পদ্মা ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতি: নাফিজ সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পদ্মা ব্যাংক থেকে পাঁচ কোটি টাকা ‘টাইম লোন’ নিয়ে তা অপব্যবহার ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) এ মামলা হওয়ার তথ্য দিয়েছেন কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
মামলায় বাদী হয়েছেন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ রাকিব উদ্দিন মিনহাজ।

মামলার বাকি তিন আসামি হলেনÑ ঋণগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈনউদ্দীন মোনেম, পরিচালক ফারহানা মোনেম এবং পদ্মা ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গুলশান করপোরেট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম।

এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালে পদ্মা ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের নামে ছয় মাসের জন্য পাঁচ কোটি টাকার একটি ‘টাইম লোন’ অনুমোদন করা হয়। কিন্তু আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঋণের শর্ত ভঙ্গ করেন। তারা এ অর্থ ব্যবসার মূলধন হিসেবে ব্যবহার না করে অন্য ঋণের দায় মেটাতে ব্যয় করেন। এর মাধ্যমে তারা প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০ ও ৫১১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনুসন্ধানের বরাতে দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, আব্দুল মোনেম লিমিটেড ২০২২ সালের ২৯ মার্চ পদ্মা ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় একটি শর্ট নোটিশে ডিপোজিট (এসএনডি) হিসাব খোলে। যদিও ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২৫ কোটি টাকার কম্পোজিট ঋণের আবেদন করেন।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের ৮৪তম সভায় এ ঋণ অনুমোদন পায়। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ২০ কোটি টাকার এলসি ও ৫ কোটি টাকার টাইম লোনসহ ২৫ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর হয়।

এরপর ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর আরও একবার ৫ কোটি টাকার ‘টাইম লোনের’ (ছয় মাসের জন্য) আবেদন হয়। একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর ব্যাংকের ৫৫তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় সে ঋণও পেয়ে যায় তারা। ঋণ বিতরণ হয় ২৮ ডিসেম্বর।

শর্ত অনুযায়ী, ঋণের অর্থ দুধ গুঁড়া, কাঁচামাল, প্যাকেজিং উপকরণ ও যন্ত্রাংশ কেনার মাধ্যমে আইসক্রিম ইউনিট চালু রাখতে ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ঋণের অর্থ অন্য খাতে স্থানান্তর করে অন্য ঋণের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ছিল ২০২৪ সালের জুন, তবে গ্রাহক তা সময়মতো পরিশোধ করেননি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।
দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনটি সন্দেহজনক নগদ লেনদেনের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করে তা সমন্বয় করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু না হলে এ অর্থ আত্মসাৎ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এছাড়া ঋণ অনুমোদনের সময় পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আসামি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়, তিনি একই সঙ্গে ঋণদাতা ও ঋণের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঋণের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ক্ষমতা অপব্যবহার করেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গত তিন মেয়াদে আর্থিক খাতের অনিয়মে বারবার নাফিজ সরাফাতের নাম এলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী অনেক ব্যবসায়ীর মত নাফিজ সরাফাতের বিষয়েও অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে অর্থপাচার প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।




পদ্মাকে একীভূত করবে না এক্সিম ব্যাংক

পদ্মা ব্যাংক পিএলসিকে একীভূত (Merger) করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক)।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পদ্মা ব্যাংককে একীভূত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক্সিম ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের ১৪ মার্চ এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ব্যাংকটি তার এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছিল।

পর্ষদ সভার সিদ্ধান্তের আলোকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে গত ১৮ মার্চ এক্সিম ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। ব্যাংক দুটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা ওই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং ব্যাংক দুটির চেয়ারম্যানরাও উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এক্সিম ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, দেশের উন্নয়নে এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৫ বছরের অপশাসনে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নাজুক হয়ে উঠলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক অস্তিত্ব সঙ্কটে থাকা দূর্বল ব্যাংকগুলোকে তুলনামূলক সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয় পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করার।

গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের লাগামহীন অনিয়ম ও নৈরাজ্য ঠেকাতে পদ্মা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়। এক্সিম ব্যাংকে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর আভাস দেওয়া হয় তারা শেষ পর্যন্ত পদ্মা ব্যাংককে একীভূত না-ও করতে পারে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।




পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নাফিজ সরাফতের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকায় পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

আজ (সোমবার) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের কোর্ট পরিদর্শক আমির হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ দিন দুদকের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চৌধুরী নাফিজ সরাফতের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার বর্ণিত পদের অপব্যবহার করে ও রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কানাডাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং অজ্ঞাত স্থান থেকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে তার পক্ষে বক্তব্য প্রচার করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় চৌধুরী নাফিজ সারাফত দেশত্যাগ করতে পারেন মর্মে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে চৌধুরী নাফিজ সরাফতের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।




নাঈমুল ইসলাম খান ও চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের ব্যাংক হিসাব জব্দ

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, আর্থিক খাতের আলোচিত নাম চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের স্ত্রী, সন্তানদের ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠা‌নিক ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করতে বলা হয়েছে।

 

রোববার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে।

বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হিসাব জব্দ করাদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সব লেনদেন বন্ধ থাক‌বে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় আরও বাড়ানো হবে।

লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও নাঈমুল ইসলাম খানসহ তা‌দের পরিবারের সদস্যদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট স্থগিত হওয়ার ফলে এখন থেকে তারা আর কোনও টাকা তুলতে পারবে না।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো হিসাব স্থগিত করা হলে হিসাবসংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।




রমজান ঘিরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বে‌শি রেমিট্যান্স পাঠা‌চ্ছেন প্রবাসীরা। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৫ দিনে বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১০২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে এসেছে। সোমবার (১৮ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মার্চের প্রথম ১৫ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১২ কোটি ৮২ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার, আর ফেব্রুয়া‌রি‌তে আসে ২১৬ কো‌টি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণের রেমিট্যান্স।




এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগ অর্ধবার্ষিক পারফরেমেন্সের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদনে রেড জোনের ব্যাংকে ছিল চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক।

সেই পদ্মা ব্যাংক এখন ইয়োলো জোনে থাকা ইসলামী ধারার বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পদ্মা ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অনুমতি পাওয়া গেলে এক হয়ে যাবে ব্যাংক দুটি।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ব্যাংকগুলো একীভূতকরণে আমানতকারীদের শতভাগ স্বার্থ রক্ষা করা হবে।




পদত্যাগ করা এমডিদের সঙ্গে আলোচনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

সম্প্রতি পদত্যাগ করা কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) হাবিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়।

একইদিন আলোচনার জন্য ডাকা হয় পদ্মা ব্যাংকের এমডি তারেক রিয়াজ খানকেও। তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ও ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের।

এছাড়া ব্যাংক এশিয়ার এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করা আরিফ বিল্লাহ আদিল চৌধুরীর বিষয়ে জানতে আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাকা হয়েছে ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কক্ষে আলোচনার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান পদ্মা ব্যাংকের এমডি তারেক রিয়াজ খান। গত ২৬ জুলাই পদত্যাগ করেন ব্যাংক এশিয়ার এমডি আরিফ বিল্লাহ আদিল চৌধুরী। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার এসবিএসি ব্যাংকের এমডি হাবিবুর রহমান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষের কাছে।

দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাপনার এমডিরা যাতে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পরিচালনা করতে পারেন, সেটা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই চেষ্টার অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করা এমডি মেহমুদ হোসেনকে কাজে ফিরিয়ে আনা হয়। একই ইস্যুতে এবারও আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।