মার্চে শেষ হচ্ছে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। এর মধ্যে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মার্চে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। এর মধ্যে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মার্চে। বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের জন্য এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছে ভারতীয় কোম্পানি বিদ্যুৎ ভ্যাপর নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন)।

ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া) ও ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, এনভিভিএন ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নেয়া বিদ্যুতের ক্রয় চুক্তি নবায়নে কাজ শুরু করেছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা ১৮ অক্টোবর পিটিআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভারতের ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন লিমিটেডের (টিএসইসিএল) সঙ্গে বিপিডিবির ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি রয়েছে। মূলত টিএসইসিএল এ বিদ্যুৎ এনভিভিএনের পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশকে সরবরাহ করছে। আগামী বছরের মার্চে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এ হিসেবে চুক্তির মেয়াদ রয়েছে পাঁচ মাসের বেশি কিছু সময়।

এনভিভিএনের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে টিএসইসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ বোসের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি পিটিআইকে বলেন, ‘আমরা বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে প্রস্তুত। টিএসইসিএল বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, যা নভেম্বর থেকে ১০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে।’

টিএসইসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, ‘এনভিভিএন বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের (বিপিডিবি) সঙ্গে আলোচনা করবে। যদি তারা একমত হয় তাহলে আমরা প্রতিবেশী দেশটিতে (বাংলাদেশ) বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাব।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১০ সালে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর আওতায় ২০১৭ সালের এপ্রিলে বিপিডিবি ও এনভিভিএনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যার মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে আরেক দফা চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যা শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মার্চে।

এনভিভিএনের পক্ষ থেকে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত বিপিডিবি তেমন কিছুই জানে না বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন দুজন কর্মকর্তা। তারা জানান, এ বিষয়ে এনভিভিএন বা টিএসইসিএলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চিঠি তারা পাননি। তবে চিঠি পেলে বিপিডিবি বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিডিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনভিভিএনের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আগে বিপিডিবি বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা সভা করবে, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তাছাড়া চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিয়ে এনভিভিএনের পক্ষ থেকেও কোনো চিঠি পাইনি আমরা। যদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নবায়নের পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে দাম কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হবে।’

তিনি আরো জানান, আগামী জানুয়ারি থেকে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিপিডিবির। তখন ত্রিপুরা থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা সে বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের ত্রিপুরা থেকে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তার হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে বিপিডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এনভিভিএন ইন্ডিয়া (ত্রিপুরা) ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় ৯৭ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১০৭ কোটি ৩৮ লাখ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

পিজিসিবির তথ্য থেকে জানা গেছে, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিপিডিবি বর্তমানে কোনো কোনো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানি করছে।




সপ্তাহের ব্যবধানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ৩ হাজার মেগাওয়াট

তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। এই সময়ে ব্যবহার বেড়েছে ফ্যান, এসি ও ফ্রিজের। ফলে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। শেষ এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। এতে লোডশেডিং হচ্ছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারের তথ্য বলছে, গত ১৪ এপ্রিল দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট। আজ বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে। এই চাহিদার পরিমাণ গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত ১৫ এপ্রিল চাহিদা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার মেগাওয়াটে, যার বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৫৪৩ মেগাওয়াট। ১৬ এপ্রিল বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটে। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট। ১৭ এপ্রিল চাহিদা কিছুটা কমে ১৪ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে, ওই দিন উৎপাদন হয় ১৬ হাজার ৪১১ মেগাওয়াট।

গত ১৮ এপ্রিলও বিদ্যুতের চাহিদা হয় ১৪ হাজার ৮১ মেগাওয়াট। তবে গতকাল শনিবার (২০ এপ্রিল) বিদ্যুতের চাহিদা আবারও বেড়ে যায়। এদিন ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াট। এদিন চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম উৎপাদনের ফলে ১৪২ মেগাওয়াট লোডশেডিং দিতে হয়। তীব্র গরমে এই চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত শনিবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের জানান, এই গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে পারে। এই চাহিদা পূরণ করে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করছি।




সোনাগাজীতে ১০০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

ব্যয়বহুল এলএনজি ব্যবহার কমানোর পাশপাশি বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বেসরকারি খাতে ১০০ মেগাওয়াট (এসি) সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

