পাট শিল্পে করছাড় আরও ৩ বছর বাড়ানো হয়েছে

পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর করছাড় সুবিধা আরও তিন বছরের জন্য বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের আয়কর শাখা থেকে এ সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করা হয়। বুধবার (৮ নভেম্বর) এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন ২০২৩ এর ৭৬ ধারার ক্ষমতাবলে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের কেবল উক্ত শিল্প থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রযোজ্য আয়করের হার কোম্পানি করদাতার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং কোম্পানি ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর সুবিধার মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন। এরপর কোম্পানিগুলো এনবিআরকে এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে চিঠি দিয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে এমন আদেশ ইস্যু করা হয়েছে।

আয়কর আইনে বিশেষ সুবিধার বাইরে থাকা কোম্পানিকে তাদের মোট আয়ের ওপর খাত হিসেবে ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয়। প্রতি বছর তিনটি স্লাবে এ আয়কর নেয় এনবিআর। কিন্তু ওই আদেশের ফলে বর্তমান আইন অনুযায়ী খাত সংশ্লিষ্ট করদাতাকে পাট শিল্প থেকে প্রাপ্ত যেকোনো পরিমাণ আয়ে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

দেশে ৩০০টি পাটকল থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১২০টি পাটকল চালু রয়েছে। মিলগুলো ছাড়াও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের সাথে জড়িত ব্যক্তিরাও এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।




জাতীয় পাট পুরস্কার পাচ্ছেন ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য এবার ১১ ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, চাষি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে।

রোববার (০৫ মার্চ) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

মন্ত্রী বলেন, পাটক্ষেত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, প্রচলিত ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এবছর পাট দিবসে মোট ১১টি ক্যাটাগরিতে ১১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হবে। এছাড়া পাট সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের শুভেচ্ছা স্মারক দেয়া হবে।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- পাটবীজ, পাট ও পাটজাত পণ্যের গবেষণায় সেরা গবেষক ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদ আল হোসেন, সেরা পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষি ক্যাটাগরিতে কিশোরগঞ্জের আবু হানিফ, সেরা পাট উৎপাদনকারী চাষি পাবনার এনামুল হক, পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা প্রতিষ্ঠান (হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি) উত্তরা জুট ফাইবার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড।

এ তালিকায় আরও আছে-পণ্য রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান (হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি) জোবাইদা করিম জুট মিল মিলস লি., পাটের সুতা উৎপাদনকারী সেরা পাটকল হিসেবে আকিজ জুট মিলস লিমিটেড, পাটের সূতা রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনতা জুট মিলস লিমিটেড, বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা পাটকল হিসেবে সোনালি আঁশ লিমিটেড, বহুমুখী পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্রিয়েশন (প্রা.) লিমিটেড, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের সেরা মহিলা উদ্যোক্তা হিসেবে তরঙ্গ ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের সেরা পুরুষ উদ্যোক্তা হিসেবে গোল্ডেন জুট প্রোডাক্টকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ৯টি অ্যাসোসিয়েশন ও সমিতিতে সম্মাননা দেয়া হবে। সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাদেশ পাট চাষি সমিতি, বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লেমিনেটিং জুট ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি, বাংলাদেশ জুট গুডস্ এক্সপোর্টার্স এসাসিয়েশন (বিজেজিইএ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ), বাংলাদেশ জুট মিলস্ অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)।




পাটজাত পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি

পাটজাত পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (রপ্তানি-১) উপ-সচিব তানিয়া ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ এর অনুচ্ছেদ ৯.১২ অনুসারে ‘পাটজাত পণ্য’কে বর্ষপণ্য-২০২৩ (প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার-২০২৩) ঘোষণা করা হলো।

‘রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪’ এর ৯.১২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পণ্যভিত্তিক রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য প্রতিবছর একটি পণ্যকে ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ ঘোষণা অব্যাহত রাখা হবে।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি পাটজাত পণ্যকে ২০২৩ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাজধানীর পূর্বাচলে ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সে সময় তিনি বলেন, পাট একসময়ের সোনালি আঁশ আমাদের দেশের। পাটের চাহিদা কিন্তু কোনোদিন শেষ হবে না। পাটজাত পণ্য পরিবেশবান্ধব। আমরা পাটের জিনোম আবিষ্কার করতে পেরেছি। কাজেই এখান থেকে আমরা অনেক ধরনের পণ্য উৎপাদন করতে পারি। পাটের পাতা থেকে শুরু করে আঁশ, পাটখড়িও কাজে লাগে। পাটকে আমাদের এখন গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পাট ইন্ডাস্ট্রি যেগুলো সরকারি ছিল, সেগুলো আমরা এখন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। যারাই চাইবেন একটা করে ইন্ডাস্ট্রি নিতে পারেন। এখন যেটি আছে সেটিও চালু করতে পারেন। আবার সেখানে যে জায়গা আছে সেখানে মডার্ন ইন্ডাস্ট্রি করে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করতেও পারবেন। সারা বিশ্বেই পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বিরাট চাহিদা তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগটা নিতে হবে। এজন্যই এবার বাণিজ্যমেলায় পাটপণ্যকে বর্ষপণ্য ২০২৩ হিসেবে ঘোষণার কথা হয়েছে। আমি পাট ও পাটজাত পণ্যকে বর্ষপণ্য ২০২৩ হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি।