জনগণ পাশে থাকলে দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধাই মানবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

আজ সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনও কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।’

বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।’

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।’

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলে থাকি, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি সেখানে ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।




সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে আমি দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি এবং সেই স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। এ সফরে যদি ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে সেটি বাংলাদেশের অর্জন। এটি দেশের মানুষের অর্জন।

আজ শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৬তম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য উত্থাপিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন। গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে তাঁর প্রথম সরকারি ছয় দিনের সফর সফলভাবে শেষ করেন।

জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফল রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য তাঁকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘যে কারণে সংসদের পক্ষ থেকে আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, সে জন্য আমি সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি সেটি হলো, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদের সব সদস্যকে, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতাকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনিও দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।’

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে প্রস্তাবটি সংসদে বিস্তারিত আলোচনার পর কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সফরটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

আলোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুনের দুই দেশ সফরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আলোচনাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।’




প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেট হলে ঊষ্ণ অভ্যর্থনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

 

শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং।

অভিবাদন মঞ্চে তারেক রহমান ও লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে গত সোমবার রাতে প্রথমে যান চীনের দালিয়ান। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। দালিয়ানে দুই দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বুধবার বিকালে হাইস্পিড ট্রেনে (বুলেট ট্রেন) বেইজিং আসেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরসূচিতে রয়েছে গ্রেট হলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম চীন সফর। এর আগে তারেক রহমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে ২০০১ সালে চীন সফর করেছিলেন। তিনি ওই সময়ে এই গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীর লালগালিচা সংবর্ধনাতেও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস




মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষায় দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মাদকের সমাধানে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। এ ক্ষেত্রে আমরা কতজনকে ধরবো, কতজনকে চিকিৎসা দেবো বা কাউন্সেলিং করবো? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সব পরিবারের সন্তানরা এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।

তারেক রহমান বলেন, শুধু খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজন করতে হবে।

তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইদানীং দেখা যায়, একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




আসুন আমাদের সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগাই : প্রধানমন্ত্রী

 

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপনের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে আহ্বান জানাব আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে এই বিষয়টি মাথায় রেখে, এই চিন্তা থেকে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণ মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দেই একটি পরিষ্কার একটি দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিস্কার পরিবেশে বাস করবে।’

আজ শনিবার বেলা তিনটায় ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসাধারণের প্রতি এই আহ্ববান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি শুরু করব এবং আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত আল্লাহর রহমতে পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।’

সকলের প্রতি ফের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত পরিষ্কার বিশুদ্ধ একটি বাতাসে রূপান্তর করতে পারব।’

সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ করে এখানে খুব সম্ভবত বিভিন্ন জেলার প্রশাসকবৃন্দ সংযুক্ত আছেন। আপনাদের সকলের কাছে আমার নির্দেশনা থাকবে যে- আপনার নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান ঘোষণা করছি। আমরা শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আমরা আশা করি আমাদের ইচ্ছা আমাদের প্রত্যাশা যে আমরা আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’




ডিজিটাল ভূমিসেবার নতুন যুগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জমি বা ভূমি শুধু এক টুকরো সম্পদই নয়, বরং মানুষের জীবনে এটি একধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি, এমন মন্তব্য করে সারা দেশে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভূমি সেবা মেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগ যুগ ধরে ভূমি-জমি সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ এবং এর ভাগ-বাটোয়ারা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের পরিক্রমায় একই জমির মালিকানা বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং একই পরিবারের মধ্যেই বিভিন্ন শরিকের মধ্যে বারবার বণ্টন হয়েছে। ফলে ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখার দায়িত্বও বেড়েছে।

তিনি বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সি-এস, আর-এস কিংবা ডি-এস— এসব শব্দের সঙ্গে জমির মালিক মাত্রই পরিচিত। আগে এসব বিষয়ে মানুষকে ভূমি অফিসে যেতে হতো। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে অধিকাংশ ভূমিসেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে খাজনা প্রদান, ই-নামজারি এবং অন্যান্য ভূমিসেবা গ্রহণে সহায়তার জন্য দেশের ৬১ জেলায় ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় এসব কেন্দ্র থেকে নাগরিকরা নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে আবেদন ও সরকারি ফি পরিশোধ করতে পারছেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে এমন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপ। ভূমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হবে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিও তত সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ কমবে। একইসঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পারিবারিক শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

