বিডা ও জাইকার উদ্যোগে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ বাংলাবিজ ২.০ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এদিন ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ বাংলা বিজ- ফেইজ ২ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় নতুন সংস্করণের মূল কার্যকারিতা ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। অনলাইন সিস্টেমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার মাধ্যমে বাংলাবিজ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের একটি ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে।

তিনি আরও বলেন, জাইকা বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। তাই বাংলাবিজ একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে বাংলাবিজকে বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগির এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময়ে তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবায় বৈশ্বিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যেখানে সম্ভব সেগুলো বাদ দেওয়াও জরুরি।

বিডা জানায়, বাংলাবিজ ২.০–তে যুক্ত হওয়া নতুন সুবিধাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করা হয়েছে। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান অনুমোদন, যেমন; নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন।

এছাড়াও পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা–সংক্রান্ত লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন।

বাংলাবিজের নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস’ ফিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী অনুমোদন ক্ষেত্রে কোন ধরনের ডকুমেন্টস সাবমিট করা বাধ্যতামূলক, তা আগেই শনাক্ত করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা নিতে পারবেন।

এই সংস্করণে আরও যুক্ত হয়েছে বাংলাবিজ আইডি, যা একটি ইউনিক ব্যবসায়িক পরিচিতি নম্বর হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক বিজনেস আইডি চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সিঙ্গেল সাইন-অন সুবিধার ফলে একটি মাত্র লগইন ব্যবহার করে বাংলাবিজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ওএসএস সিস্টেমে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।




বিনিয়োগ আকর্ষণে কোরিয়া সফরে আশিক চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য এ কৌশলগত সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিডার জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মণ্ডল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর কোরিয়া সফর করবে। বিডার পাশাপাশি দলে আছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সফরটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রশান্ত কুমার জানান, সফরের অংশ হিসেবে ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর একাধিক সরকারি-বেসরকারি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে অংশ নেবে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো। সেখানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, জাহাজ নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বস্ত্রশিল্প, রসায়ন ও ভারী নির্মাণ খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও সুযোগ তুলে ধরা হবে।

বিডা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিনিধিদলটি দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের (এমওটিআইএ) উপমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবে। এছাড়া একাধিক সরকারি-সরকারি (জিটুজি) পর্যায়ের আলোচনাতে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, প্রস্তাবিত কোরিয়া–বাংলাদেশ সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) ও সাম্প্রতিক বাণিজ্য নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

বিডা জানায়, সফরের অন্যতম প্রধান আয়োজন হলো ‘গেটওয়ে টু গ্রোথ: ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সেমিনার, যা ২১ অক্টোবর সিউলে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করছে বিডা ও সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস। সহযোগিতায় থাকবে ফেডারেশন অব কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (এফকেআই)। সেমিনারে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, সুযোগ ও প্রস্তুতি তুলে ধরা হবে। এছাড়া ইয়ংওয়ান করপোরেশনের মতো সফল কোরিয়ান বিনিয়োগকারীরা তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প শেয়ার করবে, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

এ সফর সম্পর্কে বিডার ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের অন্যতম মূল্যবান অর্থনৈতিক অংশীদার। আমরা এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের কাছে পরবর্তী কৌশলগত উৎপাদন ও রপ্তানিকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চাই। আমাদের লক্ষ্য একদিকে নতুন উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে এমওটিআইএ-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সংলাপের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশাধিকার ও অর্থনৈতিক সংযুক্তি বাড়ানো।’




বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমতি পেলো স্টারলিংক

বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংককে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

রবিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই ২৯ মার্চ স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিডা থেকে নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নিবন্ধনও স্টারলিংককে দেওয়া হয়েছে।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও জানান, পরিচালনার জন্য যে ননজিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) লাইসেন্সের প্রয়োজন, এর জন্য স্টারলিংক-এর আজ (রবিবার) আবেদন করার কথা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করলে অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা করার জন্য কোনও বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের ভেন্যু রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আগামী ৯ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক-এর ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করা হবে। সেখানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া স্টারলিংক-এর ইন্টারনেট ব্যবহার করে সম্মেলনের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশের জন্য স্টারলিংক-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, স্টারলিংক বাংলাদেশে এলে দুর্গম এলাকায় খুব সহজে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে। ফলে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য দূর হবে। গ্রামে বসেই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিংসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ করতে পারবেন তরুণরা। সূত্র: বাসস




‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ কানেক্ট ২০২৫’ উদ্বোধন

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে চার দিনব্যাপী (৭ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল) বিনিয়োগ সম্মেলনের প্রথম দিনে সোমবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ কানেক্ট ২০২৫’-এর উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান তানভীর আলী। শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাদিয়া হকের পরিচালনায় এ অধিবেশনে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্ল্যানারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মোজাম্মেল এবং আইসিটি সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শীশ হায়দার চৌধুরী।

প্রধান উপদেষ্টার সহকারী সচিব নাঈম আলী এসব তথ্য জানান।




‘বিনিয়োগ পরবর্তী সব সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর বিডা’

বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ পরবর্তী সব ধরনের সেবা প্রদানে বিডা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরবর্তী সময়ে একজন বিনিয়োগকারী ই-কর্মাস, ট্রেড মার্ক ইস্যু, ভিসা ইস্যু, যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে থাকে।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের বিডার মাল্টিপারপাস হলে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সাথে সাক্ষাৎ ও এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, স্মার্ট বিনিয়োগ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা ওএসএস প্লাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্রদানসহ, বিনিয়োগ পরবর্তী সব সময়েও বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান করে আসছি।

এসময়ে তিনি জাপানের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক উল্লেখ্য করে বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম ভালো এবং আমাদের উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। সম্প্রতি আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অবদান অনস্বীকার্য।

এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিউং হো লি ও জেট্রোর ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুনোরি ইয়ামাদা।

মিউং হো লি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য। এখানে নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং দেশটিতে ক্রম উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ ২০২৬ এলডিসি গ্রাজুয়েশন লাভ করবে। তাই জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে বিশেষ আগ্রহী।




বিনিয়োগ বাড়াতে একত্রে কাজ করবে বিডা ও সিঙ্গাপুর গ্রুপ

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একত্রে কাজ করবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও এন্টারপ্রাইজ সিংগাপুর গ্রুপ।

বুধবার (জুলাই ৫) বিডার কনফারেন্স কক্ষে বিডা ও এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর গ্রুপের মধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা ও এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এ কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর গ্রুপের সঙ্গে বিডা’র সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বিডার পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বিডার নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিন। এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর গ্রুপের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকে সই করেন গ্রুপটির পরিচালক অড্রে ট্যান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগ এখন আর বিশ বছর আগের মতো নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগে এখন প্রযুক্তির প্রয়োগ আবশ্যক। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পলিসি আধুনিকায়নসহ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ আধুনিক স্মার্ট সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বিডা ওএসএস ও ইনভেস্টমেন্ট আফটার কেয়ারসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ সেবা দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সিঙ্গাপুর আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। এই সমঝোতা স্মারকের ফলে আমাদের আস্থা, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ আরও বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে। এসময়ে তিনি সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনয়োগের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডিরেক্টর ফ্রান্সিস চং বলেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, টেক্সটাইল এবং আরএমজি, কৃষি ব্যবসা ও খাদ্যসহ বিভিন্ন সেবাখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আসছে। বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের তৃতীয় বৃহত্তম এফডিআই স্টক রয়েছে। বর্তমানে ১৬৭টির বেশি সিঙ্গাপুরের কোম্পানি বিডার অধীনে বিভিন্ন সেবা নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করে চলছে। এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের ফলে আগামীতে এই সংখ্যা এবং এফডিআইয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর গ্রুপ পরিচালক অড্রে ট্যান বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য অন্যতম নিরাপদ ও লাভজনক। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগে সিঙ্গাপুর বিশেষভাবে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর গ্রুপের সঙ্গে বিডা’র প্রথম সমঝোতা স্মারক সই হয়। এটি আজ আবার রিনিউ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সভাপতির বক্তব্যে বিডা’র নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিন বলেন, এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের ফলে এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর গ্রুপ ও বিডার যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

অনুষ্ঠানে এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর গ্রুপ ও বিডার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




জাপানে ‘রোড শো’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পুঁজিবাজারের ব্যপ্তি বাড়ানো ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিকভাবে ‘রোড শো’ আয়োজন করা হচ্ছে। এবার এশিয়ান দেশ হিসেবে জাপানে আগামী ২৭ এপ্রিল রোড শো অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের রোড শোটি উদ্বোধন করবেন বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

 

‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে জাপানের ওয়েস্টিন টোকিওতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রোড শো বিএসইসি’র ষষ্ঠতম আয়োজন।

জাপানের রোড শোতে এবার বিএসইসির সঙ্গে আয়োজক হিসবে রয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা)। এছাড়া পার্টনার হিসবে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া সহযোগিতায় রয়েছে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, মিনোরি জাপান বাংলাদেশ ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো)।

জানা গেছে, এবার জাপানের রোড শো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। এ সময় উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামসহ বিএসইসি’র প্রতিনিধিরা।

 

জাপানের ‘রোড শো’তে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিরা বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, শেয়ারবাজার ও সার্বিক অর্থনীতির পরিস্থিতি এবং এফডিআই’র বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হবে।

এছাড়া, দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কীভাবে শেয়ার বাজারে সরাসরি বিনিয়োগ করবেন তার কৌশল ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরা হবে।

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও শহরগুলোতে ধারাবাহিক রোড শো করার পরিকল্পনা করেছে বিএসইসি।

এর আগে প্রথম দফায় দুবাইতে, দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রে, তৃতীয় দফায় সুইজারল্যান্ড, চতুর্থ দফায় যুক্তরাজ্য ও পঞ্চম দফায় কাতারে সাফলতার সঙ্গে রোড শো সম্পন্ন করেছে বিএসইসি। এছাড়া সিঙ্গাপুর, জার্মানি, কানাডা, রাশিয়া, ইতালি, হংকং, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিকভাবে রোড শো আয়োজন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএসইসি’র ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবার এশিয়ার দেশ হিসেবে জাপানে রোড শো আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল এ রোড শো অনুষ্ঠিত হবে। শেয়ারবাজারের এসব অর্জনসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিস্থিতি জাপানের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডারদের কাছে রোড শো’র মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।’