সিটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১৫ শতাংশ বোনাস। আগের বছর ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, এর মধ্যে ছিল ১২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১২.৫০ শতাংশ বোনাস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিদায়ী বছরে সিটি ব্যাংকের নীট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয়ে বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৭১ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা আয় হয়েছিল। তার আগের বছর ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।

বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

সর্বশেষ বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪৭ টাকা, যা আগের বছর ৫৮ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪০ টাকা ৬৭ পয়সা।

আগামী ৭ জুন, রোববার বিকাল ৩ টায় ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৩ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।




পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন

দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টেকহোল্ডারদের প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির সদস্য সংখ্যা ১০ জন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে থাকবেন পুঁজিবাজারের দায়িত্বে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব।

গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ কমিটি গঠনসংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আলোচিত কমিটিতে অন্যদের মধ্যে থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) একজন করে মোট ছয়জন প্রতিনিধি। এ ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) দুই চেয়ারম্যানকে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দিন শেয়ারবাজারে চাঙাভাব দেখা গিয়েছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাকি সময়জুড়ে শেয়ারবাজারে মন্দাভাব চলছে। শেয়ারবাজারের টানা দরপতনের প্রতিবাদে এরই মধ্যে একাধিক দফায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। দরপতনের প্রতিবাদে সর্বশেষ মতিঝিলে বিনিয়োগকারীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগও দাবি করা হয়। এমন এক পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে টেকসই উন্নয়নে সরকার ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।




পুঁজিবাজারের মূল শক্তিই বিনিয়োগকারী: ডিএসই পরিচালক

বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নির্ভর করে পুঁজিবাজারের ভবিষ্যত৷ মূলত এবাজারের শক্তিই হলো বিনিয়োগকারীরা। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলেই বাজার স্থিতিশীল হবে। এজন্য বিনিয়োগকারীদের উত্সাহিত করতে হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেনিং একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত ৪ দিনব্যাপী “কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারঅ্যাকটিং ইস্যু ফর দ্য টিআরইসি হোল্ডারস” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আজ সমাপণী দিনে সার্টিফিকেট বিতরণী অনুষ্ঠানে ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুর রহমানের পাঠান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান হয়েছে।

ডিএসই’র পরিচালক বলেন, এক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজের সিইও, সিএফও, কমপ্লায়েন্স অফিসার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কমপ্লায়েন্সের সকল নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চলে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। আপনারা হচ্ছেন বাজারের মূল সহায়ক শক্তি৷

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সার্বিক অর্থনীতির সাথে সমন্নয় রেখে পুঁজিবাজার বড় হয়নি৷ ইতোমধ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাজারে কোনো বাজে আইপিও না আসা। অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে এরমধ্যে-টাকা পাচার বন্ধ এবং নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি না দিলে ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই সরকার পুঁজিবাজারের দিকে আরও অধিক নজর দিবে।

মিনহাজ মান্নান বলেন, একজন বিনিয়োগকারীর জন্য আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীগন লাভবান হতে পারে। অপরপক্ষে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য অডিট ফার্মগুলোর মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদন্ড আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজে এটি বুঝতে পারে। আমাদের পুঁজিবাজারের পরিধি ছোট হওয়ায় অনেক গুজব বাজারে বিদ্যমান। তাই তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের সতর্কতার সাথে লেনদেন সম্পন্ন করার আহবান জানান। কারণ নিয়মকানুন সঠিকভাবে প্রতিপালন করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও অটুট থাকে।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিএসইসি ও ডিএসই’র উর্ধতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন কমপ্লোয়েন্সের বিষয়সমূহ, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি) নিয়ম ২০০০, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) বিধিমালা ২০২০, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) রেগুলেশন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স ১৯৬৯, ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট ও কমপ্লায়েন্সের প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ, ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির কর্তব্য ও দায়িত্ব, ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির ব্যাক অফিস অপারেশনস ও কনসোলিডেটেড কাস্টমার একাউন্ট এর রক্ষণাবেক্ষন, সার্ভইল্যান্সের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স, ডিএসই’র অটোমেটেড ট্রেডিং রেগুলেসন্স, ১৯৯৯ এর কমপ্লায়েন্স, মোবাইল অ্যাপ এর ফিচার এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (সেটেলম্যান্ট অব ট্রান্সজেকশনস) রেগুলেসন্স, ২০১৩ ও দি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ট্রেকহোল্ডারস মার্জিন রেগুলেসন্স, ২০১৩ এর প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে আলোচনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোঃ ছামিউল ইসলাম এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান৷

 

 




১৪ কোম্পানিকে বিএসইসি’র হুঁশিয়ারি, দ্রুত লভ্যাংশ বিতরণের নির্দেশ

সর্বশেষ হিসাব বছরে লভ্যাংশ ঘোষণা করার পর তা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ না করায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৪টি কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কোম্পানি সচিবকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একইসঙ্গে কোম্পানিগুলোকে দ্রুত শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণ করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো- লুব রেফ বাংলাদেশ লিমিটেড, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ভিএফএস থ্রেড ডাইং লিমিটেড, ফরচুন সুজ লিমিটেড, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেড, দেশ গার্মেন্টস লিমিটেড, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড, অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, লিবরা ইনফিউশন লিমিটেড, প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

রোববার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের মিটিং রুমে ১৪টি কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কোম্পানি সচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভা বিএসইসি এসব নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে সভায় কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বিএসইসিকে জানিয়েছে, তহবিল কম থাকার কারণে কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের ঘোষণা করা লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারেনি। তবে কোম্পানিগুলোর এ বক্তব্য যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি কমিশন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ না করায় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি। এছাড়া কোম্পানিগুলো যতদ্রুত সময় শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণ করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হিসাব বছরে উল্লিখিত ১৪টি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কিন্তু লভ্যাংশ ঘোষণা করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানিগুলো তা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করেনি। ফলে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি কিছু কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের প্রদান করার কারণে ‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে উন্নীত করা হয়েছে। তবে কী কারণে কোম্পানিগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে প্রদান করেনি, সভায় তার ব্যাখ্যা শুনেছে কমিশন। একইসঙ্গে কোম্পানিগুলোকে দ্রুত লভ্যাংশ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি পর্ষদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এই বার্তা দিতেই ১৪টি কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কোম্পানি সচিবকে তলব করা হয়েছে।

যেসব কোম্পানি যথাসময়ে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করে না, সেসব কোম্পানি বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। কোম্পানিগুলো সম্প্রতি সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান না করার কারণে পুঁজিবাজারে বেশ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কঠোর অবস্থান গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাইজিংবিডিকে বলেন, আজকের সভায় কোম্পানিগুলো যথাসময়ে কেন শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারেনি তা জানতে চাওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের তহবিল কম থাকার কারণে লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারেনি। তাই কোম্পানিগুলোকে যতদ্রুত সম্ভব শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত লভ্যাংশ বিতরণে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং পুঁজিবাজারের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিশন খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছি। আগামীতে অতিদ্রুত স্বল্প সময়ের মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া, টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার করা হবে। এর ফলে আগামীতে আমরা শিগগিরই উন্নত পুঁজিবাজার দেখতে পাব বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।




আগামীকাল বন্ধ থাকবে পুঁজিবাজার

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার (২৬ আগস্ট) সারাদেশে সরকারি ছুটি। এদিন বন্ধ থাকবে দেশের পুঁজিবাজারও।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, দেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ন্যায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই ও সিএসই লেনদেনও বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে ব্যাংকিং কার্যক্রম।

