চীনকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর শীর্ষ অবস্থান থেকে ছিটকে গেছে দেশটি।

 

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা চীন এখন তৃতীয়।

অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

 

অন্যদিকে, একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে তাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে।

সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।




প্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি কমলেও বেড়েছে নতুন দেশে

প্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি কমলেও বেড়েছে নতুন কয়েকটি দেশে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৫৫ কোটি ডলারের মোট রপ্তানি আয়ের ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলারই ছিল তৈরি পোশাকের। আর নতুন বাজার থেকে পোশাকের আয় ছিল ৮৩৭ কোটি ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

আর সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে তৈরি পোশাকের প্রায় ১৯ শতাংশ গেছে অপ্রচলিত বাজারের ১৫টি দেশে। যেখানে এগিয়ে আছে, জাপান। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বাজারে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ ১.৮৩%। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ । তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়ায় বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ ।

তৈরি পোশাকের অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া অন্যতম। এসব বাজারে রপ্তানি ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ করে কমেছে ভারতে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথমবার ভারতে পোশাক রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। যেখানে ১১ মাসে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭২ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। এই হিসাবে জুলাই থেকে মে ১১ মাসে ভারতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৩ দশমিক ১১ শতাংশ।
শুধু কি তাই? ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাসভিত্তিক হিসাবে ৫ মাসে কমেছে পোশাক রপ্তানি। অক্টোবরে কমেছে প্রায় ১৪%, নভেম্বরে ৭%, ডিসেম্বরে ২%, এপ্রিলে ১% আর মে মাসে কমেছে সবচেয়ে বেশি ১৭ শতাংশ। সবমিলিয়ে গেল ১১ মাসে আশানুরূপ হয়নি তৈরি পোশাক রপ্তানি। এসময়ে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশের গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ বাজারে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। যা সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে মাত্র ২ শতাংশ। ইইউর শীর্ষ গন্তব্য জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ১০ শতাংশ। ইইউ ছাড়া কানাডার বাজারেও পোশাক রপ্তানি কমেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নেতিবাচক ধারা থেকে বের হতে পারছে না তৈরি পোশাক খাত। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে এই বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছিল সাড়ে ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের তুলনায় নতুন বাজারের আকার ছোট, তাই পোশাকের নতুন গন্তব্য বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি ধারা ধরে রাখতে নতুন বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমানো হবে। এছাড়া রপ্তানি ধারা বজায় রাখতে ২০২৬ সালের পর মুক্তবাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।’
তবে দেশের শীর্ষ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে অনেকটাই বেখবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ জানা নেই বলে জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

এ অবস্থায় শুধু অপ্রচলিত বাজার নয়, প্রচলিত বাজারেও আগের মতো প্রতিযোগিতা করতে পারছে না দেশের তৈরি পোশাক। ফলে ইউরোপেও রপ্তানি কমেছে। সমস্যা সমাধানে সরকারের গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের পাশাপাশি নীতিগত সহযোগিতা না কমিয়ে বরং বাড়ানোর দাবি খাতসংশ্লিষ্টদের।




চীনকে পেছনে ফেলে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষে

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে গেছে বাংলাদেশ। দাম ও পরিমাণ, উভয় ক্ষেত্রেই এখন ইইউতে শীর্ষ নিট পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ।

ইইউ’র পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাট সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করে। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ইইউ’র পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলো ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের নিট পোশাক নিয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে তারা ৮৯৬ কোটি ডলারের নিট পোশাক আমদানি করে। বছরের ৯ মাস বিবেচনায় এই প্রথমবারের মতো ইইউতে বাংলাদেশের নিট পোশাক রপ্তানি চীনকে ছাড়িয়ে গেল। একই সঙ্গে পরিমাণের দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসে ইইউ বাংলাদেশ থেকে ৫৭ কোটি ১০ লাখ কেজি নিট পোশাক আমদানি করেছে। একই সময়ে চীন থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ কেজি।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সোমবার এক চিঠির মাধ্যমে সংগঠনটির সদস্য ও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

চিঠিতে তিনি বলেন, গত বছর ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত বছর ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি কেজি। একই সময়ে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি কেজি। ওই বছর ইইউতে বাংলাদেশ ৭৩০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল, যা ছিল চীনের চেয়ে কম। কিন্তু এ বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রথমবারের মতো নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।

বিজিএমইএ সভাপতি তার চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোয় আরও কিছু তৈরি পোশাকপণ্যে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ কয়েকটি গন্তব্যের অন্যতম হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লে সামগ্রিকভাবে তা রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে, ইউরোস্ট্যাটের তথ্য মতে, নিট রপ্তানিতে বাংলাদেশ চীনকে টপকে ইইউতে শীর্ষ স্থান দখল করলেও সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিতে চীন এখনো শীর্ষ স্থান দখলে রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ইইউতে চীনের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল পোশাকের মূল্যের দিক থেকে ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি; অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ১৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় চীন প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বেশি রপ্তানি করেছে।

