১৬ দিনে এসেছে ১১৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনে বৈধপথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো ১১৫ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)। দৈনিক গড়ে আসছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এর আ‌গে চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে প্রবাসীরা পা‌ঠি‌য়ে‌ছিলেন ৬৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার।

তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির ১৬ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১১৪ কো‌টি ৯৯ লাখ ডলার এসেছে। এর ম‌ধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

২০২৩ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৯৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স আসে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে আসে ১৫৬ কোটি ডলার, মার্চে ২০২ কোটি, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি, মে মাসে ১৬৯ কোটি, জুনে ২২০ কোটি, জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৩ কোটি, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি, নভেম্বর ১৯৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা ছিল কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।




প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন সুফল মেলেনি। প্রবাসীদের বাড়তি খরচ বহন করেই রেমিট্যান্স পাঠাতে হচ্ছে।

গত এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কিছুটা কমলেও মোবাইল ব্যাংকিং ও ডাকঘরের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। তবে ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব মাধ্যমেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা খুব বেশি কমছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বরং আরও বেড়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে প্রতি ২০০ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ হচ্ছে ২৯ শতাংশ। যা বৈশ্বিকভাবে রেমিট্যান্স পাঠাতে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় এমন দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি ২০০ ডলার রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে খরচ হতো ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে খরচ হয়েছে ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে ওই পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হচ্ছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

একই সময়ের ব্যবধানে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে পাঠানোর খরচ ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ হয়েছে এবং ডাকঘরের মাধ্যমে পাঠানোর খরচ ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে। এদিকে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে রেমিট্যান্সের অর্থ স্থানান্তরের খরচও বেড়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কিছুটা কমেছে।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার গড়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়ছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ২০০ ডলার পাঠাতে খরচ হতো ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবাসীদের প্রতি ২০০ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে গড় খরচ ৩ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার কথা। কিন্ত তা সম্ভব হয়নি। এ লক্ষ্যমাত্রা এখন বেড়ে ৫ শতাংশের বেশি রয়েছে।

দেশে গত অর্থবছরে ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে বৈধ চ্যানেলে। এর বাইরে আরও রেমিট্যান্স এসেছে হুন্ডির মাধ্যমে।




সেপ্টেম্বরে দৈনিক গড় রেমিট্যান্স ৪ কোটি ডলারে নামলো

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩২ হাজার মার্কিন ডলার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪৮ কোটি ডলার, যা আগের মাসের চেয়ে অন্তত ১১ কোটি ডলার কম। রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন মাসের (১৫ জুন-১৫ সেপ্টেম্বর) ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন রেমিট্যান্স এসেছে গড়ে ৫ কোটি ২৭ লাখ ডলার করে। অর্থাৎ প্রবাসীরা চলতি মাসের প্রথম ৭ দিনে ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। আর জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহে দৈনিক রেমিট্যান্স এসেছে গড়ে পৌনে ৭ কোটি ডলার করে। তার আগের মাস জুনে প্রবাসীরা প্রতিদিন পাঠিয়েছিলেন গড়ে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার করে। ওই মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অবশ্য আগস্ট মাসে প্রবাসীরা দেশে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হুন্ডিতে রেমিট্যান্স বেশি আসায় ওইসব ডলার চলে গেছে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে। এতে কার্ব মার্কেটে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। একইসঙ্গে চাহিদা ও দাম বেড়েছে।

উল্লেখ্য, কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলারের দাম এখন ১২০ টাকা। যদিও ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতি ডলারের বিপরীতে প্রবাসীরা প্রণোদনাসহ সর্বোচ্চ ১১২ টাকা ২৪ পয়সা পাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাসের প্রথম ১৫ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৫ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার।

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। এরপর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল ১৩১ কোটি ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ। ফলে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ নেমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৭১ কোটি ডলারে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভ ২ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।




প্রবাসীদের বৈধভাবে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

প্রবাসীদের বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা রেমিট্যান্স পাঠান বৈধভাবে পাঠাবেন। সরকার আপনাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ২.৫ ভাগ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। আপনারা কেউ হুন্ডিতে টাকা পাঠাবেন না।

প্রবাসীদের জন্য অ্যাকাউন্ট খুলতে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের প্রয়োজন নেই। প্রবাসীরা শুধুমাত্র পাসপোর্ট দিয়েই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রোমের পার্কো দ্য প্রিন্সিপি দ্য গ্র্যান্ড হোটেলে ইতালি আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইতালিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের রোম-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘তবে খেয়াল রাখবেন একটি আসনও যেন ফাঁকা না যায়।’

অবৈধপথে এড়িয়ে দক্ষতা অর্জন করে বৈধপথে বিদেশ যেতে প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি আপনারা কারিগরি শিক্ষা নিয়ে বৈধ পথে কোনো প্রকার দালাল ছাড়াই বিদেশে যেতে পারবেন।’

‘দালালদের খপ্পরে পড়ে কেউ অবৈধভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে আসবেন না’- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শীঘ্রই ইতালিয়ান ভাষাসহ বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষা কোর্সের ব্যবস্থা করব যাতে করে যে যে পেশায় দক্ষ তার পাশাপাশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে যেতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ যেতে কাউকে বাড়ি-জমি বিক্রি করতে হবে না। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে এবং বিদেশ থেকে কেউ দেশে ফিরে গেলে তাদেরও ঋণ দিয়ে থাকে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে ইতালি আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এলএনজি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে দেশটি। বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিতেও আগ্রহ দেখিয়েছে ইতালি।’

ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।




প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ তৃতীয়

অর্থনৈতিক মন্দায়ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স অর্জন করেছে ভারত। গত বছরে (২০২২ সাল) দেশটিতে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা সর্বোচ্চ রেকর্ড। অপদিকে দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে প্রবাসী আয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরে বাংলাদেশের প্রবাসীরা ২১ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংক্রান্ত ডিসেম্বর প্রান্তিকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ ভারত। দেশটির ২০২২ সালে প্রবাসী আয় ১০০ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের মোট রেমিট্যান্সের ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন মতে, ভারত গত বেশ কয়েক বছর ধরে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে দক্ষ কর্মী পাঠাচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবাসী আয়ে ভারতের পরই পাকিস্তানের অবস্থান। ২০২২ সালে পাকিস্তান রেমিট্যান্স পেয়েছে ২৯ বিলিয়ন ডলার। এই অংক বিশ্বের মোট রেমিট্যান্সের ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এছাড়া দেশটির জিডিপিতে প্রবাসী আয়ের অবদান ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

এশিয়ার মধ্যে প্রবাসী আয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের। ২০২২ সালে বাংলাদেশের প্রবাসীরা ২১ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। প্রবাসীদের এই আয় বিশ্বের মোট রেমিট্যান্সের ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রবাসী আয় দেশের মোট জিডিপিতে অবদান রাখছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স আহরণে অন্য দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানের আছে নেপাল। দেশটির প্রবাসী আয় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের মোট রেমিট্যান্সের ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। দেশটির পরবশই আয় তাদের মোট জিডিপির ২১ দশমিক ৮ শতাংশ।

পঞ্চম অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। ২০২২ সালে তাদের আয় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। যা বিশ্বের মোট রেমিট্যান্সের দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং তাদের মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে আফগানিস্তানের প্রবাসী আয় দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। যা তাদের মোট জিডিপির ২ শতাংশ এবং ভুটানের প্রবাসী আয় দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। যা দেশটির মোট জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ।