দেশীয় গ্যাসফিল্ডের উৎপাদন কমতে শুরু করেছে : নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, রিজার্ভ কমে আসায় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। ২/৩ বছর কমবে, তারপর আবার বাড়বে।

আজ (বৃহস্পতিবার) পেট্রোবাংলায় আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কীভাবে ঘাটতি সামাল দেবো, তার পরিকল্পনা থাকতে হবে। ৪৮ কূপ খনন প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী দুই বছরে ৫০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাবো। কিন্তু ২ বছরে চাহিদা কত হবে, ২০০০ হাজার এমএমসিএফডি বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘২০২৮ সালের মধ্যে ১০০ কূপ খনন করতে চান ভালো কথা, কোনটি কখন করতে চান, টাইমলাইন থাকতে হবে। সাফল্য দেখে মূল্যায়ন করা হবে। সাফল্য জিরো, আপনিও জিরো। যিনি কাজ পারবেন না, তাকে বাদ দেওয়া হবে।’

নসরুদ হামিদ সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমি চাই, গঠনমূলক আলোচনা হোক। আমাদের গ্যাস লাগবে। সমালোচনা রয়েছে, বিতরণ কোম্পানি টাকা নেয়, গ্যাস দেয় না। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। চুক্তি থাকবে, গ্যাস না দিলে টাকা দিতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ কি শুধু টেকনোলজি! টেকনোলজির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন, কোয়ালিটি জ্বালানিও স্মার্ট বাংলাদেশের অংশ।’

বক্তব্যে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি হচ্ছে গ্যাস। আমাদের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে সমালোচনা হচ্ছে। সে কারণে আজ সবাইকে ডাকা হয়েছে, কী করে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো যায়।

তিনি বলেন, চলমান ৪৮টি কূপ খননের পাশাপাশি আরও ১০০টি কূপ খনন করব ২০২৮ সালের মধ্যে। সে বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত জরুরি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করতে প্রস্তুত হয়েছি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম ও পেট্রোবাংলার জেনারেল ম্যানেজার (রিজার্ভ এবং ডাটা ম্যানেজমেন্ট) মেহেরুল হাসান।




 পেট্রোবাংলায় তিন দিনে দুই বার চুরি

পেট্রোবাংলায় সম্প্রতি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিন দিনের মধ্যে দুই দফায় সংস্থার চেয়ারম্যানসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ল্যাপটপসহ বেশকিছু মালপত্র এবং লকার ভেঙে টাকা চুরি হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা বলছে, এটি সাধারণ চুরি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু খোয়া যায়নি।

চুরির ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্টরা এটি সাধারণ চুরি বলে মনে করছেন না। তারা এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় পেট্রোবাংলায় একাধিক কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের মালপত্র চুরি হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। এর মধ্যে দু’দিন পরই রাতে চেয়ারম্যানের রুম থেকে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালপত্র খোয়া যায়। রুমের ফাইলপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ দিন পরিচালক (অর্থ) এবং সংস্থাপন বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের কক্ষ থেকেও ল্যাপটপ ও অন্য মালপত্র চুরি হয়েছে। চেয়ারম্যানের পিএসের রুম থেকে নগদ টাকা চুরি হয়েছে গেছে। পরিচালকের (অর্থের) অধীন হিসাব শাখার লকার ভেঙে টাকা খোয়া গেছে।

জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, এটি সাধারণ চুরি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু খোয়া যায়নি। চুরি যাওয়া ল্যাপটপগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো অফিসিয়াল তথ্য ছিল না। পেট্রোবাংলার অর্থ খোয়া যায়নি। কারও ব্যক্তিগত টাকা চুরি হতে পারে।

ঘটনার পর পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (সার্ভিস) জাবেদ ইকবাল শাহেদকে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরপিসিএল) কোম্পানিতে বদলি করা হয়েছে। সার্ভিস বিভাগের একজন সুপারভাইজারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ চুরি বলে মনে করছি। পেট্রোবাংলা যে জিডি করেছে, তাতে তারা কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো থাকার কথা উল্লেখ করেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।




এলএনজি আমদানির দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই

ওমান থেকে এলএনজি আমদানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই করলো পেট্রোবাংলা ও ওমানের প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, ওমান থেকে ২০২৬ সালের পর থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ বছরে দেড় মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি আনা যাবে।