এ বাস্তবতায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত এবং ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে সেবা নিতে মানুষকে অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারেও ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আদালতে বিচারাধীন ৪৭ লাখের বেশি মামলার মধ্যে অধিকাংশই জমিজমা সংক্রান্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি যেমন গ্রাম আদালত, নেগোসিয়েশন, মেডিয়েশন, আরবিট্রেশন ও কনসিলিয়েশনের মতো আইনানুগ ব্যবস্থার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন–এর একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি বজায় রাখা যায় না; কেবল পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমাধান করা গেলে আদালতের মামলার জট কমবে এবং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের অধিকার। আমাদের লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় শুরু হওয়া এ ভূমিমেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী ভূমি মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।




সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বৈঠকে অংশ নেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং করতোয়ার সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।




মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি-স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করবো: প্রধানমন্ত্রী

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো এবং ইনশাআল্লাহ আমরা এই যে মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি আছে, এটাকে আমরা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত আমরা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করবো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে ইনশাআল্লাহ তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো।’

শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়তে চাই, তাহলে এই নারীদেরকে যদি আমরা স্বাবলম্বী না করি, শিক্ষিত না করি, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করি তাহলে আমাদের এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।’

বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশের তরুণদেরকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং দিতে, যাতে করে তারা দেশে কোনও একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি করতে পারে। যাতে করে দরকার হলে তারা বিদেশেও যেতে পারে এবং বিদেশে যাতে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন যে রকম অদক্ষ শ্রমিক যায়, আমরা চাই আমাদের শ্রমিকদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে যাতে বিদেশে গিয়ে তারা বেশি ইনকাম করতে পারে, যাতে করে তারা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাতে পারে।’

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এই এলাকার সন্তান চাঁদপুরের সন্তানই হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। আপনাদের সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে আমি এখনই বলে যাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব সেই টেকনিক্যাল কলেজের বিষয়ে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

জনগণকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি নেমে আসে, এই ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করা ধরে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপির শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সবাই বলি— জনগণই হচ্ছে আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।’

‘করব কাজ, সবার আগে’ স্লোগান তুলে উপস্থিত জনতাকে দেশ গড়ার শপথ নিতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ-বিকেএমইএ নেতাদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।




জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো, আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।

শনিবার (কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জন্য আমাদের ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, কারণ ভোট দেয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দিব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। নারী পুরুষ শিশু সকলে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।

এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট(কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

 




নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড চালু করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড চালু করবে সরকার, যাতে মা বোনদের রান্নায় সমস্যা না হয়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনর্খননের উদ্বোধন শেষে সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি। এবার তাদের জন্য এলপিজি কার্ড চালু করবো।

কৃষকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা আমাদের অহংকার। কৃষকদের সুবিধার্থে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি।

জুলাই সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করবো।

এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনর্খননের উদ্বোধন করেছেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, শার্শা থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকালে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।




হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে বিগত সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিগত দুটি সরকার যথাসময়ে হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে টিকা দিয়ে হামের প্রকোপ কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যখাতে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা হবে। সারা দেশে একলাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের ৮০ শতাংশই হবে নারী।’

তারেক রহমান আরও বলেন, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থার বেশিরভাগ রাজধানীকেন্দ্রিক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সেবা প্রদান নিশ্চিতে চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ করবে সরকার।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত জরুরি সেবা ক্যাটাগরিতে মনোনীত ছয়জন চিকিৎসককে ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।




সরকার আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে :  প্রধানমন্ত্রী

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭,৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এর পাইলটিং করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই ৩২৯৫ জন ইমাম, ২৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত, বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষসহ সর্বমোট ৯১০২ (নয় হাজার একশত দুই) জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানী প্রেরণ করা হয়েছে। ই-হেলথ কার্ড প্রদান বিষয়ের পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় খুলনা জেলায় ২৫ লক্ষ ই-হেলথ কার্ড প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২০,০০০ কি.মি. খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ, ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা ও টিআর-এর মাধ্যমে ১৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা সংস্কার করবে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।

এ অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে, ৩৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে এবং ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়া ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুন, ২০২৬-এর মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাই-টেক বা সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে Paypal- (পেপাল) এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই Certificate of Eligibility (CoE)-এর ভিত্তিতে এই ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হয়েছে।