বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, ১০ মাসে ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার

আমদানির ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি রপ্তানি আয়। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের বৈদেশিক পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বাড়ায় দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২১ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮২৩ কোটি (১৮.২৩ বিলিয়ন) ডলার।

সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে ৫ হাজার ৮২২ কোটি (৫৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে প্রথম ১০ মাসে আমদানি হয়েছিল ৫৪ দশ‌মিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

অন্যদিকে আলোচিত সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স)

চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন সামান্য ঋণাত্মক আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে এপ্রিল শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৬৪ কোটি ডলার।

ওভারঅল ব্যালান্স

সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। আলোচিত সময় সামগ্রিক লেনেদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৪ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছর একই সময় (ঋণাত্মক) ৬৫ কোটি ডলার ঘাট‌তি ছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২ হাজার ৯৩২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ২৪৫৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

এফডিআই

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-‌এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা ১১৪ কোটি ডলারে হয়েছে।

ত‌বে আলোচিত দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় নেমেছে। অর্থবছরে প্রথম ১০ মা‌সে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল তার চেয়ে ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ১২ কোটি ৪০ ডলার।




অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুসহ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল পুনঃঅর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

 

তিনি জানান, গত তিন বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, পরে তা ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে এটি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতে চাপ বেড়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে ও আমানতকারীদের আস্থা কমে গেছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এ বিশেষ স্কিম নেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দেওয়া হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মধ্যে রয়েছে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই (কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ) খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা থাকছে। সেই সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব সহায়তা তহবিলের মধ্যে রয়েছে- প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে ৫ হাজার কোটি টাকা, কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২ হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও মাছ রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে ১ হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা।

গভর্নর জানান, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য দেওয়া ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। এটি ঋণ নয়।
২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ তহবিল পুরোপুরি কার্যকর হলে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে। এতে আনসার ও ভিডিপির লাখো সদস্য উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়।
সুদের হার কত হবে?

গভর্নর বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। ফলে বড় ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ছোট ঋণগুলোর ক্ষেত্রে এ হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু হবে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে।




৬ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পাশাপাশি রপ্তানি প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৯৮ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৯৮ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম কমে গেলে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ মূলত বাজারে ডলারের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামতে না দেওয়ার ইঙ্গিত।

 

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ডলার কেনা-বেচা করছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। আজকের এই ডলার ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিএ পদ্ধতিতে ডলার কেনা-বেচার ফলে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ সম্ভব হয়, যা ব্যাংকগুলোর জন্যও ইতিবাচক। তবে, তারা মনে করছেন, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ানো দরকার।

রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন মুদ্রা বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই ডলারের দাম ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।




ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি

দেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সংঘবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে, যার ফলে সাধারণ আমানতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক বক্তব্যে সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে অনেক সংকটের মধ্যে রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন, আবার অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের কোনো টাকাই দিতে পারছে না।’

 

তিনি বলেন, ‘একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নিতে বলেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তবে তাদের স্মারকলিপি গভর্নরের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়োগ দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। সেই সিন্ডিকেট ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে।

তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়। এরপর ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

 

তার দাবি, ‘প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার করা হয়েছে। সেই অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এরও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তারা আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানান।

 

এসময় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অকার্যকর করার জন্য দেশীয়-আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা চান ইসলামী ব্যাংকিং খাত আগের মতো স্বাভাবিক হোক, আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারুক এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলুক।

স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।




যুক্তরাজ্যের বিসিআইয়ের সদস্য পদ পেল বাংলাদেশ ব্যাংক

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিজনেস কনটিনিউটি ইনস্টিটিউটের (বিসিআই) কর্পোরেট সদস্যপদ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার পথে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি সহনশীলতা আর জোরদার করতে বিদ্যমান বিজনেস কনটিনিউটি প্ল্যান (বিসিপি) ভার্সন ২.০ বাস্তবায়নে এটি বড় সহায়তা করবে। এর ফলে যেকোনো সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বিসিআই হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, যা ব্যবসা পরিচালনার ধারাবাহিকতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সর্বাধুনিক জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।

এছাড়া এই সদস্যপদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, পেশাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে দেশের আর্থিক খাত আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অর্জন দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।




মার্চে এলো পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স

দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে। এ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার। একক মাসে এতো পরিমাণ প্রবাসী আয় ইতিহাসে কখনো আসেনি।

বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভালো প্রভাব ফেলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) অনুযায়ী, এর পরিমাণ ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটিই দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৪ শতাংশ। গত বছর মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ২ হাজার ৬২১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি ডলার।

এদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায়, বিভিন্ন আমদানির দায় পরিশোধের পরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দিন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।




ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক

গ্রাহকদের ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এ বিষয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, লিয়েনকৃত সরকারি বন্ডকে যোগ্য জামানত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ঋণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে ট্রেজারি বন্ড জামানত হিসেবে রেখে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ওভারড্রাফট বা মেয়াদি ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংককে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এফএমআই) সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট বন্ডে লিয়েন মার্ক করতে হবে।

বন্ডের অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে সুদসহ ঋণের স্থিতি কোনো অবস্থাতেই বন্ডের অভিহিত মূল্য অতিক্রম করতে পারবে না।

এছাড়া ঋণের মেয়াদ কোনোভাবেই বন্ডের মেয়াদের বেশি হতে পারবে না এবং বন্ড কেনার উদ্দেশ্যে ব্যাংক কোনো ঋণ দিতে পারবে না বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।




মবে’ জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল বুধবার ঘটে যাওয়া ‘মবের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবসম্পদ (এইচআর) নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। যেসব কর্মকর্তা ‘মব কালচার’র সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত এইচআর পলিসি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গভর্নর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার আহ্বান জানান। অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, গভর্নর অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হবে। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো চালু করতে নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংক খাতে সমন্বয় জোরদারের কথা বলেছেন তিনি। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গভর্নর।

সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে- এমন উচ্চ সুদের হার পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন গভর্নর।

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করার কথা জানান তিনি। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে ‘মব’ তৈরি করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নরের সামনেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

এর আগে একই দিন সকালে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের পদত্যাগ দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।




 নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনুসরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখের ৫৩.০০.০০০০.৩১১.১১.০১৬.১৭-৬০ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনমূলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগকৃত ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।’

পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও হিরা সোয়েটারের মালিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে, ‘সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে’—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

চলে যাওয়ার সময় নতুন গভর্নর নিয়োগ ও তার পদত্যাগের বিষযয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা পোস্টকে গভর্নর বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবরে শুনেছি।’ এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি।

সূত্র জানায়, সকালে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে আসেন আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যেই তার অপসারণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ খবর শোনার পর তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে তাৎক্ষণিক অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার (৯ আগস্ট বিকেলে) পদত্যাগ করেন। এরপর ওই বছরের ১৩ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।




জাহাজ নির্মাণ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও সম্ভাবনাময় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও গতিশীল করতে ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে, এ স্কিমে আবেদন করার শেষ সময় ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং রপ্তানি আয়ে এ খাতের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্যে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুবিধা নিতে পারবে। তবে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ এর সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। স্কিমটির সার্বিক তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্বও এ বিভাগের ওপর থাকবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পুনঃঅর্থায়নের আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। নিজস্ব নীতিমালার আওতায় গ্রাহকদের ঋণ বা বিনিয়োগ অনুমোদনের সুযোগ থাকলেও, তহবিলের আওতায় ঋণ মঞ্জুরের আগে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ থেকে অর্থের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

তহবিল প্রাপ্যতার জন্য আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ বিতরণ ও পরিশোধসূচি সংযুক্ত করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে গ্রাহকদের অর্থ বিতরণ করতে পারবে। ঋণ বিতরণের পর পুনঃঅর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করা যাবে। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন কিস্তির বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া ইসলামি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় অনুমোদিত বিনিয়োগও এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নিজস্ব শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সময়সীমা বৃদ্ধির বাইরে পূর্বের সার্কুলারে উল্লিখিত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বাড়বে, নতুন উদ্যোক্তা উৎসাহিত হবে এবং রপ্তানিমুখী এ খাত আরও শক্তিশালী হবে।




নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে আসছে ৩ ফেব্রুয়ারি

নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নোট বাজারে ছাড়া হবে।

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা মূল্যমানের নোট মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে। এবার এ ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০ টাকার নোট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর স্বাক্ষরিত এ নোটটি ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো প্রচলনে আসবে। শুরুতে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও তা সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইনের ১০ টাকার নোট চালুর পরও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতো বৈধ থাকবে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ১০ টাকার বিশেষ নমুনা (স্পেসিমেন) নোটও ছাপানো হয়েছে, যা বিনিময়যোগ্য নয়। আগ্রহীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের মিরপুরস্থ টাকা জাদুঘর বিভাগ থেকে নির্ধারিত মূল্যে এসব নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটের সামনের বাম পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি রয়েছে। মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পেছনে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র। পুরো নোটে গোলাপি রঙের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অংশ হিসেবে নোটটিতে জলছাপে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, তার নিচে ইলেকট্রোটাইপে ‘১০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। সম্মুখভাগে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে ‘$10 দশ টাকা’ লেখা আছে-যা আলোর বিপরীতে ধরলে স্পষ্ট দেখা যায়। নোটটি নাড়াচাড়া করলে এই সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়।

এছাড়া গভর্নর স্বাক্ষরের ডান পাশে ‘সি-থ্রু ইমেজ’ প্রযুক্তিতে একটি প্যাটার্ন রাখা হয়েছে, যা আলোয় ধরলে ‘১০’ অঙ্কটি দৃশ্যমান হয়। সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখার নিচে এবং পেছনভাগের নির্দিষ্ট অংশে মাইক্রোপ্রিন্টিংও যুক্ত করা হয়েছে।




শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা একীভূত পাঁচ ব্যাংকের

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এসব ব্যাংকের ওপর মালিকদের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটলো।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সম্পদ ও দায় (অ্যাসেট ও লাইবিলিটি) হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা রইলো না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগির ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি সই হবে।l

গত ৫ নভেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা তখন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল।




১৩ ব্যাংক থেকে কেনা হলো আরও ১৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহে সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ১৩টি ব্যাংক থেকে আরও প্রায় ১৪ কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার (১৪১.৫ মিলিয়ন ডলার) কেনা হয়েছে।

এদিন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৯ টাকা থেকে ১২২.৩০ টাকা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ছিল ১২২.৩০ টাকা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ১৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার (১৪৯ মিলিয়ন ডলার) কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৫ টাকা থেকে ১২২.২৯ টাকা পর্যন্ত। আর কাট-অফ রেট ছিল ১২২.২৯ টাকা।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ২৮০ কোটি ৪৫ লাখ (২.৮০ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সোমবার ১৩টি ব্যাংক থেকে মোট প্রায় ১৪ কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার (১৪১.৫ মিলিয়ন ডলার) কেনা হয়েছে। এসময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৯ টাকা থেকে ১২২.৩০ টাকা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ছিল ১২২.৩০ টাকা।




কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত লাইসেন্স পেল ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’

কার্যক্রম শুরুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।

রোববার (৩০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকটির অনুকূলে চূড়ান্ত লাইসেন্স ইস্যু করার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে জমা দেয় সরকার।

দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ও শক্তিশালী ব্যাংক হচ্ছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় এটি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড়ো মূলধনি ইসলামী ব্যাংক। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করবে। নতুন ব্যাংকটির মোট পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসছে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

এর মাধ্যমে নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করতে আর কোনো বাধা থাকল না অর্থ মন্ত্রণালয়ের। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ নভেম্বর প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের। যেখানে আরজিএসসি থেকে কোম্পানি নাম ছাড়পত্র, ব্যাংকের চলতি হিসাব খোলাসহ ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধিবিধান পূরণের দায়িত্ব পড়ে সরকারের ওপর।

অনুমোদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসাবে থাকছেন সাবেক সচিব আইয়ুব ভুঁইয়া।




বাংলা কিউআর পেমেন্টে সঙ্গে সঙ্গে অর্থ প্রেরণের নির্দেশ

বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে পেমেন্ট করলে মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে সঙ্গে সঙ্গে অর্থ প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে পেমেন্ট করলে একদিন পর মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে। দেশে নগদ অর্থ লেনদেন কমানো ও ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারের জন্য তাগিদ করছে। বাংলা কিউআর সেবা প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থ জমার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তবে অন্যান্য বড় মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে, ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক সম্পর্ক ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে অর্থ স্থানান্তরের সময়সীমা নিজেরা নির্ধারণ করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বিবেচনে করে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা ট্রান্সফার করার সুবিধা চালু করা হচ্ছে। ১০ লাখ টাকার নিচে পেমেন্ট করলে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। আর যাদের লেনদেন ১০ লাখ টাকার ওপর, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। আগ্রহী ব্যবসায়ীরা দ্রুততর ব্যবস্থা থেকে উপকৃত হতে পারবেন।

আরও জানা যায়, এখন পেমেন্ট করলে তা একদিন পর জমা হয়। অথবা কেউ বৃহস্পতিবার পেমেন্ট করলে মার্চেন্ট রোববারে সেই টাকা গ্রহণ করবেন। তবে এ নির্দেশনা মোতাবেক ১৫ ডিসেম্বর থেকে মার্চেন্ট সঙ্গে সঙ্গে তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাবেন।

বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা একটি সর্বজনীন ও আন্তঃলেনদেন যোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর বিশেষত্ব হলো, একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংক, এমএফএস বা পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে পারেন।




রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

স্বল্পমেয়াদি মূলধন সংকট দূর করতে রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে রপ্তানিকারকরা তাদের রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা (যেমন ডলার বা ইউরো) না ভেঙেই টাকার সুবিধা নিতে পারবেন ‘সোয়াপ’ চুক্তির আওতায়।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে ব্যাংকগুলোকে রপ্তানিকারকদের এই সুবিধা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কী এই সোয়াপ চুক্তি

সোয়াপ হলো এক ধরনের চুক্তি, যেখানে রপ্তানিকারক সাময়িকভাবে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা ফেরত পান। এর মধ্যে রপ্তানিকারক টাকার সমপরিমাণ সুবিধা ভোগ করতে পারেন, যা নগদ অর্থ সংকট কাটাতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এটি কোনো ঋণ বা অর্থায়ন নয়; বরং একটি সাময়িক বিনিময় চুক্তি। রপ্তানিকারকরা এর মাধ্যমে ডলার ধরে রেখেও নগদ টাকার সাপোর্ট পাবেন, যা উৎপাদন, কাঁচামাল কেনা ও পরিবহন খরচে ব্যবহার করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোয়াপ সুবিধার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ দিন। রপ্তানিকারকদের পুল অ্যাকাউন্ট বা ইআরকিউ (রিটেনশন কোটা) অ্যাকাউন্টের বিপরীতে এই সুবিধা দেবে ব্যাংকগুলো। নির্ধারিত সময় শেষে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে। দুই মুদ্রার সুদহার বা লাভজনকতার ব্যবধান অনুযায়ী ‘সোয়াপ পয়েন্ট’ নির্ধারণ হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সোয়াপ থেকে পাওয়া টাকা শুধু রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেমন, উৎপাদন ব্যয়, উপকরণ কেনা, পরিবহন খরচ ইত্যাদিতে। কোনো ধরনের জল্পনামূলক (স্পেকুলেটিভ) লেনদেনে এই টাকা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের স্বস্তিতে এ পদক্ষেপের ফলে ডলার বাজারে চাপ কমার ইঙ্গিত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ রপ্তানিকারকদের স্বল্পমেয়াদি তারল্য সংকট কাটাতে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ডলার আগেভাগে বিক্রি না করেও তারা প্রয়োজনীয় টাকা ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও চাপ কমবে। ব্যাংকগুলোকে এই লেনদেন সঠিকভাবে নথিভুক্ত করে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।




বিদ্যুৎ আমদানির অর্থ পরিশোধের নিয়ম আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদ্যুৎ আমদানির অর্থ পরিশোধের নিয়ম আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলো সরকার অনুমোদিত আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে। এ জন্য আলাদা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি লাগবে না।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়ম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে আমদানি করা বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়া সহজ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ ক্রয় ব্যবস্থার আওতায় প্রযোজ্য হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো বিদেশি সরবরাহকারীর কাছে আমদানি করা বিদ্যুতের মূল্য পাঠাতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত সব নিয়মকানুন, গ্রাহক যাচাই (KYC), অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ আমদানিতে শুল্ক বা কাস্টমস সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা প্রযোজ্য হবে, সেখানে প্রচলিত আমদানি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ আমদানির আর্থিক লেনদেন আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে: পিআরআই

বিগত সরকারগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে– এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, শুধু আইনি বা কাঠামোগত স্বাধীনতা নয়, রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে, না হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের হোটেল আমারিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপরিহার্য স্বাধীনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব মতামত উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ, ড. আশিকুর রহমান। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান, ড. সাদিক আহমেদ এবং সমাপনী বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান, ড. জাইদি সাত্তার।

ড. আশিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কখনো প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। আমলাদের গভর্নর করা হয়েছে, ব্যাংকগুলো কয়েকটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদহার ও ডলারের দাম নির্ধারিত হয়েছে। ওই সময়ে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। বাজার যদি মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক, ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংক খাতের সব সূচকই এখন খারাপ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব প্রকাশ্যে এসেছে, তবে আমরা আগেই তা জানতাম। বাংলাদেশ ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফল এখন স্পষ্ট। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত স্বাধীনতা দিতে হবে।

তিনি মনে করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ (এফআইডি) বিলুপ্ত করতে হবে, কারণ এক খাতে দ্বৈত শাসন চলতে পারে না। তার ভাষায়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা কার্যকর হবে না। পরবর্তী সরকারকে এই স্বাধীনতা স্বীকৃতি দিতে হবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি হলো আর্থিক খাত। এটিকে পুনরুদ্ধার না করলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে হলে এই খাতকে আগে সুস্থ করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ২০০৩ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় আমরা বড় অর্থনৈতিক সংস্কার করেছিলাম, যার সুফল দেশ এখনো পাচ্ছে। তবে সেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দেওয়ায় পূর্ণ সুফল আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সময়ে ব্যাংকিং বিভাগ বিলুপ্ত করা হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় গেলে আবারও সেটি বিলুপ্ত করব। বাংলাদেশ ব্যাংককে শুধু স্বায়ত্তশাসন নয়, প্রকৃত স্বাধীনতা দিতে হবে।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নাসিম মঞ্জুর বলেন, ২০১৯ সাল থেকেই আমরা ডলারের দাম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা করা হয়নি। পরে হঠাৎ করে ২০২২ সালে ৪১ শতাংশ বাড়ানো হয়, যার প্রভাব সবার ওপর পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিতে ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। ব্যাংকিং বিভাগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আইন যতই করা হোক, কাকে গভর্নর করা হচ্ছে সেটাই আসল বিষয়।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদের সময়ে আমরা একটি ভালো পরিবেশ দেখেছিলাম। আইন যেমনই হোক, ব্যাংক খাতের উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি, শওকত আজিজ রাসেল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ, আখতার হোসেন প্রমুখ।




খেলাপি ঋণ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো এখন খেলাপি ঋণ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করতে পারবে। গ্রাহককে মাত্র দুই শতাংশ ডাউন-পেমেন্ট জমা দিতে হবে এবং দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতের সর্বনিম্ন সুদের চেয়েও এক শতাংশ কম হারে ঋণ প্রদান করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাছাই কমিটিতে আবেদন করা যাবে। এছাড়া চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিরূপ মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলোও পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ব্যাংক আবেদন প্রাপ্তির ৬ মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, অতীতে তিন বা তার বেশি পুনঃতফসিল করা ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ ডাউন-পেমেন্ট আদায় করতে হবে। নীতি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না, তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। একাধিক ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা নেওয়া হলে সর্বোচ্চ ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সম্মতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

নতুন নিয়মে সুবিধা পাওয়া ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সাধারণ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক। তবে জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা ব্যাংক ও গ্রাহকের যৌথ পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন বা এককালীন এক্সিট সুবিধা পাবে। সুবিধা প্রদানের ৯০ দিনের মধ্যে চলমান মামলার স্থগিত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনও শর্ত ভঙ্গ হলে ব্যাংক সুবিধা বাতিল করে ঋণ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

