পদ্মা সেতু এলাকা থেকে ‘মিলবে’ ৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়ার ফাঁকা স্থান কাজে লাগিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ছয় মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বেসরকারি কোম্পানি ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড।

রোববার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও ওমেরা রিনিউয়েবলের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে বলে সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস ও ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের নির্দেশনার আলোকে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উপদেষ্টার নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড-ইডকলের একটি টিম পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়ার ছাদে সৌরশক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে একটি সমীক্ষা চালায়।

সমীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ এ এক হাজার ৯৬৬ কিলোওয়াট, সার্ভিস এরিয়া-২ এ ২ হাজার ৯৪৮ কিলোওয়াট এবং সার্ভিস এরিয়া-৩ এ এক হাজার ১১৯ কিলোওয়াট অর্থাৎ মোট ৬ হাজার ৩৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
এই সক্ষমতা ধরে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওমেরা রিনিউয়েবলের ২৩ কোটি ৫৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭ টাকা মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুসারে আগামী ছয় মাসের মধ্যে (১৪ মার্চ ২০২৬) কাজটি সম্পন্ন হবে।

বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।




পদ্মা সেতু থেকে ১ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকার টোল আদায় : সেতুমন্ত্রী

২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২৪ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত ২ বছরে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ কোটি ২৭ লাখ যানবাহন পারাপার হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৮ কোটির টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে সেতু ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে তিনি সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড মিটিংয়ে যোগদান করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করছি। ২১টি জেলার ৩ কোটি মানুষ সুবিধা ভোগ করছে। ৬ কিস্তিতে এখন পর্যন্ত ৯৪৮ কোটি টাকা অর্থ বিভাগকে পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী ২৭ জুন ৭ম কিস্তির ৩১৪ কোটি টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে অর্থ বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অনেক প্রতীক্ষিত। ২ বছর আগে পদ্মা নদীর ওপর পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসে নিজ অর্থায়নে এই পদ্মা সেতু করা হয়েছে।

আগামী ২৭ জুন গণভবনে সেতু তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাতের সময় দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।




পদ্মা সেতুর নদীশাসনে ৬০০ কোটি টাকা চেয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়

পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসনে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দ চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৪ মে) পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা যায় এ তথ্য।

এরমধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অনুমোদিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) বরাদ্দ করা ফিজিক্যাল কন্টাজেন্সি খাত থেকে ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রাইজ কন্টাজেন্সি খাত থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি ৩০ জুন শেষ হবে। এ লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তের কার্যক্রম চলমান। প্রকল্পের অনুমোদিত তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপির অর্থের ফিজিক্যাল কন্টাজেন্সি এবং প্রাইজ কন্টাজেন্সি খাত থেকে অর্থ স্থানান্তর অর্থাৎ আন্তঃখাত সমন্বয় করে নদীশাসন খাতে ব্যয়ের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী মোট ব্যয় ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। নদীশাসন কাজের সংশোধিত চুক্তি মূল্য ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া নদীশাসন কাজের ঠিকাদারের অনিষ্পন্ন কাজের পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকা, যা পরামর্শকের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান।




পদ্মা সেতুতে ৫ দিনে সাড়ে ১৪ কোটি টাকার বেশি টোল আদায়

এবার ঈদের ছুটিতে গত ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ দিনে পদ্মা সেতুতে ৪৬ হাজার ৫৫৩ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে সেতুর মাওয়া এবং জাজিরা প্রান্তে টোল আদায় করা হয়েছে ১৪ কোটি ৬০ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৯ এপ্রিল ৩০ হাজার ৩৩০টি, ১০ এপ্রিল ১৭ হাজার ৫০৫টি, ১১ এপ্রিল ১১ হাজার ১৯৪টি, ১২ এপ্রিল ১৫ হাজার ৮৮৩টি এবং ১৩ এপ্রিল ১২ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন পদ্মা সেতু পার হয়েছে। এতে এ প্রান্ত দিয়ে এ পাঁচ দিনে টোল আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৮ হাজার ৫৫০ টাকা।

অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ৫ দিনে যথাক্রমে ৯ এপ্রিল ১৪ হাজার ৮৭৪টি, ১০ এপ্রিল ৮ হাজার ৫১০টি, ১১ এপ্রিল ৭ হাজার ৪৬৫টি, ১২ এপ্রিল ১২ হাজার ১০০টি এবং ১৩ এপ্রিল ১৫ হাজার ৫৯৬টি যানবাহন পদ্মাসেতু পার হয়েছে। এতে এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে মোট ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টাকা।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক আমিরুল হায়দার চৌধুরী জানান, এবার ঈদযাত্রায় ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত ৫ দিনে ১৪ কোটি টাকার উপরে টোল আদায় হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




ট্রেনে কক্সবাজার থেকে যাওয়া যাবে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে: রেলসচিব

কক্সবাজার থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ট্রেনে করে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের সঙ্গে শুধু ঢাকা নয়, পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গেও এ রেলপথ যুক্ত হবে।

শনিবার (১১ নভেম্বর) দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সচিব।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরও সংযুক্ত হবে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমের জন্য এ প্রকল্পের আওতায় ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের পাশের অস্থায়ী সভামঞ্চে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ৫ মিনিট আগে সড়কপথে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে যান। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রী।

১৮৯০ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রথম পরিকল্পনা করা হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের (সাবেক বার্মা) আকিয়াব বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের। তারপর ১৯১৭ থেকে ১৯২১ সালে চট্টগ্রাম-দোহাজারী পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হয়।

কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে পরিকল্পনা অনুসারে কক্সবাজার পর্যন্ত বাকি অংশে রেলপথ তৈরি হয়নি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেলপথ স্থাপনের জন্য ২০১০ সালে প্রথম প্রকল্প নেওয়া হয়।




দক্ষিণে রেলের শুভ সূচনা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু ছিলো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্নের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি উৎসব আর আনন্দে ভাসছে এই অঞ্চলের মানুষ। স্বপ্নের পদ্মা সেতু পার হয়ে এবার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যাত্রী করে আনুষ্ঠানিকভাবে রেল চললো দক্ষিণে। বলা যায় দক্ষিণে রেলের শুভ প্রবেশ ঘটলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রেলে ওঠেন। তাকে নিয়ে ভাঙার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে রেল ১২টা ৫৯ মিনিটে। এর আগে মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন। দুপুর ২টায় তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে বক্তব্য রাখবেন।

মাওয়া-ভাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাসহ আশপাশের জেলা উপজেলাতেও বইছে উৎসবের আমেজ। সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে বইছে রেল উদ্বোধন এবং দলীয় নেত্রীর আগমনে আনন্দের উচ্ছ্বাস। তার আগমনকে সামনে রেখে ভাঙ্গাজুড়ে শুরু হয়েছে সাজ সাজ রব।

ঢাকা-ভাঙা যে অংশের প্রাথমিকভাবে রেল সংযোগ চলবে সেটি যশোর বেনাপোল পর্যন্ত যাবে। মোংলা বন্দরকে যুক্ত করায় সদ্য চালু হওয়া এই রেলপথ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে জানান রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসবো। রেলওয়ে সেক্টরের উন্নয়ন বিগত বিএনপি সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনটি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিশেষ ট্রেনে পদ্মা সেতু পার হবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেল ট্র্যাক নির্মাণ করছে। এর ৮২ কিলোমিটার অংশ ঢাকা ও ভাঙ্গাকে সংযুক্ত করে আগামীকাল খুলে দেওয়া হবে এবং এর যশোর সংযোগকারী অবশিষ্ট অংশটি আগামী বছরের জুনে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত বছরের জুনে যুগান্তকারী পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এক বছর দুই মাস পর পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেল সার্ভিস উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে বিশেষ ট্রেনের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়।

এর আগে, পদ্মা সেতুতে পাথরহীন রেললাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর গত ৪ এপ্রিল ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পর্যন্ত ট্রায়াল ট্রেন চালায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ঢাকা ও যশোরের মধ্যে রেল সংযোগ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯,২৪৬.৮০ কোটি টাকা। এতে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২১,০৩৬.৭০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।

