রানা প্লাজা ধসে নিহতদের প্রতি বিজিএমইএ’র শ্রদ্ধা

রানা প্লাজা ধসে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

রানা প্লাজা ধসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ১০ বছর উপলক্ষে সোমবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে নিহতদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। এসময় সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিমসহ বিজিএমইএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এসময় ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশের তৈরিপোশাক খাত গত ১০ বছরে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শিল্পে পরিণত হয়েছে। রানা প্লাজা ধসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সরকার, আইএলও, ক্রেতা, সরবরাহকারী এবং ইউনিয়নসহ স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে অভূতপূর্ব সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে একত্রিত করেছিল, যা বাংলাদেশের তৈরিপোশাক শিল্পে কাঠামোগত, অগ্নি এবং বৈদ্যুতিক সুরক্ষার নিশ্চিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনয়ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১০ বছরে আইনি সংস্কারসহ ব্যাপক নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে পোশাক শিল্পে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের কারখানাগুলো আজ শুধু নিরাপদই নয়, পরিবেশবান্ধবও।

তিনি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, শ্রমিকদের অধিকার এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে অর্জনকে অব্যাহত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।




অসহায় মানুষদের ঈদ উপহার-খাবার বিতরণ করেছে বিজিএমইএ

পবিত্র রমজান মাসে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধ্যে খাদ্য সহায়তার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

সমাজের অসহায় মানুষদের সহায়তায় বিজিএমইএ-এর চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকার মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং প্রতিবন্ধীদের হাতে ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

জনছায়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই খাদ্য ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিজিএমইএ পরিচালক আসিফ আশরাফ ও জায়ান্ট গ্রুপের পরিচালক শারমিন হাসান তিথী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমাদের আশপাশে যেসব অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষ রয়েছেন, তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সামাজিক দায়বদ্ধতায় নিবেদিতপ্রাণ সংগঠন হিসেবে বিজিএমইএ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখার বিষয়ে আমাদের যে একটি বৃহত্তর লক্ষ্য রয়েছে, এই অনুদানটি সেই বৃহত্তর লক্ষ্যের একটি ছোট পদক্ষেপ।

এ সময় তিনি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদেরকে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও অভাবী মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে সহায়তা করা এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বিজিএমইএ তার সদস্যদের জন্য একটি ইফতার কর্মসূচির বাজেটের টাকার একটি অংশ সমাজের অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করে এমন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে দান করে আসছে। এর আগে, সম্প্রতি বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বিজিএমইএ তার নির্ধারিত ইফতার কর্মসূচিগুলো বাতিল করে।