কাজে ফিরেছেন আশুলিয়ার পোশাক শ্রমিকরা, ১৫ কারখানা বন্ধ

সাভারের আশুলিয়ায় অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মে ফিরেছেন। তবে এখনো ১৫টি পোশাক কারখানা বিভিন্ন কারণে বন্ধ আছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর ) সকাল সাড়ে ১২ টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শিল্প পুলিশ জানায়, আশুলিয়ায় বেশিরভাগ পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ও বকেয়া বেতনের জন্য কারখানা বন্ধ আছে। এছাড়া কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক টেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, বেশিরভাগ পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা আজ কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে সাউদার্ন, মণ্ডল, ম্যাংগোটেক্সসহ বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ আছে। এছাড়া বেশ কিছু কারখানা সরকারের সিদ্ধান্তে ১৮ দফা দাবি মেনে নিতে চাইছে না। এতে কারখানার শ্রমিকদের ভেতরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ আশুলিয়ার পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত। কোথাও থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার নিরাপত্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন আছে বলে জানান তিনি।




গার্মেন্টসে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবে বেড়েছে ২৫-২৯ শতাংশ: টিআইবি

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫২-৫৬ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও, বাস্তবে বেড়েছে ২৫-২৮.৮৮ শতাংশ। এর আগের মজুরি কাঠামোতে উল্লেখ থাকা বার্ষিক ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময়মূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির এই চিত্র তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিষয়টি উল্লেখ করে নিম্নতম মজুরি বোর্ড চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে মজুরি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি বলেছে, নিম্নতম মজুরি বোর্ড চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠি ও বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে বার্ষিক ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময়মূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি প্রকৃত অর্থে ৩০ শতাংশও বাড়েনি। তৈরি পোশাক রপ্তানির বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মজুরি সবচেয়ে কম। নতুন ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ীও বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের মজুরি সর্বনিম্নই থাকবে।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডে পাঠানো চিঠিতে টিআইবি বলেছে, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত নিম্নতম মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে মূল মজুরি বৃদ্ধির নির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে পূর্ববর্তী গ্রেড সাত বা নতুন প্রস্তাবিত গ্রেড পাঁচে ২০২৩ সালে মূল মজুরি ন্যূনতম ৫২৩২.৭৫ টাকা হওয়ার কথা। এই গ্রেডে প্রস্তাবিত নতুন মূল মজুরি ধরা হয়েছে ৬৭০০ টাকা। অর্থাৎ এই গ্রেডে মূল মজুরি ৬৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলা হলেও, তা প্রকৃতপক্ষে বেড়েছে ২৮.০৪ শতাংশ। গ্রেড চারের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ২৬.৫২ শতাংশ। একইভাবে, গ্রেড তিন, দুই ও এক-এর ক্ষেত্রে মূল মজুরি প্রকৃত বৃদ্ধি পাবে ২৪.১৬ শতাংশ, ২৩.৯৭ শতাংশ এবং ২৪.৭১ শতাংশ।

প্রতিবছর মূল মজুরি ৫ শতাংশ হারে বাড়লে ২০২৩ সালে এসে নতুন প্রস্তাবিত গ্রেড পাঁচে ন্যূনতম মোট মজুরি টাকা হওয়ার কথা ৯৬৯৯.১৩ টাকা। নতুন প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো অনুযায়ী এই গ্রেডে সর্বমোট মজুরি প্রস্তাব করা হয়েছে ১২৫০০ টাকা। অর্থাৎ, ৫৬ শতাংশ সর্বমোট মজুরি বাড়ানো হয়েছে বলা হলেও, তা প্রকৃত বিচারে বেড়েছে মাত্র ২৮.৮৮ শতাংশ। একইভাবে গ্রেড চার, তিন, দুই ও এক এর ক্ষেত্রে মোট মজুরি বৃদ্ধির হার যথাক্রমে মাত্র ২৭.৫৯ শতাংশ, ২৫.৫৮ শতাংশ, ২৫.৩৫ শতাংশ এবং ২৫.৯৩ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় মূল মজুরি বৃদ্ধির প্রকৃত হার আরও কম বলে বিশ্লেষণে দেখিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা হলে পঞ্চম গ্রেডে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মূল মজুরি হওয়ার কথা ৫৫৭২.২৬ টাকা, যেখানে নতুন প্রস্তাবিত মূল মজুরি ৬৭০০ টাকা। অর্থাৎ, মূল মজুরি ৬৩ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে বলা হলেও তা মূলত বাড়ছে ২০.২৪ শতাংশ। একইভাবে গ্রেড চার, তিন, দুই ও এক- এ মূল মজুরি বৃদ্ধির প্রকৃত হার দাঁড়ায় ১৮.৮১ শতাংশ, ১৬.৫৯ শতাংশ, ১৬.৪১ শতাংশ এবং ১৭.১১ শতাংশ। সর্বমোট মজুরির হিসাবে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে গ্রেড পাঁচে ২০২৩ সালে একজন শ্রমিকের ৯৯১৩.৫০ টাকা পাওয়ার কথা। সর্বমোট মজুরি এই গ্রেডে ৫৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১২৫০০ টাকা করা হয়েছে বলা হলেও, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে সর্বমোট মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ২৬.০৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় গ্রেড চার, তিন, দুই ও এক-এ প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার ২৪.৮০ শতাংশ, ২২.৮০ শতাংশ, ২২.৫৫ শতাংশ এবং ২৩.১০ শতাংশ।

