ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু টানেল বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (২৭ মে) সকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু টানেল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

রোববার (২৬ মে) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

প্রতিন্ত্রী বলেন, ৮ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন। বাকিদের আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে আপাতত স্কুল খোলা থাকবে তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহাপবিদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে ৫০ টাকার নতুন স্মারক নোট

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ৫০ টাকার মূল্যমানের স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৮ অক্টোবর (শনিবার) টানেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই স্মারক নোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করবেন।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল ১১টায় টানেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মারক নোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করবেন।

এরপর আগামী ২৯ অক্টোবর (রোববার) থেকে এ স্মারক নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম অফিসে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শাখা অফিস ও টাকা জাদুঘর থেকে পাওয়া যাবে।

নতুন মুদ্রিত ৫০ টাকার স্মারক নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার স্বাক্ষরিত ১৩০ মি.মি. x ৬০ মি.মি. পরিমাপের এ স্মারক নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি এবং ডানপাশে টানেলের সম্মুখ অংশের ছবি সংযোজন করা হয়েছে। নোটের পেছনভাগে টানেলের ভেতরের অংশের অপর একটি ছবি সংযোজন করা হয়েছে।

নোটের সম্মুখভাগে শিরোনাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল/সংযোগে নতুন সম্ভাবনা’ এবং পেছনভাগে ‘BANGABANDHU SHEIKH MUJIBUR RAHMAN TUNNEL/Connectivity Creates Opportunities’ মুদ্রিত রয়েছে।

নোটের সম্মুখভাগের উপরে বামকোণে স্মারক নোটের মূল্যমান বাংলায় ‘৫০’, নিচে ডানকোণে মূল্যমান ইংরেজিতে ‘50’, এবং নিচে সিরিজ ও সিরিয়াল নম্বরের ডানে ‘পঞ্চাশ টাকা’, ‘বিনিময়যোগ্য নয়’ লেখা রয়েছে। নোটের পেছনভাগের উপরে বামকোণে মূল্যমান বাংলায় ‘৳৫০’, নিচে ডানকোণে মূল্যমান ইংরেজিতে ‘50’, উপরে ডানকোণে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম ও ‘FIFTY TAKA’ এবং নিচে বামকোণে ‘BANGLADESH BANK’, ‌‘COMMEMORATIVE NOTE’ লেখা রয়েছে।

১০০ শতাংশ কটন কাগজে মুদ্রিত ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোটটির সম্মুখভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতির ডানে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা রয়েছে এবং নোটের ডানদিকে জলছাপ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি’, ‘৫০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ মুদ্রিত রয়েছে। এছাড়া নোটের উভয়পৃষ্ঠে বার্নিশের প্রলেপ সংযোজন করা হয়েছে।

৫০ টাকা অভিহিত মূল্যের স্মারক নোটটির জন্য পৃথকভাবে বাংলা ও ইংরেজি লিটারেচার সম্বলিত ফোল্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। ফোল্ডার ছাড়া শুধুমাত্র খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য ৫০ টাকা এবং ফোল্ডার ও খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।




দুই মাসে ১৫% রাজস্ব আদায় বেড়েছে এনবিআরের

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) এনবিআরের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। অবশ্য গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। ওই সময়ে রাজস্ব এসেছিল ৪০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত এনবিআরের সাময়িক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দুই মাসে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব এসেছে ১৬ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে দুই মাসে রাজস্ব এসেছে ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গবন্ধু টানেল, মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কারণে ভ্যাট আদায় কিছুটা বেড়েছে। তা ছাড়া তামাকজাত পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মতো এলটিইউ কোম্পানিগুলো থেকে ভ্যাট আদায় বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম দুই মাসের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যাপ্ত নয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব খাতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তবে সরকার এখনও প্রচলিত নিয়ম-নীতি অনুসরণ করছে, বড় কোনো সংস্কার দৃশ্যমান নয়।




বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ শতভাগ সম্পন্ন

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। টানেলটি এখন যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ‘এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী অক্টোবরে টানেলটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরে টানেলটি খুলে দেওয়া হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ১৪ আগস্ট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, টানেলটি চট্টগ্রাম বন্দরকে সরাসরি আনোয়ারা উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত করা ছাড়াও সরাসরি কক্সবাজারকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

৩৫ ফুট প্রস্থ এবং ১৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট দুটি টিউব ১১ মিটার ব্যবধানে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভারী যানবাহন সহজেই টানেলের মধ্য দিয়ে চলতে পারে।

টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৪০ কিলোমিটার। যার সঙ্গে ৫.৩৫ কিলোমিটারের অ্যাপ্রোচ রোডের পাশাপাশি ৭৪০ মিটারের একটি সেতু রয়েছে, যা মূল শহর, বন্দর এবং নদীর পশ্চিম দিককে এর পূর্ব দিকের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম টানেল টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যৌথভাবে টানেলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

টানেলটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়েকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমিয়ে আনবে। এই টানেলে যানবাহন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে।

১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক দুই শতাংশ হারে সুদে ৫,৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এবং বাকি অংশের অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।