এবং পুঁজিবাজার সংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএসইসি ও এফএসএ‘র মধ্যে একটি ইওএল স্বাক্ষরিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আলোচনা সভায় অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএসইসি’র অবস্থান উল্লেখ করে এফএসএ’র সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ উদ্যোগে জাপানের টোকিও শহরে ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিস বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড জাপান’ শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে সহযোগিতা করছে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো) এবং দ্য জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি)। ওই অনুষ্ঠানে ২৫ এপ্রিল স্বাক্ষরিত ইওএলটি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএসইসি ও এফএসএ’র মধ্যে বিনিময় হবে। অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য বিএসইসির একটি প্রতিনিধিদল জাপানে অবস্থান করছে।




অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের রাইট শেয়ারের আবেদন বাতিল

সিআইবি প্রতিবেদন পরিচ্ছন্ন না থাকায় অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের রাইট শেয়ার ইস্যুর আবেদন নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি তিনটি শেয়ারের বিপরীতে একটি করে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু সিআইবি রিপোর্টে সমস্যা থাকায় তা বাতিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই তথ্য সোমবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ২০২১ সালের ২৯ জুনের বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) রাইট ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর রাইট শেয়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে বিএসইসিতে আবেদন পাঠানো হয়। বিএসইসির কোম্পানির সেই আবেদন নাচক বা বাতিল করেছে।

২০০৫ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১৭ লাখ ৫৬ লাখ ৯২০টি। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের সর্বশষ ২০২১ সালে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।




লভ্যাংশ ফেরত না দিলে কঠোর অবস্থানে যাব: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের পাওনা লভ্যাংশের এক টাকাও ছাড় দেওয়া হবে না। সুদে আসলে সব আদায় করা হবে। কোনো অজুহাত শোনা হবে না। লভ্যাংশ ফেরত না দিলে অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাব।

রোববার (১৬ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে বর্ষবরণের আমেজে নবতর উদ্ভাবন সিএমএসএফের তহবিল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সভাটির আয়োজন করে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বার্ডোর সাবেক চেয়ারম্যান ও সিএমএসএফের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য। বছর শেষে সেই লভ্যাংশ তাদের কাছে যাচ্ছে না। তারা পাচ্ছেও না। বিভিন্নভাবে রয়ে যাচ্ছে অন্য কোথাও। দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীর লভ্যাংশ না দিয়ে অন্য কোথায় বিনিয়োগ বা ব্যবহার হচ্ছে। মেরে খাচ্ছে। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের খাতে ব্যয় করছে। কিন্তু কথা হলে এটা অন্যের আমানত। এটা বেমালুম ভুলে যায়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, যারা বিনিয়োগের লভ্যাংশ পাচ্ছে না বা লভ্যাংশ দেওয়ার বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের সেই মুনাফা অলসভাবে পড়ে আছে। যা ব্যবহার হচ্ছে না। এমন অর্থ পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা মতো আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। সেই অর্থ বা লভ্যাংশ সঠিক ব্যবহারের জন্য আমরা সিএমএসএফ গঠন করি। এরপর দেখি, তারা অটোভাবেই বিনিয়োগকারীদের খুঁজে পাচ্ছে। তাদের পাওনা আমানত ফেরতও দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এরপরও এই পর্যন্ত ১ হাজার কোটি টাকার মতো লভ্যাংশ আদায় হয়েছে। আরও লভ্যাংশ আসার পথে রয়েছে।

 

শিবলী রুবাইয়াত আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের না দেওয়া লভ্যাংশ আদায়ে কোম্পানিগুলোতে দফায় দফায় তাগিদ দিচ্ছি। অপরদিকে তারাও দফায় দফায় সময় নিচ্ছে। কিন্তু লভ্যাংশ দেওয়ার নাম নেয় না। এরপর আমরা অনেক ভালো ব্যবহার করছি। ধৈর্য ধরে আছি। সময়ও দিচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের নাম খারাপ হবে ভেবেই সময় পাচ্ছে। এরপর আপনারা লভ্যাংশের অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না। কিন্তু এখন আমাদের কঠোর হবার সময় হয়েছে। আপনারা সতর্ক হোন। সামনে দিনে এই সুযোগ আর পাবেন না। আমাদের বিএসইসির বোর্ড সভায় সামনে এ বিযয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, লভ্যাংশ বাবদ বিমায় ৭০ কোটি টাকা রয়েছে, শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কোথায়, কিভাবে সেটা আমার জানা নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি, অবন্টিত লভ্যাংশ যথাস্থানে ফিরিয়ে দিতে। এই ব্যাপারে আমি সিএমএসএফকে সব ধরনের সহায়তা করবো। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে আমাদের অনেক বীমা কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার পথে। সেসব কোম্পানিগুলোকে বাঁচানোর রাস্তা বের করার আহ্বান রাখেন।