সোমবার বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) থেকে আগের নিয়মে যথারীতি শেয়ারবাজারের লেনদেন চলবে।




 বেক্সিমকোসহ ৩ কোম্পানির ফ্লোর উঠেনি যে কারণে

পুঁজিবাজারে বেক্সিমকোসহ ৬ কোম্পানির ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারে দেওয়া নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। ওই নির্দেশনা অনুসারে, আলোচিত ৬ কোম্পানির মধ্যে তিনটির ফ্লোর আজ রোববারই ওঠে যাওয়ার কথা ছিল। অন্য তিন কোম্পানির ফ্লোর আগামী ১৪ আগস্ট, বুধবার উঠার কথা।

কিন্তু বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের স্বাক্ষর করা ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ। বিএসইসি ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জ পরস্পর আলোচনা করেই আলোচিত নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত ৮ আগস্টের (বৃহস্পতিবার) তারিখে স্বাক্ষর করা ওই নির্দেশনা অনুসারে, আজ বেক্সিমকো লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের উপর থেকে ফ্লোর ওঠে যাওয়ার কথা। আর আগামী ১৪ আগস্ট ফ্লোর উঠার কথা বিএসআরএম লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ফ্লোর।

কিন্তু শেষ মূহুর্তে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ শিবলী রুবাইতের স্বাক্ষর করা ওই নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করেনি।

সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত নির্দেশনাটি বিএসইসির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের একক কর্তৃত্বে জারি করা হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কমিশন বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও শিবলী রুবাইয়াত তা করেননি। এমন কি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শিবলী রুবাইয়াত অফিসেও আসেননি কোনোদিন। যে তারিখে (৮ আগস্ট) ওই নির্দেশনাটি জারি দেখানো হয়েছে, সেদিনও তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শনিবার (১০ আগস্ট) বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

সংশ্লিষ্টরা পদত্যাগের দু’দিন আগে কমিশনের কারো সঙ্গে আলোচনা না করে অনেকটা গায়ের জোরে জারি করা শিবলীর ওই নির্দেশনাকে উদ্দেশ্যমূলক মনে করছেন। বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো লিমিটেড ফ্লোর প্রত্যাহারের তালিকায় থাকায় সন্দেহ আরও বেড়ে গেছে। গত ১৫ বছরে সালমান এফ রহমান নানা কৌশলে পুঁজিবাজারে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছেন। সর্বশেষ তিন বছরে বেক্সিমকোর শেয়ার নিয়ে কারসাজি, সুকুক ইস্যু করে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন, পরবর্তীতে আরও দুটি বন্ড ইস্যু করে ৩ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা উত্তোলনে বিএসইসির ওই চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের প্রশ্রয় ও সহযোগিতা ছিল।

জানা গেছে, সালমান এফ রহমান বেশ কিছু ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকে বেনামে বেক্সিমকোর বিপুল সংখ্যক শেয়ার কিনে রেখেছেন। হঠাৎ ফ্লোর তুলে দেওয়া হলে যে কোনো দামে ওই শেয়ার বিক্রি করে সব টাকা বিদেশে পাচার করে দেওয়া হতে পারে। তাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা না করে ফ্লোর প্রত্যাহার সমীচীন হবে না বলে মনে করছে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ।




নাম পরিবর্তন করবে ডিএসই

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লিমিটেড এর নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ এর পরিবর্তে ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি’ রাখা হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত নাম ‘ডিএসই’ হিসাবেই থাকবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল ইস্ট পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড নামে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। ১৯৬২ সালের ২৩ জুন নাম পরিবর্তন করে ইস্ট পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড করা হয়। ১৯৬৪ সালের ১৩ মে ওই নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ডিএসইতে লেনদেন স্থগিত রাখা হয়। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট লেনদেন পুনরায় চালু হয় এবং অদ্যাবধি লেনদেন ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বমানের সেবা ও স্টেকহোল্ডারদের সর্বোচ্চ আস্থা নিশ্চিত করে এ অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় এক্সচেঞ্জ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ (শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ট্রেজারি বন্ড, ডিবেঞ্চার ও কর্পোরেট বন্ড) লেনদেন হয়ে থাকে।




পুঁজিবাজারে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের লেনদেন শুরু

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির লেনদেন মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) শুরু হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) এর আয়োজিত রিং দ্যা বেল অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ফান্ডটির লেনদেন শুরু হয়েছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড ১৫৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।

এদিন ডিএসই আয়োজিত ডেবিউ ট্রেডিং এবং রিং দ্য বেল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশর (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ১৪ আগস্ট পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তার ৮৮০তম কমিশন সভায় ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করে। ফান্ডটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর এর ট্রাস্টি ও কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি।

প্রাথমিকভাবে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০০ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা এতে ১০০ কোটি টাকা জোগান দিয়েছেন। বাকি ১০০ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু আইপিওতে নির্ধারিত ইউনিট বিক্রি না হওয়ায় ফান্ডটির আকার দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা।

ফান্ডটি ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করবে। ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের ট্রেডিং কোড হবে ‘CAPITECGBF’। ডিএসইতে ফান্ডটির ট্রেডিং কোড হবে ১২২০৫।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ফান্ডটির বরাদ্দপ্রাপ্ত ইউনিট বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে। তার আগে গত সোমবার (৯ অক্টোবর) যোগ্য বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইউনিট বরাদ্দ করা হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমের (ইএসএস) মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইউনিট বরাদ্দ করা হয়।

আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ফান্ডটির ১০০ কোটি টাকার ইউনিট সংক্ষিত ছিল। এর বিপরীতে ৫৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ইউনিট কেনার জন্য আবেদন জমা পড়ে। সংক্ষিত ইউনিট সংখ্যার চেয়ে কম আবেদন জমা পড়ায় প্রত্যেক আবেদনকারী শতভাগ ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছেন।




‘প্ররোচিত হয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়’

বুঝেশুনে পুঁজিবাজারে আসতে হবে। কারো কথায় প্ররোচিত হয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। যারা অন্যের কথায় উৎসাহিত হয়ে বাজারে বিনিয়োগ করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. আব্দুল হালিম এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসইর এমডি ড. এটিএম তারিকুজ্জামান।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।বিশেষ করে যেসব জেলার বিনিয়োগকারীদের একেবারেই অংশগ্রহণ নেই সেসব এলাকার মানুষদের বাজারে আনতে হবে। একইসঙ্গে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসার একমাত্র উদ্দেশ্য লাভ অর্জন করা হওয়া উচিত না। পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। সরকারের ভিশন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পুঁজিবাজারের ভূমিকা রয়েছে। সকলকে সাথে নিয়ে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তবেই স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ডলার। যারা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে তাদেরকে নিয়ে কাজ করা দরকার। কারণ টেকসই সমাজ তৈরি করতে হলে বৈষম্য দূর করতে হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, টেকসই উন্নয়ন করতে গেলে স্থিতিশীল বিনিয়োগ দরকার, যেটি বর্তমান সরকার করে যাচ্ছে। যে কোনো দেশের বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করার আগে সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয় লক্ষ্য করেন। এ জন্য বিদেশে বিনিয়োগ আনতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

 