জানা গেছে, গত বছরেও বাংলাদেশ নিট পোশাকের পরিমাণের দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যায়। ২০২২ সালে ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে মোট পোশাকের রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন কেজি।

অন্যদিকে চীন রপ্তানি করেছে ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন কেজি পোশাক। পরিমাণের দিক দিয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করার পরও মূল্যের দিক থেকে বাংলাদেশ চীনের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি আয় করতে পেরেছে।

 




মিশরে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে: বিজিএমইএ সভাপতি

মিশরের বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ আছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসানে। মিশরে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহ আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান বিজিএমইএ’র সভাপতি। এ সময় দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব মিনা মাকারি উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধির উপায় নিয়ে রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি এবং বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের মধ্যে আলোচনা হয়। মিশরের বাজারে কীভাবে আরও বেশি রপ্তানি করা যায়, তার কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দৃঢ় সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে বিজিএমইএ’র চলমান কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন তিনি।

ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রশংসা করে বিজিএমইএ’র সভাপতি বলেন, এতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ হবে। আগামীতে ঢাকা-কায়রো ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করি।

পারস্পরিক সুযোগ সন্ধানের জন্য বাণিজ্যিক প্রদর্শনী এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সফরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ফারুক হাসান। তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমির সহযোগিতা কামনা করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মিশরীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সন্ধানের আহ্বান জানান।

এদিকে, মিশরে উৎপাদিত বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ও কাঁচামাল বাংলাদেশে সরবরাহের ব্যাপারে মিশরের রাষ্ট্রদূত গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মিশরে বিভিন্ন দেশের পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আছে, উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাহমি বাংলাদেশি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে মিশরে কারখানা স্থাপন এবং সে সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এবং বিশিষ্ট মিশরীয় ফ্যাশন ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পর্যটন নিয়েও আলোচনা হয়। তারা মিশরীয় পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ এবং বাংলাদেশি পর্যটকদের মিশর ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিষয়ে কথা বলেন।




যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২১ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান বাংলাদেশের। দীর্ঘদিন ধরে বেশ সুনামের সঙ্গে প্রাশ্চাত্যের দেশটিতে পোশাক রপ্তানি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি কমেছে। তবে সেখানে শুধু বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিই কমেনি বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও আমদানি কমিয়েছে দেশটি।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২১.৭৭ শতাংশ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ওটেক্সা ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৩ সালের প্রথম আট (জানুয়ারি-আগস্ট) মাসে বাংলাদেশ থেকে ৫.১৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসময়ে বিশ্ব বাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির পরিমাণ কমে ৫৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ২০২২ সালের একই (জানুয়ারি-আগস্ট) সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৯.২১ বিলিয়ন ডলার।

আলোচিত সময়ে আমেরিকায় রপ্তানি কমেছে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার। শীর্ষস্থানীয় পোশাক আমদানির উৎসগুলো মূল্য ও পরিমাণ উভয় দিক থেকেই কমেছে। এসময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমেছে ২৯.৪৭ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম থেকে আমদানি কমেছে ২৪.৫৭ শতাংশ। আমেরিকার বাজারে পোশাক রপ্তানিতে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশ দুটি।

এছাড়া ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমেছে ২১.৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ২৬.০৯ শতাংশ, কম্বোডিয়া থেকে ২৭.২৮ শতাংশ, মেক্সিকো থেকে ৮.৮৭ শতাংশ, হন্ডুরাস থেকে ২২.২৬ শতাংশ, পাকিস্তান থেকে ২৯.২৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি কমেছে ১১.৭৪ শতাংশ।




সেপ্টেম্বরে পোশাক রপ্তানি ১৪.৪৬ শতাংশ বেড়েছে

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে পোশাক রপ্তানি ১৪.৪৬ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসে পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩.৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই মাসে এর পরিমাণ ৩ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইপিবি) রবিবার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, গত কয়েক মাসে অর্ডার হ্রাস পাচ্ছিল, এর মধ্যে একক মাসে এই প্রবৃদ্ধি সত্যিই অসাধারণ। যেহেতু আমরা পণ্য এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তি আপগ্রেডেশন এবং উদ্ভাবনসহ প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগগুলো অন্বেষণ করছি, তাই তাঁর সুফল পেতে শুরু করেছি।

এদিকে ইপিবির তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক বা জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ১১.৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.০৭ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে নিটওয়্যার খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৬.৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন পোশাক থেকে রপ্তানি এসেছে ৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার। নিট এবং ওভেন উভয় খাত থেকে রপ্তানি আয় যথাক্রমে ১৯.৭ শতাংশ এবং ৪.৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।




