জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ

জাতীয় শোক দিবস-২০২৩ পালন উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট ব্যাংক ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা। ১ আগস্ট থেকে মাসব্যাপী কালো ব্যাজ ধারণ। ব্যাংক ভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ ব্যানার ফেস্টুন স্থাপন এবং ১৫ আগস্ট শ্রদ্ধা নিবেদন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় জাতীয় শোক দিবস পালনের বিষয় আলোচ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্ব সহকারে আলোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপরে ১৫ আগস্ট বা সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে আলোচনা সভার আয়োজন।

স্বীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনাপূর্বক অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে মানবিক সহায়তা/খাদ্য সহায়তা সামগ্রী প্রদান। ব্যাংকের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিজ কার্যালয়ে বা সুবিধাজনক স্থানে বৃক্ষরোপণ ও তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়ে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ। নিজস্ব ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড থাকলে সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র/ভাষণ প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানের আলোকচিত্র ধারণ করে ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।




কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আলী আকবর ও আমজাদ হোসেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) পরিচালক মো. আলী আকবর ফরাজী নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পাশাপাশি আইন বিভাগের পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন খাঁনও একই পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

সোমবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থে‌কে এ তথ্য জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে। এর আগে গত ৯ জুন নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ করেন তারা।

আলী আকবর ফরাজী ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ, বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট, ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন প্রজেক্ট (এফডিআইপিপি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল অফিসে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে পরিচালক ও অনুষদ সদস্য হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

ফরাজী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার চাড়াখালী গ্রামের সুপরিচিত ফরাজী পরিবারের সন্তান।

এদিকে, আমজাদ হোসেন খাঁন ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি উভয় বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (ইইবিবি) থেকে জেএইইবিবি ও ডিএইইবিবি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন এবং ওইই এর নিয়মিত পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা ও বরিশাল অফিসের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট, কৃষি ঋণ বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগসহ প্রধান কার্যালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়িত জাইকা সহায়তাপুষ্ট এসএমএপির প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি থাইল্যান্ড, স্পেন, জাপান, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়া সফর করেন। তিনি একজন রোটারিয়ান পল হেরিস ফেলো (পিএইচএফ)। এছাড়া, তিনি সন্ধানী ডোনার ক্লাবের উপদেষ্টা, খুলনা মেট্রোপলিটন শ্যুটিং ক্লাব ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সদস্য। তিনি মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন যশোরের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।




ব্যাংকগুলোকে অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার নির্দেশ

দেশের ব্যাংকগুলোকে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নিয়মিত অগ্নি নির্বাপণ সংক্রান্ত মহড়া আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে অগ্নি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রতিকার ব্যবস্থার যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা ও ভবনে কর্মরত সকলের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (২২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত সকল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠিয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবসা কেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রতিরোধ এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩; অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ বিধিমালা, ২০১৪ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ২০২০ প্রবর্তন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রতিরোধ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উল্লিখিত আইন, বিধিমালা ও কোডের প্রযোজ্য নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো।

বিশেষত, অগ্নি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রতিকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এবং মানুষ কর্তৃক ব্যবহার্য যন্ত্রপাতিসমূহের কার্যকারিতা পরীক্ষাসহ ভবন বা দালানে কর্মরত সকলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত বিরতিতে অগ্নি নির্বাপণ সংক্রান্ত মহড়া আয়োজন করতে হবে।

এছাড়াও ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ২০১৫ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত সার্কুলার এবং প্রচলিত বিধি-বিধানের আলোকে ব্যাংকের ব্যবসা কেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তা জোরদারকরণের লক্ষ্যে পরামর্শ প্রদান করা হলো।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা প্রভিডেন্ট ফান্ড পাবেন না

ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড-গ্র্যাচুইটি সুবিধা নিয়ে নতুন এক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অবসরের পর ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের জন্য কোনো প্রভিডেন্ট ফান্ড সৃষ্টির প্রয়োজন নেই এবং তারা এরূপ সুবিধা প্রাপ্য হবেন না। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন করে কোনো গ্র্যাচুইটি সুবিধা প্রাপ্যও হবেন না।

সোমবার (১৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে কতিপয় ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়মিত চাকুরির মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে কোনো কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে চুক্তিভিত্তিক নিযুক্তির ক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত চাকুরিকালীন জমাকৃত পূর্বতন প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর সুদ হিসাবায়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে। তাছাড়া চুক্তিভিত্তিক সময়কেও নিয়মিত চাকরির সময়ের সঙ্গে যোগ করে সর্বমোট চাকরির মেয়াদ গণনাপূর্বক তার ভিত্তিতে প্রাপ্ত সর্বশেষ বেতনের অর্থকে ভিত্তি ধরে গ্র্যাচুইটি বাবদ অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। যা বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই প্রাপ্য নয়।

নির্দেশনায় আর বলা হয়, ব্যাংক খাতে অধিকতর শৃঙ্খলা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকে কর্মরত নিয়মিত কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তাদের নিয়মিত চাকুরিকাল সমাপ্ত করার পর ব্যাংকের অত্যাবশ্যক প্রয়োজনে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিযুক্তির ক্ষেত্রে প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটি বাবদ প্রাপ্যতা নির্ধারণে এখন থেকে ব্যাংকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়মিত চাকুরিকাল সমাপ্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত অবসরের সময় বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণপূর্বক প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটি বাবদ প্রাপ্য অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য কোনো প্রভিডেন্ট ফান্ড সৃষ্টির প্রয়োজন নেই এবং তারা এরূপ সুবিধা প্রাপ্য হবেন না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী নতুন করে কোনো গ্র্যাচুইটি সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।