গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণের দাবি মাংস ব্যবসায়ীদের

গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, গরুর মাংসে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে আমদানি না করে দেশি নিরাপদ মাংসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত জোরদার করতে হবে নজরদারি। গত রোববার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) কার্যালয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের এক সভায় এ দাবি জানানো হয়।

বিডিএফএ সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ১ আগস্ট থেকে খামার পর্যায়ে বাজার মূল্যের চেয়ে ৫০ টাকা কমে আমরা মাংস বিক্রি করছি। এর প্রভাব বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। এ পর্যায়ে আমরা মিরপুর, পুরান ঢাকা ও মোহাম্মদপুরের মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা হাসিল ও বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পক্ষে। আমদানি নয়; বরং নিরাপদ মাংস ভোক্তার হাতে তুলে দিতে চান তারা। সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কাজ করা গেলে মাংসের দাম কমানো সম্ভব। মাংসের মূল্য হ্রাস করে ভোক্তাদের ক্রয়সীমার মধ্যে আনতে সাত দফা সুপারিশ করেন তিনি।
ইমরান হোসেন বলেন, নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত করতে হাজারীবাগে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত পশু জবাইখানা নির্মাণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দ্রুত সেটি চালু হবে। এখানে মাংস ছাড়াও প্রয়োজনীয় অনেক কিছু রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে মাংসের দাম আরও কমে আসবে।




কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ। গতকাল শনিবার (১০ জুন) রাজধানীর সাদিক অ্যাগ্রো খামারে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ কথা জানান সচিব।

নাহিদ রশীদ বলেন, আমাদের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু রয়েছে। আগামী ১৪ তারিখ সংখ্যাটা নির্দিষ্ট করে জানানো যাবে।

সচিব আরো বলেন, এছাড়া খামারিরা আমাদের জানিয়েছেন, পশু আনতে গিয়ে পথেঘাটে নানা ধরনের ভোগান্তি হয় তাদের। এক্ষেত্রে অভিযোগ সেন্টার চালু করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মো. এমদাদুল হক তালুকদার বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর বেশি সংখ্যক গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি হয়েছে। সে অনুযায়ী এ বছর পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। কোরবানি শেষে পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।