জিনিসপত্রের দাম কমানোর উপায় বের করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোভিড-১৯-এর অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নকামী দেশগুলোকে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি করেছে। এমনকি উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার উপায় খুঁজে বের করতে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বলেন। তিনি বলেন, তা না হলে নিজেরা নিজেদের বাজার হারাবেন।

শনিবার (১১ মার্চ) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই সম্মেলন হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সহযোগিতায় (বিডা) এফবিসিসিআই এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।

সরকারপ্রধান বলেন, সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছি। সমৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের বর্তমান প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে হবে যেখানে ব্যর্থ হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

আমাদের প্রতিজ্ঞা নিতে হবে যে আমরা কোনমতেই ব্যর্থ হবো না। যে কোনও ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই সফল হবো প্রতিবন্ধকতার উত্তরণ ঘটাতে। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ, আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবেই আমাদের দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। তাই সবার সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে দরকার, বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী ড.মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি, ভুটানের শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী কর্মা দরজি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপ-মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত জিয়াংচেন ঝাং, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র ও প্রদর্শিত হয়।




ঢাকায় বিজনেস সামিটে যোগ দিচ্ছে ১৭ দেশের প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ১১-১৩ মার্চ হবে এই সামিট। যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, চীন, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সাতটি দেশের মন্ত্রী, ১২টি বহুজাতিক কোম্পানির সিইওসহ বিশ্বের ১৭টির বেশি দেশ থেকে দুই শতাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে এই সামিটে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হবে এটি।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান সংগঠনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে এই সামিট ভূমিকা রাখবে।

বিজনেস সামিট দেশের জন্য একটি ব্র্যান্ডিং উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সামিটে যোগ দিতে এরই মধ্যে ৭৫০ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনের বাইরেও অনেকে সামিটে যোগ দেবেন। দেশ-বিদেশের যে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন তারা ভালো একটা অঙ্কের নিবন্ধন ফি প্রদান করে অংশ নিচ্ছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে এখন মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। তারা এখানে ব্যবসা করতে চায়। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

আরও পড়ুন: কমেছে লেনদেন, সূচক মিশ্র

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে ব্যবসায়ী নেতা, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। সেই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনীতি সম্পর্কে আলোচনা করবেন। যা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক গতিকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার অর্থাৎ ১১ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এফবিসিসিআই’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরি বাবু, সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবীব উল্লাহ ডন, এম এ রাজ্জাক খান রাজ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।




বিজনেস সামিট সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চায় এফবিসিসিআই

‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’ এই উদ্যোগকে সফল ও কার্যকর করতে স্থানীয় গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এবং বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের আয়োজক দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও তরান্বিত করতে একটি ফ্ল্যাগশিপ বিজনেস ইভেন্ট হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ বিজনেস সামিটি। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তি ও সামর্থ্য, বাজার সম্ভাবনা এবং উদীয়মান খাতগুলোকে তুলে ধরা হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।

শনিবার (৪ , ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সম্পাদক এবং প্রধান নির্বাহীদের সম্মানে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় গণমাধ্যামের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবীব উল্লাহ ডন, এম. এ. রাজ্জাক খান রাজ, পরিচালক আমজাদ হোসেন, কাজী এরতেজা হাসান, শমী কায়সার, এফবিসিসিআই এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সিইও এবং জেষ্ঠ্য সাংবাদিকরা।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ বিজনেস সামিট কেবল এফবিসিসিআই এর একার আয়োজন নয়, এই আয়োজনের অংশীদার দেশের সবাই। সবার সহযোগিতা বিশেষ করে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ব্যতীত এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব হবে না।”

তিনি আরো বলেন, “৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্তমান বোর্ড এই সামিটের যাত্রা শুরু করলো। পরবর্তী বোর্ড প্রতি ২ বছর পরপর, কিংবা সম্ভব হলে প্রতিবছর সামিটের আয়োজন অব্যাহত রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিজনেস সামিট আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ। অর্থনীতি এবং সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোকে বৈশ্বিক ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক, বাজার বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তুলে ধরা।

বাংলাদেশে উৎপাদিত সেরা পণ্যগুলোকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সামিটের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে ”বেস্ট অব বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৩”। স্বাধিনতার ৫০ বছরে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এমন প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোক্তাদের সম্মানিত করা হবে এফবিসিসিআই বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে।