তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করবে ফিনল্যান্ড

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফিনল্যান্ড।

বুধবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সাথে বাংলাদেশ ও ভারতে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রুনদি’র নেতৃত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগে তার অফিস কক্ষে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এ সময়ে এই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

 

এ সময় তারা বাংলাদেশের সাথে ফিনল্যান্ডের ৫জি নেটওয়ার্ক, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম বিনির্মাণে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

বৈঠককালে প্রতিমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সার্বিক অগ্রগতি এবং ২০৪১ সালের স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভার্নমেন্ট, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট সোসাইটি এ ৪টি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের সার্বিক রূপরেখা রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। তিনি উভয়দেশের আইসিটি খাতের স্টার্ট আপদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে বিটুবি ম্যাচ মেকিং তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় এবং আইসিটি খাত পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে এগিয়ে। তিনি ৫জি, স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও বিকাশ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

এ সময় প্রতিনিধিদলের ফিনল্যান্ডের দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব রাউলি কোস্তামো, কাউন্সেলর কিমো সিরা, সিনিয়র অ্যাডভাইজার রাই চক্রবর্তীসহ আইসিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু রুনদি। বৈঠকে ডিএনসিসির টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ ) গুলশানের নগর ভবনে মেয়র আতিকুল ইসলামের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে ডিএনসিসির অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়, ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও সবার ঢাকা অ্যাপে সেবাদানসহ অন্যান্য সেবা সম্পর্কে অবগত করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন সেবা দিচ্ছি। এ মুহূর্তে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। ফিনল্যান্ড প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ফিনল্যান্ড আমাদেরকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে। ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

ফিনল্যান্ডের উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ঢাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ঢাকা শহরে ফিনল্যান্ডের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক সমাধান করা যেতে পারে।

ডিএনসিসিতে এসটিএস নির্মাণে ফিনল্যান্ডের প্রতি কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। পাশাপাশি সুখী দেশের তালিকায় ফিনল্যান্ড আবারও শীর্ষে অবস্থান করায় রাষ্ট্রদূতকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

ঢাকা শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে ফিনল্যান্ডের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। স্মার্ট সিটি গড়তে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহে ফিনল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ফিনল্যান্ড প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেবে। নোকিয়াসহ অন্যান্য কোম্পানিও বাংলাদেশে কার্যক্রম প্রসারিত করতে আগ্রহী।

নগর ভবনে বৈঠকের শুরুতে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ডিএনসিসি মেয়র। বৈঠক শেষে তারা একে অপরকে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

এসময় ডিএনসিসি সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, নয়াদিল্লির ফিনল্যান্ড দূতাবাসের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনসুলার কিমো সিরা, সেকেন্ড সেক্রেটারি রাউলি কোস্টামো, ইকোনমি অ্যান্ড কমার্শিয়াল বিষয়ক উপদেষ্টা রায় চক্রবর্তী ও অনারারি কনস্যুলেট জেনারেল অব ফিনল্যান্ড ঢাকার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কর্নেল (অব.) জাওয়াদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।