১০৯ কোটি টাকার লেনদেন সোনালী পেপারের

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ১৫ শতাংশ বা ৭০৪ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন ছিল ১০ কোম্পানির দখলে। এসব কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাগজ ও প্রকাশনা খাতের কোম্পানি সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসের ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ১০৯ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ডিএসইর মোট লেনদেনে কোম্পানিটির অবদান ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময় শেয়ারটির দাম কমেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

 

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সোনালী পেপারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭১ টাকা ২৩ পয়সায়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪১ টাকা ৩০ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৮৪ টাকা ৩৩ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ এবং ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৮৪ টাকা ৩৩ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩০৭ টাকা ৮৮ পয়সা।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী পেপারের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫০৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৯০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮ দশমিক ২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




স্টোরেজ সুবিধা বাড়াবে পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজিবাজার পাওয়ারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি একটি লিজ চুক্তি হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, কোম্পানিটি মোংলা বন্দরে ১৩ একর জমি ৩০ বছরের জন্য লিজ নেবে। পেট্রোম্যাক্স ওই জমিতে স্টোরেজ ট্যাংক স্থাপন করে বিদ্যমান স্টোরেজ সুবিধা বাড়াবে। এছাড়া কোম্পানিটি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াবে বলে জানিয়েছে।

 

অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৬৭ পয়সা।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছিল কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং অনুসারে, কোম্পানিটির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ ওয়ান’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ ও রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।

সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ৩২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ নগদ ও বাকি ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩০ শতাংশ দিয়েছিল শাহজিবাজার পাওয়ার। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডরাদের ২৮ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল শাহজিবাজার পাওয়ার। আগের হিসাব বছরে ২৫ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮৬ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৬২৯। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ২৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করল বিএসআরএমের দুই কোম্পানির

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের দুই কোম্পানি বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) লিমিটেড ও বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডের পর্ষদ সভা ১২ অক্টোবর যথাক্রমে বিকাল ৫টা ও ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ঘোষণা আসতে পারে। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসআরএম লিমিটেড: অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২ টাকা ১ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএ=স) দাঁড়িয়েছে ১৩২ টাকা ২৫ পয়সায়।

 

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৩৪ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩৪ টাকা ২৯ পয়সায়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য ৪০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসআরএম লিমিটেড। এর বাইরে আলোচ্য হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। সেই হিসাবে ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য মোট ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১৮ টাকা ৯৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১২৭ টাকা ৫৬ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেষে যা ছিল ৯৯ টাকা ৮৯ পয়সা। এর আগে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বিএসআরএম লিমিটেড। ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৯০ টাকা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৯০ ও ৯৭ টাকা।

বিএসআরএম স্টিলস: সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ২২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ টাকা ৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৬২ পয়সায়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭২ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৯৯ পয়সায়।

এর আগের ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ নগদ চূড়ান্ত লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসআরএম স্টিলস। আলোচ্য হিসাব বছরে ১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে ওই হিসাব বছরে মোট ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৩৮ পয়সায়।

এর আগে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বিএসআরএম স্টিলস। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৬০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২০ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫৬ টাকা ৮৪ পয়সা।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিএসআরএম স্টিলসের শেয়ার সর্বশেষ ৬৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৭০ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।




২৯% বে‌ড়ে‌ছে ডিএসইর লেন‌দেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ১৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৪০ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৩৬০ পয়েন্টে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪০৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ১২০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০৫টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ৪১টির।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১ হাজার ৮১৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ২৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৪৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ৮ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিবিধ খাত। মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল কাগজ খাত। আর প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল, পাট ও সিমেন্ট খাত। এ তিন খাতে যথাক্রমে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, দশমিক ৬ ও দশমিক ১ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল সাধারণ বীমা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কাগজ খাত। এ তিন খাতে রিটার্ন কমেছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ৮২টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১২৯টির।




চার্টার্ড লাইফের এজিএমের সময় পরিবর্তন

পুঁজিবাজারে বীমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির এজিএম বেলা ১১টার পরিবর্তে দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, কোম্পানির ১০তম এজিএম পূর্ব ঘোষিত বেলা ১১টার পরিবর্তে দুপুর ১২টায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির এজিএম আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আর ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ আগস্ট।

আলোচিত বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.২৪ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ০.২০ টাকা ছিল।




সপ্তাহের শুরুতে সূচক পতন, কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে। ক্রেতা-সংকটে পড়ে এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ২১ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে ৫৬ পয়েন্ট।

সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও। এর ফলে বৃহস্পতি ও রোববার টানা দুই কার্যদিবস পুঁজিবাজারে দরপতন হলো।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকৌশল, ওষুধ এবং খাদ্য খাতের শেয়ারের মতো এদিন বিমা খাতের শেয়ারের দাম কমেছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার বড় দরপতন হয়েছে।

ডিএসইর দেওয়া তথ্য মতে, রোববার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩০০টি কোম্পানির মধ্যে ১৩১টির শেয়ারের দাম কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। অর্থাৎ তিনগুণ পরিমাণ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৩ পয়েন্টে।ডিএস-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২৮ পয়েন্টে।

এদিন ৩০০টি কোম্পানির ১১ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৮৫৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা টাকার অঙ্কে ৫৩৫ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০০ কোটি ৭৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। তৃতীয় অবস্থানে ছিল রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার।

এরপরের তালিকায় যথাক্রমে ছিল—রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউজিং, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং ইয়াকিন পলিমার লিমিটেডের শেয়ার।
আরেক পুঁজিবাজার সিএসই প্রধান সূচক ৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৯৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ৭৬টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৭১টির দাম।

দিন শেষে সিএসইতে ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৪ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের লেনদেন হয়েছিল ৮ কোটি ৪৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৩৫ টাকার শেয়ার।




নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি

নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ক্রমাগত লোকসানে পড়ছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি। ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য দায়ের পরিমাণ সম্পদের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে গড়িমসি, নতুন পণ্য বৈচিত্র্যকরণে ব্যর্থতা, মেশিনারিজ স্থাপনে অদক্ষতা, উৎপাদন হ্রাস, ব্যাংক ঋণের দায় মেটাতে অক্ষমতা, ব্যবস্থাপনায় অদূরদর্শিতা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চায়ের গুণগতমানের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

সূত্র মতে, ন্যাশনাল টি কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকে (৩১ মার্চ ২০২৩) দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা মোট সম্পদ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বেশি। শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ৪৮ টাকা ৭৯ পয়সা থেকে অস্বাভাবিকভাবে কমে ২ টাকা ২ পয়সায় নেমে এসেছে। শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৬ টাকা ২ পয়সা। যা আগের বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩১ টাকা ১২ পয়সা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হ্রাস পেয়েছে ৩৪ টাকা ৭০ পয়সা। যা একই সময়ে আগের বছর ছিল ঋণাত্মক ১২ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ তুলনামূলক হ্রাস পেয়েছে ৩৪৭.০২ শতাংশ। বিনিয়োগকারীদের মতে, হঠাৎ এনওসিএফপিএস এতো বেশি হ্রাস পাওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের জ্ঞাতার্থে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড ২০১৮ এর শর্ত ১(৫)(রী) অনুযায়ী ডিসক্লোজার দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সেটা পালন করেনি প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, শেয়ারপ্রতি আয় ঋণাত্মক, অতিরিক্ত ঋণ ও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে অক্ষমতায় যে কোন সময় দেউলিয়া হতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এরকম ধারাবাহিক অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান কিভাবে প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করার অনুমোদন পায় তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল টি কোম্পানির বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকৃত লোকসানের তথ্য গোপনের বিষয়ে অভিমত উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির বহিঃনিরিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদনে ২০২১-২২ অর্থবছরে নিট লোকসান দেখিয়েছে ২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃত লোকসান ছিল ৫৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বহিঃনিরিক্ষক মেসার্স হুদাভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোং তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অভিমত ব্যক্ত করেন, সমাপ্ত অর্থবছর ১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ছিলো ৩৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। যা পরিশোধ করা হয়নি এবং পরিশোধের জন্য কোন প্রভিশন রাখেনি।