এমন সব বাস্তবতায় শ্রমিকদের মজুরি ৫৩-৫৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে- এমন হিসাবকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সামগ্রিক বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের নতুন প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি জীবনধারণের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পৃথিবীর দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় যৌক্তিক মজুরি না দেওয়াটা সত্যিই লজ্জাজনক।

 




ঢাকা-গাজীপুরে এখনো বন্ধ ১০২ পোশাক কারখানা

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জেরে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরে ১০২ পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার ৩টি এবং আশুলিয়া ও মিরপুরের ৯৯টি কারখানা রয়েছে। বন্ধ এসব কারখানা খুলে দিতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) সংগঠনটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজিএমইএ জানায়, কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার সবার সহযোগিতায় ৩টি পোশাক কারখানা বাদে সব কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আশুলিয়া এবং মিরপুরের প্রায় ৯৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ আছে। এই কারখানাগুলোতেও আলোচনা চলছে। শ্রমিকরা কাজ করতে চাইলে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া পোশাক শিল্প অধ্যুষিত অন্যান্য এলাকা যেমন- টঙ্গী, গাজীপুর, শ্রীপুর, মাওনা, ময়মনসিংহ, সাভার, ইপিজেড, নারায়ণগঞ্জ, ডিএমপি, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকাগুলোর সব পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে এবং সুষ্ঠু শ্রম পরিস্থিতি বজায় আছে।

দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে, শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী গুরুত্বপূর্ণ খাত পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কারখানাগুলো খোলা রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক জনমত প্রচার করে গণমাধ্যমগুলো শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানায় বিজিএমইএ। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পে সুষ্ঠু শ্রম পরিস্থিতি বজায় রেখে শিল্পকে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠন, সরকার, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন, শিল্প পুলিশসহ সব আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এবং স্থানীয় জনসাধারণ সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।




নতুন মজুরিতেই কাজ করতে হবে পোশাকশ্রমিকদের: প্রধানমন্ত্রী

অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা হরতাল অবরোধের নামে আগুনসন্ত্রাস করছে। অগ্নিসংযোগে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এসময় আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধে গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারে বিশ্বাস করি। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বার বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে। ৭৫-এর পর অস্ত্রের জোরে যেসব সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা সন্ত্রাস ও লুটপাট ছাড়া জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি।

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি দফায় দফায় বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এবার ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। শতকরা ৫৬ ভাগ বাড়ানো হয়েছে। আন্দোলনের নামে ১৯টি কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। যারা তাদের (শ্রমিক) উস্কানি দিচ্ছে, তারাই তাদের ধ্বংস করবে। এটা শ্রমিকদের বুঝতে হবে। বর্তমান মজুরি নিয়েই পোশাকশ্রমিকদের কাজ করতে হবে।

এসময় আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিএনপি–জামায়াতের কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, পুলিশ হত্যা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, হাসপাতালে হামলা এসব যারা করে তাদের আটক করা হবে না তো কী করা হবে? যারা এসব সন্ত্রাস করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে আবার আগুনে মানুষ পোড়ানো শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত। এদের প্রতি শুধুই ঘৃণা। দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের অপরাধ কী? সরকারকে কী কারণে পদত্যাগ করতে হবে? আমরাতো ওদের মতো আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারি না।

সরকারপ্রধান বলেন, সার, বিদ্যুৎসহ অনেক খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। বিনামূল্যে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশ এ সুবিধা দিয়েছে?