প্রকল্পের বিশদ বিবরণে বলা হয়েছে, সমাপ্ত হওয়ার পর, রেল যোগাযোগ পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানী শহরের প্রবেশ পথ আরও বর্ধিত হবে-যা মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর এবং নড়াইল জেলার নতুন এলাকাকে যুক্ত করবে।

প্রকল্পটি ঢাকা-যশোর-খুলনাকে ২১২.০৫ কিলোমিটার সংক্ষিপ্ত রুট দিয়ে বিকল্প রেলপথ সংযোগ স্থাপন করবে। এটি বাংলাদেশে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আরেকটি উপ-রুট স্থাপন করবে এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মালবাহী ও বিজি কন্টেইনার ট্রেন পরিষেবা চালু করবে। এই রুটটি কন্টেইনার বহনের জন্য গতি এবং লোড সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ফরিদপুর জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলছে উৎসবের একই চিত্র। এতে করে পুরো ভাঙ্গা অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যেন উৎসবের আমেজ বইতে শুরু করেছে। সাজসজ্জার অংশ হিসেবে সড়কজুড়ে টাঙানো হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র ব্যানার ও ফেস্টুন। পদ্মা সেতু উত্তর মুন্সীগঞ্জ থেকে জাজিরা পয়েন্ট, শিবচরের কুতুবপুর, পাচ্চরবাজার, সুর্যনগর, মালিগ্রাম, চান্ডা এলাকাসহ ভাঙ্গার প্রত্যেকটি মোড়ে তোরন ফেস্টুন ও ব্যানারে বহু নেতার রঙ্গিন পোস্টারো বর্ণিল হয়ে উঠছে কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার এলাকা।




পদ্মা সেতুতে রেলের সুফল পাবে সারা দেশের মানুষ: রেলমন্ত্রী

ঢাকার কমলাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার পথে বৃহস্পতিবার প্রথম চলাচল করলো পরীক্ষামূলক ট্রেন। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, পদ্মা সেতুতে রেল যুক্ত হওয়ায় শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, সারা দেশের মানুষ এর সুফল পাবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন বয়ে আনবে। আমরা যেভাবে রেলের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করছি, এর সুফল দেশের মানুষ পাবে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কমলাপুর রেল স্টেশনে পদ্মা সেতুতে চলাচলকারী পরীক্ষামূলক ট্রেনে ওঠার আগে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারিখ দিয়েছেন ১০ অক্টোবর। ঢাকা-ভাঙ্গা রেল যোগাযোগ উদ্বোধনের পর যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সারাদেশের মানুষ পাবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে যে অঙ্গীকারগুলো করেছেন সেগুলো একে একে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে।

পরীক্ষামূলক ট্রেনের যাত্রী হিসেবে ওঠেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ রেলওয়েল মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন প্রমুখ।




পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ভাঙ্গা পৌঁছাল প্রথম ট্রেন

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছেছে প্রথম ট্রেন। প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লেগেছে পরীক্ষামূলক ট্রেনটির।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ে। ট্রেনটি কেরানীগঞ্জ এলিভেটেড রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে, নিমতলা স্টেশনে বেলা ১১টা ১ মিনিটে, শ্রীনগর স্টেশনে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে, মাওয়া স্টেশনে বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে পৌঁছায়। সেখান থেকে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে পদ্মা সেতুতে উঠে, ৭ মিনিট পর বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে ট্রেনটি সেতু থেকে নামে। এরপর ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছায় দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে।

পরীক্ষামূলক যাত্রার প্রথম এই ট্রেনটি চালিয়েছেন লোকোমাস্টার হিসেবে এনামুল হক এবং সহকারী লোকোমাস্টার হিসেবে এম এ হোসেন। আর গার্ড হিসেবে ট্রেন পরিচালনা করেছেন আনোয়ার হোসেন। পরীক্ষামূলক ট্রেনের যাত্রী হিসেবে পর্যবেক্ষণ করেছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রেলওয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প আগামী ১০ অক্টোবর উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারিখ দিয়েছেন। এই রেললাইন উদ্বোধনের ফলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জীবনযাত্রা সহজ হবে।