বেসরকারিখাতে বিল্ড-ওন-অপারেট (বি-ও-ও) এবং ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করবে একটি চীনা কনসোর্টিয়াম।

বেইজিং এনার্জি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-বিজেডএইচই-ইএনএএম-এমএনএস। স্থাপিতব্য এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ১১.০০৫৮ টাকা (দশমিক ০৯৯৬ ডলার) হিসাবে ২০ বছর এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে ব্যয় হবে তিন হাজার ৫৬৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সার্বজনীন বিদ্যুৎ সেবা প্রদান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ও প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাময় উৎস সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো; মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ বাস্তবায়নে সহায়তা করা; জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসকরণ- এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ফেনীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে স্থাপন করার কথা ছিল; কিন্তু প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান করতে না পারায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৬ নম্বর চরকান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধলী মৌজায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সংশোধিত প্রস্তাব করে কনসোর্টিয়াম। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে উদ্যোক্তারা নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সংগ্রহ, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ ও সাব-স্টেশন নির্মাণসহ সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, পিডিবি’র ভূমি/সাইট পরিদর্শন কমিটি প্রকল্পের স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেছে এবং কারিগরি কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিবাচক সম্মতি দিয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিতব্য বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর মতামত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিতব্য বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করে বারইয়ারহাট ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপ কেন্দ্রের ১৩২ কেভি ইভাকুয়েট করা যেতে পারে বলে পিজিসিবি মতামত দিয়েছে। চুক্তি সম্পাদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ধরা হয়েছে দুই বছর।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত করা সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা এবং প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। যার ফলে গ্রাহক পর্যায়ে মানসম্মত নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় একটি রাজস্ব সাশ্রয়ী, দক্ষ, সর্বনিম্ন ব্যয়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং দক্ষ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য, আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।




রামপালে হচ্ছে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

উৎপাদন শুরুর পর থেকে ২০ বছর এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। গতকাল ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন

বাগেরহাটের রামপালে দেশের বৃহত্তম ৩০০ মেগাওয়াটের যে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, তা থেকে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের ইউনিট ১১ টাকায় (১০ দশমিক ২০ সেন্ট) কিনবে সরকার। ২০ বছর এ বিদ্যুৎ কেনা হবে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুতের দর (ট্যারিফ) বিষয়ক এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে তা সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

‘বিদ্যুৎ নেই তো টাকাও নেই’ অর্থাৎ নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট—এমন শর্তে চার প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রধান বিনিয়োগকারী সৌদি আরবের অ্যাকোয়া পাওয়ার কোম্পানি। সঙ্গে থাকছে দেশীয় বিনিয়োগকারী কমফিট কম্পোজিট নিট বাংলাদেশ ও ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং লিমিটেড। আরও থাকছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।

সাঈদ মাহবুব খান জানান, এ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে ব্যয় হবে ৪৩ কোটি মার্কিন ডলার। সৌদি আরবের কোম্পানি এ বিনিয়োগের ৪৫ শতাংশের অংশীদার। আর জমির জোগানদাতা হিসেবে বিউবো এটির ২৫ শতাংশের মালিকানায় থাকবে। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ কমফিট কম্পোজিট নিট এবং বাকি ১৫ শতাংশ ভিয়েলাটেক্স স্পিনিংয়ের মালিকানায় থাকবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরুর কথা রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, দেশের সবচেয়ে বড় এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ লাখ পরিবারের (হাউসহোল্ড) কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানো যাবে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে ট্যারিফ হার ২ থেকে ৩ সেন্ট হলেও এ কোম্পানি থেকে সরকার ১০ দশমিক ২০ সেন্ট দরে বিদ্যুৎ কিনবে কেন—জানতে চাওয়া হয় এ প্রকল্পের অংশীদার ভিয়েলাটেক্সের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসনাতের কাছে।

দেশে এত দিন সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নাম ছিল তিস্তা সোলার লিমিটেড। এটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২০০ মেগাওয়াট। উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২ আগস্ট গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের অনাবাদি চরের ৬৫০ একর জমিতে তিস্তা সোলার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো পাওয়ার লিমিটেড এ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

এর আগে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সুতিয়াখালী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল একসময় দেশের বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ২০২০ সালে এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। দেশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।