সিএমএসএফের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান শেয়ারবাজার ভাইব্রেন্ট। সামনে আরও ভাইব্রেন্ট হবে। সেই লক্ষে আমরা কাজ করছি। আমরা বিনিয়োগকারীদের দাবি আদায়ে কাজ করছি। বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পতি হচ্ছে। এটা চলমান থাকবে। অবন্টিত লভ্যাংশ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেষ্টা করছি অলস পড়ে থাকা লভ্যাংশ খুঁজে বের করতে। এই ব্যাপারে পরিকল্পনা করেছি। এরই লক্ষে ব্যাংক-বীমার বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা হচ্ছে।

এদিকে, সিএমএসএফ ইতোমধ্যে ৫৩৭ বিনিয়োগকারীর নগদ ১ কোটি ৯৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮২ টাকা এবং ২০৩ জন বিনিয়োগকারীর ২ লাখ ৪ হাজার ২০৪টি শেয়ারের দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ৬৪ জন বিনিয়োগকারী ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৩২ টাকা এবং ৪৮ জন বিনিয়োগকারীর ৬২ হাজার ৫৫৬টি শেয়ারের দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, ড. মো. মিজানুর রহমান, ডিএসইর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।




ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের চেয়ারম্যান সামাদ, সিএসইর নোমান

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিল) চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক (অব.) মো. আবদুস সামাদকে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমানকে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠান দুটির ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করে তাদেরকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তারা দুইজন আগামী এক বছর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এক সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি ডিএসই ও সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ডিএসইকে দেওয়া বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশন স্টক এক্সচেঞ্জ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল প্রবিধান, ২০১৪ এর প্রবিধান ৫ অনুযায়ী ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিলের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মো. আবদুস সামাদকে মনোনয়নের অনুমোদন দিয়েছে।

অপর দিকে সিএসইকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, কমিশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমানকে সিএসইর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিল ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। এ বিষয়ে তাকে জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।




অ্যাক্টিভ ফাইনের তদন্ত: ১০ এপ্রিলের মধ্যে নথি দাখিলের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও আর্থিক দুর্বলতা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিশেষ নিরীক্ষাসহ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে, কোম্পানিটির অসহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না দেওযায় বিশেষ নিরীক্ষাসহ তদন্ত কার্যক্রম এখনও সম্পন্ন হয়নি।

এদিকে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল করতে বিএসইসির কাছে এক বছর সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছে কোম্পানিটি। কিন্তু, কোনো সময় না দিয়ে অ্যাক্টিভ ফাইনকে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সব নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

 

এর আগে তদন্তের বিষয়ে অ্যাক্টিভ ফাইন কোনো সহযোগিতা না করায় কমিশনে অভিযোগ জানায় নিরীক্ষক। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোম্পানিটিকে তলব করে সতর্ক করে কমিশন। কিন্তু, এরপরও প্রয়োজনীয় নথি বা কাগজপত্র দিয়ে নিরীক্ষককে সহযোগিতা করেনি কোম্পানিটি। পরে বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি আদেশ জারি করে। কোম্পানি সহযোগিতা না করায় তদন্ত কমিটি করার দুই বছর চলে গেলেও শেষ হয়নি তদন্ত। আর সময় দেওয়া যাবে না, জানিয়ে কমিশন সময় বেঁধে দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি চিঠি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির চিঠিতে তদন্তের বিষয়ে কোম্পানিকে দেওয়া আগের চিঠির বিষয়ে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোম্পানি গত ১ মার্চ কমিশনের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে, যা মার্চের ৫ তারিখ কমিশন পেয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য কমিশনকে এক বছরের সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু, কমিশন উল্লেখ করেছে যে, তদন্ত কমিটির প্রয়োজনীয় নথিগুলো সময় সময়ে প্রয়োজনীয় এবং পুরনো দলিল। সেই সঙ্গে এ ধরনের কোনো দলিল প্রস্তুত করার সুযোগ নেই। এছাড়া, তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সীমিত সময় দেওয়া হয়। তাই, কমিশনের পক্ষে আর সময় বাড়ানো সম্ভব নয়।

