বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘হালাল অর্থনীতি’

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার প্রচলিত পণ্য বাণিজ্যের বাইরে এবার নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে ‘হালাল অর্থনীতি’।

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, হালাল অর্থায়ন ও পর্যটনসহ নানা খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি।

আজ (সোমবার) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ও ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হালাল অর্থনীতি শুধু হালাল খাদ্য বা মাংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন এবং পর্যটনের মতো বিস্তৃত খাত অন্তর্ভুক্ত। এসব খাতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

তিনি জানান, আগামী ৮ থেকে ১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’। এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল এক্সপোতে অংশ নেবে। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’ নিয়ে উপস্থাপনা করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্সের (কেএনইকেএস) ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিতে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করতে পারে।

তার উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্সে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। হালাল খাদ্য খাতে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান চতুর্থ এবং ফ্যাশন ও পোশাক খাতে ষষ্ঠ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হালাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হলো হালাল খাদ্য। ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে হালাল পোশাক খাতে ব্যয় ছিল ২৭৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি এবং এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ভুক্ত দেশগুলো কীভাবে তাদের বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে হালাল পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জানার অন্যতম সুযোগ এই এক্সপো। পাশাপাশি বাংলাদেশের হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও এটি সহায়ক হতে পারে।

এর আগে সভায় স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাণিজ্যের ভারসাম্যে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। তিনি মনে করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী হবে এবং হালাল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল যাতে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে এফবিসিসিআই আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।




চীনকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর শীর্ষ অবস্থান থেকে ছিটকে গেছে দেশটি।

 

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা চীন এখন তৃতীয়।

অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

 

অন্যদিকে, একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে তাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে।

সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।




সেবাখাতে জাপানের ভালো বিনিয়োগ প্রত্যাশা বাংলাদেশের

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) আওতায় জাপানকে ৯৮টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে বাংলাদেশকে ১২০টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে জাপান। এতে বাংলাদেশের সেবাখাতে জাপানের ভালো বিনিয়োগ আসবে বলে প্রত্যাশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে জাপানের সঙ্গে সই হওয়া ইপিএ চুক্তি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। এসময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব বলেন, জাপান আমাদের জন্য ১২০টি সেবাখাত উন্মুক্ত করেছে। আমরা ৯৮টি সেবাখাত উন্মুক্ত করতে পেরেছি। আগে যেখানে শুধু পাঁচ তারকা হোটেল ও মোবাইল ফোনের দুটি খাত উন্মুক্ত ছিল। আশা করছি জাপানের ভালো বিনিয়োগ পাবো আমরা।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে এটি বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি। এ চুক্তির মাধ্যমে ১ হাজার ৩৯টি পণ্য চুক্তি সইয়ের প্রথমদিন থেকেই উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। জাপান আমাদের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। আমরা আরও কিছু পণ্যে তাদের প্রবেশাধিকার দেবো। এই প্রবেশাধিকারেগুলো ধাপে ধাপে ৫ থেকে ১৫ বছরে হবে। এটি হচ্ছে ট্রেডিং অংশ।

মাহবুবুর রহমান বলেন, চুক্তির একটি বিশেষ দিক আছে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে। গার্মেন্টেসের ক্ষেত্রে আমরা এখনো শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই। এ চুক্তির পরও আমরা এক ধাপ মূল্য সংযোজন করে রপ্তানি করতে পারবো, যেটা আগেও পেয়েছি। কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করা যাবে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, উন্নত কোনো দেশের সঙ্গে প্রথম কোনো ইপিএ এবং এটি সুবিধাজনক একটি চুক্তি হয়েছে। অনেকগুলো বিষয়ে আমরা সহজ শর্তে সুবিধা নিতে পেরেছি। এতে দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং জাপানের বিনিয়োগ বাড়বে।

তিনি জানান, জাপানের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই এটি ওঠার কথা এবং সেখানে অনুমোদিত হলেই এটি কার্যকর হয়ে যাবে। আমাদের দিক থেকে তাড়াহুড়ো নেই এই কারণে যে, আমরা এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে এখনই এ সুবিধা পাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হতে হয়। এ উদ্দেশে ২০২৬ সালের নভেম্বরে (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর) মার্কেট প্রবেশাধিকারে যে ব্যত্যয়গুলো তৈরি হতে পারে সেগুলোকে আমলে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সবাই মিলে একটি চুক্তি করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, (চুক্তিতে) বাণিজ্য সচিব এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেগোসিয়েশনে বড় একটি টিম কাজ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক একসঙ্গে কাজ করেছেন। আমরা ২১টি উপখাত নিয়ে আলোচনা করেছি।

উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্যকে উদার করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যদি সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, তাহলে সেটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এই উদার বাণিজ্য থেকে দেশের ভোক্তারা সুবিধাভোগী হবেন।

তিনি বলেন, জাপান পৃথিবীর পাঁচটি বড় অর্থনীতির একটি এবং আমরা পৃথিবীর এত বড় একটি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি। ভারত এটি নিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর চেষ্টা করে একটা পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট করতে পেরেছে। সেটা আমরা এক বছরের মধ্যে করেছি। এ চুক্তির ফলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের একটি অর্থনীতির উদারীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হলো।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, আজ (সোমবার) রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্কচুক্তি সই হতে যাচ্ছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি ধর্মঘট অব্যাহত থাকে, তবে রমজানে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে আশা করছি, নির্বাচিত সরকার বন্দর সচল রাখতে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।




বাংলাদেশ-জিবুতি বাণিজ্য সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

বাংলাদেশ ও জিবুতির বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরতে গতকাল রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন জিবুতির মান্যবর রাষ্ট্রদূত মি. আবদিল্লাহি আসোয়েহ ইসে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের জিবুতি সফরের পরিকল্পনা রয়েছে যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদূত আবদিল্লাহি আসোয়েহ ইসে বলেন, জিবুতির অনন্য ভূকৌশলগত অবস্থান আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ তৈরি করেছে। আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা সুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য জিবুতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য জিবুতির অনারারি কনসাল জনাব আবদুল হক বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে জিবুতির অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কর সুবিধা, সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ এবং উৎপাদনের অনুকূল আবহ বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে লাভজনক হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পাশাপাশি আফ্রিকার বাজারেও বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বাড়ায় জিবুতিতে নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জিবুতির বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ রপ্তানি বৃদ্ধির দিক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জিবুতিতে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, চা, হোম টেক্সটাইল এবং পানীয় রপ্তানি করছে। দুই দেশের উদীয়মান বাণিজ্যিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




ভিয়েতনাম-বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি চান ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূরীকরণসহ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সই এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।

বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম ২০২৫ –এ তিনি এসব কথা বলেন।

