ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগ করবে ঢাকা ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েকটি কোম্পানি মিলে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এই ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হবে। ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ওই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেওয়া ও প্রস্তাবিত ব্যাংকে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (১৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ রেজ্যুলেশন বাই সার্কুলেশনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তথ্য মতে, প্রস্তাবিত ব্যাংকের নাম হবে সঞ্চয় ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি। এর স্পন্সর বা উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও রয়েছে- সিটি ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এনসিসি ব্যাংক) লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) লিমিটেড, মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল), প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ও এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেড।

এর পরিশোধিত মূলধন থাকবে ১২৫ কোটি টাকা। এতে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ তথা ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা যোগান দেবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আলোচিত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।




খেলাপি ও মন্দ ঋণ কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছে এনসিসি ব্যাংক: এমডি

বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেছেন, এনসিসি ব্যাংকের খেলাপি ও মন্দ ঋণের আকার কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও পাওনা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার (১৭ মে) এনসিসি ব্যাংকের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়েজন করা হয়।

মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ঋণপ্রস্তাবনা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অসুবিধা নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। বিশ্বে অর্থনৈতিক স্থবিরতা শুরু হয় গত বছর। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। ব্যাপক ডলার সংকটও দেখা দেয়। এ পরিস্থিতির মধ্যেও বেশ কয়েকটি সূচকে ভালো অবস্থানে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক। প্রায় ৭১৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে নন-পারফর্মিং ঋণ বেড়েছে। করোনায় ব্যবসায়ীদের ব্যয়বৃদ্ধির কারণে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এতে নন-পারফর্মিং ঋণ বেড়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রায় হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

এনসিসি ব্যাংক এমডি আরও বলেন, খেলাপি ও মন্দ ঋণের আকার কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও ব্যাংকের পাওনা টাকা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ঋণপ্রস্তাবনা ও বৈদেশিক বাণিজ্য প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অসুবিধা নিরসনে কাজ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে এনসিসি ব্যাংক। এর মধ্যে ছিল ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস। নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার দিক থেকে দেশের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনসিসি একটি। গত বছরের নভেম্বরে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইসলামিক ব্যাংকিং খাতে প্রায় ২১৪ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়া গ্রিন ফাইন্যান্স এবং সাসটেনেবল ফাইন্যান্সে গুরুত্ব দিচ্ছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকটি। ২০২২ সালে গ্রিন ফাইন্যান্সে প্রায় ২৭৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা অর্থায়ন করে এনসিসি এবং সাসটেনেবল ফাইন্যান্সে দুই হাজার ৪৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।