 




বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হলো

সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে নামিবিয়া যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমানকে। রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টার ফ্লাইটে তার যাত্রার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বাধা দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নামিবিয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ড. হাবিবুর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ১১ জন কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাকি ১০ জন যাত্রা করতে পারলেও কেবল তাকেই থামিয়ে দেওয়া হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার পর বিমানে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন ড. হাবিবুর রহমান। হঠাৎ তাকে ডেকে জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। এজন্য কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় দুর্নীতির অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর এবং সরকারি-বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের এমডি ও পরিচালকদের নাম দুদককে পাঠিয়েছে। ওই তালিকা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছেও পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে আন্দোলনের মুখে ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান ও খুরশীদ আলম, বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস এবং নীতি উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাছের পদত্যাগ করেন। তবে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান ও নূরুন নাহার এখনও বহাল আছেন।

ড. হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ১৯৯০ সালে গবেষণা বিভাগে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ইউএসএইড বৃত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায়োগিক অর্থনীতিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।




বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক থেকে নির্বাহী পরিচালক হলেন ৪ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের চার পরিচালককে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের দপ্তর বণ্টন করা হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- গভর্নর অফিসের পরিচালক মো. সরোয়ার হোসেন, ব্যাংক পরিদর্শন-৩ বিভাগের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পদোন্নতি নীতিমালা-২০২২ এর বিধান অনুযায়ী এ পদোন্নতি কার্যকর হবে। হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক মো. জবদুল ইসলামের সই করা এক অভ্যন্তরীণ আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।




বিএফআইইউ প্রধানের ‘আপত্তিকর ভিডিও’, তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি এমন একসময় সামনে এলো যখন সম্প্রতি এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাহীনুল ইসলাম। গত বছরের নভেম্বরে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করে বিএফআইইউ। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি হিসাব পুনরায় ফ্রিজ না করে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ তথ্য জানতে পারে। দুদকের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। দুদকের আবেদনে গত ২৭ মে আদালত ওই ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখন জানা গেছে, এসব হিসাবে রয়েছে প্রায় ১০১ কোটি টাকা, আর বাকি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার পেছনে অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ উঠেছে।

শাহীনুল ইসলাম এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এনা পরিবহনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে কিছু টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। অনুরূপভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দুদক থেকে জানতে চাইলে আমি ব্যাখ্যা দেবো।’

আপত্তিকর ভিডিও’র বিষয়ে তার দাবি, ‘আমাকে হেয় করার জন্য কে বা কারা এগুলো ছড়িয়েছে। এগুলো ভুয়া।’

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার (১৮ আগস্ট) থেকে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিও প্রকাশের পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি বিভাগকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৮ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য হন বিএফআইইউর তৎকালীন প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পদটি শূন্য থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এএফএম শাহীনুল ইসলামকে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে গভর্নরের নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটির সুপারিশ তালিকায় তার নাম না থাকায় নিয়োগের পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।




কমলো ডলারের দাম, বাড়লো টাকার মান

টাকার বিপরীতে ডলারের দাম কমে ১২০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়া এবং আমদানি ব্যয় কমার প্রভাবে বাজারে ডলারের চাহিদা কমেছে। ফলে টাকার মান আগের চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও বাজারে নজরদারি ও নীতিগত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মার্কিং ডলার ১১৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২০ টাকা ১০ পয়সায় ব্যাংকগুলো কেনাবেচা করেছে। অথচ মাসের শুরুতে ২ জুলাই এই দর ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা পর্যন্ত। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে ডলারের দর কমতে থাকে এবং ১৪ জুলাই তা ১১৯ টাকায় নেমে আসে। যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত বছরের আগস্টে সর্বনিম্ন ১১৯ টাকা ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং রপ্তানি আয় দুটোই বাড়ছে। এর ফলে বাজারে ডলারের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো পণ্যের আমদানির খরচ তেমন বাড়েনি। যার প্রভাবে ডলারের ওপর চাপ কমেছে এবং দাম কমতির দিকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে। পাশাপাশি জুন মাসে আইএমএফ, এডিবি, জাইকা এবং এআইআইবি থেকে বড় অংকের অর্থ সহায়তা আসায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভেও ডলার বেড়েছে। এসব কারণে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের চলতি হিসেবে ঘাটতি কমেছে এবং ডলারের ওপর চাপ কম থাকায় দাম কমছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ডলারের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। মাত্র দুই কার্যদিবসে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম রেকর্ড ভেঙে ১২৮ টাকায় উঠে যায়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তখন ১৩টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক দামে রেমিট্যান্স কেনার অভিযোগ ওঠে এবং তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। সেসময় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, কয়েকটি ব্যাংকের ভুল সিদ্ধান্তে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ইচ্ছেমতো ডলারের দাম বাড়াচ্ছিল, যা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, ‘ডলারের দাম ঠিক হবে বাংলাদেশের বাজারেই।’

চলতি বছরের ১৫ মে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনার পর ডলারের বিনিময় মূল্য নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেরাই দর নির্ধারণ করছে। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন- এতে ডলারের দাম বেড়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা কমেছে।

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে চলতি হিসাবের নেতিবাচক অবস্থার পরিমাণ কমেছে। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে— এই ১১ মাসে বৈদেশিক লেনদেনে যে ভারসাম্যহীনতা ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বল‌ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে চার হাজার ৮৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে আমদানি হয়েছে ছয় হাজার ২৫ কোটি ডলার। ফলে এক হাজার ৯৩৮ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল দুই হাজার ২২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি ৪.১৭ শতাংশ কমেছে। এই সূচক আমাদের অর্থনিতীর জন্য ভালো সংবাদ। পাশাপাশি এটি মূল্যস্ফিতে নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অংক এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। প্রবাসী আয়ের এমন ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও ডলারের জোগানে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের এই অংক গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩ সালে জুনে রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছিল। এছাড়া আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে মোট রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।




বাংলাদেশের সম্ভাবনা সীমাহীন, একে নষ্ট করার সুযোগও সীমাহীন: গভর্নর

বাংলাদেশের মুদ্রার মান দেশীয়ভাবে নির্ধারিত হবে এবং কোনো অযৌক্তিক কারণে এক পয়সাও অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, নইলে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ নিতে পারে। বাংলাদেশের সম্ভাবনা সীমাহীন, তবে তা নষ্ট করার সুযোগও সীমাহীন।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গুগল পে’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের টাকা কখনোই যেন অমূল্যায়ন না হয়। দুবাই থেকে আমাদের টাকার মান নির্ণয় হবে না। এটা আগেও বলেছিলাম এখনও বলছি। সেখান থেকে ডলারের দর নির্ধারণ করবেন এটা মানা হবে না, এটা আমার কমিটমেন্ট ছিল। সেটা হতো দেইনি আমরা। তবে ফের যদি দেশে বিশৃঙ্খলা হয় তাহলে আবারও চলে আসবে ওই সময়, নষ্ট হয়ে যাবে সব। দুবাইয়ে বসে আবারও টাকার অবমূল্যায়ন হবে, বাজার নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে অন্যের হাতে।