প্রকল্প কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা অংশে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের গড় অগ্রগতি ৮৮.৫ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া অংশে কাজের অগ্রগতি ৮০.৫০ শতাংশ। এই অগ্রগতির মধ্যে ২৬.৪০ কিলোমিটার এমব্যাংকমেন্টের কাজ ১০০ শতাংশ, ৩০.০২ কিলোমিটার প্রিপেয়ার্ড সাবগ্রেডের কাজ ৯৬.৯৩ শতাংশ, ৩০.০২ কিলোমিটার সাব ব্যালাস্টের কাজ ৯৬.৩৮ শতাংশ, ১৫টি মেজর ব্রিজের কাজ ৮৬.৬৭ শতাংশ, ৩৫টি কালভার্ট/আন্ডারপাসের কাজ ৯৪.২৯ শতাংশ, ৩ হাজার ৮১৭টি ওয়ার্কিং পাইলের কাজ ১০০ শতাংশ, ৬ হাজার ১২১টি প্রিকাস্ট বক্সগার্ডার সেগমেন্টের (কেরানীগঞ্জ স্টেশনসহ) কাজ ১০০ শতাংশ, ৫৩০টি ভায়াডাক্ট-১ এর পিয়ার ও অ্যাব্যাটমেন্টের (কেরানীগঞ্জ স্টেশনসহ) কাজ ১০০ শতাংশ, ২০.৪৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট-১ এর ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক স্লাবের কাজ ৯৪.০৪ শতাংশ, ৫২৬টি ভায়াডাক্ট-১ এর স্প্যান স্থাপনের (কেরানীগঞ্জ স্টেশনসহ) কাজ ১০০ শতাংশ, ২০.৪৬ কিলোমিটারের ভায়াডাক্ট-১ এর ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক স্লাবের কাজ ৯৪.০৪ শতাংশ, ৪টি স্টেশন ভবন নতুন নির্মাণ ও বিদ্যমান স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণের কাজ ৪৮ শতাংশ, নতুন স্টেশনে সিগনালিং ইকুইপমেন্ট স্থাপনের কাজ ২০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

মাওয়া-ভাঙ্গা অগ্রাধিকার অংশের কাজের অগ্রগতি ৯৬.৫০ শতাংশ। এই অংশে এমব্যাংকমেন্ট ২৬.৩৫ কিলোমিটার, প্রিপেয়ার্ড সাবগ্রেড ২৪.৫৫ কিলোমিটার, সাব ব্যালাস্ট ২৭.১৫ কিলোমিটার, মেজর ব্রিজ ১৩টি, কালভার্ট/আন্ডারপাস ৬৯টি, ওয়ার্কিং পাইল এক হাজার ৭১৩টি, প্রিকাস্ট বক্সগার্ডার সেগমেন্ট ২ হাজার ৫৮টি, ভায়াডাক্ট-২ এর পিয়ার ও অ্যাব্যাটমেন্ট ৬৮টি, ভায়াডাক্ট-২ এর ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক স্লাব ২.৫৮ কিলোমিটার, ভায়াডাক্ট-২ এর স্প্যান স্থাপন ৬৭টি, ভায়াডাক্ট-৩ এর পিয়ার ও অ্যাব্যাটমেন্ট ১০৮টি, ভায়াডাক্ট-৩ এর ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক স্লাব ৪.০৩ কিলোমিটার, ভায়াডাক্ট-২ এর স্প্যান স্থাপন ১০৭টি, পদ্মা সেতু ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক স্লাব ৬.৬৮ কিলোমিটারের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এছাড়া ৪৩.৯২ কিলোমিটার ব্যালাস্টেড ট্র্যাকের কাজ শেষ হয়েছে ৯২.৭৩ শতাংশ, ৪টি স্টেশন ভবন নতুন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে ৮০ শতাংশ এবং স্টেশনগুলোতে সিগনালিং ইকুইপমেন্ট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে ৬২ শতাংশ।