  টানা দুই মাস পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হোঁচট

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্যের রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে। তবে সরকার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর নয়, তার আগের মাস আগস্টেও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর টানা দুই মাস সরকার নির্ধারিত পোশাক পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ।

রোববার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রতিবেদনে এ থ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্যমতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য বিশ্ববাজারে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ পণ্য। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বিদায়ী মাসটিতে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯০ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণের। আর আয় হয়েছে ৩৬১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ২৯ কোটি ডলার অর্থাৎ শতাংশের হিসেবে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম রপ্তানি আয় হয়েছে।

তার আগের মাস আগস্টে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২২ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আয় হয়েছিল ৪০৪ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। পরপর দুই মাসেই কমেছে। তবে তার আগের মাস জুলাইয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭৭কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিমাণ পোশাক পণ্যের। সেই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিমাণের। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি রপ্তানি আয় হয়েছিল।

সবমিলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (তিন) মাসে রপ্তানি আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেখান থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার পরিমাণ পণ্য। অর্থাৎ সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

তবে আগের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের প্রথম তিন মাসের চেয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৭কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার পণ্যের। আর চলতি বছরে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

তার আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ।




যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে

দীর্ঘদিন পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে।

বুধবার (৯ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির সূত্র মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এর আগের বছর ২০২২-২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৭২৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২২-২৩ সালের জুলাই মাসে ছিল ৬৮৫ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড এবং পোল্যান্ডের মতো কিছু বড় বাজারে রপ্তানি যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ, ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানিতে রপ্তানিতে ০.৭০ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং রপ্তানি ৫১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এসময়ে ফিনল্যান্ড, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া, মাল্টা, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভানিয়াতে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অপরদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ৪৭৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন এবং ১২৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬৭৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি যথাক্রমে ৪৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ১৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে।

 




অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ

ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে। তবে সুখবর হলো অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে অপ্রচলিত বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

বুধবার (১২জুলাই) পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের তথ্য মতে, বিগত অর্থবছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে (ইইউ) দেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তবে একই সময়ে জার্মানি এবং পোল্যান্ডের মতো ইইউভুক্ত কিছু বড় বাজারে এ রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩৭, ২ দশমিক ৯৪, ২ দশমিক ২৭, ১ দশমিক ২৮ ও ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

২০২২-২৩ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে আমাদের পোশাক রপ্তানি ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মোট পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অংশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপের বাজারে ২০২১-২২ অর্থবছরে তুলনায় এবার রপ্তানি ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ দশমিকব ৫২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে ইউরোপের কয়েকটি বড় বাজারে আমাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে ইতিবাচক দিক হলো, অপ্রচলিত বাজার বিশেষ করে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বাজারে রপ্তানি বাড়ছে।




যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে

২০২২-২৩ অর্থ বছরের ১০ মাসে (জুলাই-মে) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি পাঁচ দশমিক ০৭ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে রপ্তানি আয় আট দশমিক চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে সাত দশমিক ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।

শনিবার (১৭ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

তবে, এই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেখানে রাশিয়া এবং চিলিতে যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জুলাই-মে এই সময়ে মোট পোশাক রপ্তানি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৪২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই মোট পোশাক রপ্তানির মধ্যে ২১ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক (মোট রপ্তানির ৪৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ) ইইউর বাজারে গেছে। সেখানে যুক্তরাজ্যের শেয়ার ছিল ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। টাকার অংকে সেটি চার দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর, কানাডায় মোট রপ্তানির তিন দশমিক ২৬ শতাংশ অর্থাৎ এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়া, সাত দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি হয়েছে অপ্রচলিত বাজারে, যা মোট রপ্তানির ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। কারণ, এটি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য। যেখানে জুলাই-মে ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় জুলাই-মে ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে নয় দশমিক ৯৪ শতাংশ। পোশাক রপ্তানি ১৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২১ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

উল্লেখিত সময়ে জার্মানিতে পূর্ববর্তী অর্থ বছরের একই সময়ের (জুলাই-মে ২০২১-২২) তুলনায় রপ্তানি সাত দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। টাকার অংকে রপ্তানি ছয় দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে ছয় দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। ফ্রান্স ও ইতালিতে রপ্তানি যথাক্রমে দুই দশমিক ছয় এবং দুই দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। যেখানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২৩ দশমিক চার শতাংশ এবং ৪৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই আমাদের তিনটি বড় বাজারের মধ্যে পড়ে। অন্য দুইটি হলো যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। দুঃখের বিষয় জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে আমরা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যদি ভালো করি, তাহলে আমাদের মোট রপ্তানি আরও ভালো হবে। এটা আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানিতে দিক নির্দেশনাও দেয়। অনেক কিছুই আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে নির্ভর করে। আমাদের চেষ্টা থাকবে, কিভাবে আমরা এই জায়গাটা পুনরুদ্ধার করতে পারি।