গভর্নর আরও জানান, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য আগামী জানুয়ারি থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (রিস্ক বেজড সুপারভিশন) কার্যক্রম শুরু হবে। এরইমধ্যে ২০টি ব্যাংকে সুপারভিশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছু সময় লাগবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ আসবে, বকেয়া পরিশোধ করেছি। দেশি-বিদেশিদের বিচরণ ক্ষেত্র হবে বাংলাদেশ। তবে ভুল উপস্থাপন করা যাবে না। বিদেশিরা টেকনোলজি আনেন, সাপোর্ট দেন তারা। আমাদের পোর্ট নিয়ে তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছে। যদি বিদেশিরা আমাদের পোর্ট পরিচালনা করেন তাহলে আগামী ১০ বছর পরে আমরা তাদের টেকনোলজি শিখে অন্য দেশের পোর্ট পরিচালনা করতে পারবো।

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য তিনি জানান, কয়েকটি ব্যাংক মার্জারের আওতায় আসবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকবে। যে ব্যাংকে আছেন, সেখানেই থাকুন।

গুগল পে চালু করলো সিটি ব্যাংক

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় গুগলের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’। সেবাটি চালু করে সিটি ব্যাংক পিএলসি, গুগল, মাস্টারকার্ড ও ভিসার সহায়তায়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে গুগল পের সঙ্গে যুক্ত হলো।

প্রথম পর্যায়ে সিটি ব্যাংকের মাস্টারকার্ড ও ভিসা কার্ডধারীরা তাদের কার্ড গুগল ওয়ালেটে যুক্ত করে গুগল পে ব্যবহার করতে পারবেন। ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যাংকও যুক্ত হলে সেবার পরিসর বাড়বে।

গ্রাহকরা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল পে অ্যাপ ডাউনলোড করে কার্ড যুক্ত করার পর দেশের যেকোনো দোকান, রেস্তোরাঁ কিংবা POS টার্মিনালে ফোন ট্যাপ করে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন করতে পারবেন। এতে আলাদা করে কার্ড বহনের প্রয়োজন হবে না।

গুগল পে লেনদেনে কোনো অতিরিক্ত ফি নেয় না এবং গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় ‘টোকেনাইজেশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্র্যাসি এন জ্যাকবসন, সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, গুগল পেমেন্টসের শাম্মী কুদ্দুস, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের মোহাম্মদ কামাল এবং ভিসার সাব্বির আহম্মেদ।




জুলাইয়ের মধ্যে ছয়টি দুর্বল ব্যাংক একীভূত হচ্ছে : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নানা অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ৬টি ব্যাংককে একীভূত করে সাময়িকভাবে সরকারের মালিকানায় নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

যে ছয়টি ব্যাংককে একীভূত করা হবে সেগুলো হলো– ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক ছিল বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। বাকি একটি ব্যাংক পরিচালনায় ছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার।

গভর্নর বলেন, আমরা আশা করছি জুলাইয়ের মধ্যে এই ছয়টি ব্যাংককে সরকারের অধীনে এনে প্রয়োজনীয় মূলধন জোগান দিতে পারব। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে তাদের তারল্য (লিকুইডিটি) সহায়তা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এসব ব্যাংকের মালিক সাময়িকভাবে থাকবে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন শেষে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাংককে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের (রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেট) বিপরীতে কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ মূলধন রাখতে হয় — যার মধ্যে ১০ শতাংশ মূলধন এবং অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ ‘ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার’ হিসেবে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।

গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংকের এই মূলধনের ঘাটতি রয়েছে, সেসব ব্যাংকে আগামী চার বছরের মধ্যে ১২.৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেল ছয়টি ব্যাংক একীভূত হওয়ার খবর প্রচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সেই খবরের প্রতিবাদ করা হয়নি, সুতরাং গভর্নর যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক বলেই মনে করি। তবে এখনো এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো তথ্য আসেনি।




ঈদের ছুটিতে ৩ দিন বিশেষ এলাকায় ব্যাংক খোলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন টানা ১০ দিন ছুটি থাকবে। এসময় বন্ধ থাকবে ব্যাংকও। তবে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তানি বিলের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় ৫, ১১ ও ১২ জুন সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখতে বলা হয়েছে। ওই তিন দিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে লেনদেন চলবে নির্ধারিত সময়ে।

রোববার ( ২৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে আগামী ৫ জুন (বৃহস্পতিবার) সীমিত পরিসরে বিভিন্ন ব্যাংকের কিছু শাখা খোলা থাকবে। শিল্পঘন ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাক শিল্পের লেনদেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বাকি সময় ব্যাংকের লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এছাড়া ওষুধ শিল্প খাতসহ আমদানি ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ ও বৈদেশিক লেনদেন সম্পাদনের লক্ষ্যে ১১ জুন ও ১২ জুন বুধবার এবং বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার অথরাইজড ডিলার (এডি) শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এ দু’দিন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লেনদেন হবে এবং লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্দেশনায় বলা হয়, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিধি মোতাবেক ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।




জুনে রিজার্ভ দাঁড়াবে ৩০ বিলিয়ন ডলার: গভর্নর

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী মাসে অর্থাৎ, জুনে এ রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, আগামী মাসে রিজার্ভ ২৭ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার হবে। রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার জন্য সময় প্রয়োজন। এখন সবাইকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিতে হবে।

বুধবার (২১ মে) পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) আয়োজনে রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে ‘বাংলাদেশে আর্থিক উন্নয়নের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের (আইজিসি) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, এ গবেষণা সেসব অঞ্চল চিহ্নিত করেছে, যেখানে আর্থিক সেবা এখনো অসম। আমাদের এখন নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো জেলা বা সম্প্রদায় পিছিয়ে না থাকে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার। তিনি বলেন, এ গবেষণা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নের একটি স্থানিক ও কালানুক্রমিক চিত্র উপস্থাপন করেছে, যা জাতীয় গড়ের আড়ালে থাকা গভীর আর্থিক বৈষম্যকে স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেছে। প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক উন্নয়নের জন্য প্রথমেই চিহ্নিত করতে হবে যে, দেশের কোন কোন অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী মূলধারার ব্যাংকিং সেবা থেকে বাদ পড়ে আছে।

পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান মূল তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, আমাদের বিশ্লেষণে আর্থিক প্রবেশগম্যতার চরম বৈষম্য ফুটে উঠেছে। জাতীয়ভাবে মাত্র এক শতাংশ ঋণ হিসাবধারী সব ঋণের ৭৫ শতাংশ পাচ্ছে। ৭৮ শতাংশ ঋণ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত।

ড. আশিকুর রহমান বলেন, দশকব্যাপী ব্যাংক সম্প্রসারণ সত্ত্বেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ধনী পূর্বাঞ্চলে ঘনীভূত রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তারা দেশের দরিদ্র অঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে না বা সেবা দিচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে পরিস্থিতিগত প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো গরিবদের জন্য ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে ছিলেন আইজিসির বাংলাদেশের সিনিয়র উপদেষ্টা ড. নাসিরুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (পরিসংখ্যান) মো. আনিস উর রহমান। তারা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পরিমার্জন এবং তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি উন্নত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।




নগদের ২০০০ কোটি আত্মসাৎ, পুরোনো ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

 

নগদের সাবেক ম্যানেজমেন্ট প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলা‌দেশ ব‌্যাং‌কের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে কোর্টে আপিল করা হয়েছে এবং শিগগিরই শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যেন নতুন করে বড় ক্ষতির সুযোগ না থাকে।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পাচার টাকা ফেরত আনার বিষ‌য়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক নগদে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আগের যারা ম্যানেজমেন্টে ছিল সম্প্রতি তারা সেটা আবার দখল করেছে। এ প্রক্রিয়াটা এখন কোন পর্যায়ে আছে?

আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদের বিষয়ে আমাদের পজিশন সুস্পষ্ট। আমরা মনে করি নগদের যারা অরিজিনাল ম্যানেজমেন্ট ছিল, বোর্ড ছিল তারা অর্থনৈতিক দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা জানি ৬৫০ কোটি টাকা তারা ই-মানি ক্রিয়েট করেছে। যেটা আসলে প্রকৃত অর্থ ছিল না। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় যেসব টাকা ট্রান্সফার করা হতো সেগুলো নগদের মাধ্যমে করা হতো। সেখানে তারা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে আত্মসাৎ করেছে। এটা আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটেও ধরা পড়েছে এবং আমরা যে ইন্টারন্যাশনাল অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করেছিলাম সেখানেও ধরা পড়েছে। আমরা মনে করি তাদের হাতে নগদের কার্যক্রম আবার ফেরত যাওয়াটা উচিত নয়। যেহেতু কোর্টের একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা এটাকে আপিল করেছি। শিগগিরই শুনানির ডেট দেওয়া হবে। আমরা মনে করি আমাদের পক্ষে রায় পাব। কিন্তু আমরা শঙ্কিত। এই সময়ের মধ্যে তারা তাদের পুরো কন্ট্রোল কিন্তু নিয়ে নিয়েছে সিস্টেমের, যেটার ওপর আমাদের কোনো হাত থাকবে না। কারণ আইনগতভাবে আমরা একটু অসুবিধাজনক অবস্থায় আছি।

তিনি বলেন, তারা এই সময় বড় কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, আমরা ব্যাংকগুলোকে বলে দিয়েছি তারা শুধুমাত্র ক্যাশ ইন ও সেন্ড মানি করতে পারবে। তারা তাদের ডাটাবেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তারা ডাটাবেজ মুছে ফেলতে পারে। যেটা আমাদের কাজ আরও কঠিন করে তুলবে।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম।




পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নিতে পারবে ব্যাংক

বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্টে ডলার সংযুক্তি (এনডোর্সমেন্ট) করতে চাইলে এখন থেকে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার ((১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এই ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর বাইরে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি বাবদ বাড়তি কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তফসিলি ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির সময় বিভিন্ন হারে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি ও চার্জ এবং অতিরিক্ত সার্ভিস ফি বা কমিশন নিচ্ছে। অতিরিক্ত ফি আদায় করায় ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে নিরুৎসাহিত হন গ্রাহকরা।

এ কারণে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।




ডলার রেট বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাজার স্থিতিশীল দা‌বি ক‌রে ডলারের বিনিময় হার (ডলার-টাকার মূল্য) বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বুধবার (১৪ মে) বাংলা‌দেশ ব্যাংকের এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নি‌য়ে এ ঘোষণা দেন তি‌নি। এসময় তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে আগামী জুন নাগাদ কি‌স্তির ১৩৩ কে‌টি ডলার দেবে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, গত ৯ মাসে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বি‌ক্রি ক‌রা হয়‌নি। তারপরও বিনিময় হার গত কয়েক মাস স্থি‌তি‌শীল অবস্থায় আছে কো‌নো হস্ত‌ক্ষেপ ছাড়াই। এমন প‌রি‌স্থি‌তিতে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। ব্যাংকারদের বিষয়‌টি বলা হ‌য়ে‌ছে।

বাজারভি‌ত্তিক করায় হঠাৎ রেট অনেক বে‌শি বেড়ে যাবে না জা‌নিয়ে গভর্নর বলেন, ডলার রেট অনেক দিন এক জায়গায় অর্থাৎ ১২২ টাকায় আছে। তার আশেপাশেই থাকবে। হঠাৎ ক‌রে ১৪০-১৫০ হবে এটার যুক্তি নেই। বাংলাদেশের ডলার রেট এদেশের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক হবে, অন্যদেশের কথায় এখানে ডলার রেট ঠিক হবে না। বাজারে ডলারের যথেষ্ট সরবরাহ আছে।

কেউ কেউ বাজার অস্থি‌তি‌শীল করার চেষ্টা করবে এমন শঙ্কা ক‌রে গভর্নর জানান, কিছু সিন্ডিকেট কোম্পা‌নি আছে যারা বাজার অস্থি‌তি‌শীল করার চেষ্টা কর‌বে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স‌চেতন থাক‌বে এবং সার্বক্ষণিক তদার‌কি করা হ‌বে। য‌দি কেউ অ‌নৈ‌তিক উপায়ে অ‌স্থি‌তিশীল করার চেষ্টা ক‌রে তা‌দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে।

সংবাদ সম্মেলনে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ক‌বির আহ‌মেদ, বাংলা‌দেশ ব্যাংকের উপ‌দেষ্টা আহসান উল্লাহ এবং নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রমুখ।

এদিকে আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে আগামী জু‌নের ম‌ধ্যে বাংলা‌দেশ সা‌ড়ে তিন বি‌লিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশের জন্য জরুরি নয় : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সঙ্গে চলমান আলোচনা থাকলেও, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তাদের ঋণ গ্রহণ খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

শুক্রবার ওয়াশিংটনে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা এখনো আইএমএফের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাইনি, তবে আমাদের অবস্থান একেবারে দূরত্বেও নেই। যদি সমঝোতা না-ও হয়, তবুও বাংলাদেশে কোনো বড় সমস্যা হবে না, আমাদের অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

গভর্নর মনসুর বাংলাদেশের মিশনের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন, যা তিনি শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে তার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন।

