কারসাজিতে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, জড়িতদের খুঁজে বের করতে হবে: কৃষি উপদেষ্টা

পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা বেড়েছে। এটা কারসাজি করে বাড়ানো হয়েছে। এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে পেয়াজের কোনও সংকট নেই। এরপরও বেড়ে গেছে। সারেরও মজুদ আছে।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে অসাধু চক্রের হাত রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে একটা চক্র আছে। এই চক্রকে খুঁজে বের করতে হবে। অনেকে আমদানির জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল। বাজারে পেঁয়াজ আছে, কিন্তু কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে।’

এদিকে পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে আজ থেকে সীমিত আকারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে রবিবার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হবে। প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে। প্রত্যেকটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজের অনুমোদন দেয়া হবে।

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেয়াজের দাম ৭০ টাকা হলে সবার জন্য ভালো। বাজারে দামের ক্ষেত্রে যোগসাজশ থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের চাকরি থাকবে না। ব্যবসায়ীদের কারসাজি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখবে।’

নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ কর্মকর্তাদের রদবদলে লটারি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এসপি ও ওসিদের বদলি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণের বার্তা দেন তিনি।

এ ছাড়া সবজির দাম এখন সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে কৃষি উপদেষ্টা যোগ করেন, ‘সবজির দাম মোটামুটি সহনীয় আছে। দিন যাওয়ার সাথে সাথে আরও কমবে। তবে কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’




পেঁয়াজ রপ্তানিতে শর্ত শিথিল ও শুল্ক কমাল ভারত

ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে। বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহী থাকেন। কারণ, প্রতিবেশী দেশটি থেকে দ্রুত পণ্য আনা যায়। আর বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের চেয়ে বেশি।

পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের চার মাস পর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে ভারত। শনিবার থেকে এ হার কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্যটির ন্যূনতম রপ্তানি মূল্যের শর্ত প্রত্যাহার করে, যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় শুল্ক কমানোর ওই নির্দেশনা জারি করে।

প্রতি টন পেঁয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫৫০ ডলার মূল্যের যে শর্ত ছিল, দেশটির সরকার তা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি কমানো হয়েছে রপ্তানি শুল্ক। গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ উৎপাদান অঞ্চল মহারাষ্ট্র রাজ্যে নির্বাচনের আগে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপরে থাকা কঠোর শর্ত শিথিল করা হলো।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড শুক্রবার পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বা ‘মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস’–সংক্রান্ত শর্ত বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানায়। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বের কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন যেকোনো দামে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু লিখেছে, বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের কারণে পেঁয়াজ রপ্তানি বেড়ে যাবে, তাতে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে চাষিরা ভালো মুনাফা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনাবৃষ্টির পর অভ্যন্তরীণ ঘাটতির আশঙ্কায় গেল ডিসেম্বরে ‘রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর’ রান্নাঘরের প্রধান এ পণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল ভারত। এরপর মার্চে কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক অনুরোধে কিছু চালান রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।

এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে পেঁয়াজের উচ্চমূল্য দেখা দেয়, কিন্তু রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভালো দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন পেঁয়াজ চাষিরা।

তখন রাজনৈতিক কারণে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় কেন্দ্র সরকারকে। লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ মে পণ্যটির রপ্তানি ক্যাটাগরি ‘নিষিদ্ধ’র পরিবর্তে ‘ফ্রি’ করা হয়।

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভারত থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ১৭ হাজার টন। ভারতে এপ্রিল থেকে অর্থবছর শুরু হয়।

সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে ভারতীয় পেঁয়াজচাষিরা লাভবান হবেন। কারণ, তারা স্থানীয় বাজারের তুলনায় বেশি দামে বিশ্ববাজারে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, দিল্লি পেঁয়াজ রপ্তানির শর্ত কঠোর করার পর মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজচাষিরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। তবে দেশটির সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকার বাজারে পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করতে চায়নি।




অনেক ঝুঁকি নিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, পেঁয়াজ আনা-নেওয়ার বিষয়ে আমাদের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। পেঁয়াজ আনা, দরদাম ঠিক করা প্রত্যেকটা জিনিসই কিন্তু আমরা নিজেরা বসে করেছি। পেঁয়াজের দাম যদি হঠাৎ করে কমে যেত, সেটার কিন্তু একটা সম্ভাবনা ছিল। তারপরও আমরা ঝুঁকিটা নিয়েছি। এই ঝুঁকি সাধারণ মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের সামনে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, এই একই পেঁয়াজ ভারত সরকার আবুধাবিতে ১২০০ ডলারে বিক্রি করছে। আমরা সেখানে ৮০০ ডলারে নিয়ে এসেছি। আমরা অনেক নেগোশিয়েট করেছি। কারণ তারা যে দাম ধরিয়ে দিয়েছিল সেই দামে আমরা ভর্তুকি দিয়ে বাজারে পেঁয়াজ ছাড়তে পারব না। আমাদের সিনিয়র বাণিজ্য সচিব অনেক পরিশ্রম করেছেন। সঙ্গে ছিলেন টিসিবির টিম।

 

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি পেঁয়াজের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। অন্তত এই পেঁয়াজ ১৫ দিন সংরক্ষণ করে বাজারে বিক্রি করা যায়। আমরা এই পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছি। এখন আমাদের একটা অভিজ্ঞতা হলো। বাকি পেঁয়াজগুলো আনতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি কত সময়ে আমরা পেঁয়াজগুলো ভারত থেকে আনতে পারব।

তিনি বলেন, এখন ১৬৫০ টন পেঁয়াজ এসেছে। বাকি পেঁয়াজগুলো ধীরে ধীরে চলে আসবে। আমরা চাই না আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। ভারতের বাইরে আমাদের পেঁয়াজের জায়গা হচ্ছে মিশর ও তুর্কি। সেখান থেকে জাহাজে পেঁয়াজে আনতে হয় এবং এটা আনতে অনেক সময় লাগে। ভারতে নির্বাচন চলছে। তাদের ওখানে কৃষক আন্দোলন চলছে। এরপরও কিন্তু তারা তাদের কমিটমেন্ট রেখেছে। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে তারা তাদের কথা রেখেছে। তাদের ট্রেন আমাদের সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত এসে পেঁয়াজ দিয়ে গেছে।

এসময় আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ভোক্তা অধিদপ্তর মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান প্রমুখ।




চল‌তি সপ্তাহে ভারত থে‌কে পেঁয়াজ আসা শুরু হ‌বে

চল‌তি সপ্তাহ থে‌কে ভারত থে‌কে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আসা শুরু হ‌বে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

শ‌নিবার (২ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রাসরুট উইম্যান অন্ট্রাপ্রেনারস বাংলাদেশ (এ‌জিউ‌ব্লিউই‌বি) আয়োজিত অনুষ্ঠা‌ন শে‌ষে সাংবা‌দিক‌দের মু‌খোমু‌খি হ‌য়ে তিনি এ তথ‌্য জান‌ান।

আবুধাবিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে ভার‌তের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুষ গয়ালের স‌ঙ্গে বৈঠক ক‌রে‌ছেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠ‌কের প্রসঙ্গ তু‌লে ধ‌রে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউটিওতে ভার‌তের বা‌ণিজ‌্যমন্ত্রীর স‌ঙ্গে একটা মি‌টিং ছিল। সেখা‌নে উনি (পীযুষ গয়াল) ব‌সে চি‌ঠি ইস‌্যু করার নি‌র্দেশ দি‌য়ে‌ছেন। চি‌ঠি ইস‌্যু হ‌য়ে গেছে। আমা‌দের হা‌তে চি‌ঠির ক‌পি এসে গে‌ছে। কাল‌ আমরা চি‌ঠি পে‌য়ে‌ছি।

আহসানুল ইসলাম টিটু ব‌লেন, এ সপ্তাহ থে‌কে ৫০ হাজার মে‌ট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থে‌কে আসা শুরু হ‌বে। আমা‌দের লক্ষ‌্য হ‌লো রমজা‌নের আগে যেন ভোক্তাদের বে‌শি দামে নিত‌্য প্রয়োজনীয় জি‌নিস কিন‌তে না হয়।

গত ৭ থে‌কে ৯ ফ্রেবুয়া‌রির দি‌ল্লি সফর ক‌রেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ওই সফ‌রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার‌তের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুষ গয়ালের স‌ঙ্গে বৈঠক ক‌রেন। সেই বৈঠ‌কে ভারত‌ থেকে রমজানের আগে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ এবং এক লাখ টন চিনি আমদানির বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।




পেঁয়াজ-চিনি নিয়ে ‘বড় সুসংবাদ’ দিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

পেঁয়াজ ও চিনি নিয়ে ‘বড় সুসংবাদ’ দিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেছেন, “ভারত থেকে ২০ হাজার টন পেঁয়াজ এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হবে।”

ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশ থেকেও তেল-চিনি আসছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার বেলা ১১টায় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। চিনি, তেল ও খেজুরের শুল্ক বেশি ছিল। সেই শুল্ক আমরা যাতে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, সে বিষয়ে এনবিআরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে একটা ঘোষণা আসবে।’

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘দেশের জন্য বড় একটা সুসংবাদ আছে।’

তিনি জানান ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছিলেন। ফোনে বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ ও চিনি রপ্তানি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘ভারত থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হবে। এছাড়াও ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশ থেকে তেল চিনি আসছে।’

মতবিনিময়কালে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানের দুই কনটেইনার পেঁয়াজ

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আজ বুধবার পাকিস্তান থেকে দুই কনটেইনার পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এই দুই কনটেইনারে ৫৮ হাজার কেজি পেঁয়াজ রয়েছে। ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার ছয় দিনের মাথায় এই পেঁয়াজ আমদানি হলো। যদিও এই পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এক মাস আগে।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাকিস্তান থেকে প্রথম পেঁয়াজ আমদানি হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানির অন্যতম বড় উৎস ভারত পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য টনপ্রতি ৮০০ ডলারে উন্নীত করার পরই বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়তে থাকে। আজকের চালানসহ ২৮টি চালানে পাকিস্তান থেকে মোট আমদানি হয় ১ হাজার ৪৮০ টন পেঁয়াজ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, পেঁয়াজের চালানটি পরীক্ষা করে উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্র থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন কাস্টমস থেকে ছাড়পত্রসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারক চালানটি খালাস করতে পারবেন।

পাকিস্তান ছাড়া পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে চীন থেকেও। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত চীন থেকে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮৯১ টন পেঁয়াজ। সব মিলিয়ে বিকল্প দেশ থেকে এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৩ হাজার ৩৭১ টন।

৭ ডিসেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপরই রাতারাতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। তবে প্রশাসনের অভিযান ও দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের।




ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্যবৃদ্ধির খবরে খাতুনগঞ্জে অস্থিরতা

ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্যবৃদ্ধির খবরে দেশে পেঁয়াজের বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাইকারি বাজারে একদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এর ব্যাখ্যা হিসেবে ব্যবসায়ীরা ভারতে পণ্যটির দাম বৃদ্ধি এবং দেশে সরবরাহ কমে যাওয়াকে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। যদিও দেশের বাজারে এই বর্ধিত মূল্যের পেঁয়াজ আসেনি। অসাধু সিন্ডিকেটই পেঁয়াজের হঠাৎ দাম বৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার (২৯ অক্টোবর) দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ে নতুন আমদানি হওয়া পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। শনিবার (২৮ অক্টোবর) দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া রোববার পুরোনো ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। বাজারে চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ আছে, তবে সরবরাহ নেই বললেই চলে। এগুলোর দামও ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। শনিবার এসব পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ টাকা।

জানা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে পেঁয়াজ রপ্তানির সর্বনিম্ন মূল্যসীমা বেঁধে দিয়েছে ভারত। শনিবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি টন পেঁয়াজের সর্বনিম্ন মূল্য ৮০০ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে। নতুন এই মূল্যসীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তর (ডিজিএফটি)।

পেঁয়াজের বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন এই রপ্তানি মূল্য আজ রোববার থেকেই কার্যকর করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াধীন এবং ইতোমধ্যে দেশটির কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা পেঁয়াজ নতুন এই মূল্যসীমা থেকে ছাড় পাবে।

জানতে চাইলে চাক্তাইয়ের আফরা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আলাউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগে ভারত সর্বনিম্ন ৪০০ ডলারে পেঁয়াজ রপ্তানি করত। এখন হঠাৎ ৮০০ ডলার করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে। গতকাল (শনিবার) পেঁয়াজের দাম ছিল থেকে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আজ (রোববার) বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। এর আগে গত আগস্টে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। সেই সময় জানানো হয়েছিল রপ্তানি শুল্ক আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে এবং বাজারে সরবরাহ কমছে। এ কারণে পণ্যটির দাম বাড়ছে।

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভারতের বর্ধিত মূল্যের পেঁয়াজ এখনো বাজারে আসেনি। আগেভাগে এত দাম বেড়ে গেল। এখন তো বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি আছে। কোনো অজুহাত পেলেই তারা দাম বৃদ্ধি করে দেবে, এটাই স্বাভাবিক।




বেশি দামে পণ্য বিক্রি, ৯০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করায় সারাদেশে ৯০ প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গতকাল রোববার ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে ৫২টি বাজারে অধিদপ্তরের ৪২টি টিম অভিযান চালায়।

এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালায় তিনটি টিম। এছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় শহরসহ দেশের ৩৮টি জেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এসব অভিযানে সারাদেশে ৯০ প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।




বেশি দামে আলু-পেঁয়াজ-ডিম বিক্রি, ১০৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে আলু, পেঁয়াজ, ডিম বিক্রি করায় সারাদেশে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে ৬৩টি বাজারে অধিদপ্তরের ৫২টি টিম অভিযান পরিচালনা করে।

এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে অধিদপ্তরের তিনটি টিম বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালায়। এছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় শহরসহ দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম ১২ টাকা, আলুর দাম প্রতিকেজি ৩৫-৩৬ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ৬৪-৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ঘোষণার পর থেকেই বাজারে এ দাম কার্যকর হওয়ার কথা। তবে তা এখনো কার্যকর দেখা যায়নি।

 




ভারত থেকে  ডিম আমদানির অনুমোদন 

বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আসছে ৪ কোটি ডিম। চার প্রতিষ্ঠানকে আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– মেসার্স মীম এন্টারপ্রাইজ, প্রাইম এনার্জি ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স, টাইগার ট্রেডিং, অর্নব ট্রেডিং লিমিটেড।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি করে মোট ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এখন থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়বে ১২ টাকা। একইসঙ্গে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া কথাও বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চারটি প্রতিষ্ঠান ডিম আমদানির অনুমোদনের জন্য আবেদন করে।

মন্ত্রীর ঘোষণার পর প্রতিক্রয়ায় ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডিমের দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এ দামে বিক্রি করতে হলে খামারিদের উৎপাদন খরচ, পাইকারি, আড়তদার এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা কে কত লাভে বিক্রি করবে তা নির্ধারণ করা উচিত ছিল।

ডিমের দাম নির্ধারণকে স্বাগত জানালেও আমদানির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ডিম আমদানি করলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। পরে আরও বেশি দামে ডিম খেতে হবে।




আলু-পেঁয়াজের দামও বেঁধে দিলো সরকার

প্রতি পিস ডিমের দাম ১২ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি আলু ও পেঁয়াজের দামও বেঁধে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

 

তিনি বলেন, পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আলুর দাম হবে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা ভোক্তা পর্যায়ে। আর পেঁয়াজের দাম ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার মাঠে থেকে এটি মনিটরিং করবেন।

সয়াবিন তেলের দাম পাঁচ টাকা কমে আসবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাজারে কোনো কারণ ছাড়াই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন ন্যায্যদাম কার্যকর করবো।

মন্ত্রী বলেন, নতুন করে টিসিবির কার্ড করা হচ্ছে। আমরা (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ৫০ লাখ পরিবারের জন্য কার্ড করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক কোটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাকিগুলো শিগগির মানুষ হাতে পেয়ে যাবে। কার্ডের কাজ চলছে।

দেশে সাড়ে তিন কোটি দরিদ্র মানুষ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এরমধ্যে এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য দিচ্ছি। অর্থাৎ পাঁচ কোটি মানুষ এ সেবায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একটি পরিবারে গড়ে পাঁচজন করে সদস্য থাকে। তারপরও যদি কোনো দরিদ্র মানুষ টিসিবির সেবা থেকে বাদ পড়েন, সে বিষয় আমরা দেখবো।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে খাদ্যখাতে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কথা জানায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্যে প্রকাশ করা হয়।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্য মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। ২০২০ সালে খাদ্য খাতে ১০০ টাকার পণ্যে ৫ টাকা ৫৬ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছিল। একই পণ্যে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বেড়েছে ১২ টাকা ৫৪ পয়সা।




ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানি শুল্ক বাড়ায় হিলিতে বেড়েছে দাম

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত সরকার। এ খবরে দিনাজপুরের হিলিতে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে পেঁয়াজের।

এদিকে দাম বাড়ায় ক্রেতা সমাগম কমেছে হিলির পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

রোববার (২০ আগস্ট) হিলির খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একদিন আগেও ভারতীয় যে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, বর্তমানে সে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। হঠাৎ করে দাম বাড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা।

হিলির খুচরা বাজারের বিক্রেতারা জানান, ভারতীয় শুল্ক বাড়ার খবরে হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমরাও বেশি দামে কিনছি, তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজের ওপর শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেক বাড়বে। এ কারণে বন্দরের ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়বেন। আমাদের অনেক পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করা আছে। সেই পেঁয়াজ দেশে এলে দাম অনেকটাই স্বাভাবিক থাকত। আমরা চাই, দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তারা বৈঠকের মাধ্যমে এর একটি সমাধান করুক।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর শুল্ক আরোপ করেছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপ করা ৪০ শতাংশ শুল্ক খুব শিগগিরই কার্যকর হবে বলে ভারতীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়েছে।

যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। গত কয়েক মাসে রপ্তানি অনেক বাড়ায় ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান দামে লাগাম টানতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসে ৬ দশমিক ৩৮ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে ভারত। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ২৬ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। ওই সময় ৫ দশমিক ০৪ টন পেঁয়াজের চালান করেছিলেন দেশটির রপ্তানিকারকরা।




পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০% শুল্ক আরোপ করল ভারত

ভারতের পেঁয়াজের ওপর আরোপিত নতুন এই শুল্ক চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে

পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। ভারতের পেঁয়াজের ওপর আরোপিত নতুন এই শুল্ক চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। শনিবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের বার্ষিক খুচরা মূল্যস্ফীতি গত ১৫ মাসের সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে; যা তার আগের মাসের ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে, দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যের প্রায় অর্ধেক ১১ দশমিক ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটিতে খুচরা খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২০২০ সালের জানুয়ারির পর চলতি বছর সর্বোচ্চ ছুঁয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ রুপি হতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দেশের বাজারে সরবরাহ বৃৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।’

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ভারতে টমেটো, পেঁয়াজ, মটরশুটি, বেগুন, রসুন ও আদাসহ রান্নাঘরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কিছু সবজির দাম গত কয়েক মাসে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশটির ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘসময় ধরে অত্যধিক গরম থাকায় পেঁয়াজের মান নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর ভারত সবচেয়ে শুষ্কতম আগস্টের মুখোমুখি হয়েছে। এল নিনোর ধাঁচের আবহাওয়ার কারণে ভারতে অল্প বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দেশটির শুক্রবার আবহাওয়া বিভাগের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।




সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন: ক্যাব

সিন্ডিকেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। যেসব ব্যবসায়ী এ ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবিও জানান সংগঠনটির নেতারা।

শনিবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার গরীবে নেওয়াজ সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ডিমসহ অন্য নিত্যপণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে’ মানববন্ধন করে ক্যাব।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বেশি। ডিম নিয়ে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। ওষুধের দাম বেশি। এছাড়া সব পণ্যের দাম সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাজার পরিস্থিতি কিছু অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি।

 

তারা বলেন, আমরা সরকারকে অনুরোধ করবো সরকার যেন ভোক্তাবান্ধব হয়। আমরা ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে সঠিক ওজনে পণ্য পেতে চাই। আর যেসব অসাধু ব্যবসায়ী আছেন, যারা কারসাজি করেন, মুনাফাখোর, মজুতদার, বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি করেন- তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ। যেসব ব্যবসায়ী এ ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে ক্যাবের পক্ষ থেকে দাবি জানান বক্তারা।

এছাড়া বাংলাদেশের সব হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীদের পরীক্ষা বিনামূল্যে করার জন্য মানববন্ধন থেকে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, ক্যাব উত্তরা শাখা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মীর রেজাউল করিম, উত্তরা শাখা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সানোয়ার হোসেন, উত্তরা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুস সামাদ, প্রভাতী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী খান প্রমুখ।




আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে এলো ১১ টন পেঁয়াজ

প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আবারও পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে।

শনিবার (০৮ জুলাই) বিকেলে একটি ট্রাকে করে বন্দর দিয়ে ১১ টন পেঁয়াজ এসেছে ভারত থেকে।

এর মাধ্যমে আবারও সচল হলো বন্দরের আমদানি বাণিজ্য।
বিডিএস করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজগুলো আমদানি করেছে। আগামীকাল (০৯ জুলাই) দুপুরে বন্দর থেকে পেঁয়াজগুলো খালাস করা হবে বলে জানা গেছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল আমদানিকৃত পেঁয়াজের কাস্টমস ক্লিয়ারিংয়ের কাজ করবে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সুপারিন্টেনডেন্ট মো. সামাউল ইসলাম জানান, বিডিএস করপোরেশন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ২০০ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খুলেছে। প্রথম চালানে গত ১২ জুন ১০ টন পেঁয়াজ আসে। দ্বিতীয় চালানে প্রায় এক মাস পর আজ আরও ১১ টন পেঁয়াজ এসেছে। আমদানি পণ্য থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হারে শুল্ক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মাশুল পাবে বলে জানান তিনি।