 

এছাড়া, ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এখানেও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আমলে নেওয়া বা প্রভিশন রাখা হয়নি। বকেয়া বেতন আমলে নেওয়া হলে নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতো ৬৫ কোটি টাকার উপরে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাশনাল টি কোম্পানির প্রতিটি প্লেসমেন্ট শেয়ার দশ টাকা অভিহিত মূল্যের সাথে ১০৯.৫৩ টাকা প্রিমিয়াম নেয়ার লক্ষ্যে কৌশলে প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ গোপন করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) কেরামত আলী ও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু সম্পন্ন করতে চেয়েছিলো। প্রকৃত সত্য গোপন করে মাইনোরিটি শেয়ারহোল্ডারদের নিঃস্ব করা লক্ষ্যে এ কাজটি করা হয়েছে। কিন্ত বহিঃনিরিক্ষক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তাদের মতামতে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেন। শুধু প্লেসমেন্ট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ও কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য স্ফিত দেখানোর লক্ষে ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এই অপকৌশলের আশ্রয় নেয়।

 

এছাড়া, ন্যাশনাল টি কোম্পানির বহিঃনিরিক্ষক তারল্য সংকট হেডে অ্যাম্পেসিস অব ম্যাটারে কোম্পানির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তারল্য সংকট সর্বশেষ ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ৩০ জুন ২০২১ সালে যেখানে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, সেখানে ৩০ জুন ২০২২ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২৩ টাকা ৫২ পয়সা এবং সর্বশেষ ৩১ মার্চ ২০২৩ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৪ টাকা ৭০ পয়সা। স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির বহিঃনিরিক্ষক তার প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিকভাবে তারল্য সংকট চলতে থাকলে শেয়ারহোল্ডারর্স ইকুইটি এন্ড লায়াবিলিটিজ, নন কারেন্ট লায়াবিলিটিজ ও কারেন্ট লায়াবিলিটিজের জন্য দায় দেনা পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। বহিঃনিরিক্ষক আদার অপিনিয়ন হেডে উল্লেখ করেন, ‘লোকসানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে কোম্পানিকে অবসায়ন অথবা চা বাগানসহ সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প উপায় থাকবে না’।

ধারাবাহিক লোকসানের বিষয়ে এক বিনিয়োগকারী জানান, এনটিসির অদূরদর্শী ও দায়সারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কারণে ক্রমাগত লোকসান থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কারসাজির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটছে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে প্রতিষ্ঠানের ভিতরের কিছু লোকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় প্রকৃত তথ্য গোপন করে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। ফলে কোম্পানিটিতে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর পুঁজি আটকে যায়। প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু অনুমোদন এবং প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের উল্লস্ফন দেখে আকৃষ্ট হয়ে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। হঠাৎ সেই প্লেসমেন্ট স্থগিতে হাইকোর্টের রিটের সংবাদে শেয়ারের দাম তলানিতে নেমে যায়। এতে পুঁজি আটকে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত। আরেক বিনিয়োগকারী গোলাম ফারুক জানান, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে বিএসইসি থেকে প্লেসমেন্ট শেয়ারের অনুমোদন নেয় প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ধারা ১৫২ (১) (ক) লঙ্ঘন করে প্লেসমেন্ট শেয়ারের আবেদন বিএসইসি থেকে অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার অভিয়োগ রয়েছে কোম্পানির বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে বিষয়টি আমলে এনে জাকির হোসেন সরকার নামে এক বিনিয়োগকারী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। জনসম্মুখে উঠে আসে ন্যাশনাল টি কোম্পানির অনিয়মতান্ত্রিক প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু আবেদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি। হাইকোর্টের দৈত বেঞ্চের নির্দেশে বিএসইসি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু প্রক্রিয়া। তিনি আরো বলেন, এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা যথাযথ উদ্যোগ না নিলে প্রতিনিয়তই ক্ষতির সম্মুখীন হবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। এর প্রভাবে আরো তারল্য সংকটে পড়বে পুঁজিবাজার। তিনি দাবি করেন, যাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে হঠাৎ প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু স্থগিত হয় ও যারা কারসাজি করে এনটিসির শেয়ারে ফায়দা হাতিয়ে নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

এদিকে এনটিসির তৃতীয় প্রান্তিক মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী ব্যাংক ঋণের (নন কারেন্ট পোরশান) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা ও স্বল্পমেয়াদী ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। কারেন্ট ও নন কারেন্ট পোরশানে সর্বমোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার উপরে। এই সমস্ত ঋণ নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে কৃষি ব্যাংক থেকে ন্যাশনাল টি কোম্পানির অনুকূলে ৩৪৩ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০৬ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এখন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে বাকি ৩৭ কোটি টাকা দিলেও বাগান পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এর সাথে অতিরিক্ত ৪৩ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদনের জন্য জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এই ৪৩ কোটি টাকা কৃষি ব্যাংক অনুমোদন করলে এনটিসির নিকট ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৮৬ কোটি টাকা। সুদ-আসলে যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০০ কোটির ঊর্ধ্বে। এ দায় এনটিসির মোট সম্পদের তুলনায় অনেক বেশি।

এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম খানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এক মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যারের নির্দেশে সিলেটের কয়েকটি চা বাগানের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শন করে এসেছি। এনটিসির বাগানগুলো পর্যায়েক্রমে পরিদর্শন করা হবে। নতুন ঋণ ছাড়ের পূর্বে বাগান পরিদর্শনের তথ্য-উপাত্ত ও কোম্পানির সক্ষমতা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোন প্রকার অনিয়ম হবে না’।

এ সকল অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে এনটিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুসার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। আপনি কোম্পানি সচিব গোলাম মোহাম্মদ বেলালের সাথে যোগাযোগ করেন’। কোম্পানি সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোম্পানির আর্থিক দূরাবস্থার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত জানার জন্য কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কেরামত আলীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু কেরামত আলীর সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। পরবর্তীতে বিষয়বস্তু উল্লেখ করে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।




নর্দার্ন জুটের কারখানায় ঢুকতে পারেনি ডিএসই

নর্দার্ন জুট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের কারখানায় ঢুকতে পারেনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শক দল।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের কোম্পানির সর্বশেষ অবস্থা জানতে সম্প্রতি ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল নর্দার্ন জুটের কারখানা পরিদর্শনে যান। কিন্তু কোম্পানিটির কারখানা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় দলটি ভেতরে ঢুকতে পারেনি। তাই কারখানার উৎপাদনের সর্বশেষ অবস্থাও জানতে পারেনি।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির ২১ লাখ ৪২ হাজার শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ দশমিক ০৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৮৪ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার।

এই শেয়ারহোল্ডারদের গত তিন বছর ধরে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। নর্দার্ন জুটের শেয়ার দাম মঙ্গলবার (০৫ সেপ্টেম্বর) ৪০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২ টাকা ৮০ পয়সায়।




পুঁজিবাজারে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন

পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত শেষ করে বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য মতে, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক মো. তাহসিন আহমেদ এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. মাহমুদুর রহমান।