এদিকে, বিএসইসির ২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বিষয়ে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোম্পানিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২ই এবং ২১(৩) এর অধীনে নথিগুলো সরবরাহ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে ২২ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত কমিটির কাছে সব নথি বা কাগজপত্র জমা দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

 

চিঠিতে আরও উল্লেখ্য রয়েছে যে, সময় আর বাড়ানো হবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সহযোগিতাসহ কোম্পানির প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সেটা না হলে কোম্পানিটি কোনো স্থায়ী সম্পদ অর্জন করেনি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

এদিকে, অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালসের বিশেষ নিরীক্ষার অবস্থা সম্পর্কে নিরীক্ষক হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগের বিষয়ে এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ নভেম্বর ২০২১, ২৫ মে ২০২২ এবং ১৬ অক্টোবর ২০২২ এ মোট চারটি চিঠি দিয়েছে কমিশন। সেই চিঠিতে কমিশন হাওলাদার ইউনুস এবং কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে কোম্পানিটির বিশেষ নিরীক্ষা করার জন্য অনুমতি দিতে সম্মতি জানিয়েছে। এই চিঠি জারির দিন থেকে আগামী অতিরিক্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানিটির বিশেষ নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে।

এর আগে অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালসের আর্থিক বিবরণী বিশেষ নিরীক্ষার নির্দেশ দেয় বিএসইসি। নিরীক্ষার জন্য হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে নিয়োগ দিয়েছিল কমিশন। তবে, বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেনি বলে বিএসইসিতে অভিযোগ করেছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ নিরীক্ষককে অসহযোগিতার জন্য গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটিকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং আর্থিক দুর্বলতা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোল্লা মো. মিরাজ-উস-সুন্নাহ, একই প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রতন মিয়া ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক স্নেহাশিস চক্রবর্তী।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয় অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস। ২৩৯ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির মোট শেয়ার ২৩ কোটি ৯৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ১২.০৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২.৩৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০.২৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৫.৩১ শতাংশ শেয়ার আছে। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালসের শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১৯.৩০ টাকায়।




সিমটেক্সে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজে পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ নিয়োগের পেছনে কমিশনকে ভুল বোঝানো হয়েছিল বলে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

সিমটেক্সের বর্তমান চেয়ারম্যানের করা মামলায় গত ২ এপ্রিল উচ্চ আদালতের বিচারপতি মাহামুদুল হক ও বিচারপতি মাহামুদ হাসান তালুকদার বিএসইসির দেওয়া পাঁচজনের পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগে ৬ মাসের এ স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২২ মার্চ বিএসইসি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের বর্তমান পর্ষদে থাকা দুই স্বতন্ত্র পরিচালক ও এক মনোনীত পরিচালকের পরিবর্তে কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ ৫ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়।

নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ (চেয়ারম্যান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুবোধ দেব নাথ, দ্য জুরিস্টের পার্টনার কাওসার আহমেদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম ও ব্যবসায়ী আবিদ আল হাসান।

কমিশনের বিভিন্ন কোম্পানিতে এমন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই। যে কারণ এরই মধ্যে অনেক কোম্পানিতে কমিশনের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে পর্ষদ পুনর্গঠন মুখ থুবড়ে পড়েছে। যেমনটি হতে যাচ্ছিল সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজেও।

যার ধারাবাহিকতায় সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজকে রক্ষায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান গত ২৭ মার্চ কমিশনের ৫ জনের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি মাহামুদুল হক ও বিচারপতি মাহামুদ হাসান তালুকদার বিএসইসির দেওয়া ৫ জনের পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের সচিব আশিষ কুমার সাহা বলেন, কোম্পানির স্বার্থরক্ষার কথা বিবেচনায় করে চেয়ারম্যান বিএসইসির স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন। যা বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ-আদালত ওই স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।