ফোরামে ভিয়েতনামের ১৬ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।

কৃষি, পর্যটন, ওষুধ, মৎস্য আইসিটিসহ বেশকিছু শিল্পের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং জানান, উভয় দেশ একে অপরের পণ্যে উচ্চ ট্যারিফ আরোপ করে রেখেছে। ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ বাধা দূর করাসহ পরিবহন, যোগাযোগ ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা সহজ করা গেলে অনাবিষ্কৃত খাতগুলোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দৃঢ় করার পরামর্শ দেন তিনি।

উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খানও। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে, যার একটি বড় অংশই অনাবিষ্কৃত থেকে গেছে। এ সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জয়েন্ট ভেঞ্চার উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন ঢাকায় নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন মান কোং। প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুফল পেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য-ভিসা সহজীকরণের আহ্বান জানান ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন ভিয়েতনাম বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডো ভ্যান থ্রং।




দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৭২৫ সৈনিক নেবে কাতার

বাংলাদেশ থেকে কাতার ৭২৫ সৈনিক নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সৈনিকদের কাতারে পাঠানো যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কুয়েতের দোহায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার মিলিটারি সেক্রেটারির বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

শফিকুল আলম বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। কুয়েতে চাকরিকালে একজন সৈনিক প্রতি মাসে আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা বেতন পান।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের সৈনিকরা কুয়েতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি তিন বছর পরপর নতুন সৈনিকরা কুয়েতে দায়িত্ব পালন করতে যোগদান করেন।

 

বাংলাদেশ সরকার আরও বেশি সংখ্যক সৈনিক পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।




অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-আমিরাত

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দু’দেশের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ড. থানি বিন আহমেদ আল জাইউদির মধ্যে বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ বৈঠকে পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে উভয় দেশের অভিন্ন প্রত্যাশার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ মে) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিমান চলাচল, অবকাঠামো নির্মাণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য নতুন প্রযুক্তির ওপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে জ্বালানি সুরক্ষাসহ সহযোগিতার নতুন এবং উদীয়মান ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণের ওপর জোর দেন। অর্থমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীতর ওপর জোর দেন।

উভয় দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে দুই মন্ত্রী যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল সক্রিয় করার এবং নিকট ভবিষ্যতে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) সমাপ্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করতে এবং পারস্পরিক সুবিধার জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষ এডিএফডি (আবুধাবি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন বাড়ানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও মন্ত্রীরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেন, অভিন্ন সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন প্রচারের জন্য বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবু জাফর এবং ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। এসময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রীকে তার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সহায়তা করেন।

অর্থমন্ত্রী ৭-৯ মে আবুধাবিতে নির্ধারিত ১৩তম এআইএম (বার্ষিক বিনিয়োগ সভা) কংগ্রেস-২০২৪ এ যোগ দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অ্যাডাপ্ট টু এ শিফটিং ইনভেস্টমেন্ট ল্যান্ডস্কেপ: হার্নেসিং নিউ পটেনশিয়াল ফর গ্লোবাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’।

অর্থমন্ত্রী আজ সকালে কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবং অন্যান্য কয়েকটি অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। এআইএম কংগ্রেস হলো- এআএম গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের একটি উদ্যোগ, একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা কার্যকর প্রচার কৌশলগুলো বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও সম্প্রসারণের সুযোগগুলোকে সহজতর করে বিশ্বের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মন্ত্রী, শিল্প নেতা, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং বিশেষজ্ঞসহ ১৭৫টি দেশের ১০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনী কৌশল এবং সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এখানে সমবেত হয়েছেন।




দ্বৈত কর ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের চুক্তি

বিদ্যমান দ্বৈত কর আরোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে নেদারলান্ডসের পক্ষে সে দেশের মিনিস্টার ফর ট্যাক্স অ্যান্ড দ্যা ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এমএলএ ভ্যান রিজ এবং বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও নেদারল্যান্ডসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সোনজা কুইপ।

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দ্বৈত কর আরোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রান্ত চুক্তি প্রায় ৩০ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ১৩ জুলাই সই হয়। ইতোমধ্যে দ্বৈত কর পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি যেমন ওইসিডি মডেল কিংবা ইউএন মডেলেও নানা পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশও স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাজুয়েশন পিরিয়ড অতিক্রম করছে। ইতঃপূর্বে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সই করা দ্বৈত কর পরিহার সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর অসামঞ্জস্যতা দূর করতে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে চুক্তিগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ইতোপূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি সংশোধন করে নতুন চুক্তি সম্পাদন করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠান থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন চুক্তিতে ৩৩টি আর্টিকেল রয়েছে। এর মধ্যে করের আওতা বিস্তৃত করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আর্টিকেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে, একই সঙ্গে নতুন নতুন ক্ষেত্র থেকে কর আহরণের জন্য কিছু নতুন আর্টিকেল সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন চুক্তিতে শুধু রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আর্টিকেল অন্তর্ভুক্ত করার ফলে সার্ভিস তথা সেবার বিপরীতে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হারে কর আহরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শেয়ার হস্তান্তর বাবদ অর্জিত মূলধনি মুনাফা বাংলাদেশে করযোগ্য হওয়ার শর্ত নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সোর্স দেশে অর্থাৎ বাংলাদেশে অর্জিত মূলধনি লাভ থেকে কর আহরণ করা সম্ভব হবে।

বিদ্যমান চুক্তির কোনো আর্টিকেলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এমন কোনো আয়ের ক্ষেত্রে করদাতা যে দেশের নিবাসী সে দেশে কর আরোপ করার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে নতুন চুক্তিতে এটি সংশোধন করা হয়েছে। এখন যে দেশে এমন আয় উদ্ভূত হবে, সে দেশে কর আরোপ করার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া, কর দাবি আদায়ে সহযোগিতার নিমিত্তে এই আর্টিকেলটি নতুন সংযোজন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় রাষ্ট্র রাজস্ব আদায়ে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক অত্যন্ত উন্নত। বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসের ১৫টি সহযোগী দেশের মধ্যে অন্যতম। নেদারল্যান্ডস ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের নবম রপ্তানিকারক বৃহত্তর অংশীদারি দেশ যার রপ্তানিমূল্য ২ হাজার মিলিয়ন ইউএস ডলারের অধিক।

বাংলাদেশ থেকে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে— নিটওয়্যার, ওভেন, গার্মেন্টস, গলদা চিংড়ি, জুতা, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, বাইসাইকেল ইত্যাদি।

ভারতের পেঁয়াজের খবর নেই, ঘাটতি থাকায় ভরা মৌসুমেও বাজার অস্থির
অপরদিকে বাংলাদেশ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে নেদারল্যান্ডস থেকে ৩০০ মিলিয়নের অধিক পণ্য আমদানি করেছে, যার মধ্যে ক্যাপিটাল মেশিনারি, শাক-সবজি, তৈরি খাদ্য উপাদান, জীবিত প্রাণি (পশু ও পাখি), খনিজ দ্রব্যাদি, কেমিক্যালস, ঔষধ সামগ্রী, অর্গানিক কেমিক্যালস, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি।

বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের স্থান চতুর্থ। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশে ২ হাজার ৫৬০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, চামড়া খাত, চামড়াজাত পণ্য, সিমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগ ক্রমশ বাড়ছে।




আফগানদের ১৫৬ রানেই গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরান যেভাবে শুরু করেছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল আজ বাংলাদেশের সামনে অনেক বড় লক্ষ্য দাঁড় করাবে আফগানিস্তান। কিন্তু এদিন বল হাতে আলো ছড়ালেন সাকিব-মিরাজ। দারুণ সঙ্গ দিলেন বাকিরাও। শুরুতে ভুগতে থাকলেও বিশ্বকাপ আসরে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাড়িয়ে আফগানিস্তানকে ১৫৬ রানে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ। ধর্মশালায় বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫৭ রান।

 

শনিবার ধর্মশালায় টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৭ ওভার ২ বলে ১৫৬ রান তুলে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান এসেছে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাট থেকে। ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান। দুই উইকেট নেন শরিফুল। একটি করে শিকার ধরেন তাসকিন ও মুস্তাফিজ।

এদিন ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং নেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সকালের হালকা ভেজা আবহাওয়ায় পেসাররা সুবিধা নিতে পারবেন বলেই ভেবেছিলেন তিনি। যদিও শুরুটা ছিল হতাশার। আফগানিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার রান করছিলেন।

সবকিছুই বদলে যায় সাকিবের এনে দেওয়া প্রথম উইকেটের পর, ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করেন তিনি। ২৫ বলে ২২ রান করে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। পরের উইকেটও সাকিবের। এবার রহমত শাহ লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ২৫ বলে ১৮ রান করে। এরপর আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৮ রান করতে তিনি খেলেন ৩৮ বল।

ইনিংসের বাকি গল্পটুকু টাইগার বোলারদের। এক প্রান্ত আগলে রাখা রহমানউল্লাহ গুরবাজও খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে তাকে শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ব্যাটিং ধসের সেই শুরু। যে কারণে ৩ উইকেটে ১১২ রান থেকে আর মাত্র ৪৪ রানই যোগ করতে পারে আফগানরা। ৩৭.২ ওভার ১৫৬ রানে অলআউট। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব ও মিরাজ দুজনেই ঝুলিতে পুড়েন তিন উইকেট। এছাড়া শরিফুল দুটি, তাসকিন ও মোস্তাফিজ নেন একটি করে উইকেট। জিততে হলে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫৭ রান।




দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ-ব্রাজিল

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে ব্রাসিলিয়াতে অনুষ্ঠিত হলো ব্রাজিল ও বাংলাদেশের ২য় ফরেন অফিস কনসাল্টেশান।

পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা।

ব্রাজিল সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাম্বাসেডর মারিয়া রোশা, এশিয়া প্যাসিফিক ও রাশিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাম্বাসেডর এডুয়ার্ডো সাবোয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য কূটনীতিকরা।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ব্রাজিলের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নারীনীতি ও মানবাধিকার, জাতিসংঘ পুনর্গঠন বিষয়ে নিজ নিজ রাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

এছাড়াও বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ, দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট মারকসুরের সঙ্গে বাংলাদেশ পিটিএ/এফটিএ সংক্রান্ত আলোচনা প্রাধান্য পায়।

পররাষ্ট্র সচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কে বর্ণনা করেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের মাধ্যমে ২০৪১ সালে জ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। এছাড়াও তিনি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর অর্থনৈতিক সাফল্যে বাংলাদেশের কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চ্যালেঞ্জসমূহ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে ব্রাজিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাম্বাসেডর মারিয়া রোশা বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই দিন বিকেলে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর মাওরো ভিয়েরার সঙ্গে এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ও তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগত করেন।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওরো ভিয়েরা বিগত এক দশকে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে উভয়েই উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ এবং জি-২০ ফোরামে ব্রাজিলের নেতৃস্থানীয় উদ্যোগের সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওরো ভিয়েরার কাছে হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র সচিব ব্রাসিলিয়াতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে বাংলাদেশের একমাত্র কূটনৈতিক মিশন স্থাপিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ১ম ফরেন অফিস কনসাল্টেশান অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে ঢাকাতে। পররাষ্ট্র সচিবের চলমান সরকারি সফরে আগামী ০৪-০৫ অক্টোবর চিলির রাজধানী সান্টিয়াগোতে বাংলাদেশ-চিলি ১ম ফরেন অফিস কনসাল্টেশান অনুষ্ঠিত হবে।




বাংলাদেশের পুরো ঋণ পরিশোধ শ্রীলঙ্কা’র

বাংলাদেশ থেকে নেওয়া ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের পুরোটাই পরিশোধ করেছে শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা শেষ কিস্তির ৫০ মিলিয়ন ডলার ও ঋণের সুদ বাবদ ৪.৫ মিলিয়ন ডলার বৃহস্পতিবার রাতে পরিশোধ করেছে। আমরা শুক্রবার সকালে বিষয়টি জেনেছি।

শ্রীলঙ্কা এই ঋণ পরিশোধের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২১.৪৫ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত দেয় শ্রীলঙ্কা। তার আগে ১৭ আগস্ট প্রথম কিস্তিতে ৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল দেশটি।

মুদ্রা বিনিময় চুক্তির সময় শ্রীলঙ্কাকে তিন মাসের মধ্যে লন্ডন ইন্টারব্যাংক অফার রেট + ২ শতাংশ সুদ হারসহ ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু নানান সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করতে পারেনি দেশটি।

বাংলাদেশ ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কাকে তিন কিস্তিতে এই ঋণ দিয়েছিল। ওই বছরের ১৯ আগস্ট প্রথম কিস্তিতে ৫০ মিলিয়ন ডলার, এর ১১ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তিতে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং সেপ্টেম্বরে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। এটি ছিল কোনো দেশকে দেওয়া বাংলাদেশের প্রথম ঋণ।




সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা ইউনেসকোর

বিগত এক দশক সময়ে সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ-সংক্রান্ত ইউনেসকোর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চলমান ৪৫তম বর্ধিত সভায় শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

প্যারিস দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০১৩ সালে সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকা রামপালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক মৈত্রী সুপার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান উন্নয়নকর্মকে টেকসই উন্নয়ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিবেশগত সংরক্ষণে সরকারের কর্মকাণ্ড বজায় রাখার বিষয়ে পরিষদ পরামর্শ দেয়।

এ বিষয়ে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউনেসকোর স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা তার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব ঐতিহ্য পরিষদের সব সদস্যের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে ধন্যবাদ পৌঁছে দেন।