তথ্য মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাজারে অনাকাঙ্খিত অস্থিরতা বিরাজ করছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পুঁজিবাজারে এ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লোকসানে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে।

অনেক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা তাদের কর্তৃপক্ষ এবং বিনিয়োগকারীদের মার্জিন লোন সম্পর্কে এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিচ্ছে। যার ফলে বাজারে মন্দভাব আরও গভীর হচ্ছে।

বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি এবং অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, যা পুঁজিবাজারকে আরো পতনমুখী করে তুলছে।

এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ব্যাক্তি বা চক্র যেন পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সে বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লিমিটেড এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুর সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসি এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিমের সৌজন্য সাক্ষাতে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মাহবুবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মচারী মাহবুবুর রহমানের ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শের-ই-বাংলা নগর থানায় বিএসইসি একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে। ওই ডায়েরির ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর, ‘শেয়ার বাজার ২০২১’ শিরোনামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে তিনি লিখেন ‘সবাই, আপনার যা কিছু শেয়ার আছে বিক্রি করে শেয়ারবাজার ছেড়ে দিন। সূচকটি ৫৬০০-এ নেমে আসবে। আমি এটা বলছি না। আতঙ্ক, এটাই বাস্তবতা।’

বিএসইসির সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়েছে, মাহবুবুর রহমান ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করে আসছেন।

ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ায় তাদের চিহ্নিত করতে গত বছর বিএসইসি একটি ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’ গঠন করে।

পুঁজিবাজার সংক্রান্ত গুজব নিয়ন্ত্রণে বিএসইসি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।




পুঁজিবাজারকে সাইড লাইনে রেখে দেওয়া হয়েছে: ডিএসই চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে সাইড লাইনে রেখে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেছেন, বাইরের শক্তি পুঁজিবাজার দাঁড় করিয়ে দেবে না। আমাদের পুঁজিবাজার আমাদেরকেই দাঁড় করাতে হবে। ডিএসইতে দক্ষ নেতৃত্ব লাগবে।

সোমবার (১৪ আগস্ট) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা ও ১৫ আগস্টের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, উন্নত দেশে পুঁজিবাজার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু আমাদের দেশে পুঁজিবাজারকে সাইড লাইনে রেখে দেওয়া হয়েছে। বাইরের শক্তি আমাদের পুঁজিবাজার দাঁড় করিয়ে দেবে না। আমাদের পুঁজিবাজার আমাদেরকেই দাঁড় করাতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারের মূল কর্ণধার। এজন্য আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। তাহলে দেশের পুঁজিবাজার এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি, আমরা আপনাদের সেবা দিতেই এখানে বসে আছি। আমরা সবসময় আপনাদের কথা ভাবি। একদিন-দুদিনে তো আমরা আর কিছু করতে পারবো না, কিন্তু আমরা সবসময় আপনাদের জন্য আপনাদের পাশে নিয়ে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে এসেছি দায়িত্ব পালন করতে। এখান থেকে কী পেলাম সেটা বড় বিষয় না। আজ আমাদের পুঁজিবাজার পিছিয়ে থাকার অনেকগুলো কারণ আছে। উন্নত দেশগুলোতে পুঁজিবাজারের ওপর অর্থনীতি নির্ভর করে। তাই আমি বিশ্বাস করি, উন্নত দেশের মতো যে অর্থনীতির স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখছেন, সেখানে পুঁজিবাজারকে নিয়েই তিনি অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় কথা ভাবছেন।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতৃত্ব বিরল। তার মতো শক্তিশালী কণ্ঠ, তার মতো শক্তিশালী নেতৃত্ব, এমন আর বাংলাদেশের মাটিতে আমি দ্বিতীয়টি দেখিনি। এদেশে সবচেয়ে বড় অভাব দেশপ্রেম ও সততার। একটা দেশের মানুষের মাঝে যদি দেশপ্রেম থাকে তাহলে নিজে থেকেই তার মাঝে সততা চলে আসবে। আজ এই স্বদেশ প্রেমের ঘাটতির কারণেই আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি।

হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, তবুও আমরা সৌভাগ্যক্রমে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে আমি যে মিল খুঁজে পাই তা হলো দেশপ্রেম, প্রচণ্ড দেশপ্রেম। বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রী দুজনেরই জীবনযাপন খুবই স্বাভাবিক। তাদের দুজনেরই মনে বিন্দুমাত্র লোভ নেই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব সিদ্ধান্ত দেশের মানুষ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। দেশের মানুষ চায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আরও সামনে এগিয়ে যাক। কারণ দেশের মানুষ বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন তা কেবল শেখ হাসিনার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন সম্ভব।

 

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়েই বঙ্গবন্ধুর জন্য একটি স্থান রয়েছে। বিদেশে আমি যখনই গিয়েছি, তখনই দেখেছি বাংলাদেশ শুনলেই সবাই বলতো শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। বাংলাদেশ মানেই যেন শেখ মুজিবুর রহমান।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের অবকাঠামো যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল, তখন যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশের সর্বহারা ২০ লাখ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ, এর মাঝেও বঙ্গবন্ধু পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করলেন। ওনার নেতৃত্বে আমরা সংবিধান পেলাম, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পেলাম। আর দেশের আজকের যত পরিকল্পনা সব পরিকল্পনার বীজ তখনই বুনেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, ববঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নমিনাল জিডিপি ২৮ শতাংশ হারে বেড়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যা ৬ শতাংশে নেমে আসে। আমরা অনেক ভাগ্যবান ওনার দুই কন্যা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলেন, সেই থেকে আমরা আবারও অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন করেছি, বিদ্যুৎ খাতের চরম সংকট থেকে তিনি জাতিকে মুক্ত করলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান পর্যন্ত করার চিন্তা করছি। এটা তখনই সম্ভব, যখন দেশের স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি দেশ শাসন করে। আমরা আমাদের জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মৃতিকে তখনই সম্মান দেখাতে পারবো, যখন আমরা দুর্নীতিকে পরাস্ত করে, স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।

ডিএসইর সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে অনেক নেতা ছিলেন, ভবিষ্যতেও হবেন। এ নেতাদের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধু করার কারণ ওনার আগে আর কোনো নেতা একা পুরো বাঙালিকে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই আজ আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আজকের বাংলাদেশে যেসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তার রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলেও এর ভিত্তি প্রস্তর করে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার (বঙ্গবন্ধু) হত্যার ২১ বছর পর (১৯৯৬ সাল) শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করেন। প্রকাশ্যে হত্যাকারীদের বিচার কার্য নিশ্চিত করেন। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের চক্রান্তকারীরা ছিল ধরাছোয়ার বাইরে। তাদের খুঁজে বের করতে সরকার কাজ করছে। শুনেছি এরই মধ্যে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন হয়েছে। শিগগির এসব চক্রান্তকারীদের নাম বেরিয়ে আসবে। দৃষ্টান্তমূলক বিচারও হবে।

ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন, ১৯৭৫ এ যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তারা ভেবেছিলেন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্যদিয়েই তার স্বপ্নের অবসান ঘটবে, তার আশার অবসান ঘটবে। কিন্তু আসলে সেটি ঘটেনি। আজ বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু তার যে স্বপ্ন, তার যে আদর্শ, তার যে চেতনা তা সঞ্চারিত হয়েছে বাঙালি জাতির মধ্যেই। যার ফলেই ১৯৭১ এর যুদ্ধ বিধ্বস্ত এ দেশ আজ সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে।

