পাট নিয়ে বিপাকে মেহেরপুরের কৃষকরা

পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের কৃষকরা। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণ মাসের শুরুতেও জেলায় কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাতের দেখা নেই।

কিছু সময় হালকা বৃষ্টি হলেও তা পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়। আর সে কারণেই জেলার অধিকাংশ খাল-বিল, ডোবা এবং জলাশয়ে তেমন কোনো পানি নেই। আবার ভৈরব নদে পানি থাকলেও সেখানে পাট জাগ দেওয়ার অনুমতি নেই কৃষকদের।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে চাষ হয়েছে ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। এ বছর পাটের ফলনও আশানুরূপ হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকরা। কিন্তু আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

চাষিদের অনেকেই বৃষ্টিপাতের আশায় পাট কেটে জমির পাশে, কেউবা রাস্তার পাশে অথবা খাল-বিল বা ডোবার পাশে স্তূপ করে রেখে দিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে আবার খাল-বিল বা জলাশয়ের অল্প পানিতেই পাট পচানোর চেষ্টা করছেন। তবে অধিকাংশ চাষিকেই ডোবা কিংবা জলাশয়ে পাট জাগ দিয়ে পচানোর জন্য শ্যালোইঞ্জিনের দিয়ে পানি দিতে দেখা গেছে।

জেলার আলমপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, ৩ বিঘা জমিতে পাট রয়েছে। অন্য কোথাও পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। যেখানে জাগ দেওয়া হয় সে জায়গাতে পানি না থাকায় অন্য আবাদের জন্য চাষ করা হয়েছে। পাট নিয়ে মহা মুশকিলে রয়েছি আমরা।

গাংনী উপজেলার শিশিরপাড়া গ্রামের পাটচাষি মহিদুল ইসলাম, ও রমজান আলী বলেন, আড়াই বিঘা করে পাট চাষ করেছি। পানি না পেয়ে জমির পাট কেটে জমির পাশেই স্তুপ করে রেখে দিয়েছি। আশপাশের ডোবা-নালাতে পানি না থাকায় জাগ দিতে পারছি না। অন্যান্যবার পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি থাকায় ক্ষেতের পাশে রাস্তার ধারেই পাট জাগ দিতাম। কিন্তু এবছর বৃষ্টিপাত না থাকায় শিশিরপাড়া মাঠে আবাদকৃত প্রায় সব কৃষকই পাট নিয়ে বিপদে রয়েছেন।

আমঝুপির বানে মণ্ডল জানান, পাট জাগ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে জমি থেকে এখনও পাট কাটতে পারিনি। আবার জমিতে অন্য ফসল আবাদের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।

গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের কৃষক মিনাল হোসেন বলেন, মাঠে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় কর্তনও হয়েছে, কিন্তু পানির অভাবে পচাতে পারছি না। এখন দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের কৃষক সাফাতুল্লাহ ও রহমত আলী বলেন, খাল-বিল-পুকুর এমনকি জলাশয় কোথাও পানি নেই। মাঠ এখন শুকনো, তাই পাট কাটতে পারছি না।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, যেহেতু বৃষ্টিপাত নেই। অনেকেই শ্যালোইঞ্জিন কিংবা মটরের দ্বারা ডোবা,পুকুরে পানি জমিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। সে হিসেবে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া হলে অল্প জায়গায় বেশি পাট জাগ দেওয়া সম্ভব।




জাতীয় পাট পুরস্কার পাচ্ছেন ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য এবার ১১ ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, চাষি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে।

রোববার (০৫ মার্চ) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

মন্ত্রী বলেন, পাটক্ষেত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, প্রচলিত ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এবছর পাট দিবসে মোট ১১টি ক্যাটাগরিতে ১১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হবে। এছাড়া পাট সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের শুভেচ্ছা স্মারক দেয়া হবে।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- পাটবীজ, পাট ও পাটজাত পণ্যের গবেষণায় সেরা গবেষক ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদ আল হোসেন, সেরা পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষি ক্যাটাগরিতে কিশোরগঞ্জের আবু হানিফ, সেরা পাট উৎপাদনকারী চাষি পাবনার এনামুল হক, পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা প্রতিষ্ঠান (হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি) উত্তরা জুট ফাইবার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড।

এ তালিকায় আরও আছে-পণ্য রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান (হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি) জোবাইদা করিম জুট মিল মিলস লি., পাটের সুতা উৎপাদনকারী সেরা পাটকল হিসেবে আকিজ জুট মিলস লিমিটেড, পাটের সূতা রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনতা জুট মিলস লিমিটেড, বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা পাটকল হিসেবে সোনালি আঁশ লিমিটেড, বহুমুখী পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্রিয়েশন (প্রা.) লিমিটেড, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের সেরা মহিলা উদ্যোক্তা হিসেবে তরঙ্গ ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের সেরা পুরুষ উদ্যোক্তা হিসেবে গোল্ডেন জুট প্রোডাক্টকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ৯টি অ্যাসোসিয়েশন ও সমিতিতে সম্মাননা দেয়া হবে। সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাদেশ পাট চাষি সমিতি, বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লেমিনেটিং জুট ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি, বাংলাদেশ জুট গুডস্ এক্সপোর্টার্স এসাসিয়েশন (বিজেজিইএ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ), বাংলাদেশ জুট মিলস্ অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)।