সোমবার (১৯ জুন) ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ওমান থেকে সরকারি পর্যায়ে ১০ বছর মেয়াদী এই এলএনজি আমদানি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তিতে পেট্রোবাংলার পক্ষে পেট্রোবাংলার সচিব রুচিরা ইসলাম এবং ওমানের পক্ষে ওকিউটি’র নির্বাহী পরিচালক সাইদ আল মাওয়ালী সই করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা ও ওকিউটি’র সাথে ২০১৮ সালের ৬ মে এলএনজির সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এসপিএ) প্রথম চুক্তি সই হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, ওকিউটি দশ বছর মেয়াদে (২০২৬ সালে ৪ কার্গো এলএনজি, ২০২৭ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১৬ কার্গো এলএনজি এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ২৪ কার্গো এলএনজি) এলএনজি সরবরাহ করবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কাতার গ্যাসের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদী (২০১৮-২০২৩) ১.৮-২.৫ এমটিপিএ (মিলিয়ন টন/বছর) এলএনজি (বর্তমানে ২.৫ এমটিপিএ), ৪০ কার্গো এলএনজি এবং ২০২৩ সালের ১ জুন কাতার এনার্জি ট্রেডিং’র সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদী (২০২৬-২০৪০) দ্বিতীয় চুক্তিতে অতিরিক্ত ১.৫ এমটিপিএ এলএনজি আমদানির চুক্তি সই হয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যমান দু‘টি চুক্তির আওতায় ৩.৫ থেকে ৪.০ এমটিপিএ এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউ’র (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) মাধ্যমে সহজেই ৬.৫ এমটিপিএ এলএনজি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে আরও ২.৫-৩.০ এমটিপিএ এলএনজি আমদানি করা যেতে পারে। এছাড়া মহেশখালীতে ৩য় এফএসআরইউ, পায়রায় একটি এফএসআরইউ স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বাংলাদেশ গ্যাস অনুসন্ধান কাজ জোরদার করেছে। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের জন্য পিএসসিকে হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি ওমানসহ সংশ্লিষ্টদের আগত পিএসসিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত আব্দুল গাফ্ফার আলবুলুসি, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার, ওকিউটি’র নির্বাহী পরিচালক সাইদ আল মাওয়ালী বক্তব্য রাখেন।




সুইজারল্যান্ড থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত

সুইজারল্যান্ড থেকে আরও দুই কার্গো বা ৬৭ লাখ ২০ হাজার এমএমবিটিইউ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে খরচ হবে এক হাজার ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ১০১ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১২ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫৬২ কোটি ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৬০ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ডের একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি ৫৬৪ কোটি ২৭ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকায় আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এর আগে ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সুইজারল্যান্ডের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬২৪ কোটি ৪০ লাখ ২৪ হাজার ২৬ টাকা।

এছাড়া ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সুইজারল্যান্ডের একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেসময় ব্যয় ধরা হয় ৬১৮ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ৪১৯ টাকা। এ এলএনজি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, চলতি বছরের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি এলপি থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ১২২ টাকা।

তার আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাপানের জেরা কোম্পানি থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেসময় ব্যয় ধরা হয় ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) সই করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে খরচ ধরা হয় ১৬ দশমিক ৫০ ডলার।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) সই করা প্রতিষ্ঠান থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তারও আগে ২০২১ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি বছরের আগে পেট্রোবাংলা খোলাবাজার থেকে সর্বশেষ এলএনজি কিনেছিল গত বছরের মে মাসে। তখন প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়েছিল ২৬ ডলার ৪ সেন্ট।

জানা গেছে, এলএনজি আমদানির জন্য বেশ কিছু দেশের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে এলএনজি আমাদিন করতে চাই। এজন্য ২০১৯ সালে খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে এমএসপিএ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ের চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পেও নতুন সংযোগ বন্ধ রাখছে সরকার। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট বিবেচনায় ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। সামিট এলএনজি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জির স্থাপন করা ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।




এবার সুইজারল্যান্ড থেকে এলএনজি কিনছে সরকার

জাপানের পর এবার সুইজারল্যান্ড থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশটি থেকে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি করা হবে। এতে খরচ হবে ৬১৮ কোটি টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, আজকের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬১৮ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ৪১৯ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানি করা হবে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাপানের জেরা কোম্পানি এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া। সে সময় ব্যয় ধরা হয় ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে খরচ ধরা হয় ১৬ দশমিক ৫০ ডলার।

তার আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তার আগে ২০২১ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়।

চলতি বছরের আগে পেট্রোবাংলা খোলাবাজার থেকে সর্বশেষ এলএনজি কিনেছিল গত বছরের মে মাসে। তখন প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়েছিল ২৬ ডলার ৪ সেন্ট।

জানা গেছে, এলএনজি আমদানির জন্য বেশকিছু দেশের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে এলএনজি আমাদিন করতে চাই। এ জন্য ২০১৯ সালে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে এমএসপিএ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং দুবাই- এর চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পেও নতুন সংযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট বিবেচনায় ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। সামিট এলএনজি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জির স্থাপন করা ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে দৈনিক প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে কম-বেশি ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০-৪২ কোটি ঘনফুট এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস। তবে দেশে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রূপান্তরের সক্ষমতা রয়েছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে দেশে ২৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে।

গত জুনে সিএনজি বাদে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্য গ্রাহকদের জন্য ফের গ্যাসের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।