সচিবালয়ে ঈদের আমেজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাঁচদিন ছুটির পর রোববার খুলেছে সরকারি অফিস। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। প্রথম কর্মদিবসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা সচিবালয়ে এসেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।

বেলা ১১টার আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। নিজ দপ্তরে ১১টা ১০ মিনিটের দিকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় তাকে। উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোলাকুলিও করেন প্রতিমন্ত্রী।

ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ের বারান্দা, সিঁড়ি, লিফট, সর্বত্রই ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় চলছে। কেউ কেউ একে অপরকে জড়িয়ে কোলাকুলি করছেন। ভেদাভেদ নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সিঁড়ি ও ফ্লোরগুলো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করছেন।

গত ২৯ জুন সারাদেশে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজতা উদযাপিত হয়েছে। এই ঈদ উপলক্ষে ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন (বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার) ছুটি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সরকার একদিন ছুটি বাড়িয়ে দেয়, ২৭ জুন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এতে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি মেলে চারদিন। সরকারি ছুটি শেষে ১ জুলাই পড়ে শনিবার। ফলে আরও একদিন ছুটি মেলে সরকারি চাকরিজীবীদের। এতে টানা পাঁচদিন ছুটি পান তারা। দূর-দূরান্তে গ্রামের বাড়ি ঈদ উদযাপন করতে যাওয়ায় কেউ কেউ রোববার অফিসে যোগ দেননি। তারা আরও দু’একদিন ছুটি নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ গ্রাম থেকে ব্যাগ নিয়ে সোজা অফিসে চলে এসেছেন।

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে উপস্থিতি কম। কোনো কোনো ফ্লোরে নিরাপত্তাকর্মীদের ও দেখা যায়নি।

কোনো কোনো কক্ষে চেয়ার টেবিল ফাঁকা। যারাও এসেছেন কাজে-কর্মে ছিল অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাব। উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূলত পারস্পরিক খোঁজ-খবর ও শুভেচ্ছা বিনিময়েই ব্যস্ত ছিলেন। বিভিন্ন ভবনের লিফটগুলোর সামনে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। গাড়ি রাখার স্থানগুলোতেও গাড়ির সংখ্যা কম দেখা গেছে।

সকাল ১০টার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে গাড়ি রাখার স্থানে কয়েকজনকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন।

এদের একজন বলেন, আমরা মুসলমান। ঈদ চলে গেছে তাতে কি। ঈদের পর আজ প্রথম দেখা তাই কোলাকুলি করছি। কোলাকুলি করলে একজনের সঙ্গে আর একজনের হৃদ্রতা বাড়ে।

স্থানীয় সরকার বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিত বেশ কম। একজন পিয়নকে করিডরে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আজ উপস্থিতি অনেক কম। অর্ধেকের মতো এসেছে। অনেক ঈদের ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি নিয়েছেন। তারা আজ অফিসে আসেননি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়েও উপস্থিত বেশ কম দেখা যায়। অর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের পর আজ প্রথম কার্যদিবস। অনেকে ঈদের ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি নিয়েছেন। তারা আজ আসেননি। আমার ধারণা আজ ৫০ শতাংশের মতো কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত আছেন। সব মন্ত্রণালয়েই একই অবস্থা। এই সপ্তাহটি উপস্থিতি কমই থাকবে। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ে, কৃষি মন্ত্রণালয়েও কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মী বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের অর্ধেকের মতো কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছুটিতে আছেন। আজ যেসব স্যারেরা এসেছে, তারা অফিসে এসে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।




সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস আজ

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস আজ (সোমবার)। কর্মদিবস শেষ করে মোট ৫ দিন ছুটিতে যাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

অন্য পেশার মানুষের ঈদের ছুটি শুরু হলেও মূলত আজ অফিস শেষে ছুটি মিলবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। অফিস শেষে বাড়ি ফিরতে শুরু করবেন অনেকে। ঈদের পর আগামী ২ জুলাই (রোববার) খোলা হবে সরকারি অফিস।

