জানুয়ারিতে ঢাকা বাণিজ্য মেলা, শিগগিরই শুরু স্টল বরাদ্দ কার্যক্রম

রাজধানীর পূর্বাচল নিউটাউনে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আগামী বছরের জানুয়ারির ১ তারিখে শুরু হবে ঢাকা বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর। এ লক্ষ্যে শিগগিরই স্টল বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হলেও জানুয়ারির ১ তারিখে ঢাকা বাণিজ্য মেলা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ ২৯তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত বছরের ১ নভেম্বর মেলার স্টল বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। গতবারের মেলায় ৩৬২টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন ছিল, যার মধ্যে ৩৫১টিই দেশিয় প্রতিষ্ঠানের স্টল।

এদিকে আগামী বছরের জানুয়ারিতে মেলা করার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ইপিবির পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে মেলা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ওই তারিখ থেকেই মেলা শুরু করা পরিকল্পনা আছে। স্টল বরাদ্দ ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে।

ইপিবির মেলা এবং প্রদর্শনী বিভাগের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা বলেন, বাণিজ্য মেলা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম এটা জানুয়ারিতেই হবে। সেইম ডেট, সেইম ভেন্যুতে বাণিজ্য মেলা হবে।

দেশিয় পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিপণনের পাশাপাশি এসব পণ্যের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আয়োজন করছে বাংলাদেশ। মেলার যৌথ আয়োজক প্রতিবারই থাকছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চতুর্থবারের মতো বাণিজ্য মেলা হয়েছে। তবে এবার নাম বদলে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ হচ্ছে, ‘ঢাকা বাণিজ্য মেলা’।

গত ১৮ আগস্ট ইপিবির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। মেলার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের লক্ষ্য ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানো। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান দূতাবাস বা সরকারি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ না করে স্থানীয় এজেন্ট বা ব্যক্তির মাধ্যমে অংশ নিচ্ছে। ফলে পণ্য ও সেবার মান যাচাই করা যাচ্ছে না। অনেক সময় মানহীন বা স্থানীয়ভাবে বিদেশি ব্র্যান্ড নামেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ড বা উৎপাদকেরা সরাসরি না থাকায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমন এক বাস্তবতায় মেলার নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




রোববার বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামীকাল রোববার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মেলায় সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া এবং ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, মেলায় যাতায়াত সুবিধার জন্য গতবারের মতো শাটল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা থাকবে। কুড়িল বিশ্ব রোড হতে এক্সিবিশন সেন্টার পর্যন্ত বিআরটিসি বাস চলাচল করবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে, তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।




তিন দিনব্যাপী ‌‘ঢাকা মোটর শো’ ১৬ মার্চ শুরু

অটোমোবাইল প্রেমী ও ব্যবসায়ীদের অত্যাধুনিক ও মোডিফাইড মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল এবং অটোমোটিভ শিল্পের যন্ত্রাংশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘১৬তম ঢাকা মোটর শো ২০২৩’।

আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চ রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ‘সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ’।

রোববার (৫ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট এবং গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন ইসলাম।

তিনি জানান, ‘১৬তম ঢাকা মোটর শো ২০২৩’ এর সাথে একইসঙ্গে একই স্থানে ‘৭ম ঢাকা বাইক শো ২০২৩’, ‘৬ষ্ঠ ঢাকা অটোপার্টস শো ২০২৩’’ এবং ‘৫ম ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো ২০২৩’র আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রদর্শনী সম্পর্কে তিনি আরো জানান,‘ঢাকা মোটর শো’ মোটরপ্রেমী, অটো শিল্প ব্যবসার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের একটি ওয়ানস্টপ প্লাটফর্ম। যেখানে ক্রেতা, বিক্রেতা, দর্শক ও উদ্যোক্তারা ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি, যন্ত্রাংশ আনুষাঙ্গিক উপকরণ ও নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচত হতে পারবেন।

তিনি আরো জানান, ঢাকা মোটর শোসহ এই চারটি প্রদর্শনীতে জাপান, চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড অংশ নেবে।

৫৫০টি বুথের মাধ্যমে নিজেদের মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করবে ৩৩০টি প্রদর্শক। এছাড়া ২৫টি বেশি ভারতীয় কোম্পানি এই প্রদর্শনীতে অংশ নেবে।

‘ঢাকা বাইক শো’ সম্পর্কে মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, এই প্রদর্শনী দেশের মোটরসাইকেল, স্কুটারস, বাইসাইকেল, হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আনুষাঙ্গিক যন্ত্রাংশসমূহের সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী। যা সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর বাজারকে প্রসারিত করতে ভূমিকা পালন করবে।

‘ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো’’ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যানবাহন শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। যা বাংলাদেশে বাণিজ্যিক গাড়ি উৎপাদন, বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পারন করবে।

‘ঢাকা অটোপার্টস শো’ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক গাড়ি এবং অটো কম্পোনেন্ট প্রদর্শনী। যা অটোকম্পোনেন্ট এবং অটোমোবাইল প্রযুক্তির নতুন নতুন মডেল উপস্থাপন করা জন্য অটো-কম্পোনেন্ট ব্যবসার একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সেমস-গ্লোবালের গ্রুপের প্রধান নির্বাহী (সিইও) এস এস সারোয়ার, নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম, ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ের পরিচালক অভিষেক দাস।