তিনি বলেন, যদি ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের অগ্রযাত্রাকে লাইনচ্যুত করা না হতো তবে দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে আরও এগিয়ে যেত।

ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মৃধা বলেন, দেশের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে ভিশনারি নেতৃত্ব এবং ১৯৭১ এ অর্জিত স্বাধীনতার জন্য। জাপানিজরা গবেষণা করে দেখেছে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের বিজনেসের হাব। তারা গবেষণা করে দেখেছেন বাংলাদেশ সামনে অনেক এগিয়ে যাবে। জাপানিজরা এরই মধ্যে কক্সবাজার জোনে অনেক ধরণের বিনিয়োগ করেছেন।




পুঁজিবাজারে সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

এখন থেকে বিদেশে বসেই অনলাইনে দেশের যেকোনো ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবেন প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা। এ হিসাব থেকে দেশের পুঁজিবাজারে সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এর ফলে বাংলাদেশে যেকোনো ব্যাংকের এডি (অথরাইজড ডিলার) শাখার মাধ্যমে হিসাব খুলে টাকায় লেনদেন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের আগে ব্যাংক হিসাব খুলতে হলে
সশরীরে কাগজপত্র নিয়ে আসতে হত। এখন আর হিসাব খুলতে সশরীরে আসতে হবে না। তারা বিদেশ বসেই অনলাইনে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ঢুকে ব্যাংক নন রেসিডেন্ট ইনভেস্টারস টাকা অ্যাকাউন্ট-এনআইটিএ অর্থাৎ ‘নিটা’ হিসাব খুলতে পারবেন। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে কিংবা আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও অর্থ জমা করা যাবে। ‘নিটা’ হিসাবের মাধ্যমে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ ও শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন প্রবাসীরা।

ডলার সংকট কাটাতে ও দেশের বিনিয়োগ সহজ করতে নীতিমালা সহজিকরণসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসাবে গত জুনে বাংলাদেশে কোম্পানি অনুমোদন ও নিবন্ধনের আগেই সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের বিপরীতে প্রস্তাবিত কোম্পানির নামে অস্থায়ী এফসি (ফরেইন কারেন্সি) হিসাব খোলার সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে গত জানুয়ারিতে অনিবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ‘নিটা’ হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়। ‘নিটা’ হচ্ছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনিবাসীদের পরিচালিত টাকায় ব্যাংক হিসাব। বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা টাকা তাদের ‘নিটা’ হিসাবে জমা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংকগুলোর অনলাইন প্লাটফর্মে প্রবাসীদের হিসাব খুলার জন্য তথ্য পূরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা করার সুযোগ থাকতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় নিতে হবে। কোনো প্রবাসী আবেদন করলে তা অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে পারবে ব্যাংক। এছাড়া এ হিসাবে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও আমানত জমা করতে পারবেন গ্রাহক। এজন্য ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক লেনদেন সুবিধা যুক্ত করতে বলা হয়েছে।




সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল) পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন, ২০২৩) ও অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৬.৫২ শতাংশ।

সোমবার (২৪ জুলাই) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৪ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৩৩ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ০.০১ টাকা বা ৩.০৩ শতাংশ।

এদিকে, কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিক সমন্বিত প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৯ টাকা। আগের হিসাব বছর একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৪৬ টাকা। সে হিসাবে এ সময়ের ব্যবধানে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ০.০৩ টাকা বা ৬.৫২ শতাংশ।

২০২৩ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০.৬৮ টাকায়। আর ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে (২.২৮) টাকা।




আরএকে সিরামিকসের মুনাফা কমেছে ৩৩.৬৬ শতাংশ

পুঁজিবাজারে সিরামিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন, ২০২৩) ও অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৩৩.৬৬ শতাংশ।

বুধবার (১৯ জুলাই) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩০ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৪৪ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ০.১৪ টাকা বা ৩১.৮২ শতাংশ।

এদিকে কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৭ টাকা। আগের হিসাব বছর একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১.০১ টাকা। সে হিসেবে এ সময়ের ব্যবধানে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ০.৩৪ টাকা বা ৩৩.৬৬ শতাংশ।

২০২৩ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭.৫১ টাকায়। আর ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে (০.০৮) টাকা।




ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করেছে ইউনিয়ন ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (আলফা রেটিং)।

রোববার (১৮ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে “এ+”। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে “এসটি-২”।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং চলতি বছরের ১৪ জুন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুনগত তথ্যের ভিত্তিতে এই ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




পুঁজিবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে

চলতি বছরের মে মাসে পুঁজিবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৩ সালে সরকার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এই টাকা বেশি রাজস্ব পেয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের মে মাসে ডিএসইতে ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি লেনদেন হওয়ায় সরকার স্টক এক্সচেঞ্জ হোল্ডারদের লেনদেনের ওপর কমিশন থেকে উৎসে কর বাবদ ৩ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৯৬১ টাকা বেশি পেয়েছে।

সূত্র জানায়, ডিএসইতে চলতি বছরের মে মাসে দেশের ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৪৯০টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও)ধারীদের ১৮ হাজার ৬৭৩ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ২৭২ টাকার শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং বন্ডের লেনদেন হয়েছে। সেখান থেকে কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২০ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৬২৫ টাকা।

এর আগের বছর ২০২২ সালের মে মাসে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন হয়েছিল ১৪ হাজার ৬১২ কোটি ২৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৯ টাকার শেয়ার। সেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২২ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২৩ সালের মে মাসে লেনদেন বেড়েছে। আর লেনদেন বাড়ায় সরকার এ খাত থেকে ৩ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৯৬১ টাকা রাজস্ব বেশি পেয়েছে।

শুধু আগের বছরের তুলনায় নয়, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের তুলনায়ও মে মাসে সরকারের রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে। এপ্রিল মাসে রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ টাকা।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও  বলেন, ডিএসইতে যত লেনদেন বাড়বে, সরকার তত এখান থেকে রাজস্ব আয় পাবে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে গতিশীল রাখতে তালিকাভুক্ত-অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ব্যবধান রাখার দাবি জানিয়েছি। সরকারি, বেসরকারি এবং বহুজাতিক ভালো ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে অনুরোধ জানিয়েছি। এসব কোম্পানি বাজারে এলে বাজার চাঙা থাকবে। লেনদেন ৫শ, ১ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৪ হাজার বা ৫ হাজার কোটি হলে সরকারও অনেক বেশি রাজস্ব পেত। সুতরাং লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজ মোহাম্মদ হাসান বাবু বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা দুই পা এগোলে এক পা পেছায়। আমরা চেষ্টা করছি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা দূর করতে। বিনিয়োগকারীদের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ দিতে। বিনিয়োগকারীরা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ পেলে বাজারে আসবে। তাহলে লেনদেন বাড়বে। আর লেনদেন বাড়লে সরকার এ খাতে থেকে রাজস্ব আরও বেশি পাবে।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দুই ধরনের শেয়ার কেনাবেচা থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে। প্রথমটি হলো, কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা থেকে রাজস্ব আয়। দ্বিতীয়টি হলো, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচায় ব্রোকারেজ হাউজের ওপর আরোপিত কর।

ডিএসইর তথ্য মতে, দুই ধরনের করের মধ্যে প্রথমটি হলো–৫৩ বিধি ধারা, এই ধারায় ডিএসইর স্টেক হোল্ডারদের অর্থাৎ ব্রোকার হাউজের প্রতিনিধিদের লেনদেনের ওপর দশমিক ০৫ শতাংশ কর। এ খাত থেকে এপ্রিলে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১২ টাকা। আগের বছরের একই মাসে এই রাজস্ব আয় ছিল ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৫১৭ টাকা।