২০২৩ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ঈদুল আজহার নির্ধারিত সরকারি ছুটি ছিল। তবে এই ছুটি ২৭ জুন থেকে দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। এর ফলে আগামী ২৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত থাকবে ঈদের ছুটি। পরদিন ১ জুলাই (শনিবার) থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি। সে হিসেবে মোট ৫ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

গত ১৯ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, মানুষ ঈদুল আজহা যাতে সুষ্ঠুভাবে উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী আদেশে ছুটির অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঈদের আগে সাধারণত একদিন ছুটি থাকে। একদিন ছুটি থাকলে সবাই একসঙ্গে রওয়ানা করে। গত ঈদে আমরা একদিন বাড়তি ছুটি দিয়েছিলাম, দেখেছি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ঠিক থাকে। গত ঈদে দেখেছেন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাটা ভালোভাবে করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে সবাই সুন্দরভাবে বাড়ি যেতে পারেন। সেজন্য সবাইকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন ।

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সর্বশেষ গত ঈদুল ফিতরে একদিন ছুটি বাড়ানোর অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। রমজান মাস ২৯ দিন ধরে ২২ এপ্রিল (শনিবার) ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করে ছুটির তালিকা তৈরি করা হয়। সে অনুযায়ী ২১, ২২ ও ২৩ এপ্রিল (শুক্র, শনি ও রোববার) ঈদের ছুটি ছিল। তার আগে ১৯ এপ্রিল (বুধবার) ছিল শবে কদরের ছুটি। মাঝে ২০ তারিখ ছুটি ঘোষণা করায় ১৯ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত টানা ৫দিন ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।




১২ জুনের মধ্যে পরিচালন-উন্নয়ন বাজেটের অর্থ ছাড়ের নির্দেশনা

চলতি অর্থবছরের শেষ তিন কর্মদিবস (২৮ থেকে ৩০ জুন) পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় সরকারি অফিস বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় অর্থ অবমুক্তির সময়সীমা, জুন মাসের ব্যয় বিল দাখিলের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১২ জুনের মধ্যে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় অর্থ অবমুক্তির (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) করতে হবে। অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু দাইয়ান মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় সই করেছেন সোমবার (১৫ মে)। আর মঙ্গলবার (১৬ মে) নির্দশনাটি প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়েছে, অর্থবছরের শেষদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর/সংস্থা কর্তৃক দাখিল করা নিয়মিত বিল ও ফেরত বিলসমূহের ওপর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক পূর্ব-নিরীক্ষার কাজ সুষ্ঠু ও যথাযথাভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অর্থবছরের শেষে ব্যয় বিল দাখিল, বিল নিষ্পত্তি ও চেক ইস্যুর ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়েছে, চলমান ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ তিন কর্মদিবস ২৮ থেকে ৩০ জুন পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় সরকারি অফিস বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক প্রেক্ষাপটে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যয় বিল দাখিল, বিল নিষ্পত্তি ও চেক ইস্যুর ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়।

>> পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় অর্থ অবমুক্তির (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সময়সীমা ১২ জুন।

>> পরিচালন ও উন্নয়ন উভয় খাতে নতুন ব্যয় বিল দাখিলের সর্বশেষ তারিখ ১৪ জুন।

>> পরিচালন ও উন্নয়ন উভয় খাতে ফেরত বিল দাখিলের সর্বশেষ তারিখ ২০ জুন।

>> পরিচালন ও উন্নয়ন উভয় বাজেটের আওতায় বিল নিষ্পত্তি ও চিক ইস্যুর সর্বশেষ তারিখ ২৫ জুন।

>> যেসব ক্ষেত্রে চলতি বছরের ২৭ জুন তারিখের মধ্যে আমদানি ও মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না সেক্ষেত্রে অসুবিধার কারণ, চলতি অর্থবছরে স্থাপিত এলসি’র বিপরীতে আগামী অর্থবছরে পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ প্রভৃতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে ২০ জুনের মধ্যে।

>> বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কোন আমদানি এলসি স্থাপন কিংবা নিষ্পত্তির সর্বশেষ তারিখ ২৫ জুন।