ভাঙ্গা-যশোর অংশে কাজের অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৩.১৬ কিলোমিটার এমব্যাংকমেন্টের কাজ ৯৮.৯৮ শতাংশ, ৮৩.১৬ কিলোমিটার প্রিপেয়ার্ড সাবগ্রেডের কাজ ৮৮.২৭ শতাংশ, ৮৩.১৬ কিলোমিটার সাব ব্যালাস্টের কাজ ৭৪.০৯ শতাংশ, ৩২টি মেজর ব্রিজের কাজ ৯৬.৮৮ শতাংশ, ১৬৮টি কালভার্ট/আন্ডারপাসের কাজ ১০০ শতাংশ, ১ হাজার ২৬৮টি ওয়ার্কিং পাইলের কাজ ১০০ শতাংশ, ৯টি স্টেশন ভবন নতুন নির্মাণ ও বিদ্যমান স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণের কাজ ৩৭ শতাংশ, ১১০.৭৩ কিলোমিটার ব্যালাস্টেড ট্র্যাকের কাজ ১৩.৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে।

ঢাকা-যশোর অংশে কাজের অগ্রগতি ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে ১৩৫.৯২ কিলোমিটার এমব্যাংকমেন্টের কাজ ৯৯.৩৮ শতাংশ, ১৩৭.৭৪ কিলোমিটার প্রিপেয়ার্ড সাবগ্রেডের কাজ ৯২.২৫ শতাংশ, ১৪০.৩৪ কিলোমিটার সাব ব্যালাস্টের কাজ ৮৩.৮৭ শতাংশ, ৬০টি মেজর ব্রিজের কাজ ৯৫ শতাংশ, ২৭২টি কালভার্ট/আন্ডারপাসের কাজ ৯৯.২৬ শতাংশ, ৬ হাজার ৭৯৪টি ওয়ার্কিং পাইলের কাজ ১০০ শতাংশ, ৮ হাজার ১৭৯টি প্রিকাস্ট বক্সগার্ডার সেগমেন্টের (কেরানীগঞ্জ স্টেশনসহ) কাজ ১০০ শতাংশ, ৭০৬টি ভায়াডাক্ট পিয়ারের কাজ ১০০ শতাংশ, ৭০০টি ভায়াডাক্টের স্প্যান স্থাপনের কাজ ১০০ শতাংশ, ৩৩.৭৭ কিলোমিটার ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক স্লাবের কাজ ৯৬.৩৯ শতাংশ, ১৯৩.১৮ কিলোমিটার ব্যালাস্টলেস ট্র্যাকের কাজ ৪৪.৩৫ শতাংশ, ১৭টি স্টেশন ভবন নতুন নির্মাণ ও বিদ্যমান স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণের কাজ ৬৩ শতাংশ, নতুন স্টেশনগুলোর সিগনালিং ইকুইপমেন্ট স্থাপনের কাজ ৪৯ শতাংশ শেষ হয়েছে।

এছাড়া এই প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।




‘পদ্মা সেতুতে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গত ১৪ বছরে বিএনপির আন্দোলনকে ম্লান করে দিয়েছে এক পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতু সম্প্রসারিত করেছে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিগন্ত। এই সেতু থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা টোল আদায় হচ্ছে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার (২৫ জুন) রাজধানীর সেতুভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগে নবদুয়ার খুলে দিয়েছে।
প্রেস বিফ্রিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার যানবাহন চলাচল করেছে। দৈনিক গড়ে সাড়ে ১৫ হাজার যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা করে। গতকাল রাত পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ৭৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। আজ বিকেল নাগাদ ৮০০ কোটি টাকা টোল আদায়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ৩৫ বছরে বাংলাদেশ সরকারকে পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয় পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে ৪ কিস্তিতে প্রায় ৬৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতুকে জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে তা সংরক্ষণে সকলকে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপির জনসমর্থন ১০ শতাংশে নেমে এসেছে কিনা তা ভেবে দেখা উচিত।

প্রেস ব্রিফংয়ে উপস্থিতি ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক সফিকুল ইসলামসহ সেতুবিভাগ, সেতু কর্তৃপক্ষ ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ঊধর্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।