গভর্নর মনসুর বলেন, আমাদের নিজেদের ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সংস্কার করতে হবে, এবং আইএমএফ শুধু সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। যদি মনে করি ঋণ আমাদের সহায়ক নয়, তবে আমরা নেব না।

মনসুর বলেন, আইএমএফের ব্যালান্স অব পেমেন্ট সহায়তা না পেলেও আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। এটা শুধুমাত্র একটি অতিরিক্ত সুবিধা, যদি না পাই, তাও সমস্যা হবে না। আমাদের রিজার্ভ এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে।

আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে মন্সুর বলেন, আলোচনার মূল বিষয় হলো সংস্কার — আর্থিক খাতের সংস্কার, কর ব্যবস্থার সংস্কার। অর্থ (ঋণ) মূল উদ্দেশ্য নয়।

তিনি আরও জানান, প্রধানত মুদ্রার বিনিময় হার এবং রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। রাজস্বের বিষয়ে মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে। মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো — বাজার এখন স্থিতিশীল, ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না।

গভর্নর মনসুর বলেন, আমরা শ্রীলঙ্কা হইনি, পাকিস্তানও হইনি। আমাদের এখন কোনো চাপে পড়ে ঋণ নিতে হচ্ছে না। ছয় মাস আগে হয়তো এমন অবস্থা ছিল, কিন্তু এখন নয়।

এসময় আর্থিকখাতে সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রকৃত লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক খাতকে রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রায় ২৪-২৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। যদি কিছু (আইএমএফের ঋণ) সহায়তা পাইও, কয়েক বিলিয়নের বেশি পাব না। তাই সংস্কারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য দাতা সংস্থার প্রসঙ্গে মনসুর বলেন, প্রকল্প ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো অতিরিক্ত শর্ত থাকে না, তবে বাজেট সহায়তা ঋণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত থাকে।

আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অধীনে ২৩১ কোটি ডলার ইতিমধ্যে ছাড় হয়েছে। আরও ২৩৯ কোটি ডলার পাওয়ার কথা রয়েছে।

 




পুঁজিবাজারের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

পুঁজিবাজারের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতদিন এ তহবিলের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিলো।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো: জাকির হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে জারিকৃত ডিওএস (আরএমএমসিএমএস) ১১৫৪/১৬১/২০২০-৫৪৫ নং প্রজ্ঞাপনের অনুবৃত্তিক্রমে বিশেষ তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত পন্থায় তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ২৬ক ধারা এবং একই আইনের ৩৮ ধারার প্রথম তফসিলভুক্ত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতির নির্দেশনার ৪ (খ) নং ক্রমিকের আওতা বহির্ভুত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইল।




মার্কিন শুল্কারোপের প্রভাব সামাল দেওয়া কঠিন হবে না : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপে অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়বে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে না। প্রভাব কীভাবে সামলানো যায় তা দেখা হবে।

রোববার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার অফিসকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভালো কিছু হবে বলে আমরা আশাবাদী।

‘রমজান এবং ঈদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা গেছে এবং মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছে, রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে’—উল্লেখ করেন অর্থ উপদেষ্টা।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। গত ২ এপ্রিল ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় বাজারটিতে পণ্য রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা। বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের নানা প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বন্ধুসুলভ নয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নিঃসন্দেহে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভূত হবে। চীন বলেছে, তারা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জবাবে তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাংলাদেশের পক্ষে। আমদানির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বেশি। তবে রপ্তানি তৈরি পোশাকের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যার মধ্যে বেশিরভাগ মৌলিক আইটেম অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি লোহা, ইস্পাত, খনিজ জ্বালানি, তুলা, তেলবীজ ও নিউক্লিয়ার রেক্টরসহ পাঁচটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং দেশ থেকে আমদানি ছিল ২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬০১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের লোহার ইস্পাত আমদানি করেছে, তারপরে খনিজ জ্বালানি ৫৯৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, তুলা ৩৬১ মিলিয়ন ডলার, তেলবীজ ৩৪১ মিলিয়ন ডলার ও নিউক্লিয়ার রেক্টর ১১১ মিলিয়ন ডলারের আমদানি করেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেশিরভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের ৭ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। বাকিটা এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়ার জুতা, ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য থেকে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ছিল ৯৭০১ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আমদানি ২৩৪৪ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি ১০৪১৭ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ২৮২৫ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার; ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি ৬৯৭৪ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ২২৬৮ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার; ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৫৮৩২ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ২১২৬ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৬৮৭৬ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ১৭৭৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৫৯৮৩ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ১৭০৪ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।




ঈদে নতুন টাকা ছাড়া হবে না যে কারণে

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের আগে নতুন নোট বিনিময়ের জন্য দিনক্ষণ ঠিক করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১৯ মার্চ থেকে নতুন নোট বিনিময়ের নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ঈদ ঘিরে জনসাধারণের মাঝে নতুন নোট বিনিময় স্থগিত করলো বাংলাদেশ ব্যাংক।

মূলত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাদ দিয়ে নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে আনতে না পারায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা।

 

পাশাপাশি ব্যাংকের শাখায় আগের ডিজাইনের যেসব নতুন নোট রয়েছে তা-ও বাজারে না ছেড়ে পুনঃপ্রচলনযোগ্য টাকা দিয়ে সব ধরনের লেনদেন করতে বলা হয়েছে। আগামী মে মাসে নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

সোমবার (১০ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন নোট বিনিময় স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ, ঈদ উপলক্ষে ১৯ মার্চ থেকে জনসাধারণের মধ্যে যে নতুন টাকা ছাড়ার কথা ছিল তা বন্ধ থাকবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জনসাধারণের মাঝে ফ্রেশ নোট বা নতুন নোট বিনিময় কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর শাখায় যেসব ফ্রেশ নোট গচ্ছিত রয়েছে তা বিনিময় না করে সংশ্লিষ্ট শাখায় সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট দ্বারা সব নগদ লেনদেন কার্যক্রম সম্পাদন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পরামর্শ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৯ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখা থেকে নতুন টাকা বিনিময় হওয়ার কথা। এবার ৫, ২০ ও ৫০ টাকার নতুন নোট দেওয়ার কথা ছিল। আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত জনসাধারণ ও গ্রাহকদের মধ্যে নতুন নোট বিনিময়ের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে নতুন নোট বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এলো।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন, এবার ঈদে নতুন নোট বিনিময় হবে না। তবে বাজারে যেসব নোট রয়েছে, সেগুলোর প্রচলন অব্যাহত থাকবে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের লকার ফ্রিজ করতে গভর্নরকে চিঠি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ভল্টে কর্মকর্তাদের অর্থ-সম্পদ জমা রাখার ব্যক্তিগত সব লকার সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিশেষ ওইসব লকারে অপ্রদর্শিত বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ জমা রয়েছে বলে মনে করছে দুদক। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন দুদক পরিচালক।

