দাম কমাতে পেঁয়াজ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

দেশের অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য পেঁয়াজের দামের লাগাম টানতে কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক এবং রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বুধবার (৬ নভেম্বর) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ৩১ অক্টোবর পেঁয়াজের দামের লাগাম টানতে পেঁয়াজ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য পেঁয়াজের দামে পুনরায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যা সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে পেঁয়াজের স্থানীয় চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন দ্বারা দেশের চাহিদার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকার বর্তমানে ২০ শতাংশ হারে রপ্তানি শুল্কারোপ করেছে। দেশে প্রয়োজনীয় চাহিদাপূরণ ও ঊর্ধ্বমুখী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি করা আবশ্যক হয়ে পেড়েছে। সেই কারণে আমদানি ব্যয় হ্রাসের জন্য শুল্ক কমানোর সুপারিশ করে ট্যারিফ কমিশন।




আমদানির পরও কমছে না পেঁয়াজের দাম

গত মাসের শেষে ভারতে রপ্তানিমূল্য বেঁধে দেওয়ার খবরে বাংলাদেশে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এতে আগে থেকেই বেড়ে যাওয়া নিত্যপণ্যটি নিয়ে আরও অস্থিরতা চলছে। দুই সপ্তাহেও কোনো সুখবর মেলেনি। চড়া দামেই আটকে আছে।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা মুক্তার হোসেন বলেন, ‘দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং বাড়তি যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১২২ থেকে ১২৬ টাকা ধরে কিনতে হচ্ছে।

এদিকে বুধবার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম কমবে না। আগামী মাসে ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমতে শুরু করবে। আমদানি করা পেঁয়াজের স্টক শেষ হয়ে গেছে। দাম বেশি পড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে এখনই পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমদানি করা আলু বাজারে মাত্র আসা শুরু করেছে। আরও আসতে থাকলে আলুর দাম কমে যাবে। একই সঙ্গে নতুন আলু বাজারে আসতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। তখন দামে প্রভাব পড়বে।’

ভারত এমন সময় পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যখন বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজ বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল। পার্শ্ববর্তী দেশের এই সিদ্ধান্ত যেন পেঁয়াজের বাজারে ‘আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়া’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রামপুরা ভাই ভাই স্টোরের কালাম হোসেন বলেন, ‘এ খবরের পর থেকে ভারতে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ওইসব পেঁয়াজের দাম দেশি পেঁয়াজের তুলনায় আরও বেশি বেড়েছে।’

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানান, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম একদম শেষের দিকে। এখন আমদানি পেঁয়াজ-ই ভরসা।

২০১৯ সালেও ভারত রপ্তানিমূল্য ৮৫০ টাকা বেঁধে দিয়েছিল। তখন পেঁয়াজের বাজার সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে। সেসময় বাজার সামাল দিতে না পেড়ে বাধ্য হয়ে দেশের বড় বড় শিল্পগ্রুপকে পেঁয়াজ আমদানি করতে অনুরোধ করে সরকার। ওই বছর এস আলম ও সিটি গ্রুপ কার্গো বিমান এমনকি যাত্রীবাহী বিমানেও পেঁয়াজ আমদানি করে। আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজ ভর্তুকিমূল্যে টিসিবিকে দিয়ে সারাদেশে বিক্রি করে তারা।

এদিকে গেলো সেপ্টেম্বরে সরকার পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে ৬৪-৬৫ টাকা। তবে সে দাম বাজারে কার্যকর হয়নি কখনো। গত সপ্তাহের আগে পর্যন্ত ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ছিল। তবে এখন পেঁয়াজ দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ভারতে প্রতি টন পেঁয়াজের দাম ৮০০ ডলার হলে কেজিপ্রতি এর রপ্তানিমূল্য পড়বে ৬৭ রুপি। আগে ভারতের রপ্তানিকারকরা অনির্ধারিত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটির ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হবে। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। তখন থেকেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘ভারতের এ সিদ্ধান্তে পেঁয়াজের বাজারে আবারও আগুন লেগেছে। ন্যূনতম মূল্য ৮০০ ডলারে আমদানি করলে দেশে আসতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকার মতো পড়বে। আগে ৪৫-৫৫ টাকার মধ্যে কেনা যেতো।’