অন্যদিকে, বিএসইসি রুলস ৫৩-এম অনুসারে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার কেনাবেচা বাবদ লেনদেন ও শেয়ার হস্তান্তর থেকে ৫ শতাংশ হারে কর বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩১৩ টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ে এই রাজস্ব আয় ছিল ৩ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৯ টাকা।

সব মিলিয়ে ডিএসই থেকে চলতি বছরের মে মাসে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২০ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৬২৫ টাকা। ডিএসই এই টাকা সরকারের কোষাগার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছে। তার আগের এপ্রিল মাসে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ টাকা।

এক মাস হিসাবে ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও অর্থবছরের হিসেবে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে। সরকার ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ে মোট ১১ মাসে ৭৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৫ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, সরকার চলতি বছরের ১১ মাসে ডিএসই থেকে রাজস্ব বাবদ পেয়েছে ২৫৫ কোটি ১১ লাখ ৯১ হাজার ৩৫৯ টাকা। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের লেনদেন থেকে সরকার ৩৩৪ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৪ টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। অর্থাৎ ৭৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৫ টাকা বঞ্চিত হয়েছে সরকার।




এনআরবিসি ও এবি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার অনুমোদন

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত দুই ব্যাংকের বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যাংক দুইটি হলো- এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (এনআরবিসি) ও এবি ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে এনআরবিসি বিদায়ী বছরে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আর এবি ব্যাংকের পর্ষদ শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

পর্ষদ ঘোষণার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করে এই ব্যাংক। কমিশন সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে দুটির। মঙ্গলবার (২৩ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই জানায়, এনআরবিসি পর্ষদ গত ২ মে বোর্ড সভায় জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে সাড়ে ৪ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

সেই সিদ্ধান্তের আলোকে বিএসইসিকে মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ বোনাস শেয়ার ছাড়ার জন্য আবেদন করে। কোম্পানির আবেদনের বিষয়ে সম্মতিপত্র বিএসইসি দিয়েছে। কোম্পানির রেকর্ড ডেট অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মে।

এবি ব্যাংকের পর্ষদ ডিএসইকে জানিয়েছে যে, পর্ষদ গত ২ এপ্রিল বোর্ড সভায় জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিএসইসির কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। বিএসইসি আবেদনের বিষয়ে সম্মতিপত্র দিয়েছে। কোম্পানির রেকর্ড ডেট আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠিত হবে।




 বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে ১.২৫ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৪ থেকে ১৮ মে) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ১.২৫ শতাংশ।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৫৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১৮ পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (৭ থেকে ১১ মে) ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩৬ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৩৫ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০১ পয়েন্ট বা ০.০৭ শতাংশ কমেছিল।




ডিএসইর রাজস্ব আদায় কমেছে ৩৩ শতাংশ

গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে ১১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ডিএসই সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) লেনদেনের ওপর কমিশন আয় থেকে ২৩৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা কর জমা দেওয়া হয়। আগের অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব জমার পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি ১২ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে সেপ্টেম্বর মাসে এনবিআরকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব জমা দেয় ডিএসই। ওই মাসে এনবিআরকে জমা দেওয়া হয় ৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর সবচেয়ে কম রাজস্ব জমা দেয় ফেব্রুয়ারি মাসে। এর পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দুই ধরনের শেয়ার কেনাবেচা থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে থাকে। প্রথমত, কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা আয়ের ওপর ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। আর দ্বিতীয়টি হলো, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচায় ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন আয়ের ওপর আরোপিত কর।

গত ১০ মাসে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বেচাকেনার আয় থেকে রাজস্ব দেওয়া হয় ৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ছিল ৬৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ খাত থেকে চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে ১১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ১৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময়ে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বেচাকেনা বেড়েছে।

অন্যদিকে একই সময়সীমায় শেয়ার বেচাকেনার ওপর কমিশন থেকে কর হিসেবে এনবিআর পেয়েছে ১৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২৮৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বছর ব্যবধানে ডিএসই এ খাত থেকে রাজস্ব আগের বছরের চেয়ে ১২৭ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ডিএসইতে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্য সদ্য সমাপ্ত মাস অর্থাৎ এপ্রিল মাসের হিসাব বলছে, ওই মাসে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বেচাকেনায় আয় থেকে রাজস্ব আদায় হয় ৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আর আগের বছর একই সময়ে এ খাত থেকে রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অন্যদিকে এপ্রিলে শেয়ার বেচাকেনার ওপর প্রাপ্ত কমিশন থেকে আয় কমেছে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে এপ্রিলে শেয়ার বেচাকেনার কমিশনের ওপর কর আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের এপ্রিলে ছিল ১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। গত এপ্রিল ডিএসইতে ১০ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়।




১০ কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১০টি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বুধবার (১০ মে) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ডেল্টা ব্রাক হাউজিং লিমিটেড ও বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.১৫ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.১৩ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০.৩৪ টাকায়।

প্রিমিয়ার ব্যাংক: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৪ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৫৯ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২.২৮ টাকায়।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৩ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৮২ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪.২৪ টাকায়।

পূবালী ব্যাংক: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৪ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৫৯ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৩.০৬ টাকায়।

ওয়ান ব্যাংক: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.২৮ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৪৩ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯.৩৪ টাকায়।

সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৭ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৯৫ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০.৮৫ টাকায়।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৭ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৮০ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭.৫২ টাকায়।

কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৩ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৫৯ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১.৩৪ টাকায়।

ডেল্টা ব্রাক হাউজিং: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৩৪ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১.৫৯ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪২.৩৪ টাকায়।

বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো: কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৮.৪৪ টাকা। এর আগের হিসাব বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৭.৭৩ টাকা। আর ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৪.৭১ টাকায়।




শেয়ারদর বাড়ার কারণ জানে না জেমিনি সি ফুড

কোনো প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই পুঁজিবাজারে খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে তালিকা কোম্পানি জেমিনি সি ফুড লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। উভয় পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই-সিএসই) এমন তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই ও সিএসই সম্প্রতি কোম্পানিটিকে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির জবাবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হযয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এভাবে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ আছিয়া সি ফুডস লিমিটেডের শেয়ারের দর ছিল ৪৪৩.৩০ টাকায়। আর ৫ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৫ টাকায়। আর ৬ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার ৭১৪.৮০ টাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। ১৫ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৭১.৫০ টাকা বা ৬১.২৪ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর জেমিনি সি ফুডের শেয়ারের লেনদেনের ক্ষেত্রে অস্বভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং গতিবিধি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গঠিত কমিটিকে এ আদেশ জারি হওয়ার ২০ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান ও সহকারী পরিচালক ফয়সাল ইসলাম।




মার্চে ডিএসই থেকে সরকার রাজস্ব পেল সাড়ে ১৭ কোটি টাকা

চলতি বছরের মার্চে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে ১৭ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ২৯২ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ২৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৯ টাকা।

অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সরকার ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, মার্চ জুড়ে টালমাটাল ছিল পুঁজিবাজার। বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতা না থাকায় বিদায়ী মাসে ডিএসইতে ৯ হাজার ৪০৬ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। সেখান থেকে লেনদেনের ওপর কমিশন বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৭ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ২৯২ টাকা।