তিনি আরও বলেন, এই অর্জন বিগত দেড় দশকে বৈশ্বিক জলবায়ু সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ও নেতৃত্বের আরও একটি স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশকে তার টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংরক্ষণ প্রতিবেদন প্রদানের বাধ্যবাধকতা থেকে অবমুক্তি লাভ করেছে। ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ সাতবার এই প্রতিবেদন দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের এই দর-কষাকষি প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন; বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব ফারহিনা আহমেদ, নৌপরিবহন সচিব মোস্তফা কামাল, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফাইয়াজ মুরশিদ কাজীসহ একটি কার্যকরী দল বাংলাদেশের কারিগরি অবস্থান নির্ধারণে নিরলস কাজ করেন এবং ইউনেসকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিকে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেন।

ইউনেসকোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা এই অর্জনকে বাংলাদেশের অনুকরণীয় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেন।




বাংলাদেশ-ফ্রান্সের দুই সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট এবং বাংলাদেশের নগর অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) করোবি হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়।

সমঝোতা স্মারক দুটি হলো- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ফ্রান্সের ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (এফডিএ) মধ্যে ‘ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোগ্রাম’ বিষয়ে একটি ক্রেডিট–সুবিধা চুক্তি এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এবং ফ্রান্সের এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস এসএএসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-২ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম–সম্পর্কিত সহযোগিতার বিষয়ে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই)।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে পৌঁছান ঢাকা সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রবেশ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানান।




‘বাংলাদেশ আফ্রিকার ১৪০ কোটি মানুষকে টার্গেট করে কাজ করবে’

খুব শিগগিরই আফ্রিকার কিছু দেশে আমরা (বাংলাদেশ) ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ ও এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ শিফট করতে যাচ্ছি। মারিশাসকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার ১৪০ কোটি মানুষকে টার্গেট করে আমরা কাজ করবো।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এসব কথা বলেন।

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসিনা শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল মোনায়েম এবং কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাশিহুল হক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যা পড়ি তার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্র্যাকটিক্যাল কাজের অনেক পার্থক্য রয়েছে। ইথিকস নিয়ে আমরা যেভাবে কাজ করতে চাই, বাস্তবতার নিরিখে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ওয়ার্ল্ডওয়াইড জিও পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে দেশের মন্ত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতেন বড় বড় ডোনেশন আনতে। যে মন্ত্রী যত বেশি বিদেশি সাহায্য আনতে পারতেন, তার ক্রেডিট তত বেশি হতো। বিশ্বের অনেক দেশ এখনো আমাদের বন্যা-খরা পীড়িত দারিদ্র্য দেশ হিসেবেই জানে। আমাদের দেশের কিছু পলিটিক্যাল মানুষ দেশের বিরুদ্ধেই বিদেশিদের কাছে বদনাম করে। এজন্য বিদেশিরাও আমাদের ছোট করে দেখে।

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমরা যখন বিদেশিদের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলি তাঁরা অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না। পরে গুগলে অনুসন্ধান করে দেখে বিশ্বাস করে। আগামী মাসে আমরা প্যারিস, তুলুজ, বার্লিন এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ইনভেস্টমেন্ট সামিটের আয়োজন করছি। এ সামিটে ওসব দেশের দূতাবাসগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। একসময় আমরা প্যারিসে সাহায্য নিতে যেতাম। আর এখন আমরা সেখানে বিসনেস পার্টনার খুঁজতে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কখনো মিশন ভিশন ফেইল করেনি। আমরা যখন দারিদ্র্য দেশ ছিলাম তখন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধে আমরা ব্যর্থ হইনি। ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জনের যেই লক্ষ্য সেটিতেই আমরা ব্যর্থ হবো না।




বাংলাদেশ-নেপাল সঞ্চালন লাইন বসাতে চায় সরকার

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, সরকার বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে একটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে চায়।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক (অবকাঠামো) পঙ্কজ গুপ্তকে তার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বলেছেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে নেপালে সঞ্চালন লাইন বসাতে চাই। যাতে আমরা শীতকালে নেপালে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারি। এর বাইরে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি প্রায় চূড়ান্ত।

রোববার বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক নসরুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

বিশ্বব্যাংক পরিচালিত চলমান ও আসন্ন প্রকল্পের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি পাওয়ার হাব তৈরি করা হচ্ছে যাতে ট্রান্সমিশন লাইন ও স্মার্ট গ্রিডের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজন। বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে উইন্ড ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন গ্যাস পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চলছে। আমরা চাই বিশ্বব্যাংক আরও বড় পরিসরে আমাদের পাশে থাকুক।

বিশ্বব্যাংকের পরিচালক বলেন, আমি বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করতে চাই। জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা এবং বেসরকারি খাতের অর্থায়ন সমর্থন করা যেতে পারে। তিনি গ্যাস প্রিপেইড মিটারিং প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বৈঠকে তারা কৌশলগত নীতি সংলাপ, ভবিষ্যৎ ব্যস্ততা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পোর্টফোলিও সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার, জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুুন কবির, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নুরুল আলম, বিশ্বব্যাংকের এনার্জি প্র্যাকটিস ম্যানেজার সাইমন জে স্টলপ, বিশ্বব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন প্রমুখ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা ৯ লাখ তরুণ-তরুণীর জন্য সরকারের নেওয়া প্রকল্পে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। রোববার এই ঋণ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সংস্থাটি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইআরডি সচিব শরিফা খান এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এ ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

ইকোনমিক এক্সিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর এনইইটি (ইএআরএন) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এনইইটি বলতে ‘নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিং’ অর্থাৎ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা মানুষকে বোঝানো হয়ে থাকে।

বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ প্রকল্পের আওতায় এনইইটি বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে না পারা ৯ লাখ তরুণ-তরুণীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই থাকবে নারী। তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতেও সহায়তা করা হবে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে এ ঋণ নেওয়া হবে। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এতে সার্ভিস চার্জ পড়বে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। আর সুদের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই প্রকল্পের প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা। সহায়ক বাস্তবায়নকারী হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি চলবে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত এপ্রিলে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় বেশ কিছু ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। বর্তমান বাজারের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও চাহিদা থাকবে– এমন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তরুণ-তরুণীদের। উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে অর্থায়ন ও মেন্টরশিপ সহায়তাও দেওয়া হবে।




‘বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে কাজ করলে অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে’

বহুমাত্রিক যোগাযোগ বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের জন্যই আশীর্বাদ। গত ১০ বছরের দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য অনেক বেড়েছে এবং তা আরও বাড়ানো সুযোগ রয়েছে।

বক্তরা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পূরক অর্থনীতির প্রয়োজন রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশকে ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমের ওপর জোর দিতে হবে। মাল্টিলেভেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।

শনিবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ ও উন্নয়ন সমন্বয়র যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা।

ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারত-বাংলাদেশ এক সঙ্গে কাজ করতে চায়।

সেমিনারে ড. আতিউর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহগুলো সম্পন্ন হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম। তবে শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না তা সমন্বয় করতে হবে। এই সমন্বয়ের জন্য কো-অর্ডিনেটিং টাস্কফোর্স করা যায় কি-না সেটা ভেবে দেখা দরকার। অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম দরকার। ফরোয়ার্ড এবং ব্যাংকওয়ার্ড লিংকেজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলছে। কিন্তু ভারত এর চেয়ে আরও বেশি সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল অবকাঠামো সমৃদ্ধ করেছে। ভারতের মতো আমাদেরও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়তে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল কানেক্টিভিটি সিংক্রোনাইজড করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, সেবার মান বৃদ্ধির জন্য মাস্টারপ্ল্যান করেছি, আমাদের গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ি ২-৩ মাসের মধ্যে চালু হবে। ভারতের সেভেন সিস্টার্স ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচন করবে। চট্টগ্রাম বন্দর সবার জন্য উন্মুক্ত, এখানে যে কোনো দেশ ব্যবহার করতে পারে। আমরা সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছি।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়- বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম হলো হৃদস্পন্দন। বাংলাদেশের আমদানি ৯০ শতাংশ এবং রপ্তানির ৮৫ শতাংশ হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরিন আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যন জহিরুল আলম দোভাষ, বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমীন, চট্টগ্রাম সিটি করর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদুল আলম সুজন, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ প্রমুখ।




বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখি: প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীদের বিশেষ করে আইসিটি, অবকাঠামো, টেক্সটাইল এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তাঁর স্বপ্ন বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে, যা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষেরও স্বপ্ন। আর তা হলো ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি এবং একটি সম্পূর্ণ উন্নত স্মার্ট জাতিতে পরিণত করা।’

স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা শুরু করেছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার রেডিসন হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে ‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস সামিট’ শীর্ষক একটি রোড শো’র অনুষ্ঠানে তাঁর বাসস্থান থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার আমন্ত্রণে ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণে বাংলাদেশ তাঁর বাণিজ্যিক পরিস্থিতিকে দৃঢ়তার সঙ্গে শক্তিশালী করে চলেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের প্রচেষ্টা শুধুমাত্র আমাদের জন্য সুবিধাই দেবে না বরং যারা আমাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে তাদের জন্যও লাভজনক প্রমাণিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবনা খুঁজে নিতে তারা বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ, এটি বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোর সাথে নিজেকে পরিচিত করার উপযুক্ত সময়।

তিনি বলেন, ‘এটিই সময় বাংলাদেশকে আরও ভালোভাবে জানার এবং এর ভবিষ্যতে এখানে বিনিয়োগ করার আমরা আইসিটি, ইলেকট্রনিক্স, অবকাঠামো, টেক্সটাইল, পর্যটন, ভারী শিল্প এবং ছোট শিল্পের মতো খাতগুলোতে নানা সুযোগ সুবিধার প্রস্তাব করেছি। আমাদের সরকার সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশ সম্ভাব্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যেমন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সর্বোত্তম আয়ের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

‘বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই আপনারা আমাদের উন্নয়ন যাত্রায় অংশ নিন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন; আমরা আস্থাশীল যে আপনাদের বিনিয়োগ সাফল্যের জন্য প্রাধান্য পাবে এবং আমরা একটি টেকসই অংশীদারিত্বের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ। আমরা আপনাকে আমাদের প্রবৃদ্ধিতে আরও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আসলে, আমাদের দেশে আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত রয়েছে অব্যাহত হাই রিটান্স ইনভেস্টমেন্টের(আরওআই) কারণে। এছাড়া, আমাদের সরকার ব্যবসা-বান্ধব এবং স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে যা আপনার বিনিয়োগের সফলতার নিশ্চয়তা দেয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয় এবং বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের রয়েছে সবচেয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নীতি। এর মধ্যে রয়েছে একটি উদারীকৃত শিল্প নীতি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, ১০০% বিদেশী মালিকানার ভাতা, একটি সহজ প্রস্থান নীতি, ১৫-বছরের কর ছাড় নীতি, আমদানি করা যন্ত্রপাতির জন্য ভ্যাট ছাড়, সুবিন্যস্ত পরিষেবা এবং আরও অনেক কিছু।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে, আমরা টেকসই দীর্ঘ-মেয়াদী অর্থায়নের জন্য প্রস্তুত আছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, এআই ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ‘আর্থিক সংযোগ’ অনুসরণ করছে। বাংলাদেশ ট্রেডিশনাল কাস্টমার ব্যাংকিংয়ের চেয়ে বিনিয়োগ ব্যাংকিংকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

বাংলাদেশ কেন ‘লুক আফ্রিকা পলিসি’ গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আফ্রিকার জনসংখ্যা ১.৫ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে এবং বর্তমানে দ্রুত নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্মুখীন হচ্ছে- যা বাংলাদেশের জন্য, বিশেষত টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস ও কৃষি পণ্যের মতো খাতে রপ্তানি সম্প্রসারনের জন্য অনুকূল সুযোগ প্রদান করছে। গত এক দশকে বাংলাদেশ আফ্রিকার নতুন বাজারের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতা উভয়েই আফ্রিকার অর্থনীতির সম্ভাবনা ও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুবিধার কথা স্বীকার করে। আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি, দ্রুত বর্ধিত জনসংখ্যা ও ভোক্তা চাহিদার কারণে অঞ্চলটি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির একটি আকর্ষণীয় বাজারে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে আফ্রিকান দেশগুলো থেকে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামাল সংগ্রহের উপায় খুঁজছে। এই অন্বেষণের মধ্যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প, খনিজ, পেট্রোলিয়াম পণ্য, তুলা, কৃষিপণ্য ও আরো অনেক কিছুর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

গত পাঁচ দশকে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধা, অভীন্ন মূল্যবোধ ও বিশ্বাস এবং সংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই বন্ধন ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সংযোগের মাধ্যমে আরো সুদৃঢ় হয়েছে। উভয় দেশই উন্নয়নের একই পথে আছে- যা পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নকে সম্ভবপর করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গত বছর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩১৬.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার- যা উভয় দেশের রপ্তানি ও আমদানির পূর্ণ সম্ভাবনার তুলনায় কম। উভয় দেশের জন্য আমদানি-রপ্তানির আরও সম্ভাবনা রয়েছে।

‘আমরা এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যে-উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতার সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার বাইরে আমরা ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি যৌথ কমিটি’ প্রতিষ্ঠা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দ্বৈত কর এড়ানোর চুক্তি নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহী’—যোগ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এফবিসিসিআই ও দক্ষিণ আফ্রিকার চেম্বারের মধ্যে একটি যৌথ ব্যবসায়িক ফোরামও গঠনেরও বাংলাদেশের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ীদের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানসহ অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকার গণপূর্ত ও অবকাঠামো মন্ত্রী সিহলে জিকালালা বক্তৃতা করেন।

বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) লোকমান হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিএসইসির চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা ও বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন।

বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় নগরী জোহানেসবার্গে এটি হচ্ছে ৭ম রোড শো।

বিডা ও বিএসইসি বাংলাদেশে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পদক্ষেপের অংশ হিসাবে দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, কাতার ও জাপানে এই ধরণের রোড শো আয়োজন করে। জার্মানি, কানাডা, রাশিয়া, হংকং, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশেও একই ধরনের রোড শো করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেও বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক ও জাতীয় অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বতন্ত্র একটি দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দশকের অবিচল দৃঢ় সংকল্প, নিরলস প্রচেষ্টা এবং আমাদের নাগরিকদের আপসহীন প্রতিশ্রুতির কারণে সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি, অনেকগুলো বৈশ্বিক গবেষণা, সমীক্ষা ও ব্যাপক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের সাফল্যের যাত্রা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র উন্নয়নমূলক নজির হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি এর জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।

তিনি আরও বলেন, সে কারণেই বাংলাদেশকে প্রায়শই উন্নয়নমূলক বিবরণে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও কল্যাণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং প্রায়শই অদম্য চেতনার মানুষের দেশ হিসাবেও দেখা হয়।

‘গত এক দশকে, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধির হার বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মহামারী এবং অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও এই স্থিতিস্থাপকতা সুস্পষ্ট রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের একটি ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উত্তরণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এই অসাধারণ পথচলাকে সুস্পষ্ট করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের জন্য আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, একটি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথ তৈরিতে আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ও শিল্পায়নের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ১০৯টি হাই-টেক অ্যান্ড সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং আইটি প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করছে।

সম্প্রতি পদ্মা সেতু এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের উদ্বোধন বহিঃসংযোগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উভয় ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে এবং তা প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় ও শক্তিশালী বেসরকারি খাত ভবিষ্যতে যারা আমাদের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করবে তাদের জন্য প্রচুর সুযোগ প্রদান করবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে সম্পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের শক্তির কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নিহিত রয়েছে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন আমাদের প্রায় ৫৫ মিলিয়ন তরুণ-তরুণী ভবিষ্যতে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সংযোগের মাধ্যমে আমাদেরকে সৌভাগ্যের অবস্থানে উন্নীত করেছে। উপরন্তু, একটি ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার এবং একটি সম্প্রসারিত ভোক্তা শ্রেণী এই জনসংখ্যাগত সুবিধাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য তার পুঁজিবাজারকে উন্নত করছে।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে, দেশের স্টক মার্কেট আঞ্চলিক মার্কেটগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বাজার মূলধন প্রায় ৬১ বিলিয়ন ডলার যা জিডিপির ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘আর্থিক অগ্রগতির জন্য, আমরা আমাদের বন্ড মার্কেটকে প্রসারিত করেছি। বিনিয়োগের সুযোগ বৈচিত্রময় করতে আমরা সুকুক, গ্রিন বন্ড, ইটিএফ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, প্রাইভেট ইক্যুইটি এবং ইমপ্যাক্ট ফান্ড প্রবর্তন করেছি। শিগগিরই, আমরা আমাদের পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভ পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছি, যা বেড়াজালের মাধ্যমে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।




‘বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্কে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, তবে সুযোগ রয়েছে’

বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্কে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, তবে সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সফররত সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহমন্ত্রী ড. তাওফিক আল-রাবিয়া।

বুধবার (২৩ আগস্ট) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহমন্ত্রী ড. তাওফিক আল-রাবিয়া।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, কৌশলগত ইস্যুতে আমরা সৌদি আরবের পাশে থেকেছি। মধ্যপ্রাচ্যে ও এই অঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা অব্যাহত রাখতে আমরা পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছি। হজ ব্যবস্থাপনা কীভাবে আরও ভালো করা যায়, ঝামেলাবিহীন করা যায়, সেই আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে আমাদের প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। তবে দেশটির পর্যটন, সবুজায়ন ইত্যাদি খাতে আমাদের দেশের আরও মানবসম্পদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদেরও আরও ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করে যাব। আর সৌদি মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

সৌদি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সফরে আসতে পেরে আমি খুব খুশি। এটিই বাংলাদেশে সৌদি হজ ও ওমরাহমন্ত্রীর প্রথম কোনো সফর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি চিত্তাকর্ষক। আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে আমি আশাবাদী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা সৌদি আরবে হজ আরও সহজে কীভাবে করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরবে ওমরাহ ভিসায় অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন বাংলাদেশিরা ওমরাহ ভিসায় ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। মক্কা মদিনা ছাড়াও যেকোনো শহরে যেতে পারবেন। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবক ছাড়া নারীরা যেন ওমরাহ করতে পারেন, সে বিধিনিষেধ আমরা তুলে দিয়েছি। এছাড়া পশ্চিমা দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ভিসার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওমরাহ ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশি ভাইবোনেরা কীভাবে আরও সহজে হজ ও ওমরাহ করতে পারেন, সে বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হজ ও ওমরাহ ভিসা আরও সহজে করার লক্ষ্যে নুসুক অ্যাপ চালু হচ্ছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে সৌদি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্কে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। সৌদি আরবে অনেক বাংলাদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করছে, বাংলাদেশেও সৌদি কোম্পানি বিনিয়োগ করছে।

বিনিয়োগ মন্ত্রী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে আসবেন। উভয় দেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন। আমাদের উভয়পক্ষের অনেক সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহমন্ত্রী ড. তাওফিক আল-রাবিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২২ আগস্ট থেকে ঢাকা সফরে রয়েছে।




বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস জাপানের

স্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি এ আশ্বাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত। সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী।

মাহবুব আলী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে কাঙ্ক্ষিতমানে বিকশিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী মহা-পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নতুন যুগে প্রবেশ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী জাপান বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইওয়ামা কিমিনরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, আগামী অক্টোবরে জাইকার অর্থায়নে নির্মিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে যাওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পর্যটন মহা-পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, এভিয়েশন সেক্টরে চলমান উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নেও জাপান সহযোগিতা করবে।