দামে পেঁয়াজের আবার সেঞ্চুরি

এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে আরও পাঁচ টাকা বেড়ে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। খুচরা ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে তিন-চার দিন ধরে দাম বেড়েছে।

গত ১৯ আগস্ট পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ভারত সরকারের ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের খবরে হু হু করে দাম বাড়ে এই নিত্যপণ্যের। অস্বাভাবিক দর বেড়ে শতক ছুঁয়েছিল দেশি পেঁয়াজ।

ভারতীয় পেঁয়াজের কেজিও ৮০ টাকায় পৌঁছায়। ১৩ সেপ্টেম্বর দেশি পেঁয়াজের দর ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময় পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ৩৩ থেকে ৪১ টাকা বিবেচনায় পাইকারিতে ৫৩ টাকা এবং খুচরায় সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ দর কার্যকর করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিদিনই বাজারে অভিযান চালাচ্ছে। জরিমানা করছে লাখ লাখ টাকা। তবুও নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না পেঁয়াজ।

শুক্রবার মগবাজার, মোহাম্মদপুর, বনানী ডিএনসিসি কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা যায়, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়; যা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ৩১ থেকে ৩৫ টাকা বেশি। গত বৃহস্পতিবার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের দামও চড়া। আমদানি করা এ পেঁয়াজের কেজি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, এক বছরের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১৩ শতাংশ, আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১৪ শতাংশ।

এদিকে, বেঁধে দেওয়া পেঁয়াজের দাম কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শুক্রবার রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘আমরা যে টার্গেট নির্ধারণ করেছিলাম, তা অ্যাচিভ (অর্জন) করা যায়নি। তারপরও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে মন্ত্রণালয় থেকে বেঁধে দেওয়া পণ্যের দাম কার্যকর করা যায়।’




পেঁয়াজ আমদানি হবে কি না সিদ্ধান্ত দুই-একদিনের মধ্যে

বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেঁয়াজ আমদানি হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী দুই-একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেছেন, স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দ্রুত ভারত থেকে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৪৫ টাকার বেশি পেঁয়াজের দাম হওয়া উচিত না। আমদানি করা হলে দাম ৪৫ টাকার নিচে চলে আসবে।

রোববার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সবকিছুর একটি ধারাবাহিকতা থাকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দামে সে ধারাবাহিকতা রাখা যায়নি। সাধারণত বাজার সাপ্লাই এবং ডিমান্ডের ওপর দাম নির্ভর করে। গত বছর পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে গুদামে অনেক পেঁয়াজ পচে গেছে।

বাংলাদেশ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংস্পম্পূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের মোট ভূখণ্ডের ৬০ ভাগ জমি আবাদ করা হয়। আবার একই জমিতে একাধিক ফসল হচ্ছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৪ লাখ জনসংখ্যা যোগ হচ্ছে। আমরা দানাদার খাদ্যে স্বয়ংস্পম্পূর্ণ থাকলেও ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যার কারণেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেশি।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের দামের বিষয়টি মনিটরিং করছি। আমরা আমাদের কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়েছি। তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন যে, দাম বাড়বে এমন আশায় তারা অনেকেই পেঁয়াজ ঘরে রেখে দিচ্ছেন।




সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম খুচরা ও পাইকারিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

পাইকারিতে এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এতে বিপদে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এই ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা আসছে কুরবানির ঈদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন হু হু করে দাম বাড়ার পেছনে যে কারণগুলো দেখছেন তারা – পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, উৎপাদন কম হওয়া, শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট, অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা, সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও চাঁদাবাজি।

এদিকে দাম না কমলে দু-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্চ থেকে ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ আছে, ফলে দাম বেড়েছে। উৎপাদন মৌসুমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত মাস পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ মাসে লাফিয়ে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। শিগগিরই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দিলে দাম আরও বাড়বে। আর এর প্রভাব পড়বে কুরবানির ঈদে।