প্রায় তিন মাস পর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হচ্ছে। চলতি বছর ১২ আগস্ট সর্বশেষ বৈঠক হয়। এবারের বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নানান উপ-কমিটি গঠন, বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ এবং সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা হবে।




গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলিতে নিহত ১

গাজীপুরে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলিতে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আনজুয়ারা বেগম (২৪)। জামাল উদ্দিন নামে আরও একজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গতকাল ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ি ও জরুনসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আজ বিক্ষোভে নামেন।

আজ (বুধবার) সকাল ৭টার পর থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। দুপুর ১২টা ও সাড়ে ১২টার দিকে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন বলেন, আমি ইসলাম ইসলাম গার্মেন্টসে চাকরি করি। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে আমি গুলিবিদ্ধ হই। পরে প্রথমে উদ্ধার করে আমাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছি।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজন ঢাকা মেডিকেলে এসেছিল। এদের মধ্যে ইসলাম গার্মেন্টসের আনজুয়ারা বেগম নামে এক নারীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিনের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা চলছে।

ন্যূনতম বেতন ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, সফিপুর ও মৌচাকসহ আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছেন। গতকাল পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রস্তাব করে মজুরি বোর্ড। পরে মজুরি বোর্ড ঘোষিত বেতন প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।

বুধবার সকাল থেকে কোনাবাড়ি এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস লিমিটেড, রিপন নিটওয়্যার লিমিটেড, ইসলাম গার্মেন্টস ও বেস্টঅল সোয়েটারসহ আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনেই বিক্ষোভ শুরু করলে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সকাল ৮টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক কাশিমপুরের জরুন মোড়ের সামনে একত্রিত হয়ে হাতে ইট এবং লাঠি সোঁটা নিয়ে মিছিল করতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে কাঠ ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে রওশন মার্কেটের হয়ে হাতিমারার দিকে এগিয়ে যায়।

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আশরাফ উদ্দিন জানান, শ্রমিকদের শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হলেও শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিয়ারশেল ছুড়লে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, বুধবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা আন্দোলন করে। আমরা তাদের ঘোষণা দিয়েছিলাম আপনারা নিজেদের জায়গায় থাকেন, আপনাদের ফ্যাক্টরিতে ঢোকেন, কাজ পছন্দ না হলে কাজ বন্ধ রাখেন কিন্তু অন্য কোনো কারখানায় ভাঙচুর করতে যাবেন না। অন্য কোনো কারখানার শ্রমিকদের নামাতে যাবেন না। কিন্তু তারা আমাদের নির্দেশনা না শুনে অন্য কারখানার শ্রমিকদের নামানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।




পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকার প্রস্তাব

পোশাক শ্রমিকদের জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে মালিকপক্ষ। তাদের প্রস্তাবিত মজুরির মধ্যে মূল মজুরির প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৩ শতাংশ। মঙ্গলবার মজুরি বোর্ডের সভায় মালিকপক্ষ এই প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে ন্যূনতম মজুরি শেষমেশ কত হবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে শ্রম মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার কথা রয়েছে।

মজুরি বোর্ডের সভায় মালিকপক্ষের পাশাপাশি শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা সভায় আসেন দুপুর ১২টায়। আর মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আসেন ১২টা ১০ মিনিটে। বেলা ১২টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয়ে দুপুর দেড়টায়।

ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে অনেক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও সরকারের প্রতিনিধিদের বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পেয়ে তারা কাজে ফিরেন।

তবে ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলে মহাসড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। তারা দুটি বাসেও আগুন দিয়েছে।




নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সামনে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবিতে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সামনে আন্দোলন করছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর তোপখানা রোডে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবি জানাচ্ছেন শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা।

এদিকে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে মজুরি বোর্ডের সভা কক্ষে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান। তাদের প্রস্তাবগুলোর যাচাই-বাছাইয়ের পর পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এটি মজুরি বোর্ডের ৬ষ্ঠ সভা।

