ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট শুরু

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ট্রাসফরমেশন সামিটের আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূল গতিধারা নিয়ে মূল্যবান পর্যবেক্ষণে ‘ব্যাংকিং অন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে এবিবি।

বুধবার (২৪ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার প্রধান অতিথি হিসেবে এ সামিটের উদ্বোধন করেন। এসময় এবিবির চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও সেলিম আরএফ হোসেন, এবিবির বোর্ড অব গভর্নর এবং বিভিন্ন ব্যাংকের এমডি ও সিইওরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তর যাত্রা নিয়ে আলোচনা করার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী এ সামিটে বাংলাদেশের ৪৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন উপলক্ষে এবিবি এবং পিডব্লিউসি যৌথভাবে ‘ব্যাংকিং ইভল্যুশন: ড্রিভেন বাই ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য গৃহীত কৌশলগুলো বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএক্সও পর্যায়ের নির্বাহীদের নিয়ে একটি জরিপ স্থান পেয়েছে।

সম্মেলনে ডিবিএস সিঙ্গাপুর, ইঅ্যান্ডওয়াই, আইবিএম, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রামীণফোন, ইউনিলিভার, হুয়াওয়ে, ওরাকল, আইটি কনসালট্যান্ট লিমিটেড, লেন্ট্রা, থাকরাল, ওরোজেনিক, মাস্টারকার্ড, কেপিএমজি, ডেলয়েট, এটুআই, বিআইবিএমসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি এবং সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করছেন।

সম্মেলনের লক্ষ্য বাংলাদশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা প্রধান গতিধারাগুলোর ওপর আলোকপাত করা। দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্যে পথ চলতে ব্যাংকগুলো যে কৌশলগুলি গ্রহণ করতে পারে তা বিশ্লেষণ করে মূল্যবান পর্যবেক্ষণ প্রদান করা সম্মেলনের লক্ষ্য। এছাড়া এর লক্ষ্য আর্থিক সেবা খাতকে প্রভাবিত করে এমন বিদ্যমান নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা। এ শিল্পের স্টকহোল্ডার, ইকোসিস্টেম এনাবেলার্স ও নীতি নির্ধারকদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সুপারিশ দিয়ে এ সম্মেলন সহযোগিতা এবং একীভূত লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধি করেছে।

এই সম্মেলন নিয়ে এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, এবিবি-এর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা প্রধান গতিধারাগুলো সম্পর্কে মূল্যবান পর্যবেক্ষণ দেবে। এটি দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্যে পথচলার জন্য ব্যাংকগুলো যে কৌশল নিতে পারে তা বিশ্লেষণ করবে এবং আর্থিকসেবা খাতকে প্রভাবিত করে এমন বিদ্যমান নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোগুলো নিয়ে গবেষণা করবে। এ ছাড়াও এ সম্মেলন এ খাতের স্টেকহোল্ডার, ইকোসিস্টেম এনাবেলার্স ও নীতি নির্ধারকদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সুপারিশ করবে। একটি একীভূত লক্ষ্যের দিকে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক সেবা খাত একটি টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে যা সব স্টেকহোল্ডারের উপকারে আসবে।

সম্মেলনে ব্যাংকিং সেক্টরে ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব অনুধাবনকারী সম্মানিত স্পন্সরদের কাছ থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইভেন্টের প্ল্যাটিনাম স্পন্সর হুয়াওয়ে, পাওয়ার্ড বাই স্মার্ট। গোল্ড স্পনসরগুলোর মধ্যে রয়েছে— ওরাকল, পাওয়ার্ড বাই রেডিংটন গ্রুপ এবং আইবিএম, পাওয়ার্ড বাই থাকরাল ও লেন্ট্রা। সিলভার স্পন্সর হলো মাস্টারকার্ড, ডকুওয়্যার পাওয়ার্ড বাই ওরোজেনিক, আইটি কনসালটেন্ট লিমিটেড, পেলজিক এবং মোডফিন পাওয়ার্ড বাই থাকরাল।

‘ব্যাংকিং অন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ সম্মেলনটি শিল্পে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ আলোচনা, ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্বর্তী মূল্যবান তথ্য আদান-প্রদান এবং নেটওয়ার্কিং সুযোগের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি জ্ঞান বণ্টন, সহযোগিতা এবং ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়ার পথ আরও সহজ করবে।




 বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট হলেন শেখ কবির হোসেন

বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট পদে শেখ কবির হোসেন পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৩-২৪ সালের জন্য তিনি সংগঠনটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়ে টানা সাতবার তিনি বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট হলেন।

সোমবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শেখ কবির হোসেনকে বিআইএ’র প্রেসেডেন্ট নির্বাচিত করা হয় বলে সংগঠনটি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিআইএ’র নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য হলেন- নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছ। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ মল্লিক, পিএসসি (অব.)। নির্বাচন বোর্ডের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন বিআইএ’র সেক্রেটারি জেনারেল নিশীথ কুমার সরকার।

শেখ কবির হোসেন বর্তমানে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেম্বার অব গভর্নরস।

এছাড়া শেখ কবির হোসেন লায়ন্স ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। তিনি লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের সাবেক আন্তর্জাতিক পরিচালক হিসেবে দেশে-বিদেশে লায়ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একাধিক স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি আগারগাঁয়ে অবস্থিত লায়ন চক্ষু হাসপাতালেরও অন্যতম পৃষ্ঠপোষক।

দেশের একমাত্র ইসলামী চক্ষু হাসপাতালের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান, সিডিবিএল’র চেয়ারম্যান, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান।




২২-২৪ সেপ্টেম্বর ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো-২০২৩’ অনুষ্ঠিত হবে।

নিউইয়র্কের লা-গার্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়টে এটি অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপো আয়োজন করছে ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই)।

শনিবার (১৮ মাচ) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলে এক সংবাদ সম্মেলন এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব অংশ নেন।

অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউএসবিসিসিআই সভাপতি মো. লিটন আহমেদ ও ইউএসবিসিসিআই এক্সপো স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. বদরুদ্দোজা সাগর। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউএসবিসিসিআই’র বাংলাদেশ অংশের চিফ কো-অর্ডিনেটর এনামুল কবির সুজন।

বিডার মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, সরকার এ ধরনের আয়োজনকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকে। যারাই দেশের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে দেশের বাইরে উদ্যোগ নেবেন, তাতে সরকারের সহযোগিতা থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুক্তবাজার অর্থনীতির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং উন্নত রাষ্ট্রের দিকে পথযাত্রা সুগম করার লক্ষ্যে ইউএসবিসিসিআই কাজ করে যাচ্ছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ালে সবাই লাভবান হবে।

এতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে টিকে থাকার লড়াইয়ে একে অপরের পাশে থাকার বিকল্প নেই। আর তাই ইউএসবিসিসিআইয়ের এই উদ্যোগ। এছাড়াও এই এক্সপোতে ইপিবি, বিডা, এসএমই ফাউন্ডেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনা ও প্রক্রিয়ার কথা জানানো হয়।

ইউএসবিসিসিআই সভাপতি মো. লিটন আহমেদ বলেন, ইউএসবিসিআই বিজনেস এক্সপো ২০২২- এ আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। বিজনেস এক্সপোর মাধ্যমে আমরা ব্যবসার নতুন নতুন উপাদান খুঁজে পাচ্ছি।




ভ্রমণ ও আতিথেয়তা বিষয়ক ক্যারিয়ার মেলা ১৯ মার্চ শুরু  

আগামী ১৯ ও ২০ মার্চ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে ভ্রমণ ও আতিথেয়তা শিল্পবিষয়ক জব ও ক্যারিয়ার মেলা। ভ্রমণবিষয়ক প্রকাশনা বাংলাদেশ মনিটরের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় এ মেলা আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করছে দেশের অন্যতম সফটওয়্যার প্রযুক্তি কোম্পানি টেকনোনেক্সট।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ মনিটর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি স্পন্সরশিপ চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম এবং টেকনোনেক্সটের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এভিয়েশন, আতিথেয়তা ও ভ্রমণ শিল্পে যাঁরা ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এই মেলাটি এক অনন্য সুযোগ করে দেবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভ্রমণ ও আতিথেয়তা শিল্পের সম্ভাবনাকে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগাতে প্রচুর দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে জব ও ক্যারিয়ার ফেয়ার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা প্রতিভাবান তরুণদের এ শিল্পে আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।

টেকনোনেক্সট ইউএস-বাংলা গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের অন্যতম ট্রাভেল ট্রেড প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি ওটিএ ডেভেলপমেন্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে, রিজারভেশন সিস্টেম, হেলথ ট্যুরিজম, কুরিয়ার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট, এভিয়েশন রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ই-কমার্স ইত্যাদি সংক্রান্ত পণ্য ও সেবা অফার করে থাকে।