প্রসঙ্গত, কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার গত ১৫ মার্চ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র বন্ধ করে দেয়। ফলে এখন চাহিদার পুরোটা মেটানো হচ্ছে দেশি পেঁয়াজে।

শুক্রবার (১৯মে) সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে পাইকারিতে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিলো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর গত ঈদের আগে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিলো ২২ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া শ্যামবাজারের কোনো আড়তে নেই আমদানি করা পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে পাইকারি বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৬০ থেকে ৬৫ টাকা অথচ ঈদের আগে খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

এদিকে দাম না কমলে দু-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমরা লক্ষ্য রাখছি। আপাতত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। যদি দু-একদিনের মধ্যে দাম না কমে তাহলে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাঁচাবাজারের সবকিছু আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি খুব যে খারাপ তা কিন্তু নয়। ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি করা পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক বিবেচনায় আমরা ভালো আছি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সহ্য করতে হবে। কাঁচাবাজারের দাম কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে।

সূত্রাপুর বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন  বলেন, গত এক মাস ধরেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি। পাইকারি বাজারে আমাদের কেনাই বেশি পড়ছে। যে কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাবে পড়েছে। মাল কিনতে গেলে বড় ব্যবসায়ীরা বলে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ, তাই দাম বাড়তি। আমদানি শুরু হলে আবার পেঁয়াজের দাম কমবে। ততদিন পর্যন্ত বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হবে। এখন ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সূত্রাপুরে বাজার করতে আসা মো: ইমন সারোয়ার  বলেন, ৮০ টাকার নিচে বাজারে পেঁয়াজ নেই। এবার দেশে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। তবুও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বলছে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ নেই বলে। এভাবে হলে আমরা কীভাবে চলব?

পাইকারি ব্যবসায়ী স্মৃতি বাণিজ্যালয়ের ম্যানেজার মিজানুর রহমান  বলেন, বর্তমানে বেশি দামের আশায় পেঁয়াজের দেশি মাহাজনরা বা পেঁয়াজের বড় ব্যবসায়ীরা চাঙ্গে মজুদ করে রেখেছে। তারা বাজারে পেঁয়াজ ছাড়ছে ধীর গতিতে। এতে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহে ঘাটতি পড়েছে। সরকারের উচিত হবে দ্রুত আমদানির অনুমতি দিয়ে দেওয়া। সামনে কুরবানির ঈদ, নইলে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে শ্যামবাজারের মেসার্স রাজিব বাণিজ্য ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী প্রদেশ পোদ্দার বলেন, দুই মাসের বেশি সময় ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। এ কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশি পেঁয়াজ দিয়েই চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। তাই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে নিদারুণ কষ্টে পরিবার নিয়ে সময় কাটছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের। জুনের শেষের দিকে কুরবানির ঈদ। তাই ঈদে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা এখন থেকেই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিনা– সেটি খুঁজে বের করতে বাজার তদারকির বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্য, এখনও মাঠ পর্যায়ে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে বাজার তদারকির ওপর জোর দিচ্ছে ক্যাব। তবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশে পেঁয়াজের উৎপাদনের অবস্থা ভালো। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত চার বছরের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন ১৩ লাখ টনের বেশি বেড়েছে। তবু অজানা কারণে বাড়ছে দাম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করার পর উৎপাদন হয়েছে ৩৪ লাখ টন। প্রতিকূল আবহাওয়াসহ নানা কারণে প্রায় ৩৫ শতাংশের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হলেও বর্তমানে মজুদ আছে প্রায় ১৮ লাখ টন। সে হিসেবে পেঁয়াজের সংকট হওয়ার কথা নয়, তবুও এক মাসের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে কেজিতে ৮০ টাকায় ঠেকেছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে,  বৃহস্পতিবারও (১৮ মে) খুচরা বাজারে ৮০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। আজও একই দাম চলছে বাজারে। টিসিবির বাজার পর্যালোচনার তথ্য মতে, এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১২১.৪৩ শতাংশ। গত বছর এই সময় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩৮ থেকে ৫০ টাকায় অর্থাৎ এক বছরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৭৬.১৪ শতাংশ।