ঠিক এক বছর আগে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছিল ১৮ হাজার ৫৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেখান থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৯ টাকা। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সরকার ডিএসইতে ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দুই ধরনের শেয়ার কেনাবেচা থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে। প্রথমটি হলো- কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা থেকে রাজস্ব আয়। দ্বিতীয়টি হলো- বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচায় ব্রোকারেজ হাউজের ওপর আরোপিত কর।

ডিএসইর তথ্য মতে, দুই ধরনের করের মধ্যে প্রথমটি হলো- ডিএসইর স্টেক হোল্ডারদের দৈনিক লেনদেনের ওপর দশমিক ০৫ শতাংশ কর। এ খাত থেকে মার্চে রাজস্ব আয় হয়েছে ৯ কোটি ২১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৮ টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬১ টাকা।

অন্যদিকে, বিএসইসি রুলস ৫৩-এম অনুসারে, স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার কেনাবেচা বাবদ লেনদেন ও শেয়ার হস্তান্তর থেকে ৫ শতাংশ হারে কর বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৪ টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯৮ টাকা।

এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছে।

এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইর রাজস্ব আয় ছিল ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬২ টাকা। সে হিসেবে মাসের ব্যবধানে ডিএসইর রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৭৩০ টাকা।




দুই ব্যাংকের বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই ব্যাংকের বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে সম্মতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্যাংক দুটি হলো—ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক।

সোমবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সঞ্জে (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বিএসইসির পাঠানো চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যাংক দুটিকে অবহিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংক ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ সাল সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ সাল সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

আইন অনুযায়ী, বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। তাই, বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর এই দুই কোম্পানি তা বিতরণে বিএসইসির সম্মতির জন্য আবেদন করে। বিএসইসি কোম্পানিটি দুটির বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে সম্মতি দিয়েছে।




দেশ গার্মেন্টসের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি দেশ গার্মেন্টসের ৫৯ হাজার ২৪টি শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করেছে টুটেলার অয়েল সার্ভিসেস কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

তথ্য মতে, টুটেলার অয়েল সার্ভিসেস কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিসেস রোকেয়া কাদের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর কাদের খান এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস বিদ্যা অমৃত খান দেশ গার্মেন্টস লিমিটেডের উদ্যোক্তা ও পরিচালক। কোম্পানিটির এই উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা দেশ গার্মেন্টস লিমিটেডের ৫৯ হাজার ২৪টি শেয়ার বর্তমান বাজার মূল্যে বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে পাবলিক মার্কেটে ২৯ হাজার শেয়ার এবং ব্লক মার্কেটে ৩০ হাজার ২৪টি বিক্রি করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের গত ৩০ জানুয়ারি টুটেলার অয়েল সার্ভিসেস কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিসেস রোকেয়া কাদের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর কাদের খান এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস বিদ্যা অমৃত খান দেশ গার্মেন্টস লিমিটেডের ৫৯ হাজার ২৪টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেন। উল্লেখিত পরিমাণ শেয়ার আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাবলিক ও ব্লক মার্কেটে বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়।




ডেল্টা ব্র্যাকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং লিমিটেডের (ডিবিএইচ) পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১.৫০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ মার্চ) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৮ মে বেলা সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ এপ্রিল।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৫.২১ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৫.৩৫ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।




সূচক পতন অব্যাহত, লেনদেন ৩০০ কোটির নিচে

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবারও (২৮ মার্চ) দরপতনের মধ্য দিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ১০ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে ৪৬ পয়েন্ট।

সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেন ও লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম। এর ফলে রজমানের প্রথম দুই কর্মদিবস পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলো। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দেশের পুঁজিবাজারে উত্থান হয়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরও দরপতন হতে পারে এই ভয়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আটকা পড়েছে। সব মিলে আস্থা ও তারল্য সংকটের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার।

ডিএসইর তথ্য মতে, আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রির চাপের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। এই চাপ অব্যাহত ছিল লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত। অবস্থা এমন হয়েছে যে, দেড় শতাধিক কোম্পানির শেয়ার কেনার কোনো ক্রেতাই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফলে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এতে লেনদেন হয়েছে ২৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমে ৩শ কোটির নিচে অবস্থান করছে।
এদিন প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরীয়াহ সূচক ৪ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই ৩০ সূচক ৪ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে মোট ২৮৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৮টি কোম্পানির। দাম কমেছে ৫৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ার। এরপর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনিক হোটেলের শেয়ার। আর তৃতীয় স্থানে ছিল রয়েল টিউলিপ সি পার্লের শেয়ার। তারপর যথাক্রমে রয়েছে আরডি ফুড, জেনেক্স ইনফোসিস, রূপালি লাইফ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, শাইনপুকুর সিরামিক, আলহাজ টেক্সটাইল লিমিটেড ও আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেডের শেয়ার।

অপর বাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৬ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ২৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে ১০১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯টির, কমেছে ৩৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮টির। দিন শেষে সিএসইতে ৪ কোটি ২২ লাখ ৫২ হাজার ৯৮২ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭ কোটি ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৮ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।




রোববার পুঁজিবাজার বন্ধ

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগামী রোববার (২৬ মার্চ) বন্ধ থাকবে দেশের পুঁজিবাজার। এদিন দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

সোমবার (২৭ মার্চ) থেকে স্বাভাবিক নিয়মে লেনদেন চলবে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে। বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রোববার দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। দেশ ও বিদেশে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে। এ কারণে এদিন দেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো পুঁজিবাজারও বন্ধ থাকবে।




ব্যাংক এশিয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। যার পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১.৫০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ মার্চ) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩০ এপ্রিল সকাল ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৬ এপ্রিল।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.২৬ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিলো ২.৩৪ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪.৪১ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিলো।




পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিতে কমপ্লায়েন্স অ্যাফেয়ার্স প্রোগ্রাম

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে কমপ্লায়েন্স অ্যাফেয়ার্স সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ প্রোগ্রামে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সচিব, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং ব্যবস্থপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) উপস্থিত থাকবেন।

সোমবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে ‘কমপ্লায়েন্স অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটের (বিএএসএম) ডাইরেক্টর জেনারেল এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর এ সংক্রান্ত বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কমপ্লায়েন্স অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে পোস্ট সার্টিফিকেট সভা আগামীকাল সোমবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান। সবাইকে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।




 দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন ডিএসইতে

দিনভর সূচক ওঠানামার মধ্যদিয়ে সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবস বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে। শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রির চাপে এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে দশমিক ৫৩ পয়েন্ট। তবে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়েছে দশমিক ২৮ পয়েন্ট।

সূচকের পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৫৭ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যা ১ মাস ২০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন। এর আগের চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

ডিএসইর তথ্যমতে, বুধবার বাজারটিতে ৩০৮টি প্রতিষ্ঠানের ৩ কোটি ৯০ লাখ ২২ হাজার ৯২৩টি শেয়ার ও ইউনিট কেনা-বেচা হয়েছে। এ কেনা-বেচা থেকে মোট লেনদেন হয়েছে ২৫৭ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের কর্মদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৩২৬ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারের, বিপরীতে কমেছে ১২০টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২১৮ পয়েন্টে।

ডিএসইএস শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- শাইনপুকুর সিরামিকস, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, রয়েল টিউলিপ সি পার্ল, জেমিনি সি ফুড, আমরা নেটওয়ার্কস, রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অ্যাপেক্স ফুটওয়ার লিমিটেড।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই দশমিক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৬০ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৬৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৯ টাকার শেয়ার।

সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৪৬টির ও ৫২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।