উজবেকিস্তানকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য উজবেকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকেল মন্ত্রণালয়ে উজবেকিস্তানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাখরম অ্যালোয়েভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

এছাড়া বাংলাদেশ-উজবেকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাত সম্প্রসারণে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট পরিষেবা চালু করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এসময় টিপু মুনশি বলেন, উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতের বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করেছেন। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনা প্যাকেজ ও সুবিধা ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উজবেক বিনিয়োগকারীদের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং ভিসা সহজিকরণ হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা সফর করে বিনিয়োগের ক্ষেত্র বের করতে পারবেন। সরকার টু সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক সুবিধার জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাখরম অ্যালোয়েভ সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে তার সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আগামী আগস্ট মাসে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠাতব্য ‘ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিশন’ যোগদান করবে। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই সফরে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল থাকবেন বলেও জানানো হয়।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে উজবেকিস্তান সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করেন। তারপর থেকেই বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান অত্যন্ত দৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। কালের পরিক্রমায় এ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

২০১৯ ও ২০২২ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে তার তাসখান্দ সফরে আতিথেয়তার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন উজবেকিস্তান বিশ্বের মাত্র দুটি দ্বি-ভূমিবেষ্টিত দেশের মধ্যে একটি। এটি প্রাচীন সিল্ক রুটের ওপর অবস্থিত। দেশটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রধান উন্নত দেশসহ ১৫২টিরও বেশি দেশে ‍ওষুধ রপ্তানি করছে। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য এবং জেনেরিক ওষুধ আমদানি ছাড়াও তৈরি পোশাক, পাট, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ, সিরামিক পণ্য, আইসিটি পণ্য, হস্তশিল্প, চামড়া কৃষি, টাটকা ফল, শাকসবজি এবং কৃষি-যন্ত্র দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার বিশাল সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে, উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের দেশে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সব সূচকে সাফল্য অর্জন করেছে। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য বিশ্বে সুনাম ধরে রেখেছে। এসময় তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের উজবেকিস্তানে বিনিয়োগের আ্বান জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বন্ধত্বপূর্ণ এবং দৃঢ় অবস্থানে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৬.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির বিপরীতে উজবেকিস্তান থেকে ৮.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানি করে।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পর্যটন খাতের উন্নয়নে ২৫ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের দাবি

পর্যটন খাতের উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত পর্যটন জোট।

শনিবার (১৩ মে) পর্যটনবান্ধব জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সম্মিলিত পর্যটন জোট।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদারের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি ড. মো. আবু তারিক, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির, ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রিয়াব) সভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদ, প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেলস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (পাটা) সেক্রেটারি তৌফিক রহমান, ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলার্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট তৌহিদা সুলতানা রুনু প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় পর্যটন খাতের উন্নয়নে সম্মিলিত পর্যটন জোটের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলো

অপ্রদর্শিত অর্থ পর্যটন খাতে অবাধ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া; নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, উপকূলীয় পর্যটন এলাকার উন্নয়ন ও দুর্যোগে প্রান্তিক জনপদের পর্যটন ব্যবসায়ীদের রক্ষায় কল্যাণ তহবিল গঠনসহ পর্যটন খাতের উন্নয়নে কমপক্ষে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া; পর্যটন শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া; পর্যটন রপ্তানিতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ইনসেন্টিভ দেওয়া; পর্যটনের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্যাট-ট্যাক্স পুনঃ নির্ধারণ করা; বিদেশি পর্যটকদের জন্য ট্যুরিজম জোন ও আন্তর্জাতিক মানের সুবিধাদি দেওয়া; বিনিয়োগে নিরাপত্তা প্রদানে আপদকালীন গঠন ও তার প্রাপ্তি স্বত্ব সহজতর করা; পর্যটন সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ও অন্যান্য সুবিধার জন্য বরাদ্দ দেওয়া; পৃথক পর্যটন মন্ত্রণালয় গঠন করা; কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটনকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া।