পাটজাত পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি

পাটজাত পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (রপ্তানি-১) উপ-সচিব তানিয়া ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ এর অনুচ্ছেদ ৯.১২ অনুসারে ‘পাটজাত পণ্য’কে বর্ষপণ্য-২০২৩ (প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার-২০২৩) ঘোষণা করা হলো।

‘রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪’ এর ৯.১২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পণ্যভিত্তিক রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য প্রতিবছর একটি পণ্যকে ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ ঘোষণা অব্যাহত রাখা হবে।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি পাটজাত পণ্যকে ২০২৩ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাজধানীর পূর্বাচলে ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সে সময় তিনি বলেন, পাট একসময়ের সোনালি আঁশ আমাদের দেশের। পাটের চাহিদা কিন্তু কোনোদিন শেষ হবে না। পাটজাত পণ্য পরিবেশবান্ধব। আমরা পাটের জিনোম আবিষ্কার করতে পেরেছি। কাজেই এখান থেকে আমরা অনেক ধরনের পণ্য উৎপাদন করতে পারি। পাটের পাতা থেকে শুরু করে আঁশ, পাটখড়িও কাজে লাগে। পাটকে আমাদের এখন গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পাট ইন্ডাস্ট্রি যেগুলো সরকারি ছিল, সেগুলো আমরা এখন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। যারাই চাইবেন একটা করে ইন্ডাস্ট্রি নিতে পারেন। এখন যেটি আছে সেটিও চালু করতে পারেন। আবার সেখানে যে জায়গা আছে সেখানে মডার্ন ইন্ডাস্ট্রি করে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করতেও পারবেন। সারা বিশ্বেই পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বিরাট চাহিদা তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগটা নিতে হবে। এজন্যই এবার বাণিজ্যমেলায় পাটপণ্যকে বর্ষপণ্য ২০২৩ হিসেবে ঘোষণার কথা হয়েছে। আমি পাট ও পাটজাত পণ্যকে বর্ষপণ্য ২০২৩ হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি।




সাপ্তাহিক রিটার্নে ১১ খাতের দর বেড়েছে

বিদায়ী সপ্তাহে (২৬ ফেব্রুয়ারি’২৩-০২ মার্চ’২৩) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২০ খাতের মধ্যে ১১ খাতের শেয়ার দর বেড়েছে। দর বাড়াতে এই ১১ খাতের বিনিয়োগকারীরা সাপ্তাহিক রিটার্নে মুনাফায় রয়েছেন। খাতগুলো হলো- বস্ত্র, সাধারণ বিমা, জীবন বিমা, পেপার ও প্রিন্টিং, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রকৌশল খাত, চামড়া খাত, সেবা ও আবাসন, সিরামিক এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক। একই সময়ে ৭ খাতের শেয়ারদর কমেছে। দর কমাতে ৭ খাতের বিনিয়োগকারীরা সাপ্তাহিক রিটার্নে লোকসানে রয়েছেন। খাতগুলো হলো- ওষুধ ও রসায়ন, পাট, সিমেন্ট, বিবিধ, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং চামড়া খাত। একই সময়ে ২ খাতের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এগুলো হলে- ব্যাংক ও টেলিকমিউনিকেশন খাত। লংকাবাংলা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি মুনাফায় রয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীরা। এই খাতের বিনিয়োগকারীরা মুনাফা হয়েছে ৭.৮২ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা হয়েছে জীবন বীমা খাতের বিনিয়োগকারীদের। এই খাতের বিনিয়োগকারীদের মুনাফা হয়েছে ৩.৩২ শতাংশ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ মুনাফায় রয়েছে সাধারণ বীমা খাতের বিনিয়োগকারীরা। এই খাতের বিনিয়োগকারীদের মুনাফা হয়েছে ১.২৬ শতাংশ।

 

এছাড়া, সাপ্তাহিক রিটার্নে মুনাফায় থাকা অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে- সিরামিক খাতে ০.৫৩ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ০.০৩ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ০.১১ শতাংশ, বিদ্যুত ও জ¦ালানি খাতে ০.০২ শতাংশ, পেপার ও প্রকাশনা খাতে ০.৭৪ শতাংশ, সেবা ও আবাসন খাতে ০.৪৩ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ০.৪০১ শতাংশ এবং চামড়া খাতে ১.০৮ শতাংশ।

এদিকে, সাপ্তাহিক খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসানে রয়েছেন পাট খাতের বিনিয়োগকারীরা। এই খাতের বিনিয়োগকারীরা লোকসানে রয়েছে ৩.১৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লোকসান হয়েছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। এ খাতে দর কমেছে ২.৫৮ শতাংশ। এছাড়া, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ০.৩৩ শতাংশ, আর্থিক খাতে ০.২৪ শতাংশ, বিবিধ খাতে ০.২২ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ০.১০ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ০.০৩ শতাংশ দর কমেছে।