উপজেলা নয়, আগামীতে জেলাভিত্তিক প্রকল্প নেওয়া হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

আগামীতে উপজেলাভিত্তিক প্রকল্প থেকে সরে এসে জেলাভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়নে সরকার গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম।

দেশে চলমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়াচ্ছে না সরকার। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে মোট বরাদ্দ থাকছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় মাত্র দুই হাজার কোটি টাকা বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) নগরীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেখা যায় অনেক উপজেলায় একাধিক প্রকল্প, আবার অনেক উপজেলা অবহেলিত থাকে। এটা বন্ধ করতেই জেলাভিত্তিক প্রকল্প হাতে নেবো যাতে উন্নয়ন সমভাবে বণ্টন হয়।

তিনি আরও বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা নানান সময়ে বিদেশে প্রশিক্ষণে যান, সেখান থেকে ফেরার পর তাদের প্রশিক্ষণের ধরন অনুযায়ী প্রকল্পে নিয়োগের অনুশাসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার বলেন, চলতি অর্থবছরে ৩০ জুনের মধ্যে ৩৫৬টি প্রকল্প শেষ হবে যা এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। কোনো চিকিৎসক প্রকল্প পরিচালক হলে তাকে আলাদা প্রশিক্ষণ দিতে এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন।




পেনশন স্কিম থেকে ঋণ নেবে সরকার : পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সরকার উন্নয়ন কাজের জন্য পেনশন স্কিম থেকে ঋণ নেবে। এর ফলে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমবে।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর এফডিসিতে পেনশন স্কিম নিয়ে ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট’ শিরোনামে এক ছায়া সংসদ বিতর্কে তিনি এ কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কাজে সরকার বৈদেশিক এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নেয়। পেনশন স্কিম চালুর ফলে ঋণ নেওয়ার আরও একটি উৎস যোগ হয়েছে। এতে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া কমে আসবে।

তিনি বলেন, পেনশন স্কিমে অংশ নিলে সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা বন্ধ হবে– এই শর্ত পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বড় প্রকল্পের কারণে বর্তমানে দেশে অনেক অর্থের প্রবাহ রয়েছে। এ কারণে দুর্নীতিও বাড়ছে। এদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ছায়া সংসদের আলোচনায় শ্রমজীবী মানুষের জন্য টানা ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি শিথিল করার পক্ষে মত দেন বক্তারা। এছাড়া চাঁদা প্রদানকারী নিখোঁজ হলে নমিনির পেনশনের অর্থ বুঝে পাওয়ার মেয়াদ তিন বছর করাসহ ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন তারা। দুর্নীতির কারণে পেনশন স্কিম যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়টিও উঠে আসে বিতর্ক প্রতিযোগিতায়।




দেশে ৪-৫ শতাংশ মানুষ অসহনীয় দরিদ্রতায় রয়েছে : পরিকল্পনামন্ত্রী

দেশে এখনো ৪ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ অসহনীয় দরিদ্রতার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, এই অসহনীয় দরিদ্রতা কমানোর লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

রোববার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে আয়োজিত সেভ দ্যা চিলড্রেন আয়োজিত সূচনা প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার উদার নীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে। সরকার সবার উন্নয়নের জন্য কাজ করে। দেশ আগের তুলনায় অনেক দরিদ্রতা কমেছে। সামনের দিনে আরও কমবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কমিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দেশে দারিদ্র্য মানুষ আছে তা ঠিক, কিন্তু এখন সেই সংখ্যা দিন দিন কমছে। এখন কেউ না খেয়ে মরে না। সরকার শহর গ্রামে খাবার পানি, উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। আগের তুলনায় স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

এম এ মান্নান বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য একটানা কাজ করা প্রয়োজন। সরকার সেই কাজটাই করছে। দেশে এখনো ৪ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ অসহনীয় দরিদ্রতার মধ্যে রয়েছে। সরকার সেটা কমানোর লক্ষ্যে এখন কাজ করছে। দেশে বৈষম্য আছে, কথাটি সত্য অনেকে বলছে দেশে বৈষম্য বেড়েছে। আসলে এই বৈষম্যের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে শিক্ষা ও সম্পদ। যারা আগে থেকেই শিক্ষাতে এগিয়ে তারাই পরবর্তী সময়ে সম্পদের মালিক হয়েছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তবে ভালো কাজের জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। ক্ষমতার জন্য নয়, ভালো কাজের জন্য কৌশলের মতভেদ থাকা উচিত নয়। আমার মনে হয় মানুষ এখন উন্নয়নে আগ্রহী। মানুষ এখন এক গ্লাস গণতন্ত্র নয়, তারা এক গ্লাস উন্নয়ন চায়। আমাদের গণতন্ত্রের চেয়ে খাবার, ওষুধ-টয়লেট বেশি জরুরি।