রেমিট্যান্স অর্জনে সপ্তম বাংলাদেশ: বিশ্ব ব্যাংক

গত বছর প্রবাসী আয় থেকে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স অর্জন করেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর তা কমে ২১ বিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। তবে শীর্ষ আট রেমিট্যান্স অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ গত বছরের মতো এবারও সপ্তম স্থানে থাকবে।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বুধবার (৩০ নভেম্বর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরাবরের মতো প্রবাসী আয়ে শীর্ষে থাকবে ভারত। চলতি বছর দেশটিতে রেকর্ড ১০০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসবে। তালিকায় এর পরেই থাকবে মেক্সিকো (৬০ বিলিয়ন ডলার), চীন (৫১ বিলিয়ন ডলার), ফিলিপাইন (৩৮ বিলিয়ন ডলার), মিসর (৩২ বিলিয়ন ডলার) ও পাকিস্তান (২৯ বিলিয়ন ডলার)।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও দেশভেদে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে।

২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার ১০০ বিলিয়ন এসেছে ভারতে। গত বছরের তুলনায় পাকিস্তানে ৮ ও নেপালে ৪ শতাংশ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। বাকি দেশগুলোতে ১০ শতাংশ করে কমেছে।

ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত ৮ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল নিম্নমুখী। শুধু রমজান মাস উপলক্ষে প্রবাসীরা পরিবারের জন্য টাকা পাঠানোয় সে মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ করা হয়েছে, তীব্র খরা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধিসহ সমসাময়িক নানা সংকটের মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ৯ দশমিক ৩, দক্ষিণ এশিয়ায় ৩ দশমিক ৫, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় ২ দশমিক ৫ এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়েছে।




বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুরু

দেশের তৈরি পোশাককে বিদেশিদের কাছে আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুরু হয়েছে। ‘ইনোভেটর’ বা উদ্ভাবক প্রতিপাদ্য নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হয়েছে ১৪তম এ ডেনিম এক্সপো।

দুদিনব্যাপী এ এক্সপো মঙ্গলবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় শুরু হয়েছে। যা চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

এক্সপোতে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ৯০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে ফেব্রিক্স, তৈরি পোশাক, থ্রেডস, যন্ত্রাংশ, প্রক্রিয়াকরণ উপকরণসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে তৈরি ডেনিম পণ্য এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এক্সপোতে পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি উদ্ভাবক প্রতিপাদ্যে চারটি সেমিনার সেশন ও চারটি প্যানেল আলোচনা রাখা হয়েছে। ডেনিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে সেমিনারে আলোচনা হবে।

মেলায় অংশ নেওয়া চায়না কোম্পানি কটন ফিল্ড টেক্সটাইলের মার্কেটিং বিভাগের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশসহ ৪০ থেকে ৪৫টি দেশের কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রদর্শনীতে এসেছেন। মেলায় আমরা ডেনিম, টুইল, কর্ডরয় ফেব্রিক এবং কুটিং ফেব্রিকস পণ্য নিয়ে এসেছি। মানুষজন আসছেন, ভালো লাগছে।

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজ উদ্দীন জানান, আন্তর্জাতিক ডেনিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণ, সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি ও নতুন পণ্য উদ্ভাবনের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এক্সপোর আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, এক্সপোর মূল উদ্দেশ্য হলো- টেকসই, নিরাপদ ও উদ্ভাবনী পণ্যের প্রচার। এই প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অ্যাপারেল শিল্পকে তুলে ধরবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের যথার্থ উপস্থাপন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 




বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব জোরদারে সম্মত

বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে অংশীদারত্বকে আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ২-৩ মে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠককালে তারা এই সম্মতি প্রকাশ করেন।

এর মধ্যে রয়েছেন- আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের কমিশনার জুটা উরপিলাইনেন, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ইলভা জোহানসন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিশনার জেনেজ লেনারিচ, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ার বের্ন্ড ল্যাঞ্জ, পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার ডেভিড ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ইইউ মানবাধিকারের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়ামন গিলমোর।

বৈঠকে ইইউ বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেছে এবং দেশটির সাফল্যের জন্য স্বাগত জানিয়েছে। আজ এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার বাংলাদেশ প্রশংসা করেছে এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য ইইউ-এর সমর্থন চেয়েছে।

উভয়পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক, মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধসহ পারস্পরিক স্বার্থ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।

গ্র্যাজুয়েশনে প্রস্তুত করার জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ইইউকে অবহিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে ইইউ-এর অনেক বড় ভূমিকার কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ অংশীদারত্ব সহযোগিতা চুক্তির দ্রুত সূচনার আশা প্রকাশ করেছে, যা উন্নত সম্পর্ককে সুসংহত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া হবে।

বৈঠকে বেলজিয়াম ও ইইউতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিম রাজ্জাক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী আলম চারদিনের ব্রাসেলস সফরে রয়েছেন এবং ইউরোপীয় কমিশনের কমিশনার, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকসহ একটি পরিপূর্ণ এজেন্ডা কভার করছেন।




বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি মেক্সিকোর

বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর ঘনিষ্ঠ ও ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরে এ সম্পর্ককে আরও জোরদারকরণে মেক্সিকোর অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের মহাপরিচালক ফার্নান্দো গঞ্জালেজ সাইফে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে এমন অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন সাইফে।

মেক্সিকোর এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের মহাপরিচালক গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ এবং মেক্সিকোর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ফরেন অফিস কন্সাল্টেশনে অংশগ্রহণের সুবাদে বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেন তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সাইফে এ সম্পর্ককে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে মেক্সিকো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান সাইফে।

মেক্সিকোর বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, এ বছর ঢাকায় মেক্সিকোর দূতাবাস স্থাপনের প্রেক্ষাপটে সাইফের এ অঙ্গীকার বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, যা দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা, যোগাযোগ ও অংশীদারিত্বের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহিদসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দুই লক্ষ বীরাঙ্গণার অপরিসীম অবদানের জন্য তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যকার স্থায়ী বন্ধনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ বছর ঢাকায় মেক্সিকোর দূতাবাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং সহযোগিতার নতুন সুযোগ উন্মোচিত হবে।

দূতাবাস জানায়, মেক্সিকো সিটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা ও সহযোগিতার জন্য নতুন পথ অনুসন্ধানে কাজ করে চলেছে।




হজ নিবন্ধনের ‘বিশেষ একদিন’ আজ

চলতি বছর হজে যেতে ইচ্ছুক কিন্তু এখনো চূড়ান্ত নিবন্ধন করেননি তাদের জন্য ‘একদিনের বিশেষ’ সুযোগ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ‌সেজন্য মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) হজের নিবন্ধনের সার্ভার খুলে দেওয়া হবে। চলতি বছর এটিই শেষ সুযোগ বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম হজ নিবন্ধন শুরু হয়। আট দফা সময় বাড়িয়েও কোটা পূরণ না হওয়ায় গত ১১ এপ্রিল উন্মুক্ত নিবন্ধন বন্ধ করা হয়। হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর অনুরোধে চলতি বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য আজ নিবন্ধন চলবে।