দুই ব্যাংকের বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই ব্যাংকের বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে সম্মতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যাংক দুটি হলো—ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক।

সোমবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সঞ্জে (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বিএসইসির পাঠানো চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যাংক দুটিকে অবহিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংক ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ সাল সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ সাল সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

আইন অনুযায়ী, বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। তাই, বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর এই দুই কোম্পানি তা বিতরণে বিএসইসির সম্মতির জন্য আবেদন করে। বিএসইসি কোম্পানিটি দুটির বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে সম্মতি দিয়েছে।




প্রতিকূলতা পেরিয়ে পুঁজিবাজার এগিয়ে যাবে : শিবলী রুবাইয়াত

সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সমৃদ্ধির পথে পুঁজিবাজার এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নতুন চেয়ারম্যান ও পরিচালক যার যার অবস্থানে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। নতুন চেয়ারম্যানের গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান পুঁজিবাজার সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

রোববার (২ এপ্রিল) ডিএসইর নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদ বিএসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, ড. মিজানুর রহমান, আব্দুল হালিম, ড. রুমানা ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুর নেতৃত্বে পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, আফজাল হোসেন এবং রুবাবা দৌলা, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক শাকিল রিজভী, মোহাম্মদ শাহজাহান, সিদ্দিকুর রহমান, শরীফ আনোয়ার হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এম. সাইফুর রহমান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ডিএসইর সিনিয়র জিএম এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই আমাদেরকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সব আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের পুঁজিবাজারের প্রতি খুবই সদয়। আমাদের সরকারপ্রধান অসম্ভব সদয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করছে। কোনোকিছু বললেই করে দেয়।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ডিএসইর পুরোনো এবং নতুন পরিচালকদের সমন্বয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাজারকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি নতুন বোর্ডের কাছে ডেটা সেন্টার এবং ডিজাস্টার রিকভারি সাইট বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, ডিএসইর একটা আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ব্যবস্থা থাকা দরকার, একটা স্মার্ট সিস্টেম থাকা দরকার। এই জায়গায় কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। উন্নত বিশ্বের যত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তারা বেশিরভাগই অটোমেশন করে ফেলেছে স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে।




পুঁজিবাজার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

শুক্রবার (৩১মার্চ) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই বাজারের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য বিভিন্ন দেশে যে রোড শো আয়োজন করা হয়েছিল, সেগুলোর সুফল আসতে শুরু করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নানা বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। এভাবে এগোতে থাকলে অবশ্যই আমরা উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হব।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মাদ হাসান বাবু বলেন, আমাদের বাজারে বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। তাই আমরা আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আমাদের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা যুক্ত করার চেষ্টা করব। অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী যারা এখনো বাজারকে পর্যবেক্ষণ করছেন, আমরা তাদের কাছে যাব। আমরা তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। তাদের পুঁজিবাজারে আসতে যেসব সহযোগিতা দরকার আমরা তা করব।

ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সব সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থাপনায় সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল সিকিউরিটিজ আইন বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জরুরি।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার প্রফেসর ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রুবাবা দৌলা, শাকিল রিজভী, শরীফ আনোয়ার, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদ আহমেদ ও বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমসহ আরও অনেকে।




অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চায় বিএসইসি

সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খন্দকার আসাদুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ মার্চ) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, খন্দকার আসাদুল ইসলাম তার ব্যবস্থাপনাধীন মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বেআইনিভাবে ৪৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। পরবর্তী সময়ে এ অর্থ নগদ উত্তোলন কিংবা অজ্ঞাত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের এ অর্থ বিনিয়োগকারীদের টাকা এবং খন্দকার আসাদুল ইসলাম সেটি পাচার করেছেন। এ বিষয়ে কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে অর্থ পাচারের বিষয়ে ব্যাখ্যা ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে খন্দকার আসাদুল ইসলামের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পায়নি। বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি কমিটিকে কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ মুহূর্তে আইনি ও ফৌজদারি কার্যক্রম এড়ানোর উদ্দেশ্যে আসাদুল ইসলামের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তিনি যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছে বিএসইসি।

মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য। তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে খন্দকার আসাদুল ইসলামের বিস্তারিত তথ্য ও তার ধানমন্ডি বাসার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।