১১ মাসে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ

নানা অভ্যন্তরীণ সংকট ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও পণ্য রপ্তানিতে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে— এই ১১ মাসে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার (৩ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ রিপোর্ট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত মে মাসেই পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৭৪ কোটি ডলারের, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। এটি চলতি অর্থবছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড। এর মধ্যে, সবচেয়ে বড় সুখবর এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। মে মাসে এককভাবে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯২ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস মিলিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলারে— পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১০ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

মূলত, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। শিল্প মালিকরা বলছেন, নতুন বাজার খোঁজা, অর্ডার পণ্যের বৈচিত্র্য এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, ইপিবির বিশ্লেষণ বলছে, তৈরি পোশাক ছাড়াও মে মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, প্রকৌশল পণ্য এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর রপ্তানি বেড়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 




কানাডার বাজারে আরও ১০ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

আগামী দশ বছর কানাডার বাজারে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কানাডার বাজারে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছে। এখন বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে। সেই হিসেবে এই সুবিধা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু এখন কানাডা সরকার আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কানাডার বাজারে দেশটির সরকার বাংলাদেশকে আরও ১০ বছর শুল্কমুক্ত পোশাক পণ্য রপ্তানির সুবিধা দিয়েছে। তার জন্য নতুন করে জিপিটি স্কিমের মেয়াদ দিয়েছে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত। এ জন্য কানাডা সরকারকে স্বাগত জানাই।

গত জুনে বিলটি পাস হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কানাডা সরকারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং আরও টেকসই কর্মক্ষেত্রে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখবে।

কানাডা সরকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জেনারেল প্রেফারেনশিয়াল ট্যারিফ (জিপিটি) স্কিমের আওতায় শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই স্কিমের আওতায় তৈরি পোশাক উৎপাদনের নিয়ম শিথিল করাসহ অন্যান্য পণ্যও দেশটিতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। নতুন এই স্কিমে শিল্পের শ্রম ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সের ওপর ভিত্তি করে এই বাজার প্রবেশাধিকার সুবিধাগুলোকে সম্প্রসারিত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের ১১তম বৃহৎ রপ্তানি অংশীদার ছিল কানাডা। ওই অর্থবছরে দেশটিতে ১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এ ছাড়া উত্তর আমেরিকার দেশটি বাংলাদেশের পোশাকের অন্যতম প্রধান বাজারও।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কানাডায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি ১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

 

 

 




চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি ৫ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ‘চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে জুলাই-এপ্রিল সময় পর্যন্ত নিটওয়্যার ওভেন, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার খাত, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।’

সোমবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে নিটওয়্যার তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ২ লাখ ৬ হাজার ৯১ কোটি টাকা, ওভেন তৈরি পোশাক খাতে ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা, হোম টেক্সটাইল খাতে ৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, ফুটওয়্যার খাতে ৩ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতে ৩ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি খাতে ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি খাতে আয় হয়েছে ৯ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।