পদ্মা সেতু থেকে ১০ মাসে ৬৬০ কোটি টাকা টোল আদায়: কাদের

উদ্বোধনের পর থেকে অর্থাৎ গত বছরের ২৬ জুন থেকে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোট ৬৬০ কোটি ২৪ হাজার ১৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) সকালে সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের শুভ উদ্বোধন করতে পারেন।

সেতুমন্ত্রী জানান, গত ২০ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৬টা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৫২৯টি মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে, যা থেকে ৭৭ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

এসময় মন্ত্রী আগামী ঈদুল আজহার সময় গরুর হাট, পশুবাহী পরিবহন এবং বৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাত্রী সাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে আড়াই কোটি টাকা টোল আদায়

পদ্মা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৪ হাজার ৩০০ টাকা। রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ টোল আদায় হয়।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত পরিচালক আমিরুল হায়দার চৌধুরী।

এ সময় পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজা দিয়ে ১৫ হাজার ৪৭৮টি গাড়ি পদ্মা সেতু অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৮ হাজার ১৫৯টি গাড়ি পদ্মা সেতু অতিক্রম করেছে। পদ্মা সেতুর দুই প্রান্ত দিয়ে মোট ৩৩ হাজার ৬৩৭টি গাড়ি পারাপার হয়।

এ বিষয়ে আমিরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে গত রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ সমস্ত গাড়ি পারাপার হয়েছে। এটা আমাদের প্রতি ২৪ ঘণ্টার রির্পোট। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৩ হাজার ৬৩৭টি গাড়ি পারাপার হয়। এতে মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ ৪ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ইতোমধ্যে খুলে গেছে সরকারি অফিস-আদালত। পাশাপাশি খুলেছে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। ফলে রাজধানীমুখী বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ।




পদ্মা সেতুর সরকারি ঋণের দুই কিস্তি পরিশোধ

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থবিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী গৃহীত ঋণের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। বুধবার (৫ এপ্রিল) গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩শ ১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকার চেক দেওয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুই কিস্তি পরিশোধের চেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। এসময় অর্থ সচিব ও সেতু সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতুর সরকারি ঋণ পরিশোধের প্রথম চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের অন্যান্য সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।




পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে আজ

আজ  পদ্মা সেতু অতিক্রম করে ভাঙা-মাওয়া পরীক্ষামূলক রেল চলবে। আর ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত সরাসরি যাত্রী নিয়ে রেলপথে ট্রেন চলবে সেপ্টেম্বরে। তবে আগামী বছর ট্রেন চলবে ঢাকা-যশোর রেলপথে। পদ্মা সেতু ঘিরে দেশের আধুনিক রেল নেটওয়ার্কের খবরে আনন্দে উচ্ছ্বসিত পদ্মা পাড়ের মানুষ।

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহম্মেদ জানান, ‘গ্যাংকার দিয়ে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত সাড়ে ৪১ কিলোমিটার রেলপথ পরীক্ষা করে দেখবো। এ পথে ডিজাইন-স্প্রিড ১২০ কিলোমিটার থাকলেও ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে টেস্ট-রান চালানো হবে।’

পদ্মা সেতুর রেলপথ চালু আরও এক শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি করবে বলেও জানান তিনি।

 

এই রেল ট্রান্স এশিয়া রেলপথের সঙ্গে এ লাইনটি যুক্ত হবে জানিয়ে সাঈদ আহম্মেদ বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদার চীনের চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিআরইসি)। আর পুরো প্রকল্প তদারকি করছে সিএসসি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, ‘পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাংকার ট্রেনটি ভাঙ্গা থেকে রওনা হয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে মাওয়া আসবে। ট্রেনটি মূলত নির্মিত রেলপথ ইন্সপেকশনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এই ট্রেনে ভ্রমণ করে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন নির্মিত রেলপথসহ প্রকল্পের সার্বিক কাজ পরিদর্শন করবেন। পুরোপুরি চালু হওয়ার আগে এ রেলপথ দিয়ে আমরা প্রকল্পের বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করব।’

তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। অন্যদিকে প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুনে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত পুরো রেলপথটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০৩০ সাল নাগাদ রেলপথটির ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে প্রতিদিন ১৩ জোড়া ট্রেন চলবে।

 

একইভাবে ভাঙ্গা-কাশিয়ানী অংশে প্রতিদিন সাত জোড়া ও কাশিয়ানী-যশোর অংশে প্রতিদিন চলবে পাঁচ জোড়া ট্রেন। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে বছরে ৪০ লাখ, ভাঙ্গা-কাশিয়ানী অংশে বছরে ১৭ লাখ ও কাশিয়ানী-যশোর অংশে বছরে সাড়ে ১৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করা হবে। ‘ওয়ান-ডিরেকশন’ বা একমুখী চলাচলের ওপর ভিত্তি করে প্রাক্কলনটি তৈরি করেছে সিআরইসি।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পুরনো রেল স্টেশন থেকে পরীক্ষামূলক ট্র্যাককারটি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে দুপুর ১২টায়। আর এটি পদ্মা সেতু অতিক্রিম করে দুপুর ২টায় মাওয়া স্টেশনে এসে পৌঁছাবে। এই ট্রেনে থাকবেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রেনই প্রথমবারের মতো সেতু অতিক্রম করছে। তবে ২৯ মার্চ সেতুর ২৫ নম্বর খুঁটির কাছে বাকি থাকা ৭ মিটার রেলপথ নির্মাণ শেষ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পরও রেল ট্র্যাক মহড়া হিসাবে সেতুতে চলাচল করেছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছেন। পদ্মার দুইপাড়ের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস বইছে এখন।

প্রকল্প কর্মকর্তারা আরও জানান, যশোর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ লেভেল ক্রসিংবিহীন রেল সংযোগ প্রকল্পের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পদ্মা সেতুতে পাথরবিহীন নির্মাণ। আর সেই রেলপথ সুচারুরূপে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের আধুনিক রেল নেটওয়ার্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় যশোরের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। চীন সরকার মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড চায়না জিটুজি সিস্টেমের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটি সম্পন্ন করার পর, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় দেশের মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলার নতুন এলাকাজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ঢাকা-যশোর-খুলনার মধ্যে ২১২ দশমিক ০৫ কিলোমিটার সংক্ষিপ্ত রুট এবং উন্নত পরিচালন সুবিধার বিকল্প রেলপথ সংযোগ স্থাপিত হবে।

এটি বাংলাদেশে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আরেকটি সাব-রুট স্থাপন এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মালবাহী এবং বিজি কনটেইনার ট্রেন পরিসেবা চালু করবে। এই রুটটি কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে গতি এবং লোড সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে।




পদ্মা সেতুতে প্রথম ট্রেন চলবে ৪ এপ্রিল

বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু গত বছরের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। সড়কপথে দুয়ার খুলে যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের।

কিন্তু অপ্রাপ্তি ছিল একটাই উদ্বোধনের দিন পদ্মা সেতুতে চলেনি ট্রেন। সাড়ে নয় মাস পরে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আগামী ৪ এপ্রিল। এদিন প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে পদ্মা সেতুতে চলবে ট্রেন।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের সম্ভাব্য তারিখ ৪ এপ্রিল। আর জুনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন। ওই অংশের ৩২ কিলোমিটার রেললাইনে রেল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে আগেই। ইতোমধ্যে রেল সেতুর প্রায় ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান,মূল সেতুতে রেললাইন স্থাপন প্রায় শেষ। সাত মিটারের স্প্যান বসানো কেবল বাকি। ভায়াডাকের ওপর পাথরবিহীন সাড়ে ছয় কিলোমিটার রেললাইন স্থাপিত হচ্ছে মূল সেতুতে।

পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর দ্রুত কাজের সুবিধার্থে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ তিন শতাংশ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত অংশের কাজ শেষ হয়েছে ৭৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে ৯১ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ভাঙ্গা-যশোর অংশে ৬৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে কাজ দ্রুত করা হচ্ছে এ প্রকল্পের ঢাকা-মাওয়া অংশ।