জাতীয় বস্ত্র দিবস আজ 

আজ জাতীয় বস্ত্র দিবস। প্রাচীনকাল থেকেই বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশের সুনাম ছিল গৌরবময় এবং জগদ্বিখ্যাত। ঢাকাই মসলিন থেকে শুরু করে জামদানি আর বেনারসি এ দেশের বস্ত্রশিল্পের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তৈরি পোষাকখাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

প্রতিবছর ৪ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ বছর পঞ্চমবারের মতো সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট টেক্সটাইলে সমৃদ্ধ দেশ-বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বস্ত্র মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম উপাদান। বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ বস্ত্রশিল্প থেকে অর্জিত হচ্ছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে দেশের বস্ত্র খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী ও পরিবেশবান্ধব টেকসই বস্ত্রশিল্প স্থাপন, বস্ত্র খাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রখাতের অবদান অপরিসীম। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ ভাগ অর্জিত হয় বস্ত্রখাত থেকে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ । তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে যার ৫৩ শতাংশ নারী। পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, বস্ত্রশিল্পকে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বস্ত্র অধিদপ্তরকে পোষক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর বস্ত্রশিল্প গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বস্ত্র অধিদপ্তর এখাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করছে। পাশাপাশি আমাদের সরকার এখাতে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে কাজ করছে।




স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সবুর বলেছেন, আগামীর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রকৌশলীদের সুকৌশলী হতে হবে। আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হলো বস্ত্র শিল্প। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আইইবির বস্ত্র কৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সবুর বলেন, শেখ হাসিনার কাছেই আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজনীতি অনেক নিরাপদ। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনা দরকার।

তিনি আরও বলেন, বস্ত্রশিল্প নিয়ে সরকার অনেক সচেতন। এই শিল্পকে বিকশিত করতে আরও গবেষণা করতে প্রকৌশলীরা এগিয়ে আসবেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ অর্জিত হয় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়।

স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সাধারণ সম্পাদক এস.এম. মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, বস্ত্র খাতের নতুন এ বাজার ধরতে এখনই কটনের পাশাপাশি নন-কটনের তৈরি পণ্য রপ্তানিতে জোর দিতে হবে। এজন্য সরকারের নীতি-সুবিধাসহ এসব রপ্তানি পণ্যের প্রণোদনার প্রয়োজন। তাহলে খুব সহজেই এ বাজারে প্রবেশ করা যাবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বিনিয়োগও বাড়বে।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম হাজারী,অমিত কুমার চক্রবর্তী, মো. রনক আহসান, ঢাকা সেন্টারের সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মাসুম কামাল প্রমুখ।