ব্যাংকের গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি আদালতের অনুমতি নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েন ভল্টে রক্ষিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর সেফ ডিপোজিট তল্লাশি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে তার জমা করা তিনটি সিলগালা কৌটা খুলে ৫৫ হাজার ইউরো, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার, ১০০৫.৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। যা তার নিয়মিত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি।

এত আরও বলা হয়, তল্লাশিকালে রেজিস্ট্রার পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কিছু কর্মকর্তাও সিলগালা করে সেফ ডিপোজিট রেখেছেন। এসব সিলগালা কৌটাতেও অপ্রদর্শিত সম্পদ থাকার অবকাশ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের “দুদক ও সম্পদ পুনরুদ্ধার বিষয়ক” আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ওই ভল্টে রক্ষিত সম্পদ সাময়িকভাবে ফ্রিজের সম্মতি দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গভর্নরকে দেওয়া দুদকের চিঠি ও অর্থ উপদেষ্টার সম্মতি থাকায় ভল্টের সব লকারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে এর মালিকরা তাদের লকার থেকে কোনো ধরনের অর্থ-সম্পদ সরিয়ে নিতে পারবেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সব লকার খোলা ও লকারে থাকা অর্থ-সম্পদের তালিকা তৈরির অনুমতির জন্য গত সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজের কাছে আবেদন জমা দিয়েছে দুদক।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ‘বিগত ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েন ভল্টে রক্ষিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাবেক ডেপুটি গভর্নরের সেফ ডিপোজিট তল্লাশিকালে রেজিস্ট্রার পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য কিছু কর্মকর্তারাও সিলগালা করে সেফ ডিপোজিট রেখেছেন। এসব সিলগালা কৌটায়ও অপ্রদর্শিত সম্পদ থাকার অবকাশ রয়েছে। কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ভল্টের লকারে রক্ষিত অন্যান্য কর্মকর্তাদের সেইফ ডিপোজিটসমূহ তল্লাশি ও ইনভেন্টরি লিস্ট করার অনুমতি চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন দাখিলের সদয় অনুমতি দিয়েছেন। এ অবস্থায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় নিরাপত্তা ভল্টে রক্ষিত লকারে সেফ ডিপোজিট খোলার আবেদন আদালতে দাখিল করার পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।’

শিগগিরই এ সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ওই সব লকার খোলা, অর্থ-সম্পদ গণনা ও তালিকা তৈরির জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করার জন্য দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জমা দেবে দুদক।




চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা হতে পারে ১০ ফেব্রুয়ারি

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) দ্বিতীয়ার্ধের জন্য মুদ্রানীতি (এমপিএস) ঘোষণা করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারিখটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা ১০ ফেব্রুয়ারি একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছি।’

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য ‘সঙ্কোচনমূলক’ ধরন বজায় রেখে এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমপিএস প্রণয়ন করা হচ্ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়া ড. আহসান এইচ মনসুর প্রথমবারের মতো মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভেতরের ও বাইরের অংশীজনের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করছে।

তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন পক্ষের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের অর্থনীতিবিদদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি নগরীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছে।

সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও দক্ষিণ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং।

২০২৩ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এখনও দ্রব্য মূল্য কমাতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক তখন থেকে নীতি সুদের হার কয়েকবার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যে হারে ঋণ নেয় তা হলো নীতি সুদের হার।

কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)’র তথ্য মতে সদ্য সমাপ্ত বছরের ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি আগের মাসের ১১.৩৮ শতাংশ থেকে কিছুটা কমে ১০.৮৯ শতাংশে নেমেছে।

গত বছরের ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছর (২৪-২৫) প্রথমার্ধের জন্য সর্বশেষ মুদ্রানীতি প্রকাশ করে।




অর্থপাচারকারীদের তথ্য দিতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, রিজার্ভ নিয়ে আমাদের প্যানিকড হওয়ার মতো কিছু হয়নি। এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৪ মাসের আমদানি দায় মেটানোর রিজার্ভ রয়েছে। গত ৫ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩ বিলিয়ন। রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘সেন্টার ফর এনআরবি’ আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান তিনি।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, গত ৫ মাসে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি মিলে অতিরিক্ত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। নানান প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে। এখানে প্রবাসীদের অনেক বড় অবদান রয়েছে। এতে চলতি হিসাবের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল সেটি আর নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশ থেকে অর্থপাচার কমে গেছে। আগে দুবাই থেকেই ডলার পাচার হয়ে যেত। এটা কমেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে গুড-গভর্নেন্স ফিরে আসায় অর্থপাচার ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন এসেছে। এতে অর্থনীতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে গভর্নর বলেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে বিদেশিদের ব্যাপক সহায়তা পাচ্ছি। আমরা আইনজীবী নিয়োগ করছি। তবে টাকা পাচারকারীদের বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য দিয়ে প্রবাসীরা সহায়তা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দিনে-দুপুরে এমনভাবে চুরি হয়েছে যা বিশ্বের আর কোথাও হয়নি। এখন আমরা টাস্কফোর্স করেছি। বিদেশিরা কাজ করছে। আমরা পাচারকারীদের অর্থ দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ফিরিয়ে আনবো। আমাদের দেশের বাইরের আদালতেও জিততে হবে। এক্ষেত্রে যদি প্রবাসীরা পাচারকারীদের সম্পদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন তাহলে অনুসন্ধানে সুবিধা হবে, অর্থ ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।
Jagonews24 Google News Channelজাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল।

এসময় তিনি জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে আড়াই (২.৫ শতাংশ) শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে বছরে সরকারের ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে প্রবাসীদের জন্য সরকার ইতিবাচক।




সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর ও স্ত্রী-কন্যার বিরুদ্ধে মামলা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।

এর আগে গত বছরের আগস্টে এই পরিবারের সব ধরণের লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয় দুদক। আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের ২৯ মার্চে এস কে সুরকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ লুটপাটের ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ছিল বলে জানা গেছে। এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।

অভিযোগ আছে এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন ও সুবিধা নিয়েছেন।




ব্যাংকে নিয়োগের বয়সসীমা এখন ৩২ বছর

সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ব্যাংকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা দিয়েছে। আগে এ বয়সসীমা ছিল ৩০ বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, গত ১৮ নভেম্বর সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছরের পরিবর্তে ৩২ বছর নির্ধারণ করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

“এই অধ্যাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছরের পরিবর্তে ৩২ বছর নির্ধারণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হল।”
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে গত এক যুগ ধরে বিভিন্ন সময়ে রাজপথে নামেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে তা আলোর মুখ দেখেনি।

এর মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ দাবি জোরালো হয়। এ নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ২৪ অক্টোবর চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে আন্দোলনকারীরা তা ৩৫ বছর করার দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এরমধ্যে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর করার ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ১৮ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়।