গত ২০ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর অনুরোধে চলতি বছর হজে যেতে আরও একদিন হজযাত্রী নিবন্ধন চলবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর গত ১৬ এপ্রিলের পত্র ও হজযাত্রীদের বিশেষ অনুরোধে সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধন সার্ভার আগামী ২৫ এপ্রিল একদিনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আরও বলা হয়, নিবন্ধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক উন্মুক্ত রয়েছে এবং উভয় ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রাক-নিবন্ধন করে হজে যাওয়ার সুযোগ আছে। কোটা পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কোনোক্রমেই আর সময় বাড়ানো যাবে না।

বাংলাদেশ থেকে কতজন হজ করতে যাবেন সৌদি সরকারকে আগামী ৯ মের মধ্যে জানাতে হবে। এজন্য নিবন্ধনের শেষ সুযোগটুকু দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে নিবন্ধন করেছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৫ জন। অর্থাৎ নিবন্ধনের বাকি আছে ৭ হাজার ৫০৩ জনের। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের মতো কোটা সরকারি এবং বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনা টিম সদস্যদের দিয়ে পূরণ হবে। সে হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রকৃত কোটা বাকি আছে ৪ হাজারের কিছু বেশি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কোটা পূরণ না হলে সৌদি সরকারকে ফেরত দিতে হবে। এই ফেরত দেওয়া ঠেকাতে একদিনের সুযোগ দিতে চায় মন্ত্রণালয়। তারা জানান, অনেকে মনে করেছে আরও হয়তো সময় বৃদ্ধি হবে। কিন্তু ১১ তারিখের পর সময় না বাড়ায় অনেকে হজ এজেন্সি অফিসে যোগাযোগ করেন। তাদের অনুরোধে এ সময় বাড়ানো।

এদিকে গত ১৬ এপ্রিল থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন এমন হজযাত্রীদের ভিসার জন্য বায়োমেট্রিক শুরু হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের সব জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়, ঢাকায় অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁও, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদ কমপ্লেক্স, ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা এবং হজ অফিস, আশকোনা, ঢাকায় বায়োমেট্রিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা যেখানে বায়োমেট্রিক ভিসার জন্য আবেদন করবেন সেখানে তাদের পাসপোর্ট জমা দেবেন এবং রশিদ গ্রহণ করবেন।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা নিজ নিজ এজেন্সির মাধ্যমে এবং হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) অফিসে বায়োমেট্রিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বায়োমেট্রিক ভিসা আবেদনের পর পাসপোর্ট স্ব স্ব এজেন্সির কাছে জমা দিয়ে রশিদ গ্রহণ করবেন।




বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি শিগগিরই

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া মধ্যকার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি শিগগিরই হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্টদূতও চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে অগ্রগতি সাধনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে দুই দেশ ‘ট্রেড নেগোশিয়েন্স কমিটি’ গঠন করেছে এবং এখন পর্যন্ত তিনটি সভা করেছে এবং আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়ায় চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই রাউন্ডে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উভয়ের দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বন্ধুপ্রতীম এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ। দুই দেশই পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে উভয় দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভ্রমণ করার সুযোগ পাবে এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্য সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাণিজ্য প্রসারে এপেক্স চেম্বারের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরের আহ্বান জানালে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত সম্মত হন এবং সহযোগিতার ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলোর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশে থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে পামওয়েল রিফাইনারি স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীরা ইচ্ছুক।




বন্দর-মহাসড়ক-রেলপথ নির্মাণে স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে জাইকা

ন্দর, মহাসড়ক ও রেলপথ নির্মাণে তিন প্রকল্পের আওতায় ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে জাপান। এরইমধে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। এ ঋণের সুদহারও কম। বুধবার (২৯ মার্চ) শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের মধ্যে ঋণচুক্তি সই হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব (ইআরডি) শরিফা খান। জাপানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি ও বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তোমোহিদি ইচিগুচি। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণে সার্ভিস চার্জ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়নে জাইকার ঋণ
২০২৬ সালের মধ্যে ‘মাতারবাড়ি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ সম্পন্ন করতে কাজ করছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কাজ এগিয়ে চলছে।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৮ দমমিক ২৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। মাতারবাড়ি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি এ বছরের ১০ মার্চ একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।

প্রকল্পটির অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ (প্রকল্প সাহায্য) ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, সরকারি অর্থায়ন দুই হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ এবং নিজস্ব অর্থ দুই হাজার ২১৩ কোটি ২৫ লাখ। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। অনুমোদিত প্রকল্পে দুটি কম্পোনেন্ট রয়েছে।

বহুমুখী টার্মিনাল, কনটেইনার টার্মিনাল ও অন্যান্য কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পোর্টের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সড়ক সংযোগকারী ২৬ দশমিক ১ কিলোমিটার (চারলেন) মূল সড়ক, ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ-কাম-সড়ক ও ১৭টি সেতু নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এরইমধেই ঋণ চুক্তি সই হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রামে মহাসড়কে ৪৪ কোটি ডলার ঋণ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজটমুক্ত ও বাধাহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়কের পাঁচটি স্থানে বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এ প্রকল্পে ৪৪ দশমিক ৩৬ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান।

প্রকল্পের আওতায় পটিয়া, চন্দনাইশের দোহাজারী, সাতকানিয়ার কেরানীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ও চকরিয়া। এরমধ্যে কেরানীহাট এলাকায় বাইপাসের পরিবর্তে ফ্লাইওভার নির্মাণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বিস্তারিত জরিপের (ডিটেইল সার্ভে) কাজ চলছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সেতু প্রতিস্থাপন, ইন্টারসেকশন, বাজার, লেভেল ক্রসিং, রিজিড পেভমেন্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

এরইমধ্যে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কের চকরিয়া মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু, চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া বরগুনী খাল সেতু, পটিয়া ইন্দ্রপুল সেতু, দোহাজারী শঙ্খ নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। চারটি সেতু নির্মাণে খরচ হবে সাতশ কোটি টাকা।

জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিবিআরএনআইপি) প্যাকেজ সি-এর আওতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চারটি পয়েন্টে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে।

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রুটে রেলপথ নির্মাণ
প্রথমে চীন এ রেলপথে বিনিয়োগ করার চুক্তি করেছিল। তবে চীন সরে গেছে। এখন বিনিয়োগ করবে জাপান। প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান। প্রকল্পের আওতায় জয়দেপুর থেকে যমুনার বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ৮৫ দশমিক ৫২ কিলোমিটার এবং ঈশ্বরদী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ৭৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার- এ দুই ভাগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় জাইকা।

এলেঙ্গায় নতুন স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দুই অংশে সাতটি স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং ১৪টি স্টেশন সংস্কার করা হবে। ৬৬টি বড় ও ১৩৮টি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের ১০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

নাটোরে ভূমি মালিকদের এরইমধ্যে ৭ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৬ দশমিক ৬ ভাগ। প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যার পুরোটাই সরকার দিয়েছে।