বাজেটে সাত প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা দাবি ডিএসইর

নতুন অর্থবছরের (২০২৩-২৪) বাজেটে সাতটি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা দাবি জানিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবগুলো এরই মধ্যে পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পরিকল্পনামন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি ও তথ্য জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মদ হাসান বাবু। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, রুবাবা দৌলাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, সরকার হয়তো এবার আমাদের পুঁজিবাজারে করারোপ করেননি। তবে, অমাদের কিছু চাহিদা ছিল, সেটার বিষয়ে দৃষ্টি দেননি। এ বিষয়েও পরিকল্পনামন্ত্রী গত রোববার তার বক্তব্যে বলেছেন। আমাদের পুঁজিবাজার অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল উপকরণ। তাই আমাদের সাতটি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, একটি কার্যকরী বন্ড বাজার অর্থনীতিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে। যদি সব ধরনের বন্ডের সুদ অব্যাহতির আওতায় আনা যায় তখন একটি শক্তিশালী বন্ড বাজার সৃষ্টিতে উৎসাহিত করবে। কোম্পানিগুলো কর-পরবর্তী মুনাফা থেকে লভ্যাংশ দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে লভ্যাংশের ওপর কর এক ধরনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের করারোপ। লভ্যাংশের ওপর উৎসকর চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচিত হলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে৷

‘ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির প্রধান আয় (টার্ন-ওভার) হচ্ছে কমিশন। যদি বেশি হারে কর নেওয়া হয় তবে ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির পক্ষে টিকে থাকা এবং পুঁজিবাজারে অবদান রাখা কঠিন হবে। তাই ট্রেকহোল্ডারদের লেনদেনের উপর উৎসে কর ০.০৫ থেকে কমিয়ে ০.০১৫ শতাংশ করা যেতে পারে’ বলেন অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মদ হাসান বাবু।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর হারের পার্থক্য ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এছাড়া এসএমই বোর্ডের অধীনে তালিকাভুক্ত এসএমই কোম্পানির করপোরেট কর হার ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের পার্থক্য নূন্যতম ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

‘এতে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার হ্রাস করতে হবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত উভয় কোম্পানির ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার হ্রাস করে ১০ শতাংশ করার সুপারিশ করছি’- যোগ করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য উন্নত দেশের পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানিকে তাদের মোট শেয়ারের নূন্যতম ১০ শতাংশ তালিকাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় সেই সকল কোম্পানি সেই দেশে ব্যবসা করার অনুমতি পায় না। তাই আমাদের দেশেও পুঁজিবাজারের উন্নয়নকল্পে এইরূপ আইন প্রণয়ন করা এবং তার প্রয়োগ জরুরি।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিএসই হবে অত্যন্ত টেকনোলজি নির্ভর। ডিএসই হওয়া দরকার সম্পূর্ণ পেপার লেস। আমি অল্প কিছুদিন হলো দায়িত্ব পেয়েছি তাই সব কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে খুব শীঘ্রই আমরা কাজ শুরু করবো। ডিএসইকে আমরা আইটি খাতে সমৃদ্ধ করবো। এটাকে আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিব। পুঁজিবাজার সাধারণ মানুষের বাজার। এটা গণ মানুষের বাজার। যেখানে তাদের রুজির জায়গা। এই বাজারে সরকারের সুদৃষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছি। এর মাধ্যমে এই বাজেট জনগণের বাজেট হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মানুষ পুঁজিবাজার বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। তবে অনেকে পরিবেশের অপেক্ষায় আছে, আবার এই বাজারে ফিরে আসতে। বিশ্বে পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির গতি বাড়ানোর ওপর কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ব্যাংক নির্ভরতায় পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমানের যে অবস্থা সেটা বেশি দিন থাকবে না। এই সমস্যা পার হয়ে যাবে। এই পুঁজিবাজার হবে সরকারের অর্থ সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম। তাই আমাদের সবাইকে এক হয় কাজ করতে হবে। তবেই এই বাজারের সফলতা সম্ভব।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অনেকগুলো পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হলো আমরা জাপানি বিনিয়োগ আনতে কাজ করছি। আপনারা আশাহত হবেন না। কাজগুলো অগ্রগতিতে দেরি হচ্ছে তবে অপেক্ষা করলে আমরা ভালো কিছু পেতে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা সুন্দর একটা পুঁজিবাজার পাবো। এছাড়াও এ বাজারের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা অনেক। যা পেতে সাধারণ মানুষ মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমানের যে অবস্থা সেটা বেশি দিন থাকবে না। এই সমস্যা পার হয়ে যাবে। এই পুঁজিবাজার হবে সরকারের অর্থ সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম। তাই আমাদের সবাইকে এক হয় কাজ করতে হবে। তবেই এই বাজারের সফলতা সম্ভব।

ডিএসইর সাত প্রস্তাব
>> বন্ড থেকে সুদের আয়ের ওপর কর অব্যাহতি দেওয়া।
>> কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তিমূলক কর হিসেবে বিবেচনা করা।
>> স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের ওপর অর্পিত উৎসে কর হার হ্রাস।
>> এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার হ্রাস করা।
>> এক্সচেঞ্জের এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য হ্রাসকৃত হারে কর আরোপ।
>> তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার হ্রাস করা।
>> বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহিত করা।