অন্যদিকে বৈঠকের মধ্যেই গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ও এর আশপাশের বিভিন্ন কারখানার বেতন বাড়ানোর দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে।

এর আগের সভায় মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার ৩৯৪ টাকার প্রস্তাব করেন। আর মজুরি বোর্ডে পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। উভয়পক্ষ প্রস্তাবনায় তাদের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে মজুরি বৃদ্ধি গার্মেন্টস আন্দোলনের নেতার বলছেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিকদের গ্রেপ্তার-হত্যা-মামলা-ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্পরক্ষা জাতীয় মঞ্চের নেতারা বলছেন, অবিলম্বে মজুরি ২৩ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। দিতে হবে ৫টি গ্রেড এবং ১০ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট। একই দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ।

এছাড়াও কলকারখানা খুলে দেওয়া, সুষ্ঠু, সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, কলকারখানায় মাস্তান পোষা বন্ধ করা, শ্রমিকদের সঙ্গে শোভন আচরণ করা এবং শ্রমিক হত্যার বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এবং জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।




মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আজও মিরপুরে সড়ক অবরোধ

রাজধানীর মিরপুরে আবারও সড়কে অবস্থান নিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা।

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বুধবার (১ নভেম্বর) সকালেই তারা অবস্থান নেন মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে। এতে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১১ এবং ১৪ নম্বর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অবস্থান নিয়েছে মিরপুর ১১ নম্বরে।

এ সময় পোশাক শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবিতে স্লোগান দেন। বন্ধ করে দেওয়া হয় আশেপাশের দোকানপাট।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারের দাবিতে তারা আবারও আন্দোলনের নেমেছে। সকাল আটটা থেকে আন্দোলন শুরু করেছে শ্রমিকরা। বুধবার প্রথমে পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে তারা যায় মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর সেখান থেকে যায় মিরপুর ১৩ নম্বর ও কচুক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে আসে। এসব এলাকা থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকদের নামিয়ে নিয়ে আসে আন্দোলনকারীরা।

মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, মিরপুরে গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলন হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক আছে।




শ্রমিক বিক্ষোভে গাজীপুরে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে গাজীপুরে পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ রাখছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য দেয়নি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। তবে শিল্প পুলিশের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত ১০০টিরও অধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন মালিকরা।

ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে প্রায় একসপ্তাহ ধরে চলে আসা শ্রমিক বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সব জায়গায়। গাজীপুর গার্মেন্টস শিল্পের অন্যতম স্থান। এ জেলায় ৩ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় গার্মেন্টস রয়েছে বলে জানায় বিজিএমইএর একটি সূত্র। আন্দোলনের অবস্থা বিবেচনা করে বিজিএমইএ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানায় সূত্রটি। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করবেন বলেও জানা গেছে।

তবে বিজিএমইএ গার্মেন্টস বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করলেও কতগুলো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তা জানায়নি। এ বিষয়ে কেউ অফিসিয়ালি কথা বলতেও রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শীর্ষ নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অবরোধের ঘোষণায় ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কেউ কেউ আছেন বিএনপি নেতা। তারাও ফ্যাক্টরি তাদের পলিসির কারণে বন্ধ রাখতে পারেন। আবার শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ করেছেন এটাও অস্বীকার করা যাবে না। আমরা সঠিক তথ্য জেনে অফিসিয়ালি জানাব আপনাদের।’

গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার তথ্য মতে, আজ শ্রমিকরা কাজে গেলে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধের নোটিস দেখতে পান। অবরোধের মধ্যেও হেঁটে কষ্ট করে এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কারখানায় এসে বন্ধের নোটিস দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকরা।

তাজমিন গার্মেন্টসের সুইং অপারেটর মোর্শেদ আলম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আজ ফ্যাক্টরি বন্ধ করবে মালিকরা তা আগে জানালে কী হতো? আমার বাসা থেকে ফ্যাক্টরিতে আসতে লাগে ১৫ টাকা অটো ভাড়া। আজ সেখানে আমার লাগল ৫০ টাকা রিকশা ভাড়া। এখানে এসে দেখি বন্ধের নোটিস। মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো আমাদের ব্যবহার করেন। শোষণ করেন। বেতনও দেন না চাহিদা মতো। কাজ কিন্তু ঠিকই করিয়ে নেন। বছর শেষে তাদের ফ্যাক্টরি একটা থেকে তিনটা হয়ে যায়। বেতন বাড়ানোর কথা বললে বলেন লসে আছে। লসে থাকলে ফ্যাক্টরি বাড়ে কীভাবে?’

