অর্ধবার্ষিকে বিআইএফসির লোকসান বেড়েছে ১০১.২৯ শতাংশ

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল থেকে জুন, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকের (জানুয়ারি থেকে জুন, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) বেড়েছে ১০১.২৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে (১.৪৭) টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (০.৬১) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে (০.৮৬) টাকা বা ১৪০.৯৮ শতাংশ।

চলতি হিসাববছরের অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে (৩.১২) টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (১.৫৫) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে (১.৫৭) টাকা বা ১০১.২৯ শতাংশ।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে (১২৯.২৩) টাকা।




বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রোববার (৩০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সমাপ্ত বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি’২৪-মার্চ’২৪) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৯৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৪৭ পয়সা লোকসান হয়েছিল।

সমাপ্ত সময়ের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল ’২৪-জুন’২৪) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৬১ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৯০ পয়সা লোকসান ছিল।

এবং, সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি (জুলাই’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। আগের বছর একই সময় কোম্পানির লোকসান ছিল ১ টাকা ০৬ পয়সা।

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে (জানুয়ারি’২৪ –সেপ্টেম্বর’২৪) শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৬১ পয়সা। এর আগের বছর ৩ টাকা ৪৪ পয়সা লোকসান হয়েছিলো।




লভ্যাংশ দেবে না বিআইএফসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আলোচিত বছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেবে না।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলোচিত বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৬৬ পয়সা, যা আগের বছর ৭ টাকা ৫৮ পয়সা লোকসান ছিল।

কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ পরে জানানো হবে । এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ০৬ ফেব্রুয়ারী।




৮ বছর  লভ্যাংশ দিচ্ছে না বিআইএফসি

শেয়ারহোল্ডারদের আবারও হতাশ করল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। কোম্পানিটির জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর-২০২১ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নো ডিভিডেন্ট ঘোষণা করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

রোববার (২০ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির আয়ের বিপরীতে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৯ টাকা ৭৮ পয়সা। লোকসানে থাকায় শেয়াহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি পর্ষদ। এর ফলে টানা আট বছর শেয়াহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না কোম্পানিটি। এর আগে ২০১৩ সালে সর্বশেষ ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৪টি।

পর্ষদ ঘোষিত সিদ্ধান্তে শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) দিন পরে জানানো হবে। তবে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর।

গত ৩১ ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ঋণাত্মক ১০৬ টাকা ৮৩ পয়সা।




 মেজর মান্নানের স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ঋণের নামে প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স করপোরেশন লিমিটেডের (বিআইএফসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মেজর মান্নানের পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার মাধ্যমে বিআইএফসির দুর্নীতিতে মোট ১০টি মামলা করলো দুদক। এবারের মামলায় স্ত্রী ও মেয়েদের আসামি করা হলেও মান্নানকে করা হয়নি।

বুধবার (৩ মে) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মাজেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স করপোরেশন লিমিটেডের (বিআইএফসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের স্ত্রী উম্মে কুলসুম মান্নান, তাদের দুই মেয়ে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তাজরিনা মান্নান ও তানজিলা মান্নান, একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, এ এন এম জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনামুর রহমান, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ফকরে ফয়সাল, সাবেক এভিপি অ্যান্ড ইউনিট হেড আহমেদ করিম চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র অফিসার (বিজনেস) মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং সাবেক সিনিয়র অফিসার ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া ঋণ গ্রহীতা বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদ মিয়া ও চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে, একে অন্যের সহায়তায় প্রতারণামূলকভাবে আসামি ওয়াহিদ মিয়া ও মিজানুর রহমানের নামে ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ দেখিয়ে ওই টাকা পরিশোধ না করে পুরো টাকাই আত্মসাৎ করে। যা পরবর্তী সময়ে সুদ ও আসলে ২১ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ২৫০ টাকা দাঁড়িয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০/১০৯ এবং তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

নিরাপত্তা জামানত ও মর্টগেজ ছাড়াই ঋণের নামে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে গত ১১ এপ্রিল ৯ নম্বর মামলা দায়ের করেছিল দুদক। ওই মামলায় ঋণ গ্রহীতা রফিক উদ্দিন ও বিআইএফসির আরও ১৩ কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত মেজর (অব.) এম এ মান্নান, তার স্ত্রী ও কন্যাসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিআইএফসির অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ১০ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে দুটি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ও ৮টি মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।