এর আগে গতকাল সোমবার গাজীপুরে এক পোশাক শ্রমিক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী রাসেল হাওলাদার নামের এ শ্রমিক ডিজাইন এক্সপ্রেস লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশের একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

এর আগে সিপিডি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। শ্রমিক নেতারা ২৩ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি জানায়। পোশাক কারখানা মালিকরা বর্তমান বেতনের সঙ্গে আরও ২ হাজার টাকা বাড়াতে চান। তবে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা বেতন দিতে প্রস্তাব করেন কোনো কোনো মালিক।

তবে এখনো বেতন বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সংগঠন দুটির কর্তারা।




শেওড়াপাড়ায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

 

দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় জে কে ফ্যাশনের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করছেন। ফলে আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১০ পর্যন্ত যান চলাচল ব্যহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৮টার পর থেকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন।

মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহসিন আলী বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা আজকেও শেওড়াপাড়ায় সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের অবরোধের কারণে শেওড়াপাড়া ও কাজিপাড়া এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, তিন মাসের অগ্রিম বেতনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করায় ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে বুধবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। জে কে ফ্যাশনের কারখানা মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে স্থানান্তরিত করা হবে গাজীপুরে। তবে শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলছেন, কারখানা স্থানান্তরের কথা বলে মূলত মালিকপক্ষ গার্মেন্টসটি বন্ধ করতে চাচ্ছে। তাই তারা কারখানা স্থানান্তরের আগে অগ্রিম তিন মাসের বেতন চান।




২৩ হাজার টাকা মজুরিসহ ৮ দাবিতে পোশাককর্মীদের বিক্ষোভ

পোশাক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকাসহ আট দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক পরিষদের তিনটি সংগঠন জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক পরিষদ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন ও ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কাস।

রোববার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আট দফা দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা যা ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৫ নভেম্বর পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এই পাঁচ বছরে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, আলু, রসুন, মাছ-মাংস তরিতরকারী, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া খরচ বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে। সে তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। বরং বর্তমান ডলারের মান হিসাব করলে শ্রমিকদের মজুরি কমেছে এবং মালিকদের ডলারের বর্তমান বাজারদর অনুসারে মুনাফা অনেক বেড়েছে।

তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারমূল্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা আমলে নিয়ে শ্রমিকদের ন্যূনতমভাবে বেঁচে থাকার জন্য মজুরি বাড়াতে হবে। বর্তমানে শ্রমিক যে মজুরি পায় তা নিয়ে শ্রমিকদের সংসার চালানো সম্ভব নয়। ধারকর্য করে সংসার চালাতে হয়, না খেয়ে শ্রমিকদের কাজ করতে হয়, অনেক শ্রমিক কারখানার ছুটির পর বাইরে অতিরিক্ত কাজ করেন।

এ সময় তারা আট দফা দাবি পেশ করেন:

১. সাতটি গ্রেডের পরিবর্তে পাঁচটি গ্রেড করতে হবে।

২. এক নম্বর গ্রেড ও দুই নম্বর গ্রেড স্টাফদের জন্য করতে হবে।

৩. তিন নম্বর গ্রেড (অভিজ্ঞ অপারেটরসহ) শ্রমিকদের জন্য ২৮৫০০ টাকা করতে হবে।

৪. চার নম্বর গ্রেড (জুনিয়র অপারেটর বা কম অভিজ্ঞ) শ্রমিকদের জন্য ২৬০০০ টাকা করতে হবে।

৫. পাঁচ নম্বর গ্রেড হেলপারদের জন্য ২৩০০০ টাকা করতে হবে।

৬. মূল মজুরি ৬৫ শতাংশ এবং বাড়িভাড়া ৩৫ শতাংশ করতে হবে।

৭. শ্রমিকদের আইডি কার্ডে (পরিচয়পত্র) গ্রেড উল্লেখ করে দিতে হবে।